বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০১:০০ পি.এম
জামালপুরে গ্যাস সংকট নিরশন এবং গ্যাসের দাবি জানিয়ে জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকেরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৬টায় জামালপুর পৌর শহরের দড়িপাড়া এলাকায় জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কটিতে অবরোধ করা হয়।
সড়ক অবরোধের কারণে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং বহু কিলোমিটার ব্যাপী দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রী এবং কর্মজীবী মানুষজন ভোগান্তিতে পড়েছেন।
চালকদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে তাদের দৈনন্দিন আয় ব্যাহত হচ্ছে এবং তাদের পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। তারা জানান, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া এবং সিএনজিচালিত যানবাহনের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাসের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন জারি রাখবেন।
বিক্ষোভকারী চালক জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, "রাত ১২টা থেকে লাইনে বসে আছি, এখনো গ্যাস পাই নাই। আমরা ভাড়া গাড়ি চালাই। গ্যাস না পেলে গাড়ি চালাবো কীভাবে? তাই বাধ্য হয়ে সবাই মিলে রাস্তা অবরোধ করেছি।"
চালক আমজাদ হোসেন মন্তব্য করেছেন, "শুধু কিছু নির্দিষ্ট গাড়িকে গ্যাস দেয়া হয়, আমরা সাধারণ চালকরা গ্যাস পাই না। আমাদের জন্য একটা গ্যাস পাম্পের ব্যবস্থা বা সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে আমরা রাস্তা ছেড়ে দেব।"
সকালে অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে আছে। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, পিকআপ, এবং ছোট গাড়ির যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক যাত্রীকে যানবাহন ছেড়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেছেন, গ্যাস সংকট এবং নতুন একটি গ্যাস স্টেশনের দাবিতে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকরা সড়ক অবরোধ করছিলেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমি এবং আমাদের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এখানে এসেছি। যারা দাবি আদায়ের জন্য বিক্ষোভ করছিলেন তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রশাসনিক যে সব ব্যবস্থা রয়েছে তা আমরা দ্রুত নেব। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক বিভিন্ন চ্যানেলে কথা বলছেন। তাদের বলা হয়েছে, তারা যদি স্মারকলিপি দেন, তবে ওই স্মারকলিপি যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। গ্যাস সংকট এখন জাতীয় সমস্যা হয়েছে, আশা করি খুব দ্রুতই এর সমাধান হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নাটোর, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : নাটোরের বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বাউয়েট) ক্যাম্পাসে ২ দিনব্যাপী প্রকৌশল গবেষণা ও প্রযুক্তি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে আজ সকালে।
বৃহস্পতিবার সকালে সাড়ে ১০ টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন সেনাবাহিনীর ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও বগুড়া সেনানিবাসের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহমেদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে সংকেত প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি ব্যবস্থা দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন গবেষক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতের গবেষণার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউয়েটের উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম লুৎফুর রহমান।
সম্মেলনের সাধারণ চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বুয়েটের ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিয়া শাহনাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপান গুনমা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কো ইয়ামাদা। এছাড়া আইইইই বাংলাদেশ সেকশন চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বুয়েটের ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমামুল হাসান ভূঁইয়া, কারিগরি কর্মসূচি চেয়ার হিসেবে বুয়েটের ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ আনোয়ারুল ফাত্তাহ এবং সম্মেলন চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাউয়েটের ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওসমান গনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে সিগন্যাল প্রসেসিং, ইনফরমেশন, কমিউনিকেশন এন্ড সিস্টেম অন্তর্ভূক্ত ১৮টি দেশের ১০৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাছাইকৃত ৩২৮টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে।
সম্মেলনে গবেষক, শিক্ষক, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ সাম্প্রতিক গবেষণা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে আন্ত:বিষয়ক গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ আরো জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কীভাবে বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানো যায় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠক শেষে তিনি এ বিষয়টি জানিয়েছেন।
মাহদী আমিন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের (ইউএসবিবিসি) প্রেসিডেন্ট অতুল কশপের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি প্রতিষ্ঠানের ৫০ জন প্রতিনিধি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা গত তিন দিনে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তিনি জানান, আজ প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টাদের একটি অংশের সঙ্গে ৫০ জন প্রতিনিধি বৈঠক করেন। বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কীভাবে বিনিয়োগ আরও বাড়ানো যায়, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে কীভাবে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করা যায়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে কীভাবে আমেরিকার বেসরকারি খাত থেকে ভূমিকা রাখা যায়।
এক্সিলারেট এনার্জি, মেটলাইফ, উবার, মেটা, শেভরনসহ ২৫টি প্রতিষ্ঠান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছে। ফলপ্রসূ ও কার্যকরী আলোচনা হয়েছে। মাহদী আমিন বলেন, ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সমৃদ্ধ ও সনির্ভর দেশ গড়তে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, সে যাত্রায় আজকের বৈঠক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বৈঠক সম্পর্কে দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ইউএস চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি অতুল কেশপ জানান, বাংলাদেশের সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা ধারণা পেয়েছেন।
তিনি বলেন, যেভাবে প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্যদের দ্বারা বাংলাদেশে উষ্ণ অভিনন্দনের সঙ্গে তাদের স্বাগত জানানো হয়েছে, সেটি অত্যন্ত সৌভাগ্য ও আনন্দের। বাংলাদেশে বিনিয়োগে আমেরিকার শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময়ই বিশেষ সুবিধা পেয়ে এসেছে। আমাদের উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সক্ষমতাও রয়েছে বলে জানান অতুল কেশপ।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিষ্কার ধারণা তারা পেয়েছেন। মানবসম্পদের সম্ভাবনা সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, প্রধানমন্ত্রী দেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার জন্য স্বপ্ন পূরণ করতে চান। এ লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অতুল কেশপ বলেন, দশকের পর দশক ধরে চমৎকার এই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সহ নানা ইস্যুতে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অতুল কেশপ আরও বলেন, সামাজিক কল্যাণ, কর্মসংস্থান, সামষ্টিক অর্থনীতি গতিশীল করাসহ নানা ইস্যুতে সরকার থেকে ইতিবাচক বার্তা তারা পেয়েছেন। এসব বার্তা তারা তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানাতে চান। অংশীদারিত্ব ধরে রেখে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা আশ্বস্ত করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২১ আগস্ট তারিখ পর্যন্ত আবেদন জানাতে পারবেন।
পদের নাম: এক্সিকিউটিভ
বিভাগ: কস্টিং ও বাজেটিং
পদসংখ্যা: ১টি
শিক্ষাগত যোগ্যতা: অ্যাকাউন্টিং বা ফাইন্যান্সে বিবিএ/এমবিএ।
অন্যান্য যোগ্যতা: এমএস অফিস (ডেটা বিশ্লেষণের জন্য এক্সেল/পাওয়ার বিআই এবং প্রেজেন্টেশনের জন্য পাওয়ারপয়েন্ট)-এ দক্ষ হতে হবে।
অভিজ্ঞতা: প্রার্থীদের কমপক্ষে ২ থেকে ৬ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
চাকরির ধরন: ফুলটাইম।
কর্মক্ষেত্র: অফিসে।
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়) আবেদন করতে পারবেন।
বয়সসীমা: ২২ থেকে ৩২ বছর হতে হবে।
কর্মস্থল: গাজীপুর (কালিয়াকৈর)।
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।
অন্যান্য সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে: প্রভিডেন্ট ফান্ড, পারফরম্যান্স বোনাস, বিমা, লভ্যাংশ, মোবাইল বিল, দুপুরের খাবার সুবিধা, প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট, বছরে ২টি উৎসব বোনাস, চিকিৎসা সুবিধাসহ কোম্পানির নীতিমালা অনুযায়ী আরও অনেক সুবিধা।
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করার জন্য এখানে ক্লিক করতে পারেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরই প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে তিনি দলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় মির্জা ফখরুল স্থায়ী কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজই (বৃহস্পতিবার) নির্বাচন কমিশনে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। প্রচলিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল অনুযায়ী, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা। মনোনয়ন পত্র বাছাইয়ের দিন ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে।
এদিকে, জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এটি অনেকটাই পরিষ্কার যে, মির্জা ফখরুল বাংলাদেশে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে, যদি তিনি রাষ্ট্রপতি হন, তাহলে দলের এবং সরকারের তিনটি পদ ফাঁকা হয়ে যাবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের শান্ত জনপদ থেকে উঠে এসে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির উত্তাল স্রোতে ধৈর্যশীল, সংযত ও সংগ্রামী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন। ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক কর্মকা-ে যুক্ত হন। ষাটের দশকের পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলার সূচনা হয়।
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির ইতিহাসের দুই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের উত্তাল সময়ে তিনি প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। সেই সময়ের রাজনৈতিক চেতনা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি গড়ে দেয়।
শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। মির্জা ফখরুলের কর্মজীবন ঢাকা কলেজে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে শুরু হয়। কিন্তু মানুষকে সাহায্য করার আকাঙ্ক্ষায় তিনি বেশিদিন পেশাগত জীবনের গণ্ডিতে আটকা পড়তে পারেননি।
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। জনসম্পৃক্ত রাজনীতিতে ফিরে এসে ১৯৮৮ সালে নির্বাচিত হন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও নিজের ব্যক্তিত্বের সম্মিলনে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন।
এরপর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে—বিএনপিতে সরাসরি যোগ দেন। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। BNP নেতৃত্বাধীন সেই সরকারের সময়ে কৃষি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরে দায়িত্ব পান বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে।
সরকারে থাকা অবস্থায় তার পরিচিতি ছিল একজন নীতিনির্ধারণে মনোযোগী রাজনীতিবিদ হিসেবে। তবে, তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় এসে উপস্থিত হয় ওয়ান ইলেভেনের সময়ে। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আরও কঠিন।
২০০৯ সালের পর মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও দীর্ঘ সংগ্রামের শুরু হয়। বিএনপির কাউন্সিলে তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। এরপর একদিকে তৎকালীন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাস, অন্যদিকে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস—দুই কঠিন বাস্তবতার মাঝে রাজপথে বিএনপির নেতৃত্বের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেন মির্জা ফখরুল।
রাজপথের আন্দোলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি, গ্রেপ্তার এবং মামলার মধ্য দিয়ে তিনি প্রতিটি পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। কখনো তিনি কারাগারে, কখনো আদালতের বারান্দায়, কখনো রাজপথে—দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেন তিনি।
২০১৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল। এর আগে ৫ বছর একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। দীর্ঘ এ পথচলায় বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার কঠিন দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির সাংগঠনিক সংকট, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা কিংবা রাজপথের কঠিন মুহূর্ত—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাকে দেখা গেছে দলের নেতৃত্বের অন্যতম মুখ হিসেবে।
মির্জা ফখরুল একজন সংবেদনশীল মানুষ। রাজনীতির রুক্ষ বাস্তবতার বাইরেও অর্থনীতি ও সাহিত্যের প্রতি তার গভীর অনুরাগ রয়েছে। তার ব্যক্তিত্বে যেখানে রাজনৈতিক দৃঢ়তা রয়েছে, সেখানে মানবিকতার কোমল স্পর্শও বিদ্যমান। এই কারণেই রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, প্রতিকূল দলের অনেকের কাছেও তিনি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও সম্মান অর্জন করেছেন।
বিষণ্ণ ঠাকুরগাঁওয়ের একজন শিক্ষক থেকে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান নেতা—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই যাত্রা শুধু একটি রাজনৈতিক জীবনের গল্প নয়। এটি ধৈর্যের এবং ত্যাগের গল্প; প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সোজা দাঁড়িয়ে থাকার গল্প; এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক পরীক্ষার মধ্যেও আস্থা ধরে রাখার গল্প।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ