বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৫২ পি.এম
চ্যাম্পিয়নস লিগে একটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বায়ার্ন মিউনিখের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। আর্সেনালের বিরুদ্ধে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় মাঠে নেমে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার তালিকায় তিনি লিওনেল মেসি ও থমাস মুলারের পাশে স্থান করে নিয়েছেন।
নয়্যারের এই অর্জন, যা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ, তাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই ফুটবলারের সমান্তরালে নিয়ে এসেছে। তবে, ম্যাচসংখ্যার তথ্যে কিছু অসংগতি দেখা দিয়েছে। এক স্থানে নয়্যারের ম্যাচসংখ্যা ১৬৫ উল্লেখ করা হলেও, অপটার পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেটি ১৬৩। সুতরাং, সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সর্বকালের তালিকায় এই তিন ফুটবলারের ওপরে কেবল দুজন রয়েছেন। শীর্ষে রয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, যার নামের পাশে ১৮৩ ম্যাচ রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন স্পেনের কিংবদন্তি গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস, যিনি ১৭৭ ম্যাচ খেলেছেন।
রোনালদো ও ক্যাসিয়াস উভয়েই রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দীর্ঘ সময় চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলেছেন। তাদের পেছনে ফেলে তালিকার শীর্ষে ওঠা নয়্যারের জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হলেও, প্রতিযোগিতায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিক উপস্থিতি তাকে বিশেষ স্বীকৃতি প্রদান করেছে।
বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে নয়্যারের এই অর্জন আবারও প্রমাণ করে যে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দীর্ঘ সময় টিকে থাকা কতটা চ্যালেঞ্জিং। মেসি ও মুলারের সঙ্গে একই কাতারে উঠে আসা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জমি কেনার পর অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সরকারি ভূমি রেকর্ডে মালিকানার তথ্য হালনাগাদ করার জন্য নামজারি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জমির মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত রাখা এবং ভবিষ্যতে বিরোধ এড়াতে এই প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
সম্প্রতি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, সব ওয়ারিশের নাম অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি করতে হবে। তবে নিবন্ধিত বণ্টননামার মাধ্যমে জমি ভাগ করা হলে প্রত্যেকে নিজের অংশ অনুযায়ী পৃথক খতিয়ান করতে পারবেন।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশকে একই খতিয়ানে সহ-অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রয়েছে। এর ফলে অন্য ওয়ারিশদের বাদ দিয়ে এককভাবে নামজারি করার সুযোগ সীমিত হবে।
জমির নামজারিতে যেসব পরিবর্তন
সব ওয়ারিশের নাম একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত : উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশের নাম একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রত্যেক ওয়ারিশকে তাঁর প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী সহ-অংশীদার হিসেবে দেখানো হবে।
বণ্টননামা না থাকলেও যৌথ নামজারি : জমির আনুষ্ঠানিক বণ্টন না হলে পৃথক খতিয়ান করা যাবে না। তবে বণ্টননামা না থাকার কারণে যৌথ নামজারির আবেদন বাতিল করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ইশরাত হাসানের মতে, এ বিধানের ফলে অন্য ওয়ারিশদের বাদ দিয়ে জমি নিজের নামে নামজারি করার সুযোগ কমবে।
ওয়ারিশ সনদ জমা দিতে হবে: উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির আবেদনে সব ওয়ারিশের তথ্য ও ওয়ারিশ সনদ দিতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র বা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে এ সনদ সংগ্রহ করা যায়। কোনো ওয়ারিশের তথ্য বাদ পড়লে আবেদন নিষ্পত্তিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
পৃথক খতিয়ানের জন্য নিবন্ধিত বণ্টননামা: ওয়ারিশরা নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা সম্পন্ন করতে হবে। এরপর বণ্টন অনুযায়ী প্রত্যেকে নিজের অংশের জন্য পৃথক নামজারির আবেদন করতে পারবেন।
নামজারির জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে
জমির ধরন এবং কিভাবে মালিকানা অর্জিত হয়েছে, তার ওপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ভর করে। সাধারণত নামজারির আবেদনে যেসব নথি প্রয়োজন হয়—
১. জমি কেনার ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিলের কপি।
২. আগের খতিয়ানের কপি।
৩. জমির দাগ নম্বর ও সংশ্লিষ্ট বিবরণ।
৪. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য।
৫. উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মৃত্যুসনদ।
৬. জমি ভাগ করা থাকলে নিবন্ধিত বণ্টননামা।
৭. নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের তথ্য এবং কর্তৃপক্ষের চাওয়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি।
আবেদন করার আগে দলিল, খতিয়ান, জমির পরিমাণ, দাগ নম্বর ও মালিকানার তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। এসব তথ্যে অসংগতি থাকলে আবেদন নিষ্পত্তিতে দেরি হতে পারে।
অনলাইনে নামজারির আবেদন করবেন যেভাবে
নামজারির আবেদন অনলাইনে করা যায়। এ জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটের ই-নামজারি সেবা ব্যবহার করতে হবে।
প্রথম ধাপ: ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট https://land.gov.bd-এ প্রবেশ করে ই-নামজারি সেবার লিংক নির্বাচন করুন।
দ্বিতীয় ধাপ : নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করুন। আবেদনকারীর পরিচয়, জমির অবস্থান, খতিয়ান, দাগ নম্বর এবং মালিকানা অর্জনের ধরনসংক্রান্ত তথ্য পূরণ করুন।
তৃতীয় ধাপ: জমি কেনার মাধ্যমে নাকি উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা অর্জিত হয়েছে, তা উল্লেখ করুন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের তথ্য সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করুন।
চতুর্থ ধাপ: নিবন্ধিত দলিল, খতিয়ান, ওয়ারিশ সনদসহ প্রযোজ্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্দেশনা অনুযায়ী সংযুক্ত করুন।
পঞ্চম ধাপ: আবেদন জমা দিয়ে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করুন। আবেদন জমা দেওয়ার পর পাওয়া আবেদন নম্বর বা ট্র্যাকিং তথ্য সংরক্ষণ করুন।
ষষ্ঠ ধাপ: অনলাইনে আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করুন। ভূমি অফিস থেকে অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র চাওয়া হলে নির্ধারিত নিয়মে তা জমা দিন।
আবেদনের আগে সরকারি পোর্টালে দেওয়া সর্বশেষ নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি যাচাই করে নেওয়া উচিত। জমির ধরন, নথিপত্রের যথার্থতা এবং কোনো আপত্তি রয়েছে কি না, তার ওপর আবেদন নিষ্পত্তির সময় নির্ভর করতে পারে।
নামজারি না করলে কী সমস্যা হতে পারে?
জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর ভূমি রেকর্ডে মালিকানার তথ্য হালনাগাদ না করলে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, জমি হস্তান্তর এবং মালিকানার তথ্য যাচাইয়ের সময় সমস্যায় পড়তে হতে পারে। জমি নিয়ে বিরোধ বা প্রতারণার আশঙ্কা দেখা দিলে সঠিক ও হালনাগাদ নথিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে নামজারি জমির চূড়ান্ত মালিকানা নির্ধারণের একমাত্র প্রমাণ নয়। জমির নিবন্ধিত দলিল, উত্তরাধিকার, দখল এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও মালিকানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাই নামজারির পাশাপাশি জমির মালিকানা-সংক্রান্ত সব নথি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি, নিত্যদিনের বাজারে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ভোক্তাদের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে সাবান, শ্যাম্পু, স্যানিটারি ন্যাপকিনের দাম গড় মূল্যস্ফীতি অতিক্রম করেছে। খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের নিরুপায় দাবি করে ভোক্তাদের চাপের কথা উল্লেখ করছেন।
তারা জানাচ্ছেন, বেশি দামে কেনার ফলে তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা পর্যালোচনার জন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ভোক্তার অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাব।
ক্রেতাদের মতে, সব জায়গায় খরচ বেড়ে গেছে। কম দামে কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। দ্রব্যমূল্যের এই উচ্চতা সাধারণ মানুষের জন্য টিকে থাকা কঠিন করে তুলেছে।
এই ক্ষোভ এক-দুই দিনের নয়, বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হতাশার ফল। যে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দিয়ে এক কেজি চাল কেনা যায়, সেই একই টাকা এখন একটি সাবান কিনতে ব্যয় করতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের বাড়তি খরচ সংসারের বাজেটকে আরও সংকুচিত করছে।
এক ক্রেতা মন্তব্য করেন, "আয়ের চেয়ে খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে, যার যোগান দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।"
এক বিক্রেতা জানান, "এক কেজি হুইল পাউডার আগে ১৩০ টাকায় বিক্রি করতাম, এখন ১৪০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। একটি সাবান আগে ৪০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন ৮৫ টাকা।"
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের বিনিয়োগ বাড়াতে হচ্ছে। অপরদিকে, উচ্চমূল্যের চাপের কারণে বিক্রি কমে যাচ্ছে।
কয়েকজন বিক্রেতা জানান, দাম বাড়ানোর কারণে ক্রেতারা আগের মতো কিনতে পারছেন না।
এক ক্রেতা বলেন, "বিভিন্নভাবে লোভ দেখাচ্ছে। পণ্যের সঙ্গে নানা ধরনের গিফট দিচ্ছে, কিন্তু পণ্যের দামের সঙ্গে সেই গিফটের দামও নিচ্ছে।"
ই-কমার্স ও গ্রোসারি প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ডিটারজেন্ট পাউডারের দাম ১৯০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বোতলজাত শ্যাম্পুর দাম বেড়ে ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে। টুথপেস্ট, টিস্যু, হ্যান্ডওয়াশ ও স্যানিটারি ন্যাপকিনের দামও ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। সব মিলিয়ে, ঊর্ধ্বমুখী খাদ্যপণ্যের বাজার দরের সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দরকারি পণ্যের দাম গত এক বছরে প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান মন্তব্য করেন, "কোম্পানিগুলো তাদের ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে। ১০০ গ্রামের পণ্যের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি প্যাকেটে পণ্যের পরিমাণও কমাচ্ছে। এটি ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা। এই বিষয়ে তাদের সঙ্গে বসে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।"
তিনি আরও বলেন, "কর্পোরেট সিন্ডিকেটের একচ্ছত্র দাপট থামাতে না পারলে নিত্যপণ্যের বাজার সহনশীল হবে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীতে ‘রোড শো’ কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার, নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ পালন করা হয়। রোড শোটি বিআরটিএ সাভার সাব অফিস গেট থেকে শুরু হয়ে গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়।
আরো পড়ুন
ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডসের পার্থক্য এবং প্রতিকারের নিয়ম
রোড শোতে বক্তব্য রাখেন বিআরটিএ ঢাকা জেলা সার্কেলের উপ-পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মোবারক হোসেন। এছাড়া, নিরাপদ সড়ক চাই সাভার শাখা, সাভার হাইওয়ে থানার পরিদর্শকসহ আরও অনেকেই বক্তব্য প্রদান করেন। সচেতনতামূলক লিফলেট, স্টিকার বিতরণ এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনও করা হয় রোড শোতে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনিতে বোরকা পরে হামলা চালানোর পর হামলাকারী যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম তাইজুল সরদার (২২), যিনি সদর উপজেলার ‘চর কুলপদ্বী’ এলাকার মৃত রুস্তম আলী সরদারের পুত্র। তিনি হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আহতদের মধ্যে মহসিন চৌকিদার ও জহির চৌদিকার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যারা কালিনগরের মোতালেব চৌদিকারের সন্তান। অপরদিকে, আরেক আহত ব্যক্তি আল আমিন সরদার, যিনি সদর উপজেলার কুলপদ্বী এলাকার বারেক সরদারের পুত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে কালকিনির কালিগঞ্জ বাজারের হানিফ হাওলাদারের চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন মহসিন, জহির এবং আলীনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলন সরদার। এসময় বোরকা পরে ইজিবাইকে আসা হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জহির ও মহসিন নামে দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম করে। পরে হামলাকারীরা তাইজুল ও আল আমিনকে কুপিয়ে আহত করে।
পরে আহত চারজনকে উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ও মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাইজুল সরদারের মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুরুতর আহত দুই ভাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আলীনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হতে পারতেন। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
নিহত তাইজুলের চাচা সোবাহান সরদার বলেন, ‘সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশেই ১০-২০ জন লোকজন আমার ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। মিলন ও তার লোকজনের ফাঁসি চাই।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তার অথবা পূর্ব শত্রুতার কারণে এই হামলা সংঘটিত হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহত তাইজুল সরদারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান মিলন সরদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করার পর তা বন্ধ পাওয়া যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ