বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১৪ পি.এম
ভারত সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছিল। দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় ধরে রেখেছে স্বাগতিক দল। এবারও ৭ উইকেটের জয় নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন দল।
টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং শুরু করে আফগানিস্তান। শুরুতেই বিপদে পড়ে তারা। আগের ম্যাচের মতো এবারও ইনিংসের শুরুতে শূন্য রানে সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ। এরপর অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরানের ৩৭ রানের সঙ্গে রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবীর কার্যকর ইনিংসে লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় আফগানরা।
রশিদ ১৬ বলে ২৮ এবং নবী ১৪ বলে ২০ রান করেন। তাদের ব্যাটিংয়ে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৯ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান।
ভারতের পক্ষে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান অলরাউন্ডার নিতীশ কুমার রেড্ডি। তিনি মাত্র ৩ ওভারে ২৪ রান খরচ করে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন।
জবাবে ১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ভারত শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। উদ্বোধনী জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন সাঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩৮ বলে দুজন মিলে গড়েন ৮৮ রানের ঝড়ো জুটি।
স্যামসন মাত্র ২০ বলে তুলে নেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সপ্তম অর্ধশতক। তিনি শেষ পর্যন্ত ২২ বলে ৫৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা। অন্যদিকে অভিষেক শর্মা ১৯ বলে করেন ৩৯ রান।
পাওয়ার প্লেতে ৮২ রান তুলে ম্যাচ জয়ের ভিত গড়ে ফেলে ভারত। দুই ওপেনার ফেরার পর ক্রিজে এসে অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি। তিনি ১১ বলে ১১ রান করে সাজঘরে ফিরে যান।
এরপর ইশান কিষাণ ও তিলক ভার্মা দায়িত্ব নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ইশান ৩৮ এবং তিলক ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটের জয় নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নেয় ভারত। বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন নিতীশ কুমার রেড্ডি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে একটি বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে আসা গ্যাস সিলিন্ডারের আঘাতে জামাল (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ী মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় জামালকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জামাল কামরাঙ্গীরচরের নূরবাগ এলাকার পুরোনো পুলিশ ফাঁড়ি গলির একটি টিনশেড বাড়িতে তার পরিবারসহ বসবাস করতেন। তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন এবং দুই সন্তানের পিতা ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী বিউটি বলেন, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে জামাল বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের টিনশেড ঘরের দুই পাশে একটি পাঁচতলা ও একটি ছয়তলা ভবন অবস্থিত। এ সময় হঠাৎ পাশের একটি ভবন থেকে একটি গ্যাস সিলিন্ডার প্রথমে তাদের ঘরের টিনের চালের উপর পড়ে যায়। পরে সিলিন্ডারটি জামালের মাথায় পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন।
বিউটি আরও জানান, কোন ভবন থেকে বা কীভাবে সিলিন্ডারটি নিচে পড়ে এসেছে, সে সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত হতে পারেননি।
পরে গুরুতর আহত জামালকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ১০টার দিকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, জামালের মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য সরকার নতুন সুবিধার একটি তালিকা যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন প্রদান, পেনশনারদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনা, বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ সুবিধা চালু করা এবং নির্দিষ্ট শর্তে পেনশন ব্যবস্থা থেকে বের হওয়ার সুযোগ প্রদান।
আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় এসব বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে। অর্থমন্ত্রী পদাধিকারবলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, জনআগ্রহ বৃদ্ধি করতে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হবে। যদি পর্ষদ অনুমোদন দেয় এবং বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন করা সম্ভব হয়, তাহলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এসব সুবিধা কার্যকর করা হতে পারে।
বয়স্ক জনগণের জন্য টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনগণের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে নির্ভরশীলতার হার বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে ২০২৩ সালের আগস্টে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। তবে প্রায় তিন বছর পার হলেও এতে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি।
ব্যাংকের আমানতের সুদের তুলনায় পেনশনের রিটার্ন কম হওয়া এবং গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক সুবিধার সীমাবদ্ধতা এর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত চারটি স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন। তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
এর মধ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের জন্য চালু করা ‘সমতা’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। তাদের জমার পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে ‘প্রবাস’ স্কিমে সাড়া সবচেয়ে কম। এই স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন মাত্র ১ হাজার ১৭১ জন প্রবাসী, যার মধ্যে ৯৭ জন নারী। এ স্কিমে জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, পেনশনভোগী ৬০ বছর বয়সে মাসিক পেনশন গ্রহণ করা শুরু করেন। পেনশন পাওয়ার সময় তার মৃত্যু হলে নমিনি পেনশনার ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত সমহারে মাসিক পেনশন পান।
নতুন প্রস্তাবে নমিনির পরিবর্তে পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের প্রচলিত পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি, পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাবও পর্ষদ সভায় উঠতে পারে।
আইনে গ্রাহকের জমা করা অর্থের একটি অংশ বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এটি এখনো চালু হয়নি। এবার কর্তৃপক্ষ এই সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে। ঋণের সুদও গ্রাহকের পেনশন হিসাবে জমা হওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া, পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক ও আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ ব্যবস্থা থেকে বের হতে চাইলে বিশেষ বিবেচনায় পুরো অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
পেনশনারদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এ জন্য একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এতে গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
পর্ষদের অনুমোদন পেলে বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন করে এসব সুবিধা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রিয়জন হারানোর কষ্টের সহজ সমাধান নেই। শোকাহত বন্ধু বা স্বজনকে সান্ত্বনা দেওয়ার পদ্ধতি অনেক সময় বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের কষ্ট দূর করা সম্ভব নয়, তবে পাশে থেকে, নিয়মিত খোঁজ নিয়ে এবং প্রয়োজনের সময় ছোট ছোট কাজে সহযোগিতা করা শোকের সময়টিকে কিছুটা সহজ করে তুলতে পারে।
একটি চিঠি পাঠানো, রান্না করা খাবার নিয়ে যাওয়া কিংবা নিয়মিত ফোন করে খোঁজ নেওয়ার মতো ছোট উদ্যোগও শোকাহত মানুষের কাছে অনেক অর্থবহ হতে পারে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রত্যেক মানুষের শোকের ধরন আলাদা। তাই তাকে নিজের মতো করে শোক কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে।
মৃত ব্যক্তির কথা বলতে ভয় পাবেন না। প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তার নাম বা স্মৃতি নিয়ে কথা বলতে অনেকে দ্বিধায় থাকেন। কিন্তু মৃত ব্যক্তির নাম উচ্চারণ করলে শোকাহত মানুষ আরও কষ্ট পাবেন—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বরং প্রিয় মানুষটির কথা বলা, তার সঙ্গে কাটানো স্মৃতি মনে করা কিংবা তাকে কতটা মনে পড়ছে তা বলা শোকাহত ব্যক্তির জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
শুধু প্রচলিতভাবে আপনার ক্ষতির জন্য দুঃখিত বলার চেয়ে, তাকে আমিও খুব মনে করব—এ ধরনের আন্তরিক কথা অনেক বেশি অর্থবহ হতে পারে।
‘কেমন আছেন?’ না বলে জিজ্ঞেস করুন অনুভূতির কথা। শোকের মধ্যে থাকা কাউকে স্বাভাবিকভাবে ‘কেমন আছেন?’ জিজ্ঞেস করলে প্রশ্নটির উত্তর অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে যায়। কারণ প্রিয়জন হারানোর পর যে তিনি ভালো নেই, সেটি অনেকটাই স্পষ্ট।
এর পরিবর্তে বলা যেতে পারে, ‘আজ কেমন অনুভব করছেন?’ এতে তার বর্তমান অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয় এবং তিনি চাইলে নিজের কষ্টের কথা বলতে পারেন。
মিথ্যা আশ্বাস নয়, দিন ভরসা
শোক কাটিয়ে উঠতে সময় লাগে। তাই ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’ ধরনের দ্রুত আশ্বাস না দিয়ে তাকে বোঝানো ভালো যে প্রয়োজন অনুযায়ী সময় নিয়ে শোক করার অধিকার তার আছে।
যেমন বলা যেতে পারে, ‘তোমার যতদিন সময় লাগে, ততদিন শোক করো। তুমি শক্ত মানুষ, ধীরে ধীরে এই সময়টা পার হয়ে উঠতে পারবে।’
এতে একদিকে তার কষ্টকে স্বীকার করা হয়, অন্যদিকে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ভালো হওয়ার ব্যাপারে আশ্বাসও দেওয়া হয়।
তবে খুব হালকাভাবে বা তাড়াহুড়ো করে আশ্বস্ত করা উচিত নয়। এতে শোকাহত মানুষ নিজেকে আরও একা মনে করতে পারেন।
প্রথম কয়েক সপ্তাহ পরও খোঁজ নিন
প্রিয়জনের মৃত্যুর পর প্রথম দিকে অনেকেই পাশে থাকেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর অনেকের যোগাযোগ কমে যায়।
এই সময়টিই শোকাহত ব্যক্তির জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রথম কয়েক সপ্তাহের পরও নিয়মিত ফোন করা, দেখা করা কিংবা শুধু খোঁজ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক শোকাহত মানুষের পক্ষে নিজের প্রয়োজনের কথা বলে অন্যের কাছে সাহায্য চাওয়া কঠিন হয়। তাই তাদের কাছ থেকেই যোগাযোগের অপেক্ষায় না থেকে আপনিই উদ্যোগ নিতে পারেন।
‘কিছু লাগলে বলবেন’ না বলে নির্দিষ্ট সাহায্য করুন। শোকাহত কাউকে শুধু ‘কিছু দরকার হলে বলবেন’ বললে অনেক সময় সাহায্যের দায়িত্ব তার ওপরই চলে যায়। তিনি হয়তো সংকোচে কিছু চাইবেন না।
এর পরিবর্তে নির্দিষ্টভাবে সাহায্যের কথা বলা ভালো।
যেমন—রান্না করে খাবার নিয়ে যাওয়া, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো, ফোন ধরা, রান্নাঘর পরিষ্কার করা কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে সঙ্গে থাকা।
পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সময়েও সহযোগিতা করা যেতে পারে। যেমন সম্পত্তি বা আইনি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ কেউ সাহায্য করতে পারেন। বাড়িঘরের প্রয়োজনীয় কাজেও সহযোগিতা করা যেতে পারে।
খাবারের বিষয়েও পাশে থাকুন
প্রিয়জন হারানোর পর অনেকেরই নিয়মিত খাবার তৈরি, বাজার করা কিংবা একা খাওয়ার নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়।
বিশেষ করে স্বামী বা স্ত্রীকে হারানো মানুষের জন্য একা একজনের খাবারের পরিকল্পনা করা, বাজার করা ও রান্না করা বড় ধরনের পরিবর্তন হতে পারে।
তাই রান্না করে খাবার পৌঁছে দেওয়া, বাজার করে দেওয়া কিংবা রান্নার কাজে সহযোগিতা করা কার্যকর সাহায্য হতে পারে।
পরামর্শ দেওয়ার চেয়ে মন দিয়ে শুনুন
শোকাহত মানুষের পাশে থাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়গুলোর একটি হলো তার কথা মন দিয়ে শোনা।
অনেক সময় মানুষ একই ঘটনা বা একই স্মৃতি বারবার বলতে পারেন। কিন্তু বারবার একই কথা বলা শোক ও মানসিক আঘাত সামলে ওঠার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে।
তাই একই গল্প বারবার শুনতে হলেও বিরক্ত না হয়ে মনোযোগ দিয়ে শোনা গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি না চাইতেই দ্রুত কোনো পরামর্শ দিতে যাবেন না। অনেক সময় শোকাহত মানুষের প্রয়োজন সমাধান বা পরামর্শ নয়, বরং এমন একজন মানুষ, যিনি তার কথা বুঝতে চেষ্টা করবেন এবং নীরবে শুনবেন।
শোকের সময় বিচার করবেন না
প্রিয়জন হারানোর পর একজন মানুষের জীবন ও অনুভূতির জগৎ অনেকটাই বদলে যেতে পারে। কেউ দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারেন, আবার কারও অনেক বেশি সময় লাগতে পারে।
তাই ‘এখন তো স্বাভাবিক হওয়া উচিত’ কিংবা ‘এবার এগিয়ে যেতে হবে’—এ ধরনের কথা বলা ঠিক নয়।
‘কাঁদো’ বা ‘এবার এগিয়ে যাও’—এ ধরনের নির্দেশনাও শোক কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়ক নয়।
প্রত্যেক মানুষ নিজের মতো এবং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী শোক কাটিয়ে ওঠেন। তাই তাকে নিজের গতিতে সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পাশে থাকাটাই সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা
শোকের কষ্ট অন্য কেউ দূর করে দিতে পারেন না। তবে একজন মানুষকে একা সেই কষ্ট বহন করতে না দেওয়ার চেষ্টা করা যায়।
মৃত ব্যক্তির কথা বলা, নিয়মিত খোঁজ নেওয়া, প্রয়োজনীয় কাজে সাহায্য করা, খাবারের ব্যবস্থা করা কিংবা শুধু নীরবে পাশে বসে শোনা—এসব ছোট উদ্যোগই শোকাহত মানুষের কাছে বড় সহায়তা হয়ে উঠতে পারে।
সবচেয়ে জরুরি হলো, তার শোককে সম্মান করা এবং তাকে নিজের মতো করে সময় নিয়ে এই কঠিন সময় পার করার সুযোগ দেওয়া।
সূত্র: হার্ভার্ড
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার আদমদীঘিতে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) ক্লোজড করা হয়েছে। আনেস আলী নামের ওই পুলিশ সদস্যকে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে বগুড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আনেস আলীর বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে তাকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনতে ওই পুলিশ সদস্য কয়েকজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনেস আলীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন বলেন, "পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জরুরি প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন। ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে আসার পর তাকে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে বগুড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ