০৫:০৯ পি.এম
নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ তলা বিশিষ্ট নতুন অ্যাকাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ থমকে গেছে। নির্মাণ কাজের গুণগত মান বনাম পার্সেন্টেজ কিংবা ঘুষের দ্বন্দ্বের কারণে ঠিকাদারের অভিযোগ, ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমিশন (পিসি) না দেওয়ায় প্রকৌশলী অন্যায়ভাবে কাজে বাধা দিচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রকৌশলীর দাবি, নির্মাণ সামগ্রী অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের এই বিপরীতমুখী অবস্থানের ফলে ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার এই বড় প্রকল্পটি মাঝপথে ঝুলে রয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইডেন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রেজাউল আলম সরাসরি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ উৎকৃষ্ট মানের বালু ও পাথর সরবরাহ করা সত্ত্বেও আমাদের বেজমেন্ট ঢালাইয়ের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। কাজের মোট বাজেটের ৫ থেকে ৭ পার্সেন্ট কমিশন না দেওয়ায় একটি অদৃশ্য কারণে এই বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাজে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি করা হচ্ছে। এই কাজে কমিশন দিলে আমাদের ব্যাপক লোকসান হবে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
বালু ও পাথরের মান খারাপ হলে পরিবর্তন করে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ঠিকাদারের আনা ঘুষের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তার দাবি, কাজের মান খারাপ হওয়াতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নড়াইল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অরুনাভ রায় বলেন, কাজের মান নিয়ে আমরা কোনো আপোশ করব না। ঠিকাদারের সরবরাহ করা সামগ্রী মানসম্মত নয়। সঠিক মানের সামগ্রী সরবরাহ না করলে দ্রুতই তার কার্যাদেশ বাতিল করা হবে এবং নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
এদিকে দুই পক্ষের এই রেষারেষিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম অচলাবস্থা। সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের সিংহভাগ জুড়ে দিনের পর দিন পড়ে আছে বালু ও পাথরের বিশাল স্তূপ। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের প্রারম্ভিক সমাবেশ (অ্যাসেম্বলি) বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও অবাধ বিচরণ বিঘ্নিত হচ্ছে। সামান্য বাতাসে পুরো মাঠ ধূলিময় হয়ে ওঠায় প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা ধুলোবালিতে নাকাল হচ্ছে।
এছাড়াও, নতুন ভবনের বেজমেন্ট তৈরির জন্য খনন করা গভীর গর্তে বৃষ্টির পানি জমে তৈরি হয়েছে কৃত্রিম ডোবা। সেখানে খেলাধুলার ছলে শিশুদের পড়ে যাওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকি বিদ্যমান, তেমনি জমে থাকা নোংরা পানি হয়ে উঠেছে মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
বিদ্যালয়ের এই পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন বলেন, কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের এই অচলাবস্থার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম বেকায়দায় পড়েছে। মাঠের এই জটের কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। আমাদের প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংকটের সমাধান হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন