বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:০৫ পি.এম
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাসে প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় তিন বোন হচ্ছেন সুচন্দা, ববিতা ও চম্পা। তারা রুপালি পর্দায় অসংখ্য কালজয়ী চরিত্র উপহার দিয়েছেন। জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে মানুষের জন্য তারা মসজিদ ও হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন।
সম্প্রতি বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা যশোরের পৈতৃক ভিটায় একটি চমৎকার মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। এই উদ্যোগে তিনি তার বড় বোন সুচন্দা এবং ছোট বোন চম্পার সহযোগিতা পাচ্ছেন।
যশোরের বিজয়নগরে শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত দাদাবাড়ি থেকে ফিরে তিনি মসজিদ নির্মাণের জন্য স্থানটি চূড়ান্ত করেছেন। ববিতা বললেন, আল্লাহ তাকে একটি ভালো কাজের সুযোগ দিয়েছেন। তিনি একটি খুব সুন্দর মসজিদ নির্মাণ করতে চান।
এদিকে সুচন্দা সময় সংবাদকে জানান, মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি পারিবারিক। ববিতা শুরু থেকেই এই কাজের জন্য খুব আন্তরিক। পরিবারের সকল সদস্য এই উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
কিংবদন্তি অভিনেত্রীদের মা ছিলেন একজন চিকিৎসক। তার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে, মসজিদের পাশেই তারা একটি 'তিন কন্যা দাতব্য চিকিৎসালয়' গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের মানুষের চিকিৎসা সেবায় তারা অবদান রাখতে চান। সুচন্দা জানান, যদি মসজিদ ও দাতব্য চিকিৎসালয় নির্মাণ করতে পারেন, তবে এটি হবে তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
এদিকে তিন বোনের এই মানবিক উদ্যোগের খবর সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়তেই তারা প্রশংসা অর্জন করছেন। নেটিজেনদের অনেকেই বলছেন, সমাজের প্রতি শিল্পীদের এই ধরনের দায়বদ্ধতা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ডাকাতের হামলার নাটক সাজিয়ে বড় জা রিগান আক্তার মিমকে (২৪) শ্বাসরোধে হত্যার একটি ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক কলহের কারণে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন তার আপন ছোট জা কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা (২৩)। সে ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারার অধীনে জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (১৫ জুলাই) গভীর রাতে, শাহরাস্তি পৌরসভার বত্তলা নামক এলাকায়, যেখানে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে চাঁদপুরের আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার সময় মিনার বর্ণনায় হত্যার পুরো ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, নানা কারণে তার বড় জা মিমের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। তাই ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে রাতের আঁধারে তাকে হত্যার পদ্ধতি বেছে নেন তিনি। জবানবন্দি সম্পন্ন হওয়ার পর মিনাকে চাঁদপুর জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. লুৎফর রহমান জানান, বুধবার রাতে মিম খুন হওয়ার পর তার ছোট জা মিনার দাবি ছিল যে, তাদের বসতঘরে ডাকাতদল হানা দিয়েছে। ডাকাতরা মিনাকে বেঁধে রেখে মিমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যায়।
লুৎফর রহমান আরও জানান, ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। এক পর্যায়ে মিনা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হন এবং পরে পুলিশের কাছে এবং আদালতে পুরো ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
অন্যদিকে, জানা গেছে যে, মিনা ও মিম গ্রামের বাড়িতে একসঙ্গে বসবাস করতেন। এমতাবস্থায়, মিমের স্বামী সাইফুল ইসলাম রনী ঢাকায় এবং মিনার স্বামী ইফতেখার আলম রিফাত প্রবাসে থাকেন। দুই পরিবারেই তিনটি শিশুসন্তান রয়েছে। তবে একই বসতঘরের আলাদা আরেকটি কক্ষে রয়েছে বৃদ্ধ দাদা শ্বশুর নূরুল ইসলাম।
এদিকে, মেয়েকে হত্যার অভিযোগ এনে মিমের বাবা কবির হোসেন বাদী হয়ে মিনাকে আসামি করে শাহরাস্তি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোরের অভয়নগরে মাদক সেবন করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিশৃঙ্খলার অভিযোগে রাসেল গোলদার (৩৮) নামের এক যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে নওয়াপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তার বিরুদ্ধে এ দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল গোলদার উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের প্রফেসরপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মান্নান গোলদার ও ফাতেমা খাতুনের ছেলে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার সুব্রত কুমার রায় জানান, মাদক সেবন করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রাসেল গোলদার নওয়াপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিলেন। এ অভিযোগ পাওয়ার পরই তাকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তাকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু জানান, নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে জনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার কারণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একজনকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা প্রদান করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের শরণখোলায় শয়ন কক্ষ থেকে মো. কবির হোসেন ও তার স্ত্রী হালিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রাজৈর গ্রামের নিজ ঘর থেকে বিছানায় শোয়া অবস্থায় ওই দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মো. কবির হোসেন রাজৈর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।
তিনি পেশায় একজন জেলে ছিলেন। হালিমার বাড়িও একই এলাকায়। এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে। একটির বয়স পাঁচ বছর এবং আরেকটির দুটি মাস। অবুঝ এই দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
মরদেহ উদ্ধারের সময়, "মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, স্বেচ্ছায় তারা পৃথিবী থেকে চলে যাচ্ছেন" এমন একটি চিঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তা জানতে ময়নাতদন্তের জন্য দম্পতির মরদেহ বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মৃত্যুর কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, কবির ও হালিমার মধ্যে এক সপ্তাহ ধরে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। হালিমা বেগমের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত চলছে, এছাড়া ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্ষে রক্তে ভেসে যাওয়া ৪৫ বছরের এক ব্যক্তির মরদেহের উপস্থিতি সকলকে হতবাক করে দিয়েছে। তার পাশে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পড়ে থাকা আছে তার আট বছরের শিশু পুত্র। আর ঠিক একই কক্ষে, খাটে শুয়ে, নির্ভাবনায় মোবাইলের পর্দায় স্ক্রল করে যাচ্ছেন এক নারী! ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কর্ণাটকের ধারওয়াদ শহরের একটি আবাসন ভবনে।
নিহত ওই ব্যক্তির নাম ড. কিরণ হোনান্নাভার। পেশায় তিনিও একজন চিকিৎসক, বিশেষ করে অ্যানেসথেটিস্ট (অচেতনবিদ)। এই কক্ষে মোবাইলে মগ্ন থাকা নারী ড. প্রিয়ঙ্কা ওরফে প্রিয়া, যিনি পেশায় আবারও একজন চিকিৎসক। পারিবারিক কলহের কারণে ড. কিরণকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করে পুলিশ তার স্ত্রী ড. প্রিয়ঙ্কাকে হেফাজতে নিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা হিন্দুস্তান টাইমস এবং ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারওয়াদের কর্ণাটক ইউনিভার্সিটি রোডের ‘রাঙ্কা স্টেলো’ অ্যাপার্টমেন্টের ষষ্ঠ তলায় বাস করতেন ড. কিরণ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুরা কিরণের ফোনে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করেন, তখন প্রিয়ঙ্কা ফোন ধরছিলেন এবং একেকবার একেকরকম তথ্য প্রদান করছিলেন। কখনও বলছিলেন কিরণ বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কখনও বলছিলেন তিনি ডিউটিতে বাইরে গেছেন।
পরদিন বুধবার সন্ধ্যার দিকে, পরিজনরা কোনো উপায় বের করতে না পেয়ে সরাসরি তাদের ফ্ল্যাটে হাজির হয়ে পড়েন। দরজার তালা খুলে ভেতরে ঢুকতেই তারা অসাধারণ আতঙ্কিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। স্বজনরা দেখতে পান, ড. কিরণ গলার দিকে মারাত্মক খতের চিহ্ন নিয়ে তোশকের ওপর রক্তের সাগরে পড়ে আছেন। পাশেই গুরুতর আহত শিশুটি পড়ে রয়েছে এবং প্রিয়ঙ্কা নির্বিকারভাবে খাটে শুয়ে মোবাইল ফোন ঘাঁটছেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হুবলির ধারওয়াদ পুলিশের একটি দল পৌঁছায়। পুলিশ কমিশনার এন শশিকুমার নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুপুত্রটির দিকে লক্ষ্য করেন, রক্তে ভেজাল শিশুটির তখনও হালকা পালস (স্পন্দন) রয়েছে। প্রথম উদ্ধারকারীরা বিষয়টি বুঝতে না পারলেও, পুলিশ কমিশনার দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে এবং পুলিশের ধারণা, শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশ কমিশনার এন শশিকুমার জানান, ঘটনাটি বাইরে থেকে আসা কাউকে ঘটায়নি। ঘটনার সময় ফ্ল্যাটের ভেতরে কেবল স্বামী, স্ত্রী ও তাদের সন্তানই ছিলেন। বহিরাগত প্রবেশের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
কমিশনার বলেছেন, ‘ঠিক কী কারণে এবং কখন এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, সেটি বের করার জন্য বিস্তারিত তদন্ত চলছে। নিহত ব্যক্তির স্ত্রীর বক্তব্য অসংলগ্ন। তিনি কি চরম মানসিক ধাক্কায় রয়েছেন নাকি অন্য কোনো কারণে এমন করছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ড. প্রিয়ঙ্কা কাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কী বলেছেন–সেসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
এই ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে। চিকিৎসকের নিথর দেহ আর সন্তানের রক্তাক্ত অবস্থার মধ্যে, একজন মা এবং স্ত্রী কীভাবে নির্বিকার থাকতে পারেন, তা ভেবে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তদন্তকারীরাও।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ