প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কক্ষে রক্তে ভেসে যাওয়া ৪৫ বছরের এক ব্যক্তির মরদেহের উপস্থিতি সকলকে হতবাক করে দিয়েছে। তার পাশে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পড়ে থাকা আছে তার আট বছরের শিশু পুত্র। আর ঠিক একই কক্ষে, খাটে শুয়ে, নির্ভাবনায় মোবাইলের পর্দায় স্ক্রল করে যাচ্ছেন এক নারী! ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কর্ণাটকের ধারওয়াদ শহরের একটি আবাসন ভবনে।
নিহত ওই ব্যক্তির নাম ড. কিরণ হোনান্নাভার। পেশায় তিনিও একজন চিকিৎসক, বিশেষ করে অ্যানেসথেটিস্ট (অচেতনবিদ)। এই কক্ষে মোবাইলে মগ্ন থাকা নারী ড. প্রিয়ঙ্কা ওরফে প্রিয়া, যিনি পেশায় আবারও একজন চিকিৎসক। পারিবারিক কলহের কারণে ড. কিরণকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করে পুলিশ তার স্ত্রী ড. প্রিয়ঙ্কাকে হেফাজতে নিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা হিন্দুস্তান টাইমস এবং ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারওয়াদের কর্ণাটক ইউনিভার্সিটি রোডের ‘রাঙ্কা স্টেলো’ অ্যাপার্টমেন্টের ষষ্ঠ তলায় বাস করতেন ড. কিরণ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুরা কিরণের ফোনে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করেন, তখন প্রিয়ঙ্কা ফোন ধরছিলেন এবং একেকবার একেকরকম তথ্য প্রদান করছিলেন। কখনও বলছিলেন কিরণ বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কখনও বলছিলেন তিনি ডিউটিতে বাইরে গেছেন।
পরদিন বুধবার সন্ধ্যার দিকে, পরিজনরা কোনো উপায় বের করতে না পেয়ে সরাসরি তাদের ফ্ল্যাটে হাজির হয়ে পড়েন। দরজার তালা খুলে ভেতরে ঢুকতেই তারা অসাধারণ আতঙ্কিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। স্বজনরা দেখতে পান, ড. কিরণ গলার দিকে মারাত্মক খতের চিহ্ন নিয়ে তোশকের ওপর রক্তের সাগরে পড়ে আছেন। পাশেই গুরুতর আহত শিশুটি পড়ে রয়েছে এবং প্রিয়ঙ্কা নির্বিকারভাবে খাটে শুয়ে মোবাইল ফোন ঘাঁটছেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হুবলির ধারওয়াদ পুলিশের একটি দল পৌঁছায়। পুলিশ কমিশনার এন শশিকুমার নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুপুত্রটির দিকে লক্ষ্য করেন, রক্তে ভেজাল শিশুটির তখনও হালকা পালস (স্পন্দন) রয়েছে। প্রথম উদ্ধারকারীরা বিষয়টি বুঝতে না পারলেও, পুলিশ কমিশনার দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে এবং পুলিশের ধারণা, শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশ কমিশনার এন শশিকুমার জানান, ঘটনাটি বাইরে থেকে আসা কাউকে ঘটায়নি। ঘটনার সময় ফ্ল্যাটের ভেতরে কেবল স্বামী, স্ত্রী ও তাদের সন্তানই ছিলেন। বহিরাগত প্রবেশের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
কমিশনার বলেছেন, ‘ঠিক কী কারণে এবং কখন এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, সেটি বের করার জন্য বিস্তারিত তদন্ত চলছে। নিহত ব্যক্তির স্ত্রীর বক্তব্য অসংলগ্ন। তিনি কি চরম মানসিক ধাক্কায় রয়েছেন নাকি অন্য কোনো কারণে এমন করছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ড. প্রিয়ঙ্কা কাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কী বলেছেন–সেসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
এই ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে। চিকিৎসকের নিথর দেহ আর সন্তানের রক্তাক্ত অবস্থার মধ্যে, একজন মা এবং স্ত্রী কীভাবে নির্বিকার থাকতে পারেন, তা ভেবে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তদন্তকারীরাও।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন