বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৫৬ পি.এম
বরিশালের গৌরনদীতে এক নারী নেত্রীর পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক ইট সলিং রাস্তা নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগটি রয়েছে সংরক্ষিত ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়কের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত আব্দুল হক সরদারের মেয়ে পদবিহীন বিএনপি নেত্রী রেবেকা সুলতানা রিয়া বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযোগ করে বলেন, আমার পৈত্রিক পুকুর পাড় দিয়ে প্রতিবেশি ছত্তার ফকিরের দোকান পর্যন্ত ১২ টি পরিবারের লোকজন চলাচল করেন। এতে আমরা কখনো বাঁধা দেইনি। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের পরিবারকে না জানিয়ে আমাদের পুকুর পাড় দখল করে জোরপূর্বক সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে ইট সলিং রাস্তা নির্মানের কাজ শুরু করেন বাটাজোর ইউনিয়নের সংরক্ষিত সদস্য পারভীন বেগম এবং ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আজাদ প্যাদা। তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে জানালে তারা নির্মান কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। কিন্তু তাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে ইউপি সদস্য পারভীন এবং আজাদ প্যাদা রাস্তা নির্মান কাজ অব্যাহত রেখেছেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পর তারা নির্মান কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, যেখান থেকে রাস্তা নেওয়া হচ্ছে তার পাশেই যাদের জন্য রাস্তা নেওয়া হচ্ছে তাদের জমি রয়েছে। এজন্য উভয়পক্ষের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি। কিন্তু আজাদ প্যাদা চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য আমার প্রতিবেশীদের বাড়িতে ভোটার বেশি হওয়ায় তাদের খুশি করার জন্য পুরো রাস্তা আমাদের জমির ওপর দিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে আমাদের পরিবারের কমপক্ষে আট শতক জমি বিনষ্ট হবে। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন বাটাজোর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মো. আজাদ প্যাদা। তিনি বলেন, ওই রাস্তার আমি ঠিকাদার কিংবা বাস্তবায়নকারী কোনটাই নই। তবে রাস্তাটি একশ’ বছরের পুরনো। এজন্য রাস্তাটি যাতে ইট সলিং হয় সেই জন্য আমি সুপারিশ করেছি। বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য এবং রাস্তা নির্মানের প্রকল্প সভাপতি পারভীন বেগম এ ব্যাপারে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম বলেন, আপাতত নির্মান কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৬৪৭ কোটি ৫৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩০৯ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে। এই বাজেট নতুন কোনও কর বৃদ্ধি ছাড়াই করা হয়েছে। বাজেটে নগর উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নারী ও শিশু কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, এবং ডিজিটাল নাগরিক সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে নগর ভবনে বাজেট ঘোষণার সময় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন যে, সীমিত রাজস্ব আয়ের মধ্যেও নাগরিক সেবার মান বাড়াতে কর বৃদ্ধি না করেই এ বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, "ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিকল্পিত, সবুজ, পরিচ্ছন্ন, নারী ও শিশুবান্ধব স্মার্ট মহানগরী গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।" ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট ছিল ৫২০ কোটি ৮৬ লাখ ১৬ হাজার ৯২৮ টাকা, আর সংশোধিত বাজেট দাঁড়িয়েছে ৪৬২ কোটি ৮৬ লাখ ২২ হাজার ৮৩৭ টাকা।
বাজেটের মধ্যে নগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জেলখাল, আমানতগঞ্জ, সাগরদী ও লাকুটিয়া খাল পুনঃখনন এবং খালের পাড় সংরক্ষণ করার জন্য ৭৬৯ কোটি ৪০ লাখ টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান আশা করা হচ্ছে। তাই একই সঙ্গে কীর্তনখোলা নদীর পশ্চিম তীরে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ৫৩৩ কোটি টাকার প্রকল্পও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের নতুন উদ্যোগের অধীনে বাজেট বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রূপাতলী সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালু হয়ে গেছে এবং বেলতলা ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালুর প্রস্তুতি চলছে। ভবিষ্যতের পানির চাহিদা পূরণের জন্য কীর্তনখোলা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবও প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নতুন পাইপলাইন স্থাপন অব্যাহত রয়েছে। গত অর্থবছরে ১ হাজার ৬৪টি নতুন পানির সংযোগ অনুমোদন করা হয়েছে। নাগরিকদের জন্য নতুন পানি সংযোগের আবেদন থেকে অনুমোদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া এখন অনলাইনে চালু করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে নগরীতে পানির এটিএম বুথ স্থাপনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির উপর গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে যে প্রতিদিন সিটি কর্পোরেশন প্রায় ২০০ টন বর্জ্য অপসারণ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটাও তুলে ধরা হয় যে, গত ঈদুল আজহায় মাত্র ৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে, যা সরকারের নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার চেয়ে কম সময়।
নারী, শিশু ও সামাজিক সুরক্ষায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে নারীদের জন্য আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ মার্কেট, অসচ্ছল নারীদের আইনি সহায়তা, এবং কর্মজীবী নারীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। শিশুদের জন্য গ্রীন সিটি পার্ক সংস্কার, নতুন রাইড স্থাপন, খেলাধুলার সরঞ্জাম ক্রয়, এবং বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনের জন্যও বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী অর্থবছরে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনে নতুন ফোয়ারা, পার্ক উন্নয়ন, আলোকসজ্জা, এবং "সবার আগে বাংলাদেশ" নামে মানচিত্র ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়গুলিও বাজেটে উঠে এসেছে।
ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কর আদায়, ট্রেড লাইসেন্স, ভবনের নকশা অনুমোদন, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবাকে অনলাইনে নিয়ে আসার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসকের মতে, এতে সেবার গতি বৃদ্ধি পাবে এবং হয়রানি কমবে।
সড়ক, ড্রেন ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দায়িত্ব গ্রহণের পর ৪২ কিলোমিটার বিটুমিনাস কার্পেটিং সড়ক, ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার আরসিসি সড়ক, ৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার সিসি সড়ক, এবং ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের তথ্যও বাজেটে তুলে ধরা হয়েছে। নগরীর আলোকায়নে প্রায় ২৪ কোটি ৭৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে যা অনুমোদন পেলে ১৬ হাজারের বেশি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ২০ হাজারের বেশি নতুন সড়কবাতি স্থাপন করা হবে।
স্বাস্থ্য ও টিকাদান কর্মসূচির আওতায় গত অর্থবছরে ১০ হাজার ৪৭৯ জন নারী ও শিশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়েছে। হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে ৪৩ হাজার ৮৫০ জন, এবং ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৫৮ হাজার ৫৫৭ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে নগরীর তিনটি জোনে নারী ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
সাংবাদিকদের জন্য বরাদ্দের মধ্যে সাবেক প্রেসক্লাব ও বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির ভবন সংস্কারের জন্যও ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অবশেষে, বাজেট বক্তব্যের শেষের দিকে প্রশাসক উল্লেখ করেন যে, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান উন্নত করবে। তিনি নগরবাসী, সাংবাদিক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, "কর বৃদ্ধি না করেও নগরবাসী আগের চেয়ে আরও বেশি নাগরিক সুবিধা পাবেন। আমরা সবাই মিলে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্মার্ট বরিশাল গড়ে তুলতে চাই।" উল্লেখ্য, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের এটি ২৪ তম বাজেট। বাজেট ঘোষণার সময়ে নগরীর গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্ণীপুরের রামগতিতে তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বিষ্ফোরক বস্তু শক্তিশালী এক ধরণের গ্রেনেট জাতীয় বিষ্ফোরক হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) দলের বোম্ব নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট দ্বারা সনাক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার সময়, নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং এই গ্রেনেটগুলো উদ্ধার করে। এর পরে, উপজেলা সদর আলেকজান্ডার সেবাগ্রাম ফজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে রাখা একটি বালির স্তুপে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সফলভাবে এই গ্রেনেটগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়। সিটিটিসি দলের বোম্ব নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের জন্য ৫ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল এই কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই সময়, রামগতি থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
বিষ্ফোরকগুলোর নিষ্ক্রিয়করণের সময়ে এলাকায় বিকট শব্দ হয়েছিল, তবে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা কারণে কোন ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। এর আগে, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে, উপজেলা সদর আলেকজান্ডার আ স ম আবদুর রব সরকারি কলেজের এলাকা থেকে রামগতি পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের তাজল ওসি সড়কের পাশে পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইন মেরামত করতে গিয়ে এই মর্টার শেল সদৃশ বিষ্ফোরকগুলো দেখতে পায়।
পুলিশপরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলটি লাল ফিতা দিয়ে ঘেরাও করে, এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ওই সড়কে যানবাহন ও সাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেয়। ঢাকায় বোম্ব ডিস্পোজাল টিমকে বার্তা পাঠানো হয়। রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) দলের ৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা ওই বিষ্ফোরক বস্তু তিনটি শক্তিশালী এক ধরণের গ্রেনেট জাতীয় বিষ্ফোরক বলে সনাক্ত করে। পরে এগুলো উদ্ধার করা হয় এবং সেবাগ্রাম ফজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে রাখা বালির স্তুপে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়। বিশেষজ্ঞদের তথ্যে বলা হয়েছে, এই বিষ্ফোরকগুলো অবিস্ফোরিত গ্রেনেট জাতীয় এবং এগুলো ২০০ বছর পর্যন্ত অবিস্ফোরিত থাকতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সেনবাগে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সবুজায়নের উদ্দেশ্যে সেনবাগ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার মগুয়া এম এ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, এম এ আলী ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট এবং মগুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে ফলজ, বনজ, ঔষধী এবং অন্যান্য বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মগুয়া এম এ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে একটি আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সেনবাগ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার প্রবীণ পরিচালক, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক এবং এম এ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল আজিম চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সংস্থার স্থানীয় পরিচালক আব্দুর রহমান। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুর রহিম সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রেজাউল করিম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ার পারভেজ, মগুয়া এম এ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব বিএসসি এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য আতাউর রহমান কিরণ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেনবাগ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার স্থানীয় পরিচালক মোঃ হারুন। বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোন বিকল্প নেই। তারা সেনবাগ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার মানবিক, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এই সময় উপস্থিত ছিলেন মগুয়া এম এ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক, সংস্থার স্থানীয় পরিচালক আব্দুল মান্নান বাবলু, রফিকুল ইসলাম রবি, আলাউদ্দিন আলো, প্রবাসী হাবিবুল্লাহ, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী আরমান হোসেনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা সভা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেন। পরে সেনবাগ থানার ওসি মোঃ আব্দুর রহিম সরকার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিম চৌধুরী, প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব বিএসসি এবং সেনবাগ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার স্থানীয় পরিচালকেরা বিদ্যালয় মাঠে ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা রোপণ করেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত সপ্তাহে কর্মসূচির প্রথম ধাপে সেনবাগ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে পৌর এলাকার পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছিল সেনবাগ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে। সংস্থার ধারাবাহিক এ সবুজায়ন কর্মসূচি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে চাঞ্চল্যকর জিহাদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী বাবলু (৩২) এবং আওয়ামী লীগ নেতা মাদক ব্যবসায়ী মোমেন মিয়া (৪৬) সহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল, বৃহস্পতিবার, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গতকাল পুলিশ বহুল আলোচিত কুট্রাপাড়া গ্রামের জিহাদ হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামী বাবুল মিয়া প্রকাশ বাবলুকে গ্রেপ্তার করেন। বাবলু নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ (গুগদ) গ্রামের ধন মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে গত ১৩ জুলাই সরাইল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে, একই দিন অভিযান চালিয়ে পাকশিমুল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোমেন মিয়াকে (৪৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি বড়ুইছাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে এবং তিনি গত ১৮ মে ২০২৬ সালে সরাইল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা মামলার আসামী। এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, মোমেন বড় মাপের মাদক ব্যবসায়ী। মাদক সেবন শেখানোর কারণে সে গ্রামের উঠতি বয়সের অনেক ছেলের জীবন ধ্বংস করছে। তার মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করলে স্থানীয়রা মারধর ও মামলার শিকার হয়ে থাকেন।
এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আসামী নুর ইসলাম (৫৮), ডালিম (৩০), চুন্টার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন (৩০) ও বড়াইল এলাকার সন্তোষ দেবগুপ্ত মিঠুকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সরাইল উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে তাদের সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ