বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:৪৬ পি.এম
নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।
তিনি আগামী ২৩ জুলাই ভাইস অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ করবেন এবং একইদিন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
আইএসপিআর জানিয়েছে, রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি ২৩ জুলাই ভাইস অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পাবেন এবং নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
এদিকে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এম জে আরিফ বেগ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ২০২৯ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত মোট তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকারকে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গড়িমসি বা বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নেয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘জুলাই সমাবেশে’ তিনি এ কথা বলেন।
সারজিস আলম উল্লেখ করেন, একটি ক্ষমতাসীন দল ছয় মাসের মধ্যে যদি মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তন আনতে সক্ষম না হতে পারে, তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জনগণের কাছে ধারণাতীত।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ নিয়ে গাদ্দারি করার কোনো সুযোগ নেই এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে জবাবদিহির মধ্যে আসতে হবে।
সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বেঈমানি করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে যারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় এসে তারা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে।
এর আগে এনসিপির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন মন্তব্য করেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে।
তিনি রংপুরের বৈষম্য দূর করে সমতার বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর পরেই এনসিপির নেতারা দলের উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে উপস্থিত জনতার সংসর্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তার পক্ষে সমর্থন কামনা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনার ইছামতি নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি দল এবং পাবনা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. ফুয়াদ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে, তারা ইছামতি নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এই সময় প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম, খননকাজ এবং নিলামের জন্য সংরক্ষিত মাটির ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জনস্বার্থে নিলামের জন্য নির্ধারিত মাটি সংরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের শর্ত মেনে কাজ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। যদি কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, জোরপূর্বক দখল বা প্রকল্পের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রাও দাবি করেছেন, ইছামতি নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকায় কাজের মান বজায় রয়েছে এবং দুর্নীতি, জোরপূর্বক দখলের মতো অভিযোগ নেই। তারা প্রকল্প বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকাকে প্রশংসা করেছেন।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রায় ১ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ইছামতি নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির কার্যক্রমের তদারকির দায়িত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর দুর্গম এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। এই ক্যাম্পটি আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ ত্রাণ ও মেডিকেল টিমের মাধ্যমে, যা চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হসপিটালের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
মূলত, চট্টগ্রামের ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ন্যাশনাল হসপিটালের নির্বাহী পরিচালক ডা. মো. আবু নাছেরের নেতৃত্বে দুর্গত মানুষের হাতে বিতরণ করা হয়েছে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যও, যেখানে চিকিৎসাসেবাও প্রদান করা হয়েছে। এরই সাথে, বাঁশখালীর জলদী, সরল, বাহারছড়ি ও ইলশাসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় মেডিকেল টিমের মাধ্যমে এই ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়।
ডা. আবু নাছের এ সময় মন্তব্য করেন, অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি ও সড়ক নির্মাণ করার ফলে পানির স্বাভাবিক চলাচলের পথে অনেকাংশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানালেন, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কালভার্ট ও কার্যকর স্লুইস গেটের অভাবের কারণে সামান্য অতিবৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
এ সময় তিনি আরো জানান, সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর পাশাপাশি চান্দগাঁও এবং বোয়ালখালীসহ অন্যান্য বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত সময়ের মধ্যে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ অতি সহজেই নিজ এলাকায় কাছেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাবে।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে একটি লবণের কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন এবং হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন দুজন মারা গেছেন। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের কারখানায় এই আগুন লাগে।
আইসিইউতে থাকা বাকি তিনজনের অবস্থানও ‘আশঙ্কাজনক’ বলে বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন তথ্য প্রদান করেছেন।
নিহত দুজনের মধ্যে একজন ৩২ বছরের দিদারুল আলম, যিনি বোয়ালখালী উপজেলায় পৌর সদরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রুহুল আমিনের ছেলে। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। আরেক নিহত ব্যক্তি ৪৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ নুরুল আলম, যিনি পটিয়া উপজেলার হুলাইন গ্রামের বাসিন্দা। তার শরীরে ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
১০ জন দগ্ধের মধ্যে পাঁচজন কারখানাটির শ্রমিক এবং বাকি পাঁচজন ঠিকদারের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত শ্রমিক হিসেবে সেখানে মেরামত কাজ করছিলেন।
ঘটনার দিন বিকালে পাঁচজনকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, যার মধ্যে দুজন মারা যান।
দগ্ধ বাকি পাঁচজনের মধ্যে তিনজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্য দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে গেছেন।
কারখানাটিতে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে পুলিশ জানায়, ওই কারখানার বড় জেনারেটরসহ কয়েকটি যন্ত্র নষ্ট হওয়ায় সেগুলো ঠিক করতে পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছিল। তখন শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগলে দুটি এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন লাগার বিষয়ে তাদের কাছে ‘গোপন করা হয়েছে’। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা কিছুই পায়নি। আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলা হয় এবং দগ্ধদের সেখানে থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, সরেজমিন পরিদর্শনের পর এবং কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেছে, তাদের বড় জেনারেটরটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেটি ছাড়াও কয়েকটি মেশিন নষ্ট ছিল।
সেগুলো মেরামত করার জন্য পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন আনা হয়। ওয়েল্ডিং মেশিন প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ করে। ফলে ভোল্টেজ আপ-ডাউনের একপর্যায়ে সেখানে আগুন লাগে এবং সেখানে থাকা দুটি এসি বিস্ফোরিত হয়। এসি মানে তো গ্যাস বোমা। ফলে, যারা সেখানে ছিলেন তারা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আগুন লাগার বিষয়টি আমাদের কেউ কিছু জানায়নি। এটি হাইড করা হয়েছে। আমাদের টিম সেখানে গিয়েও কিছু পায়নি। পরে আমরা শুনেছি, দগ্ধ হয়ে ১০ জন মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন।”
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ