ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাহুবলে মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ ১৫ দিন ধরে বন্ধ


বাহুবলে মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ ১৫ দিন ধরে বন্ধ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ গত ১৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পের কাজ মাঝপথে থেমে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের গুণগত মান, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী এবং প্রকৌশলগত তদারকির বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন অংশ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে। প্রকল্প এলাকায় নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য উপকরণ পড়ে আছে। দুই-তিনজন শ্রমিককে দেখা গেলেও মূল নির্মাণকাজ কার্যত বন্ধ ছিল।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজের গতি কমে যায়। এরপর গত প্রায় ১৫ দিন ধরে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের শুরু থেকেই নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন যে নির্মাণে নিম্নমানের বালু, ইট বা ব্লকসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। ছাদ নির্মাণসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রকৌশলগত মান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়রা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা ও স্পেসিফিকেশন, কার্যাদেশের শর্ত, ব্যবহৃত উপকরণের পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং প্রকৌশলীদের তদারকি নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

স্থানীয় সচেতন মহল দাবি করছে, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এ স্থাপনার প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। বালু, ব্লক, কংক্রিট ও রডসহ ব্যবহৃত উপকরণের নমুনা পরীক্ষা করে অনুমোদিত স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নির্মাণকাজের মান ও বালু ব্যবহারের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. হিমায়েত হোসেন জানান, তারা দুজন যৌথভাবে প্রকল্পটির কাজ পরিচালনা করছেন। তার দাবি, নির্মাণকাজে গুণগত মান বজায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বালুর মান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকেই বালু নেওয়া হচ্ছে এবং মান ঠিক রেখেই তা ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে বালু না নিলে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কাজ বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে মো. হিমায়েত হোসেন বলেন, শ্রমিকরা ছুটিতে ছিলেন। কয়েকজন শ্রমিক ইতোমধ্যে কাজে ফিরতে শুরু করেছেন। অন্য শ্রমিকরাও ফিরে এলে পুনরায় পুরোদমে নির্মাণকাজ শুরু হবে।

তবে প্রায় ১৫ দিন ধরে বড় একটি সরকারি প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল কি না, এ সময়ে প্রকল্পের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বা কর্মকর্তারা নিয়মিত প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন কি না, এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে।

হবিগঞ্জ জেলার অন্যান্য উপজেলায় নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ প্রকল্পগুলোর অনেকগুলোর কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কোথাও কোথাও নিয়মিত নামাজও আদায় করছেন মুসল্লিরা। এর বিপরীতে বাহুবল উপজেলার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

একই জেলার অন্যান্য প্রকল্পের তুলনায় বাহুবল প্রকল্পের অগ্রগতি কেন পিছিয়ে রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নির্মাণকাজ বন্ধ থাকা, প্রকল্পের অগ্রগতি, নির্মাণসামগ্রীর মান এবং প্রকৌশলগত তদারকির বিষয়ে হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিব উল্লাহর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের নকশা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী নির্ধারিত মানের কি না এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত কাজগুলো প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হোক।

একই সঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয়, পরিশোধিত বিল, নির্ধারিত সময়সীমা এবং বর্তমানে কাজ বন্ধ থাকার কারণ জনসম্মুখে তুলে ধরারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ঠিকাদারের পক্ষ থেকে পুনরায় পুরোদমে নির্মাণকাজ শুরুর কথা বলা হলেও বাস্তবে কবে থেকে কাজ পূর্ণগতিতে শুরু হয় এবং নির্মাণমান ও তদারকি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল

মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর, মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের কথা উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকে ভারত থেকে ইলিশ আমদানির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া। তিনি জানান, "বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের একটি চিঠি আমাদের কাছে এসেছে।"

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনেকগুলো অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে, যা আমদানিকারকদের জন্য একটি বড় সমস্যা সৃষ্টি করেছে।

ইলিশ আমদানিকারক সৈয়েদ মহিদুল হক রুবাই বলেন, "হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ করায় আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।"

তিনি আরও জানান, "আমদানির উদ্দেশ্যে ওপারে তাদের ক্রয়কৃত ইলিশ রাখা হয়েছিল। এখন কম দামে তা ফেরত দিতে হবে। এছাড়া আমদানি খরচের লোকশান তো রয়েছে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিবস্ত্র অবস্থায় দৌড়ে বাড়ি ফেরে বাকপ্রতিবন্ধী শিশু, সাজা পেলেন শহিদুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


বিবস্ত্র অবস্থায় দৌড়ে বাড়ি ফেরে বাকপ্রতিবন্ধী শিশু, সাজা পেলেন শহিদুল

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় একটি বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে শহিদুল ইসলাম নামক এক আসামির বিরুদ্ধে আদালত যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেছে। আদালত একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও আরোপ করেছে, অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাটের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় আসামিকে এই সাজা প্রদান করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুটি একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট শহিদুল ইসলাম তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। এ সময় বাড়িটি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে মোবাইলে ছবি দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুটিকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন শহিদুল ইসলাম। ঘটনার পর শিশুটি বিবস্ত্র অবস্থায় দৌড়ে বাড়িতে ফিরে আসে। শিশুটির মা যখন বিষয়টি জানতে চান, তখন শিশুটি ইশারার মাধ্যমে শহিদুল ইসলামের নাম জানায়। পরে শিশুটির বাবা রশিদুল ইসলাম হাতীবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, "এটি একটি আলোচিত ও ন্যক্কারজনক ঘটনা। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুলশান ও বনানী থানায় নতুন ওসি পদায়ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


গুলশান ও বনানী থানায় নতুন ওসি পদায়ন

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান মডেল থানা ও বনানী থানায় নতুন ওসি পদায়ন করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তারিখে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ কর্তৃক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিএমপির আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুরকে গুলশান মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং মো. সালাউদ্দিনকে বনানী থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই আদেশে বনানী থানার পূর্বের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল ইসলামকে গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

এর আগে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের কারণে গুলশান মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেনকে ক্লোজড করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিট না পেয়ে থাকতে হচ্ছে বাইরে, দিতে হচ্ছে ‘বড় মাশুল’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ পি.এম


সিট না পেয়ে থাকতে হচ্ছে বাইরে, দিতে হচ্ছে ‘বড় মাশুল’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়নি। এর ফলে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ হাজার ৮১৪ জন, যার মধ্যে ছাত্র ৪৮০৫ জন এবং ছাত্রী ৫০০৯ জন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইটি ছাত্র হল এবং দুটি ছাত্রী হল রয়েছে। এসব হলে মোট ২৮৫৮ জন শিক্ষার্থীর আবাসনের সুযোগ রয়েছে। মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ২৯ দশমিক ১২ শতাংশ আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন। বাকি প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ছাত্রদের দুইটি হলে মোট আসন রয়েছে ১৪৯৪টি। এতে প্রায় ৩১.০৯ শতাংশ ছাত্র হলের সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, ছাত্রীদের দুটি হলে ১৩৬৪টি আসন রয়েছে, যেখানে প্রায় ২৭.২৩ শতাংশ ছাত্রী থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।

শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্প আসনের হলগুলোতে বিভিন্ন সমস্যা বিদ্যমান। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, হলে সিট পাওয়া সহজ নয়। দ্বিতীয় বর্ষে সিট পেলেও নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। স্নাতকোত্তরে হলে সিট পেতে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়, তবুও সবাই তা পান না।

এদিকে, আবাসন সংকটের কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী মেস কিংবা ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে ক্যাম্পাসের আশপাশে মেস ও ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা বেড়ে গেছে। এসব মেস ও বাসায় শিক্ষার্থীদের লোডশেডিং, বিশুদ্ধ পানির সংকট, স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের ভাড়া বাড়ি বা মেসে থেকে আসা-যাওয়া করেন। তাদের অনেকেই জানিয়েছেন, বাড়ি ও মেসের ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে। খরচ জোগাতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। মেসে খাবারের মানও সন্তোষজনক নয়।

ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের অনাবাসিক শিক্ষার্থী ইরিন জাহান ইকরা বলেছেন, "বিদ্যুৎ সংকট এখন দেশের জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। হলে সিট না হওয়ার কারণে বাইরে মেসে থাকতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে বিদ্যুৎ থাকলেও আমরা অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা চরম বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছি, যা আমাদের পড়াশোনায় ভীষণভাবে প্রভাব ফেলছে। মেসের ভাড়া এবং সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করার কারণে প্রতি মাসে অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। যা বহন করা একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে কষ্টকর বটে। এছাড়া বাহিরের মেছগুলোতে মেয়েদের নিরাপত্তাজনিত সমস্যাও রয়েছে।"

নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদ আসিফ আনাস জানিয়েছেন, "লোডশেডিং সমস্যা সঙ্গে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের বাসাগুলোর পরিবেশ ও মান অনুযায়ী ভাড়া বেশি। কোনো কিছুর সুযোগ সুবিধা তেমন নেই বললেই চলে। বাসার কোনো সুবিধা নেই আবার কিছু খারাপ বা নষ্ট হলে নিজেরা কোনো দায়ভার নেয় না। বাড়িওয়ালাদের ব্যবহার শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। এসব কারণে পড়াশোনারও ক্ষতি হচ্ছে।"

এ বিষয়ে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম বলেছেন, "আমাদের চারটি হল রয়েছে এবং আরও দুটি হল নির্মাণাধীন রয়েছে। আবাসিক সংকট রয়েছে, এ বিষয়ে আমি অবগত। আমরা এর আগেও প্রশাসনকে নির্মাণাধীন হল দুটি দ্রুত চালু করার জন্য জানিয়েছি। প্রশাসন আমাদের আশ্বস্ত করেছে, দ্রুতই হল দুটি চালু হবে। আশা করছি, হল দুটি চালু হলে আবাসিক সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।"

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন বলেছেন, "অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমি মনে করি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবাসনের ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে আছে। আমাদের চারটি হলে মোট শিক্ষার্থীর ৩০ শতাংশের অধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করতে পারে। এছাড়াও আমাদের নতুন দুটি হল তৈরি হচ্ছে। আমাদের নতুন এই দুটি হল সেপ্টেম্বর মাসেই হস্তান্তর করার কথা।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা আশা করি, এ বছরই সেখানে অ্যালটমেন্ট দিতে পারব। হলের প্রায় সব কাজই শেষ। আমরা ফার্নিচারেরও অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। এই মাসে হল দুটি বুঝে পেলে সেখানে আরও ৩ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত হবে। এতে আমরা ৫০ শতাংশ আবাসন সুবিধার আওতায় চলে আসব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%