বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:১১ পি.এম
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এক যৌথ পরামর্শক কমিশন গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী নিয়োগে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে।
আজ, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উভয় পক্ষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকের সময়, উভয় পক্ষ বাংলাদেশ এবং আলজেরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং বর্ধমান অংশীদারিত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান। এছাড়া, উভয় পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধ শিল্প, কৃষি, মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার, জাহাজ নির্মাণ এবং জনশক্তি খাতে সহযোগিতা জোরদার করার সুযোগ নিয়েও আলোচনা করেন।
শামা ওবায়েদ দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব আরও সুসংহত করতে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রদূত সাইদানি জ্বালানি, কৃষি, ওষুধ শিল্প এবং জাহাজ নির্মাণ খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আলজেরিয়ার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ক্ষেত্রে তার দেশের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন, যা বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনুনদীতে রাজনগর উপজেলার উজিরপুর ও কমলগঞ্জের ধলাই নদী মখাবিল নামক এলাকায় বাঁধের দুটি স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলার বেশকিছু গ্রাম ঢলের পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান যে, উজিরপুর গ্রামের লোকজন বৃহস্পতিবার ভোর থেকে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মাটির বস্তা ফেলে বাঁধ আটকানোর চেষ্টা করছেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটায়, পানির চাপে আকস্মিকভাবে রাজনগর উপজেলার উজিরপুর এলাকার বাঁধ মুহূর্তেই ভেঙে যায়। এই ভাঙনের ফলে টেঙ্গরা ইউনিয়নের বেশকয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
অপরদিকে, কমলগঞ্জের মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ না থাকায় গত ভোর রাত থেকেই বাঁধের দুটি স্থান দিয়ে ঢলের পানি প্রবাহিত হয়ে এ উপজেলার আদমপুর, ইসলামপুর ইউনিয়নসহ বেশকিছু গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে রাস্তাঘাটও পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ মনু এবং ধলাই নদীর বাঁধ ভাঙন সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে জানান, উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় এখন জেলার সবকটি নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে মনু ও ধলাই নদী দুটিটি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামে একদল ব্যক্তি সরকারি কাঁচা রাস্তা দখল করে বাড়ি ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ তুলেছে। এ কারণে স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগও করেছেন।
অভিযোগের সূত্র অনুযায়ী, পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের সাব্বির খানের বাড়ি থেকে মমিন খানের বাড়ি পর্যন্ত একটি সরকারি কাঁচা রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে আছে। এই রাস্তা দিয়ে এলাকার প্রায় ১০০ পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত যাতায়াত করে আসছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগে ওই রাস্তাটিতে ইট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তবে বর্তমানে রাস্তাটি দখলে নিয়ে বাড়ি ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় তারা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
লিখিত অভিযোগে শাহিন উল্লেখ করেন, একই গ্রামের ইদ্রিস বেপারী, সোনা মীর, কালাম মীর ও সালাম মীর পূর্বপরিকল্পিতভাবে সরকারি রাস্তার অংশ কেটে দখল করে সেখানে বিভিন্ন ধরনের ঘরবাড়ি ও পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন। এতে এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবির মধ্যে রয়েছে যে, অভিযোগ করার পর অভিযুক্তদের বাধা দিতে গেলে তারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। ফলে স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ নিয়ে যে কোনো বিরোধ সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলেও তাদের আশঙ্কা।
অভিযোগকারীরা জনস্বার্থে অনুরোধ করেছেন যে, দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
তীব্র দাবদাহে পুড়ছে ইউরোপ। হাজারো মানুষের প্রাণ প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে মহাদেশটিতে নতুন আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ‘ভিব্রিও’ (Vibrio) নামের একটি মাংসখেকো ও প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়া। এই বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ এখন শুধু ইউরোপের মূল ভূখণ্ডেই নয়, বরং যুক্তরাজ্যের সৈকতগুলোর জন্যও একটি বড় হুমকি তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এমনই ভয়ংকর তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিব্রিও একটি ধরণের ব্যাকটেরিয়া, যা সাধারণত উষ্ণ বা নোনা পানিতে জন্মায় এবং গ্রীষ্মের তীব্র গরমে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিএস) স্যাটেলাইট ডেটা ও সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে একটি ম্যাপ তৈরি করেছে। এই ম্যাপটি সংক্রমণের ঝুঁকির জায়গাগুলো চিহ্নিত করছে।
সংস্থাটি বলছে, এ বছর সংক্রমণের ঝুঁকি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির জন্য ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন, জার্মানি ও পোল্যান্ডের উপকূলবর্তী এলাকাগুলো বেশ উপযোগী হয়ে উঠেছে এবং এর কারণ হল বাল্টিক সাগরের লবণাক্ততা কমে যাওয়া ও তাপমাত্রার বৃদ্ধি। এছাড়া ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরে লবণাক্ততা বেশি থাকার কারণে সাধারণত ঝুঁকি কম থাকে, তবে ভারী বৃষ্টির পর নদীর মোহনাগুলোতে ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো সম্পর্কে ইসিডিএস জুলাই মাসের শুরুতে আটটি দেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই দেশগুলো হলো— বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও সুইডেন। এছাড়া জার্মানির, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে গত মাসে স্পেনের কিছু সৈকতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির কারণে সেগুলোকে সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
ব্যাকটেরিয়াযুক্ত পানি কোনও ক্ষত বা কাটাছেঁড়ার সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ হতে পারে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। দূষিত সামুদ্রিক খাবার খেলে ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, বমি ও জ্বর হতে পারে। ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হলে লালচে হওয়া, ফোলা ও ব্যথার উপসর্গ দেখা দিতে পারে এবং এটি কানের সংক্রমণও ঘটাতে পারে। সঠিক চিকিৎসা না হলে এই সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে সেপসিস সৃষ্টি করতে পারে, যা জীবননাশের কারণ হতে পারে। শিশুদের জন্য সাঁতারের সময় ভুলবশত পানি গিলে ফেলা ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফ্রান্সিস হাসার্ডের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম হলেও লিভারের রোগ, ডায়াবেটিস বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তিদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে। নতুন ট্যাটু, সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের ক্ষত বা কাটাছেঁড়া শরীর নিয়ে সমুদ্রে নামা উচিত নয়। এছাড়া কাঁচা বা অর্ধেক রান্না করা শেলফিশ (যেমন অয়েস্টার) খাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদি সমুদ্রের পানি থেকে উঠার পর ক্ষতস্থানে দ্রুত ফোলা, লালচে ভাব বা প্রচণ্ড ব্যথা হয়, তবে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চারিদিকে থই থই পানি ছিল। ভেতরে একটি ভঙ্গুর কুঁড়েঘরে আট মাসের এক দুগ্ধপোষ্য শিশু, এক অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং এক বৃদ্ধাসহ একই পরিবারের ১৩ জন মানুষ অবস্থান করছিলেন। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জলকদর খালের উপচে পড়া পানির তীব্র স্রোতে ঘরটি যে কোনো সময় ভেসে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল। এমন একটি চরম মুহূর্ত থেকে তাদের সবাইকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এই উদ্ধার অভিযানের পিছনে ছিল জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর একটি ফোন কল।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চেচুরিয়া এলাকার জলকদর খালের ওপর অবস্থিত চেচুরিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার জানান, বুধবার রাতে ওই পরিবারের পক্ষ থেকে ৯৯৯ নম্বরে কল করে জীবন বাঁচানোর জন্য আকুতি জানানো হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
বাঁশখালী ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ মিজানুর রহমান ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘রাত সাড়ে ৮টার দিকে ট্রিপল নাইন (৯৯৯) থেকে ফোন পেয়ে আমরা জানতে পারি, চেচুরিয়া ব্রিজের কাছে জলাবদ্ধতার মধ্যে একটি কুঁড়েঘরে ১৩ জন মানুষ আটকা পড়েছেন। চারপাশে পানির গভীরতা এবং তীব্র স্রোতের কারণে সেখানে পৌঁছানো ছিল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।’
মিজানুর রহমান আরও জানান, দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে তীব্র স্রোত মোকাবেলা করে রশিসহ প্রয়োজনীয় সব উদ্ধার সরঞ্জাম সেট করতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় লেগে যায়। তারপর অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ঘরটিতে আটকে থাকা বৃদ্ধা, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং শিশুদের একে একে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে আট মাস বয়সি একটি শিশু এবং সাত-আট বছর বয়সি আরও কয়েকজন শিশু ছিলেন। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং পানির প্রবল স্রোতের কারণে পুরো উদ্ধার কাজ শেষ করতে রাত সাড়ে ১০টা বেজে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানালেন, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক তৎপরতা এবং ৯৯৯-এর সমন্বয়ে বড় ধরনের একটি দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেন এই পরিবারটি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ