বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১৫ পি.এম
সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য সরকার নতুন সুবিধার একটি তালিকা যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন প্রদান, পেনশনারদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনা, বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ সুবিধা চালু করা এবং নির্দিষ্ট শর্তে পেনশন ব্যবস্থা থেকে বের হওয়ার সুযোগ প্রদান।
আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় এসব বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে। অর্থমন্ত্রী পদাধিকারবলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, জনআগ্রহ বৃদ্ধি করতে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হবে। যদি পর্ষদ অনুমোদন দেয় এবং বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন করা সম্ভব হয়, তাহলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এসব সুবিধা কার্যকর করা হতে পারে।
বয়স্ক জনগণের জন্য টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনগণের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে নির্ভরশীলতার হার বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে ২০২৩ সালের আগস্টে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। তবে প্রায় তিন বছর পার হলেও এতে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি।
ব্যাংকের আমানতের সুদের তুলনায় পেনশনের রিটার্ন কম হওয়া এবং গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক সুবিধার সীমাবদ্ধতা এর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত চারটি স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন। তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
এর মধ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের জন্য চালু করা ‘সমতা’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। তাদের জমার পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে ‘প্রবাস’ স্কিমে সাড়া সবচেয়ে কম। এই স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন মাত্র ১ হাজার ১৭১ জন প্রবাসী, যার মধ্যে ৯৭ জন নারী। এ স্কিমে জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, পেনশনভোগী ৬০ বছর বয়সে মাসিক পেনশন গ্রহণ করা শুরু করেন। পেনশন পাওয়ার সময় তার মৃত্যু হলে নমিনি পেনশনার ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত সমহারে মাসিক পেনশন পান।
নতুন প্রস্তাবে নমিনির পরিবর্তে পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের প্রচলিত পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি, পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাবও পর্ষদ সভায় উঠতে পারে।
আইনে গ্রাহকের জমা করা অর্থের একটি অংশ বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এটি এখনো চালু হয়নি। এবার কর্তৃপক্ষ এই সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে। ঋণের সুদও গ্রাহকের পেনশন হিসাবে জমা হওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া, পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক ও আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ ব্যবস্থা থেকে বের হতে চাইলে বিশেষ বিবেচনায় পুরো অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
পেনশনারদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এ জন্য একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এতে গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
পর্ষদের অনুমোদন পেলে বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন করে এসব সুবিধা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রিয়জন হারানোর কষ্টের সহজ সমাধান নেই। শোকাহত বন্ধু বা স্বজনকে সান্ত্বনা দেওয়ার পদ্ধতি অনেক সময় বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের কষ্ট দূর করা সম্ভব নয়, তবে পাশে থেকে, নিয়মিত খোঁজ নিয়ে এবং প্রয়োজনের সময় ছোট ছোট কাজে সহযোগিতা করা শোকের সময়টিকে কিছুটা সহজ করে তুলতে পারে।
একটি চিঠি পাঠানো, রান্না করা খাবার নিয়ে যাওয়া কিংবা নিয়মিত ফোন করে খোঁজ নেওয়ার মতো ছোট উদ্যোগও শোকাহত মানুষের কাছে অনেক অর্থবহ হতে পারে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রত্যেক মানুষের শোকের ধরন আলাদা। তাই তাকে নিজের মতো করে শোক কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে।
মৃত ব্যক্তির কথা বলতে ভয় পাবেন না। প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তার নাম বা স্মৃতি নিয়ে কথা বলতে অনেকে দ্বিধায় থাকেন। কিন্তু মৃত ব্যক্তির নাম উচ্চারণ করলে শোকাহত মানুষ আরও কষ্ট পাবেন—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বরং প্রিয় মানুষটির কথা বলা, তার সঙ্গে কাটানো স্মৃতি মনে করা কিংবা তাকে কতটা মনে পড়ছে তা বলা শোকাহত ব্যক্তির জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
শুধু প্রচলিতভাবে আপনার ক্ষতির জন্য দুঃখিত বলার চেয়ে, তাকে আমিও খুব মনে করব—এ ধরনের আন্তরিক কথা অনেক বেশি অর্থবহ হতে পারে।
‘কেমন আছেন?’ না বলে জিজ্ঞেস করুন অনুভূতির কথা। শোকের মধ্যে থাকা কাউকে স্বাভাবিকভাবে ‘কেমন আছেন?’ জিজ্ঞেস করলে প্রশ্নটির উত্তর অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে যায়। কারণ প্রিয়জন হারানোর পর যে তিনি ভালো নেই, সেটি অনেকটাই স্পষ্ট।
এর পরিবর্তে বলা যেতে পারে, ‘আজ কেমন অনুভব করছেন?’ এতে তার বর্তমান অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয় এবং তিনি চাইলে নিজের কষ্টের কথা বলতে পারেন。
মিথ্যা আশ্বাস নয়, দিন ভরসা
শোক কাটিয়ে উঠতে সময় লাগে। তাই ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’ ধরনের দ্রুত আশ্বাস না দিয়ে তাকে বোঝানো ভালো যে প্রয়োজন অনুযায়ী সময় নিয়ে শোক করার অধিকার তার আছে।
যেমন বলা যেতে পারে, ‘তোমার যতদিন সময় লাগে, ততদিন শোক করো। তুমি শক্ত মানুষ, ধীরে ধীরে এই সময়টা পার হয়ে উঠতে পারবে।’
এতে একদিকে তার কষ্টকে স্বীকার করা হয়, অন্যদিকে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ভালো হওয়ার ব্যাপারে আশ্বাসও দেওয়া হয়।
তবে খুব হালকাভাবে বা তাড়াহুড়ো করে আশ্বস্ত করা উচিত নয়। এতে শোকাহত মানুষ নিজেকে আরও একা মনে করতে পারেন।
প্রথম কয়েক সপ্তাহ পরও খোঁজ নিন
প্রিয়জনের মৃত্যুর পর প্রথম দিকে অনেকেই পাশে থাকেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর অনেকের যোগাযোগ কমে যায়।
এই সময়টিই শোকাহত ব্যক্তির জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রথম কয়েক সপ্তাহের পরও নিয়মিত ফোন করা, দেখা করা কিংবা শুধু খোঁজ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক শোকাহত মানুষের পক্ষে নিজের প্রয়োজনের কথা বলে অন্যের কাছে সাহায্য চাওয়া কঠিন হয়। তাই তাদের কাছ থেকেই যোগাযোগের অপেক্ষায় না থেকে আপনিই উদ্যোগ নিতে পারেন।
‘কিছু লাগলে বলবেন’ না বলে নির্দিষ্ট সাহায্য করুন। শোকাহত কাউকে শুধু ‘কিছু দরকার হলে বলবেন’ বললে অনেক সময় সাহায্যের দায়িত্ব তার ওপরই চলে যায়। তিনি হয়তো সংকোচে কিছু চাইবেন না।
এর পরিবর্তে নির্দিষ্টভাবে সাহায্যের কথা বলা ভালো।
যেমন—রান্না করে খাবার নিয়ে যাওয়া, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো, ফোন ধরা, রান্নাঘর পরিষ্কার করা কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে সঙ্গে থাকা।
পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সময়েও সহযোগিতা করা যেতে পারে। যেমন সম্পত্তি বা আইনি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ কেউ সাহায্য করতে পারেন। বাড়িঘরের প্রয়োজনীয় কাজেও সহযোগিতা করা যেতে পারে।
খাবারের বিষয়েও পাশে থাকুন
প্রিয়জন হারানোর পর অনেকেরই নিয়মিত খাবার তৈরি, বাজার করা কিংবা একা খাওয়ার নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়।
বিশেষ করে স্বামী বা স্ত্রীকে হারানো মানুষের জন্য একা একজনের খাবারের পরিকল্পনা করা, বাজার করা ও রান্না করা বড় ধরনের পরিবর্তন হতে পারে।
তাই রান্না করে খাবার পৌঁছে দেওয়া, বাজার করে দেওয়া কিংবা রান্নার কাজে সহযোগিতা করা কার্যকর সাহায্য হতে পারে।
পরামর্শ দেওয়ার চেয়ে মন দিয়ে শুনুন
শোকাহত মানুষের পাশে থাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়গুলোর একটি হলো তার কথা মন দিয়ে শোনা।
অনেক সময় মানুষ একই ঘটনা বা একই স্মৃতি বারবার বলতে পারেন। কিন্তু বারবার একই কথা বলা শোক ও মানসিক আঘাত সামলে ওঠার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে।
তাই একই গল্প বারবার শুনতে হলেও বিরক্ত না হয়ে মনোযোগ দিয়ে শোনা গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি না চাইতেই দ্রুত কোনো পরামর্শ দিতে যাবেন না। অনেক সময় শোকাহত মানুষের প্রয়োজন সমাধান বা পরামর্শ নয়, বরং এমন একজন মানুষ, যিনি তার কথা বুঝতে চেষ্টা করবেন এবং নীরবে শুনবেন।
শোকের সময় বিচার করবেন না
প্রিয়জন হারানোর পর একজন মানুষের জীবন ও অনুভূতির জগৎ অনেকটাই বদলে যেতে পারে। কেউ দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারেন, আবার কারও অনেক বেশি সময় লাগতে পারে।
তাই ‘এখন তো স্বাভাবিক হওয়া উচিত’ কিংবা ‘এবার এগিয়ে যেতে হবে’—এ ধরনের কথা বলা ঠিক নয়।
‘কাঁদো’ বা ‘এবার এগিয়ে যাও’—এ ধরনের নির্দেশনাও শোক কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়ক নয়।
প্রত্যেক মানুষ নিজের মতো এবং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী শোক কাটিয়ে ওঠেন। তাই তাকে নিজের গতিতে সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পাশে থাকাটাই সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা
শোকের কষ্ট অন্য কেউ দূর করে দিতে পারেন না। তবে একজন মানুষকে একা সেই কষ্ট বহন করতে না দেওয়ার চেষ্টা করা যায়।
মৃত ব্যক্তির কথা বলা, নিয়মিত খোঁজ নেওয়া, প্রয়োজনীয় কাজে সাহায্য করা, খাবারের ব্যবস্থা করা কিংবা শুধু নীরবে পাশে বসে শোনা—এসব ছোট উদ্যোগই শোকাহত মানুষের কাছে বড় সহায়তা হয়ে উঠতে পারে।
সবচেয়ে জরুরি হলো, তার শোককে সম্মান করা এবং তাকে নিজের মতো করে সময় নিয়ে এই কঠিন সময় পার করার সুযোগ দেওয়া।
সূত্র: হার্ভার্ড
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার আদমদীঘিতে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) ক্লোজড করা হয়েছে। আনেস আলী নামের ওই পুলিশ সদস্যকে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে বগুড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আনেস আলীর বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে তাকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনতে ওই পুলিশ সদস্য কয়েকজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনেস আলীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন বলেন, "পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জরুরি প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন। ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে আসার পর তাকে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে বগুড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য এবং শিল্পসহ অন্যান্য খাতে অধিকতর বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য ও শিল্পখাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার পাহাড়, নদী, ঝরনা, চাবাগান, বন, হাওর সব মিলিয়ে সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল। আমি বিশ্বাস করি এসব খাতে আরও উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আজকে যারা প্রবাসে আছেন এবং যাদের যথেষ্ট যোগ্যতা আছে তারা যদি এসব খাতে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসেন, তাহলে এখানে আমাদের পর্যটন শিল্পে অনেক বেশি উন্নত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।"
এ সময় রাষ্ট্রপতি চা শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, "সিলেটের চা বাগান শুধু আমাদের বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বে বিখ্যাত, সেজন্য এই সিলেট অনেক বেশি সামনে এগিয়ে আছে।"
মাছ চাষের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এখানকার হাওড়গুলোতে মাছ চাষের অনেক সুবিধা আছে এবং এখানে যে মিনারেলস আছে, সেগুলো দিয়ে এখানে অনেক বড় বড় শিল্প গড়ে উঠতে পারে।"
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রবাসীদের বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিল্প, চা শিল্প, পর্যটন, গ্যাস এসব সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি পাকিস্তানের হাই কমিশনারের সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে বলেন, "তিনি কয়েকদিন আগে সিলেটে এসেছিলেন, এখান থেকে চা নিয়ে যাবেন অর্থাৎ তারা এখান থেকে চা আমদানি করবে। আমাদের এটার কোর্ডিনেট করা দরকার।"
সিলেটের প্রবাসী সমাজের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, "সিলেটের প্রবাসী সমাজ শুধু সিলেটের অর্থনীতি নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।"
তিনি বলেন, "আগামী দিনের লড়াই হচ্ছে দেশ পুনর্গঠন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য আবাসস্থল নির্মাণ করা।"
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, "আসুন এখন অন্তত আমাদের কমন যে ইস্যুগুলো আছে, সেই ইস্যুগুলোতে আমরা একমত হই। একমত হয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই।"
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আমরা এখানে অনেকগুলো জাতি একসঙ্গে বাস করি এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে সৌন্দর্য হচ্ছে যে বাংলাদেশে কমিউনাল হারমিনি আছে।"
সিলেটবাসীর পাশে থাকার আশাবাদ ব্যাক্ত করে তিনি বলেন, "সিলেটের মানুষের সঙ্গে আমি সবসময় ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব।"
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গাউছ, রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রমুখ। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শরীরের সুস্থতার জন্য ব্যায়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত ব্যায়াম পেশির শক্তি বজায় রাখতে, হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে এবং ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে সক্ষম। তবে, এর উপকারিতা শুধুমাত্র শরীরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত ব্যায়াম মস্তিষ্কের স্মৃতি ও চিন্তাশক্তির উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁদের মস্তিষ্কের চিন্তা ও স্মৃতিনিয়ন্ত্রণকারী অংশের আয়তন ব্যায়াম না করা ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি হতে পারে। বিশেষ করে ছয় মাস থেকে এক বছর নিয়মিত মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু অংশের আয়তন বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
ব্যায়াম কীভাবে মস্তিষ্কের উপকার করে?
ব্যায়াম মস্তিষ্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলার পাশাপাশি পরোক্ষভাবে স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি উন্নত করতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক অবস্থাকে ভালো রাখতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
মন খারাপ, ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ—এসব বিষয় অনেক সময় চিন্তাশক্তি ও স্মৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এসব সমস্যা কমাতে পারলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ভালো থাকতে পারে।
মস্তিষ্কের জন্য কোন ব্যায়াম সবচেয়ে কার্যকর?
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট ব্যায়াম অন্যগুলোর চেয়ে বেশি কার্যকর কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে অধিকাংশ গবেষণায় হাঁটার মতো ব্যায়াম নিয়ে বেশি পরীক্ষা করা হয়েছে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের স্নায়ুরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক স্কট ম্যাকগিনিসের মতে, হৃদ্স্পন্দন বাড়ায় এমন অন্যান্য বায়বীয় ব্যায়ামেও একই ধরনের উপকার পাওয়া যেতে পারে।
অর্থাৎ, দ্রুত হাঁটার পাশাপাশি এমন অন্যান্য ব্যায়ামও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী হতে পারে, যেগুলো করলে হৃদ্স্পন্দন বাড়ে।
বয়স্কদের জন্য তাই চি কতটা উপকারী?
বয়স্কদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নিয়ে করা একটি গবেষণায় তাই চি ব্যায়ামের সম্ভাব্য উপকারের কথা উঠে এসেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছিল বয়স্কদের চিকিৎসাবিষয়ক একটি সাময়িকীতে। এতে দেখা যায়, তাই চি বয়স্কদের চিন্তাশক্তি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে পরিকল্পনা করা, কাজের বিষয় মনে রাখা, মনোযোগ দেওয়া, সমস্যা সমাধান এবং কথার মাধ্যমে যুক্তি দেওয়ার মতো মানসিক কাজ নিয়ন্ত্রণে এর উপকার থাকতে পারে।
তাই চি ধীর ও মনোযোগীভাবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ সঞ্চালনের একটি পদ্ধতি। এতে নতুন কিছু কৌশল ও শরীরের নড়াচড়ার ধরন শেখা এবং মনে রাখার প্রয়োজন হয়। এ কারণেও এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার জন্য উপকারী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সপ্তাহে কতক্ষণ ব্যায়াম করবেন?
হার্ভার্ডের বিশেষজ্ঞ স্কট ম্যাকগিনিস ব্যায়ামকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, এটি এমনভাবে করতে হবে যেন দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য কাজ হয়ে ওঠে। মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম, যেমন দ্রুত হাঁটা, সপ্তাহে মোট ১৫০ মিনিট করার লক্ষ্য রাখা যেতে পারে।
তবে শুরুতেই দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন কয়েক মিনিট দিয়ে শুরু করে প্রতি সপ্তাহে সময় ৫ থেকে ১০ মিনিট করে বাড়ানো যেতে পারে। এভাবে ধীরে ধীরে সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।
ফল পেতে সময় লাগতে পারে
ব্যায়াম শুরু করার পরপরই স্মৃতি বা চিন্তাশক্তিতে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে—এমনটা আশা না করাই ভালো। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়ামের মাধ্যমে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার উপকার পেতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে। তাই কয়েক সপ্তাহ ব্যায়াম করার পর কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না দেখলেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস ধরে রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।
শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্ককেও সুস্থ রাখতে ব্যায়াম তাই দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাস হিসেবে চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: হার্ভার্ড
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ