০৭:২৮ পি.এম
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় প্রায় তিন বছর পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া ১১২ জনের মরদেহ আজ দাফন করা হয়েছে। নিহতরা ২০২৩ সালে এক ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারানো দুটি বৃহৎ পরিবারের সদস্য ছিল। আজকের ঘটনাকে গাজার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণজানাজা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আয়োজিত ওই গণজানাজায় উদ্ধার হওয়া ১১২ জনের মরদেহ একসঙ্গে দাফন করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪০ জন শিশু রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরাইলি এক হামলায় দুটি সম্প্রসারিত পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো বের করে আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এরপর ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিহতদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে একসঙ্গে জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হয়। এতে স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
গাজায় তিন বছর ধরে চলমান ইসরাইলি হামলায় বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং এতে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ অব্যাহত থাকায় এখনও বিভিন্ন এলাকা থেকে নতুন নতুন মরদেহও উদ্ধার হচ্ছে।
এদিকে গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিবর্ষণ ও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলেও খবর জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা। একই সময়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৮১ জনে পৌঁছেছে।
ওয়াফার প্রতিবেদনে বর্ণনা করা হয়েছে, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের উত্তর-পশ্চিমে আল-দাওয়া স্ট্রিট এলাকায় ইসরাইলি সামরিক যান থেকে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই এলাকায় কামানের গোলাবর্ষণও করা হয়।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এছাড়া মধ্য গাজার আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরেও ইসরাইলি বাহিনীর গুলিবর্ষণ এবং গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে গাজা সিটির আল-তুফ্ফাহ এলাকায়ও ইসরাইলি সামরিক যান থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে ওয়াফা জানিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি আগের হামলায় আহত আরও দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন এবং ৪ হাজার ১২১ জন আহত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলের সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৩৮১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৩১ জন আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন