প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভোলার চরফ্যাশনে ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা আইসিটি প্রশ্ন কঠিন হওয়ার অভিযোগে হামলা করেছিল। হামলায় এই কলেজের গেইট, সাইনবোর্ড, দরজা জানালা ভাঙচুর করা হয়। হামলা ঘটে শনিবার দুপুরে, পরীক্ষা শেষে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে এবং আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন। এই আহতদের মধ্যে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হুমায়ুন শিকদার কবির এবং ৬নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম রাসেল রয়েছেন। সাধারণ শিক্ষার্থী এবং পথচারীরাও আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মহিউদ্দিন বাচ্চু অভিযোগ করেন যে, পরীক্ষার্থীরা অসাধুপায় অবলম্বন করতে না দেওয়ায় হামলা করেছে। তিনি আরও জানান, এক দিকে প্রশ্নপত্র কঠিন হয়েছে এবং অপরদিকে কক্ষ পরিদর্শকরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করায় পরীক্ষার্থীরা দেখার সুযোগ পায়নি।
যে কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার শুরুর পর থেকেই কক্ষ পরিদর্শকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে। পরীক্ষা শেষে, শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং গেইট ভেঙে ফেলে। লোহার পাইপ নিয়ে পরীক্ষা পরিচালনা কক্ষে হামলা করা হয়। শিক্ষক কক্ষে হামলা হয়। এই হামলার সঙ্গে ৪/৫শ শিক্ষার্থী এবং বহিরাগতরা মিলে ছিল। জানা যায়, ওই কেন্দ্রে সরকারি চরফ্যাশন কলেজের ৭৮৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছিল। শনিবার ছিল এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তথ্য ও যোগাযোগ ও প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে পরীক্ষা। পরীক্ষার্থীরা জানায়, প্রশ্নপত্র কঠিন হয়েছে এবং কমন পড়েনি। অপরদিকে পরীক্ষার হলের কক্ষ পরিদর্শকরা রূঢ আচরণ করেন, যার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজ খবর শুনে থানার অফিসার ইনচার্জকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, একদল পরীক্ষার্থী চরফ্যাশন ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা চালায়। খবর শুনে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, তবে সফল হয়নি। পরে কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সোহেব হোসেন জানান, দুপুর সোয়া ১টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজের গেইটের সামনে অবস্থান নিয়ে 'ভুয়া ভুয়া' ম্লোগান দিতে থাকে। পরে তারা উত্তর ও পশ্চিম পাশে দুটি গেইট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় শিক্ষকরা আতঙ্কিত হয়ে একটি কক্ষে আশ্রয় নেয় এবং পরীক্ষার্থীরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের তাড়া করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ দ্রুত ছুটে এসে প্রশাসনের সঙ্গে পরিস্থিতি সামলাতে শিক্ষার্থীদের সরে যেতে বলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্বাবধানে পুলিশ পরীক্ষার উত্তরপত্র পোস্ট অফিসে জমা দেয়। ওসি জানান, পুলিশ টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং পরীক্ষা কমিটি অভিযোগ করে যে শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন