১২:২০ এম
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের বিগত ১৭ বছরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, "মত পার্থক্য থাকতে পারে।" কিন্তু "তার জন্য যেন ঐক্য নষ্ট না হয়।" বিগত সময়ে সবাই যেভাবে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, আসন্ন সময়েও সেইভাবে ঐক্য ধরে রাখতে হবে। বিগত নির্বাচনে যেভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে জিতিয়ে নিয়ে এসেছেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঠিক সেভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে দলকে জিতিয়ে নিয়ে আসতে হবে। তিনি যোগ করেছেন, "ঐক্য থাকলে ফ্যাসিস্ট, গুপ্ত কেউ ঢুকতে বা সুবিধা করতে পারবে না।" যদি ঐক্যে ফাটল ধরলে তারা সবাই সুবিধা নেবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বিগত ১৭ বছরের কথাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, "আপনারা দলকে গেল ১৭ বছরে টিকিয়ে রেখেছেন, তখন গুম খুন নির্যাতনের শিকার হয়েও...।" এই সময়ে তিনি উল্লেখ করেন যে নেতাকর্মীরা নিজেদের পরিবার থেকে বেশি সময় দিয়েছেন এবং টাকা খরচ করেছেন। "টেনশন, যন্ত্রণা দলের জন্য যেমন নিয়েছেন, তেমন নিজের পরিবারের জন্যও কি নিয়েছেন? না।" এভাবে দেশের সব বিএনপি নেতাকর্মীরা ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এখন সেই নির্যাতনের ভয় নেই। তখন সবাই সবার পাশে থেকে দল চালাতেন এবং সবাই ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। তাই তিনি প্রশ্ন তোলেন, "এখন কেন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবেন না?"
এ সময় তিনি হাইব্রিড আর গুপ্তদের বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, "নিরের আগে নির্বাচন হওয়া নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে।" বিএনপি চেয়ারম্যান অভয় দিয়ে বলেছেন, "দল অবশ্যই সুসংগঠিত করতে হবে।" তিনি বলেন, "হাইব্রিড এবং গুপ্ত এই দুটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। তারা যেন দলের নেতৃত্বে ঢুকতে না পারে।"
নেতাকর্মীদের ত্যাগের বিনিময়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আপনারা কি চান, আপনাদের দল দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকুক?" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "তাহলে তৃণমূলে ঐক্য থাকতে হবে।" তৃণমূল শক্তিশালী থাকলে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগ মুহূর্তে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, "স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাচ্ছেন, সেখানে অনেক প্রস্তুতি দরকার, সেটা কি আপনাদের আছে?" তিনি সোজাসুজি বলেন, "প্রস্তুতি না থাকলে জিততে পারবেন? না।"
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
বক্তব্যের এ পর্যায়ে, তিনি হিন্দুদের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কেউ যেন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে সুযোগ নিতে না পারে তার নির্দেশনা দিয়েছেন। "আগামী কয়েকদিন পর হিন্দুদের বড় অনুষ্ঠান।" তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, এখানে সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারে।
বক্তব্যের শুরুতে বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতি, অনিয়ম আর উন্নয়নের নামে লুটপাটের চিত্র তুলে ধরেছেন। "গত ১৭ বছরে এত উন্নয়ন শুনতাম, আসলে উন্নয়নটা হয়েছে কোথায়?" বলতে গিয়ে তিনি বলেন, "হয়েছে, তবে সেটা তাদের পকেটের উন্নয়ন।"
তিনি বলেন, "নদীর ব্রিজের খরচ করেছে ৫৪ হাজার কোটি, অথচ পদ্মা সেতুর জন্য খরচ হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার কোটি টাকা।" এবং "রুপপুরের ৪-৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হওয়ার কথা থাকলেও তারা খরচ করেছে ১৪ হাজার কোটি টাকা।"
তিনি আইডিয়ার আলোকে বলেন, "উন্নয়ন মানেই কি শুধু রাস্তা ঘাট করা?" এবং "জলাবদ্ধতা হচ্ছে কেন? ঢাকা শহরে বড় বড় ফ্লাইওভার দেখেন, কিন্তু ড্রেন, খাল ভরাট হচ্ছে।"
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
এছাড়া তিনি বলেন, "আমরা উপজেলা পর্যায়ের ৫১ বেডের হাসপাতালগুলো ১০১ বেডে উন্নীতকরণের কাজ হাতে নিয়েছি।"
সংকটকালীন অবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কী অবস্থায় আমরা দায়িত্ব নিয়েছি, সে সম্পর্কে আপনাদের কম ধারণা নাই।" তিনি বলেন, "ব্যাংকিং খাত দুর্বল হয়ে গেছে।" স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধংস হয়ে গেছে এবং শিক্ষা বিভাগের পরিস্থিতি ভয়াবহ।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, "গেল ১৭ বছর সময়ে জবাবদিহিতারও ধংস হয়ে গেছে।" এরপর তিনি যোগ করেন, "আমরা বলেছিলাম ফ্যামিলি কার্ড দেবো, দিয়েছি। কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু করেছি।"
এই অবস্থায়, তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, "এক পরিবারে ৫ জন কাজ করে, তবে সবাই যদি একসাথে নোংরা করেন, সে একা হবে না।"
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
এতে তিনি নেতাকর্মীদের বলেন, "আপনারা এখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে, তাই আপনাদের বুঝে শুনে কাজ করতে হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন