প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য সরকার নতুন সুবিধার একটি তালিকা যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন প্রদান, পেনশনারদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনা, বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ সুবিধা চালু করা এবং নির্দিষ্ট শর্তে পেনশন ব্যবস্থা থেকে বের হওয়ার সুযোগ প্রদান।
আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় এসব বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে। অর্থমন্ত্রী পদাধিকারবলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, জনআগ্রহ বৃদ্ধি করতে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হবে। যদি পর্ষদ অনুমোদন দেয় এবং বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন করা সম্ভব হয়, তাহলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এসব সুবিধা কার্যকর করা হতে পারে।
বয়স্ক জনগণের জন্য টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনগণের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে নির্ভরশীলতার হার বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে ২০২৩ সালের আগস্টে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। তবে প্রায় তিন বছর পার হলেও এতে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি।
ব্যাংকের আমানতের সুদের তুলনায় পেনশনের রিটার্ন কম হওয়া এবং গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক সুবিধার সীমাবদ্ধতা এর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত চারটি স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন। তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
এর মধ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের জন্য চালু করা ‘সমতা’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। তাদের জমার পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে ‘প্রবাস’ স্কিমে সাড়া সবচেয়ে কম। এই স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন মাত্র ১ হাজার ১৭১ জন প্রবাসী, যার মধ্যে ৯৭ জন নারী। এ স্কিমে জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, পেনশনভোগী ৬০ বছর বয়সে মাসিক পেনশন গ্রহণ করা শুরু করেন। পেনশন পাওয়ার সময় তার মৃত্যু হলে নমিনি পেনশনার ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত সমহারে মাসিক পেনশন পান।
নতুন প্রস্তাবে নমিনির পরিবর্তে পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের প্রচলিত পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি, পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাবও পর্ষদ সভায় উঠতে পারে।
আইনে গ্রাহকের জমা করা অর্থের একটি অংশ বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এটি এখনো চালু হয়নি। এবার কর্তৃপক্ষ এই সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে। ঋণের সুদও গ্রাহকের পেনশন হিসাবে জমা হওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া, পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক ও আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ ব্যবস্থা থেকে বের হতে চাইলে বিশেষ বিবেচনায় পুরো অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
পেনশনারদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এ জন্য একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এতে গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
পর্ষদের অনুমোদন পেলে বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন করে এসব সুবিধা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন