বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৪২ পি.এম
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের প্রদর্শন করা আচরণকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অনুচিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেছেন।
আইনমন্ত্রী বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান মোমেনের উত্থাপিত বক্তবে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীল আইনজীবী হিসেবে এজলাসে এ ধরনের আচরণ মোটেও বাঞ্ছনীয় ছিল না। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ কিংবা আইন বিভাগ রাষ্ট্রের এই তিন প্রধান অঙ্গের কোনোটির সঙ্গেই আইনজীবীদের এই সংগঠনের সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই।
সংসদে বক্তব্যের শুরুতেই সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান মোমেন 'খোকন ইস্যু' ও সুপ্রিম কোর্টে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, বিচার বিভাগ হলো জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার অন্যতম স্থান। সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা জনগণকে কী বার্তা দিচ্ছে, তা সবাইকে গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করতে হবে। তিনি বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের স্মৃতি উল্লেখ করে সতর্ক করেন যে, সে সময় প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করার মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছিল। ফলে এমন পরিস্থিতি দেখলে জনগণের মনে আতঙ্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান অঙ্গ আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, কোনো অঙ্গই এককভাবে সার্বভৌম নয় এবং কোনোটি অন্যটির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। জনগণকে আশ্বস্ত করতে তিনি এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করেন।
আইনমন্ত্রীর জবাবে সুপ্রিম কোর্টের বার ও বেঞ্চের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংবিধানের অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান তিনটি অঙ্গের মধ্যে আইনজীবী বা বার অ্যাসোসিয়েশন সরাসরি পড়ে না, তারা মূলত জনগণেরই অংশ।
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির আচরণকে অনুচিত আখ্যা দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতেও সুপ্রিম কোর্টে প্রবীণ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ দেখা গেছে, যা পরবর্তী সময়ে এজলাসের বাইরে চা পানের টেবিলে সাধারণ সম্পর্কে রূপ নিয়েছে। প্রধান বিচারপতি পরদিন স্বাভাবিকভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করায় এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সেখানে উপস্থিত হয়ে মামলা পরিচালনা করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে আইনমন্ত্রী জানান। তিনি সংবিধানে উল্লিখিত ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে সকল নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এদিকে অন্য একটি প্রসঙ্গে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মুন্সিগঞ্জের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান নিজের নিরাপত্তার দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার এলাকায় হাইডোগ্রাফিক পদ্ধতিতে অবৈধ বালুমহাল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই ভালো কাজ করার পর ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ধরনের সুরক্ষা পাননি, বরং বালুমহল কেন্দ্রিক অসাধু গোষ্ঠী ও বালুখেকোরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এই অবস্থায় ভবিষ্যতে সৎ কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে স্পিকারের মাধ্যমে প্রটেকশন দাবি করেন।
স্পিকার এ সময় সংসদে ভূমিমন্ত্রীর অনুপস্থিতির কথা উল্লেখ করলেও বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে এনে সদস্যের যথাযথ নিরাপত্তার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী জেলার বাগমারার ভবানীগঞ্জে সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর গ্রাহক এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই সভাটি বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় সোনালী ব্যাংক পিএলসি, ভবানীগঞ্জ শাখার উদ্যোগে শাখা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বর্তমান ও সম্ভাব্য ঋণগ্রহীতা, খেলাপি ঋণগ্রহীতা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির রাজশাহী জেনারেল ম্যানেজার্স অফিসের জেনারেল ম্যানেজার (ইনচার্জ) মো. শওকত জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী প্রিন্সিপাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামান।
সভাপতিত্ব করেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি ভবানীগঞ্জ শাখার শাখা প্রধান (অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার) এ, এইচ মাহমুদুন্নবী।
মতবিনিময় সভায় সোনালী ব্যাংক রাজশাহীর অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার বিভূতিভূষণসহ ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তা ও গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় গ্রাহকদের মধ্যে নজরুল ইসলাম, আমছের আলী সান্টু, সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং রুহুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি ভবানীগঞ্জ শাখার সিনিয়র অফিসার শফিকুর রহমান।
মতবিনিময় সভায় ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম, গ্রাহকসেবা এবং ঋণগ্রহীতাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়। সভায় ব্যাংক ও গ্রাহকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান শেষে ১২ জন গ্রাহকের মাঝে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। এছাড়া খেলাপি ঋণ আদায় করা হয়েছে ৮ লাখ ৮৪ হাজার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদে আবারও হট্টগোলের দৃশ্য দেখা গেল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যের কারণে সংসদ কক্ষে তীব্র হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
ব্যাংক রেজল্যুশন বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে তার একটি নির্দিষ্ট চরিত্র প্রকাশ পায়, যা অতীতেও দেখা গেছে।’
বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে তিনি নিজের নির্ধারিত দুই মিনিটের বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, প্রত্যেকটি সরকারের একটি নির্দিষ্ট চরিত্র থাকে, মাননীয় স্পিকার। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, সারে যারা গরীব কৃষক রয়েছেন তারা সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না, সেটাও হতে পারে না। মাননীয় স্পিকার, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে এবং দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও সম্ভব নয়। মাননীয় স্পিকার, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে এবং বাংলাদেশ প্রথমবারের মত ঋণ খেলাফিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেটাও হতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই ঋণ খেলাফিতে সর্বোচ্চ হওয়া, ৬ লাখ হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণ খেলাপি হওয়া ইত্যাদি।
তিনি বলেন, সংসদে এত অসহিষ্ণুতা! মনে হচ্ছে যেন আমরা আবারও আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি। মজা মন্দ না! আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম, তখন তারাও হট্টগোল করত। এখন এরাও একই ধরনের আচরণ করছে; বরং আরও খারাপ আচরণ বলব।
স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, এই আইনটিতে ১৮-র ‘ক’ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছিল ১৮-র ‘ক’ রাখা হবে না, কিন্তু তা আছে। এর কারণ হচ্ছে, এই সংসদে বেশিরভাগ সংসদ সদস্য ঋণ খেলাপি হিসেবে পরিচিত। ওই নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা, এগুলো আমাদের পুরানো সংস্কৃতি। মাননীয় স্পিকার, নির্বাচনের আগে তাড়াতাড়ি ঋণ খেলাপি থেকে নাম বাদ দেয়, আর নির্বাচনের পর...।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতির ওপরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ নিচ্ছে বর্তমান সরকার।’
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে একথা জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি কমিটি গঠন করেছিল এবং সেই কমিটি সমগ্র দেশের মানুষের সামনে একটি শ্বেতপত্র বা এই ধরনের একটি রিপোর্ট-হোয়াইট পেপার প্রকাশ করেছিল। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল অর্থনীতির বিষয়টি। ওই পেপারটা যদি বের করে দেখেন তাহলে মোটামুটিভাবে পরিষ্কার একটি চিত্র পাবেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার সেই পেপারটিকে সামনে রেখে যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত পর্যায়ক্রমে চেষ্টা করা হচ্ছে সেই সকল পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য।’
প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটি কারণে হয় না। প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যা তৈরি করে। প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতার বিষয়টি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমত, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো: দুর্বল ফিজিবিলিটি স্টাডি, প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন যথাযথ না হওয়া, প্রকল্প এলাকা নির্বাচনে দুর্বলতা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া, দুর্বল মনিটরিং ও জবাবদিহিতা, অর্থায়ন পরিকল্পনা ও বাজেট সামঞ্জস্যের ঘাটতি এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব ইত্যাদি।’
এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো হচ্ছে, নতুন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রণয়ন নিশ্চিত করা, প্রকল্প অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করা, প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে নির্দেশিকার সংশোধন, চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন, নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি বৃদ্ধি, ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, যে সব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়নি, সে সব প্রকল্পের বিলম্ব, অনিয়ম, ব্যয় বৃদ্ধি ও সংশোধনের কারণ নিরূপণের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কর্তৃক পর্যালোচনাপূর্বক বিলম্বের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম সেসব প্রকল্পের উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে প্রকল্পগুলো পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন কিংবা চলমান রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ, বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণ না করে সমন্বিত কর্মসূচির অধীনে গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপি ব্যবহারের সম্প্রসারণ, পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ, বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ, সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব প্রদানের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান এবং সরকারি ক্রয় অধিকতর প্রতিযোগিতা এবং জবাবদিহিতামূলক করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
সাময়িক সংকটকালীন সময়ে শিল্পখাতে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পনাগুলো হচ্ছে: ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খনন, দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মোট ৪,৫০০ লাইন কি.মি. ২ডি সাইসমিক (দ্বি-মাত্রিক) সার্ভে এবং ৪,২০০ বর্গ কি.মি. ৩ডি সাইসমিক (ত্রি-মাত্রিক) সার্ভে পরিচালনা, সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। নভেম্বর পর্যন্ত বিড দাখিলে সময়সীমা নির্ধারণ আছে। স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ প্রণয়নের কার্যক্রম গ্রহণ।’
তিনি বলেন, ‘দেশে বিদ্যমান দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে কমবেশি গড়ে দৈনিক ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়। ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকটে শিল্পখাত যেন বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয় তা নিশ্চিতের জন্য মহেশখালির কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী কুতুবজোম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল হতে ২০২৮ সালে এবং ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল হতে ২০৩০ সালের ডিসেম্বরে নাগাদ রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ করা হবে আশা করা যায়।’
পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূল বিবেচনায় গভীর সমুদ্রে কোনো সুবিধাজনক স্থান নির্বাচন করে জরুরি ভিত্তিতে নতুন একটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মেইনল্যান্ডে এনে আগ্রহী গ্রাহক শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্যাসপ্রাপ্তি সাপেক্ষে শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মত পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’
ভোলার গ্যাস ব্যবহার প্রসঙ্গে সুলতানা আহমেদের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোলায় যে গ্যাস রয়েছে সেই গ্যাসকে যদি পাইপলাইনের মাধ্যমে মেইনল্যান্ডে নিয়ে আসতে চাই, তাহলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্তত সাত বছরের মত সময় লাগবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যেটি করতে চাচ্ছি তা হলো-সেখানে শিল্প কারখানা স্থাপন করা যায় কিনা। এরই মধ্যে কিছু শিল্প উদ্যোক্তা সেখানে তাদের কারখানা স্থাপনের চেষ্টা করছেন। যেগুলো গ্যাস দ্বারা পরিচালিত হবে। এর ফলে একদিকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, অন্যদিকে অর্থনীতির পরিধিও বৃদ্ধি পাবে ভোলা অঞ্চলে। এর বাইরেও সেখানকার গ্যাসকে সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে ব্যবহারের জন্য একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে পাঁচশ মেগাওয়াটের আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের আলোচনা চলছে।’
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে তিনটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিলো প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করেছে।
আজ বুধবার, দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য প্রকাশ করেন।
দুদক জানায়, সজেকা, ঢাকা-১-এর মামলা নং ১৬ (১৭ ডিসেম্বর ২০২৪) অনুযায়ী হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে ২১ কোটি ২৮ লাখ ৯ হাজার ৬০৫ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে ব্যয় বাদে তার বৈধ আয় ১ কোটি ২৯ লাখ ১৫ হাজার ৬ টাকা, ফলে হারুনের বিরুদ্ধে ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সত্যতা নিশ্চিত করেছে দুদক।
অন্যদিকে, ১৮ নং মামলায় হারুন অর রশীদ এবং তার ভাই এ বি এম শাহারিয়ারকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় শাহারিয়ারের ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া হারুনের কাছ থেকে হেবা সূত্রে ১ হাজার ৮৫০ শতাংশ জমি পাওয়ার পাশাপাশি সম্পদ স্থানান্তর ও মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণও পাওয়া গেছে।
দুদক জানায়, মামলা দুটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। তদন্তে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, আয়কর নথি ও ব্যাংক লেনদেন পর্যালোচনা করা হয়েছে।
মামলা দুটিতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি অপরাধলব্ধ সম্পদের অবৈধ উৎস গোপন, সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের সত্যতা পাওয়া গেছে।
হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১), দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
এ বি এম শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে এসব ধারার পাশাপাশি দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ