বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:৫৮ পি.এম
পাবনার ইছামতি নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি দল এবং পাবনা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. ফুয়াদ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে, তারা ইছামতি নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এই সময় প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম, খননকাজ এবং নিলামের জন্য সংরক্ষিত মাটির ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জনস্বার্থে নিলামের জন্য নির্ধারিত মাটি সংরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের শর্ত মেনে কাজ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। যদি কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, জোরপূর্বক দখল বা প্রকল্পের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রাও দাবি করেছেন, ইছামতি নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকায় কাজের মান বজায় রয়েছে এবং দুর্নীতি, জোরপূর্বক দখলের মতো অভিযোগ নেই। তারা প্রকল্প বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকাকে প্রশংসা করেছেন।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রায় ১ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ইছামতি নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির কার্যক্রমের তদারকির দায়িত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর দুর্গম এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। এই ক্যাম্পটি আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ ত্রাণ ও মেডিকেল টিমের মাধ্যমে, যা চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হসপিটালের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
মূলত, চট্টগ্রামের ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ন্যাশনাল হসপিটালের নির্বাহী পরিচালক ডা. মো. আবু নাছেরের নেতৃত্বে দুর্গত মানুষের হাতে বিতরণ করা হয়েছে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যও, যেখানে চিকিৎসাসেবাও প্রদান করা হয়েছে। এরই সাথে, বাঁশখালীর জলদী, সরল, বাহারছড়ি ও ইলশাসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় মেডিকেল টিমের মাধ্যমে এই ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়।
ডা. আবু নাছের এ সময় মন্তব্য করেন, অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি ও সড়ক নির্মাণ করার ফলে পানির স্বাভাবিক চলাচলের পথে অনেকাংশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানালেন, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কালভার্ট ও কার্যকর স্লুইস গেটের অভাবের কারণে সামান্য অতিবৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
এ সময় তিনি আরো জানান, সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর পাশাপাশি চান্দগাঁও এবং বোয়ালখালীসহ অন্যান্য বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত সময়ের মধ্যে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ অতি সহজেই নিজ এলাকায় কাছেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাবে।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে একটি লবণের কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন এবং হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন দুজন মারা গেছেন। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের কারখানায় এই আগুন লাগে।
আইসিইউতে থাকা বাকি তিনজনের অবস্থানও ‘আশঙ্কাজনক’ বলে বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন তথ্য প্রদান করেছেন।
নিহত দুজনের মধ্যে একজন ৩২ বছরের দিদারুল আলম, যিনি বোয়ালখালী উপজেলায় পৌর সদরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রুহুল আমিনের ছেলে। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। আরেক নিহত ব্যক্তি ৪৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ নুরুল আলম, যিনি পটিয়া উপজেলার হুলাইন গ্রামের বাসিন্দা। তার শরীরে ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
১০ জন দগ্ধের মধ্যে পাঁচজন কারখানাটির শ্রমিক এবং বাকি পাঁচজন ঠিকদারের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত শ্রমিক হিসেবে সেখানে মেরামত কাজ করছিলেন।
ঘটনার দিন বিকালে পাঁচজনকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, যার মধ্যে দুজন মারা যান।
দগ্ধ বাকি পাঁচজনের মধ্যে তিনজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্য দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে গেছেন।
কারখানাটিতে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে পুলিশ জানায়, ওই কারখানার বড় জেনারেটরসহ কয়েকটি যন্ত্র নষ্ট হওয়ায় সেগুলো ঠিক করতে পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছিল। তখন শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগলে দুটি এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন লাগার বিষয়ে তাদের কাছে ‘গোপন করা হয়েছে’। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা কিছুই পায়নি। আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলা হয় এবং দগ্ধদের সেখানে থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, সরেজমিন পরিদর্শনের পর এবং কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেছে, তাদের বড় জেনারেটরটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেটি ছাড়াও কয়েকটি মেশিন নষ্ট ছিল।
সেগুলো মেরামত করার জন্য পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন আনা হয়। ওয়েল্ডিং মেশিন প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ করে। ফলে ভোল্টেজ আপ-ডাউনের একপর্যায়ে সেখানে আগুন লাগে এবং সেখানে থাকা দুটি এসি বিস্ফোরিত হয়। এসি মানে তো গ্যাস বোমা। ফলে, যারা সেখানে ছিলেন তারা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আগুন লাগার বিষয়টি আমাদের কেউ কিছু জানায়নি। এটি হাইড করা হয়েছে। আমাদের টিম সেখানে গিয়েও কিছু পায়নি। পরে আমরা শুনেছি, দগ্ধ হয়ে ১০ জন মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন।”
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পড়ার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
বিদেশি শিক্ষার্থী, বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী অতিথি এবং সাংবাদিকদের ভিসা নিয়ে একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে, কয়েক দশক ধরে চলে আসা একটি ব্যবস্থার সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। এতদিন বিদেশি শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ পেতেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই), যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক বিভাগ (ডিএইচএস) এই নতুন নিয়মটি জারি করেছে।
নতুন নিয়ম অনুসারে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং বিনিময় কর্মসূচির অতিথিরা সাধারণভাবে সর্বোচ্চ চার বছরের জন্য ভিসা পাবেন। অন্যদিকে, বিদেশি সাংবাদিকদের এক দফায় সর্বোচ্চ ২৪০ দিন থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে, চীনা নাগরিকদের জন্য এই সময়সীমা হবে মাত্র ৯০ দিন।
যদি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন থাকতে চান, তাহলে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হবে। Alternatively, দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর নতুন করে আবেদনের মাধ্যমে আবার ফিরে আসতে হবে।
নতুন এই নিয়ম ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ হওয়ার ৬০ দিন পর কার্যকর হবে। তবে এর আগে কংগ্রেসের পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
এখন, এই নিয়মের কারণে আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামগুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিএইচএসের তথ্য মতে, গত বছরে স্টুডেন্ট ভিসায় রেকর্ড সংখ্যক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। তবে, এই বিপুল সংখ্যার ফলে তাদের ওপর নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে দাবি করছে দপ্তরটি।
এদিকে, অভিবাসন আইনজীবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা, শিক্ষাদান বা গবেষণার খরচ এবং জটিলতা বৃদ্ধি করবে। ফলে, মেধা চর্চার কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে যুক্তরাষ্ট্রের আকর্ষণ কমে যেতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাব এল-মানদেব একটি সংকীর্ণ জলপথ, যা লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরকে সংযোগ করে। এই পথের মাধ্যমে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি হয় এবং বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জাহাজ চলাচল করে।
হরমুজ প্রণালীতে কয়েক মাস ধরে চলা অচলাবস্থার পর, যদি বাব এল-মানদেবে কোনও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়, তাহলে এই অঞ্চলের দুটি প্রধান তেল রপ্তানি পথ একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে।
ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে তারা বাব এল-মান্দেবের মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্যকে রুদ্ধ করতে সক্ষম।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা চালায়। তারা জানায় যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তারা ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
এই অভিযানের ফলে প্রধান জাহাজ কোম্পানিগুলোকে বাধ্য হয়ে জাহাজগুলোকে দক্ষিণ আফ্রিকা এড়িয়ে অন্য পথে পাঠাতে হয়েছে, যা পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া, জাহাজ চলাচল রক্ষার জন্য মার্কিন ও ব্রিটিশ বিমান হামলা এবং একটি বহুজাতিক নৌ মিশনের সূচনা করা হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালালে লোহিত সাগরের তেল পথ বন্ধ করে দেয়ার জন্য ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনকে সতর্ক করেছে ইরান, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী নতুন হুমকি তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রয়টার্সকে তিনটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন ঊর্ধ্বতন ইরানি সূত্র এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্বের মধ্যে এই ধারণাটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ইরানের হুতি মিত্রদের কাছে বার্তাটি পৌঁছানো হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ