মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৫২ পি.এম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম রনির বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এসব দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, ২০২০ সালের একটি ভিডিওতে চাকসু ভিপি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম রনি পবিত্র কোরআনের আয়াত ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং বেগম খালেদা জিয়ার বাচনভঙ্গিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছেন। বিষয়টিকে ধর্মীয় মূল্যবোধের অবমাননা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করে সংগঠনটি।
এ সময় ছাত্রদল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রশিবিরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। সংগঠনটির অভিযোগ, আন্দোলনের সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটিতে অবস্থান করেছেন। এছাড়া ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে চাকসু ভিপির বিরুদ্ধে হল দখল, ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ রাখা ও শিক্ষার্থী দাউদ সালমানকে কেন্দ্র করে মব সৃষ্টির অভিযোগও তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের ছয় দফা দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।
১. চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনির ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, তদন্তের ফলাফল প্রকাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও চাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. পবিত্র কোরআনের আয়াত ও বেগম খালেদা জিয়ার বাচনভঙ্গিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপনের জন্য ইব্রাহিম রনিকে দেশ, দেশের জনগণ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
৩. ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ছাত্রশিবিরের ভূমিকা ও গুপ্ত রাজনীতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সামনে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি বন্ধ করে স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য ছাত্ররাজনীতির পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. আবরার ফাহাদ হত্যার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ছাত্রশিবিরের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, গুপ্ত ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং সন্দেহের রাজনীতি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
৬. ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থীদের চরিত্রহনন ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিভিন্ন পেজের অ্যাডমিনদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং পেজগুলো বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানুষের সম্মান নিয়ে উপহাস গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দাবিগুলো বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন। অন্যথায়, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় ছাত্রদল নেবে না বলেও জানান তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্যস্ত জীবনে পর্যাপ্ত ঘুম যেন অনেকের কাছে বিলাসিতার সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের চাপ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং যাতায়াতের ক্লান্তির কারণে ঘুমের সময় ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে জাপানে ঘুমের অভাব একটি পরিচিত সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটিতে আয়োজন করা হয়েছে একটি ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা, যেখানে মাত্র ৯০ মিনিট ঘুমিয়ে ২০ লাখ ইয়েনের বেশি পুরস্কার জেতার সুযোগ রয়েছে, যা প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন ডলার সমান।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার টোকিওতে গদি প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ‘ম্যাট রেস’ নামের এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন কয়েক ডজন প্রতিযোগী। প্রতিযোগীদের আরামদায়ক গদি, মৃদু আলো এবং শান্ত পরিবেশে ঘুমানোর সুযোগ দেওয়া হয়। তবে, প্রতিযোগিতায় শুধু ঘুমিয়ে পড়া যথেষ্ট ছিল না; ঘুমের গভীরতা এবং প্রশান্তিও বিজয়ী নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রতিযোগীদের মাথায় বিশেষ পর্যবেক্ষণযন্ত্র পরানো হয়। এরপর তাদের আরামদায়ক গদিতে শুয়ে পড়তে বলা হয়। সর্বোচ্চ ৯০ মিনিট ঘুমানোর সুযোগ পান তারা। কে কত দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ছেন এবং কার ঘুম কতটা গভীর ও প্রশান্ত, তা পর্যবেক্ষণ করে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়।
মৃদু আলোয় সাজানো ঘরে কেউ কেউ ঘুমানোর সময় বুকে নরম খেলনা জড়িয়ে নেন। বাইরে থেকে দৃশ্যটি সাধারণ ঘুমের মতো মনে হলেও এর মধ্যেই চলছিল পুরস্কার জয়ের প্রতিযোগিতা।
আয়োজনটির পরিকল্পনা তত্ত্বাবধানকারী ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর রিইচিরো নাকামা বলেন, ‘জাপানকে প্রায়ই ঘুমের অভাবে ভোগা একটি দেশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এখানকার মানুষও অত্যন্ত কর্মঠ।’
ঘুমকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজনের মাধ্যমে মানুষকে একসঙ্গে ঘুমানোর সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আশা করছেন আয়োজকেরা।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের মানুষ দিনে গড়ে ৭ ঘণ্টা ২৪ মিনিট ঘুমান। সংস্থাটির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এই সময় ছিল সবচেয়ে কম। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, যাতায়াতে বেশি সময় ব্যয় এবং রাতের ব্যস্ত বিনোদনজীবনকে জাপানিদের কম ঘুমানোর অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন ৩২ বছর বয়সী চিসাতো হোন্ডা। তিনি বলেন, ‘মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। ইশ্, যদি আরেকটু বেশি সময় ঘুমাতে পারতাম!’
হোন্ডার ভাষায়, এটি ছিল আনন্দের একটি প্রতিযোগিতা।
এদিকে, প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন সুইমি। পুরস্কারের অর্থ দিয়ে নিজের বাসা বদলের খরচ মেটানোর পরিকল্পনা করেছেন তিনি। সুইমি বলেন, ‘আমি নিজের মতো করে থাকতে চাই। তাই পুরস্কারের অর্থ দিয়ে বাসা বদলের খরচ মেটানোর কথা ভাবছি।’
শুধু বাসা বদল নয়, নিজের জন্য রাজকুমারীর মতো একটি বিছানা কেনারও ইচ্ছা রয়েছে তার। সুইমির কথায়, ‘আমি রাজকুমারীর মতো একটি বিছানাও চাই। তাই সেই বিছানাটি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।’
ঘুম নিয়ে এমন ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা একদিকে যেমন আনন্দের উপলক্ষ, অন্যদিকে তেমনি জাপানের কর্মব্যস্ত জীবনে পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে এসেছে। যে ঘুমের জন্য প্রতিদিন সময় বের করাই অনেকের কাছে কঠিন, সেই ঘুমই এবার হয়ে উঠেছে পুরস্কার জয়ের মাধ্যম।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, তরুণদের অবদানই দেশকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে ভয়াবহ দুঃশাসনের মধ্যেও তরুণরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের বিষয়ে চিন্তা করেছেন এবং সাহসের সঙ্গে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। তাদের এই প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত ‘দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি: রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, দীর্ঘ সময়ের ভয়াবহ দুঃশাসনের পর ছাত্র-জনতার উত্থান ঘটে। এরপর প্রায় দেড় বছরের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায় আসে। তবে নতুন সরকারকে উত্তরাধিকার সূত্রে ব্যাংক লুটপাট, অর্থ পাচার, আর্থিক খাতের চরম অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের মতো বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের ব্যাংক, বীমা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছিল। দেশে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছাই ছিল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। সরকারি প্লট থেকে শুরু করে কৃষিজমি ও গৃহস্থের গবাদিপশু পর্যন্ত প্রভাবশালীদের পছন্দ অনুযায়ী দখল করা হতো। দেশ তখন ভয়াবহ অন্ধকারে ছিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত এই মহাসচিব উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বোঝা বর্তমানে সরকারের ওপর পড়েছে। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা ঋণের নামে লুটপাট করেছেন। এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার দায় বর্তমান বিএনপি সরকারের নয়, বরং অতীতের লুটপাটনির্ভর অর্থনীতি থেকে দেশকে পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সারাদেশে ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস’ উদযাপন করা হয়েছে।
এই দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এছাড়া, রাজশাহী, মুন্সীগঞ্জ, ভোলা, মাগুরা, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দিবসটি পালন করা হয়েছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অবস্থান বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী, দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত অসংখ্য নদনদী রয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এবং বিশাল জনগণের চাপ সব মিলিয়ে বাংলাদেশকে পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশে পরিণত করেছে। এখানে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, ভূমিধস, অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প ইত্যাদি দুর্যোগ একটি অনিবার্য বাস্তবতা। এই পরিস্থিতিতে যখন মানুষ হতবিহ্বল হয়ে পড়ে, তখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় পাশে এসে দাঁড়ায়। দিবসটির উদ্দেশ্য হচ্ছে দুর্যোগের দুর্ভোগ প্রশমনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির মাধ্যমে মানুষকে শান্তি ও স্বস্তি প্রদান করা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা বেশি দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) জন্য সরকার একটি নির্দেশনার তালিকা প্রকাশ করেছে। নির্ধারিত দামের উপরে সিলিন্ডার বিক্রি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এই তথ্য প্রকাশ করেন।
এলপিজির সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে জ্বালানি বিভাগ সব জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একটি অনলাইন মতবিনিময় সভা আয়োজন করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, ওই সভায় এলপিজির বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে তার জেলার সব এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট অপারেটর থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি, মাস্টার ফ্র্যাঞ্চাইজি, ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলার কত পরিমাণ এলপিজি পেয়েছেন, সেই তথ্য সংগ্রহ করা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত পরিচয় সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জেলা প্রশাসকদের অবিলম্বে নিজেদের জেলার এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারদের সঙ্গে সভা করতে হবে। ওই সভায় জেলার এলপিজি সরবরাহ, বিতরণ ও বাজারজাতকরণের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।
সরকারের নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এলপিজি সরবরাহের পুরো ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ (চ্যানেল) থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, যাতে সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায় শনাক্ত ও যাচাই করা যায়। কোনো অপারেটর, ফ্র্যাঞ্চাইজি বা ডিস্ট্রিবিউটরের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে ডিলারের পাওয়া এলপিজির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য দেখা দিলে তা আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে হবে।
সংগৃহীত তথ্যে যদি কোনো এলাকায় এলপিজির সরবরাহে অস্বাভাবিক ঘাটতি, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিচ্যুতি অথবা অপারেটর থেকে ডিলার পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়, তাহলে তা জ্বালানি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, জেলা পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্য সমন্বয় করে এলপিজির অপারেটর থেকে ডিলার পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে তদারক করা সম্ভব হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ