প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা রাজধানীসহ সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র আকার ধারণ করেছে। সংকটময় পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) চলতি সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। এছাড়াও, অন্যান্য সেশনের শিক্ষার্থীদেরও একই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে ক্লাসের উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিদিনই ক্যাম্পাসে যেতে হচ্ছে তাদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে চলমান জানুয়ারি-জুন সেশনের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার ১২ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত সব পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফে। তবে অন্যান্য সেশনের শিক্ষার্থীদের ক্লাস এখনো কার্যকর রয়েছে বলে জানা গেছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি কমানোর জন্য এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মতে, সাভার পৌর এলাকা, আশুলিয়ার জামগড়া, ভাদাইল, বাইপাইল, গাজীপুর, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্ষাকালে প্রায় প্রতি বছর একই ধরনের জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ার কারণে দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।
শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় ব্যয় করে কর্মস্থলে পৌঁছাতে হচ্ছে তাদের। কিছু এলাকায় পানি পার হয়ে মূল সড়কে উঠতে হচ্ছে, যা ভোগান্তির অন্যতম একটি কারণ। কোথাও কোথাও গণপরিবহনও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে না।
ভোগান্তি সহ্য করে কর্মস্থলে আসার বিষয়ে ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানিয়া আহমেদ তন্বী জানান, ‘আমার বাসার সামনের রাস্তার সংস্কার কাজ চলমান থাকায় গতকালের অতিবৃষ্টিতে রাস্তাজুড়ে হাঁটুসমান পানি জমেছে। পানি ভেঙে বড় রাস্তায় গিয়ে অনেক কষ্টে একটি রিকশা পেয়েছিলাম। পাকিজা মোড়েও হাঁটুসমান পানি, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত, আবার ২০ মাইল এলাকায়ও হাঁটুসমান পানি। গাড়ি রাস্তায় অর্ধেক ডুবে যায়, ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। তারপরও আমাদের যেতে হচ্ছে। সরকারের উচিত অন্তত দুই দিনের জন্য ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করা। তবে এ সম্পর্কে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ভোগান্তি হচ্ছে, কিন্তু এভাবেই যেতে হচ্ছে।
কৃষি অনুষদের সিনিয়র প্রভাষক লাবণী ইয়াসমিন বলেছেন, বৃষ্টির দিনে জলাবদ্ধতার কারণে সকালে ক্যাম্পাসের বাস ধরা এবং নিয়মিত যাতায়াত করা আমাদের সবার জন্য চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। বাস মিস হয়ে গেলে জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তায় কোনো গাড়ি পাওয়ার উপায় থাকে না। যেসব দিন পরীক্ষার সময় থাকে না, সেসব দিন অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস গ্রহণের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীদের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পড়াশোনার ক্ষতি হবে না। এর মাধ্যমে ভোগান্তিও কমবে।
আইন বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ফাহিম বলেন, আমরা যারা মানিকগঞ্জ থেকে নিয়মিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করি, তাদের প্রতিদিনের যাত্রাপথ এরই মধ্যে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর হয়ে থাকে। বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। নোংরা পানির মধ্যে যাতায়াত করতে গিয়ে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। জলাবদ্ধতার জন্য রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র যানজট লেগে থাকে। ফলস্বরূপ, সময়মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ভোগান্তির বিষয়ে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস অনুষদের নবম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. সাঈদ হাসান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা স্থগিত হলেও অক্টোবর সেশনের সব ক্লাস নিয়মিত চলছে। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা হাঁটুপানি উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসে আসছেন। অতিরিক্ত পানির কারণে এনায়েতপুরের ফকিরবাড়ী মোড়ে রিকশা থেমে যায়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার জন্য ক্যাম্পাসে যেতে পারলে ক্লাসের জন্য কীভাবে যাবে? একই বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা স্থগিত হলেও ক্লাস চলমান রয়েছে, বিষয়টি সবার কাছে বেমানান মনে হয়।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, বন্যা বা জলাবদ্ধতার কারণে যেসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে আসতে পারবে না, তারা কোর্স শিক্ষকের কাছে জানালে পরে ক্লাস করার সুযোগ পাবে। শিক্ষার্থীদের সমস্যা বিবেচনা করে চলমান সেমিস্টারের পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী ওহিদ্দুজামান জানান, দেশের বর্তমান বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আপাতত চলমান সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ১৫ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত হচ্ছে। ক্লাসের বিষয়টি সম্পর্কে বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা ক্লাস নেবেন কি না, সেটি তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্যাম্পাসে উপস্থিতির বিষয় সম্পর্কে এখনো কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী আরও দুই-এক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত এড়িয়ে সাময়িকভাবে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করে জরুরি প্রশাসনিক কাজ অনলাইনে পরিচালনা করা সম্ভব কি না—এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, কোনো সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অফিস বন্ধ রাখার কোনো নিয়ম নেই। এখনো পর্যন্ত অফিস বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। তারা গাড়িতে করে আসবেন। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কেউ সমস্যায় পড়লে বা আসতে না পারলে আবেদন করবেন। আমরা বিষয়টি বিবেচনা করব।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা ও ক্লাস দুটি আলাদা বিষয়। কেউ যদি ভিজে ভিজে পরীক্ষা দিতে আসে, তাহলে টানা তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই আমরা আপাতত পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ক্লাসের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের কোর্স শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে ক্লাস স্থগিতের আবেদন করতে পারে। এতে প্রশাসনের কোনো আপত্তি নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন