প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের প্রদর্শন করা আচরণকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অনুচিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেছেন।
আইনমন্ত্রী বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান মোমেনের উত্থাপিত বক্তবে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীল আইনজীবী হিসেবে এজলাসে এ ধরনের আচরণ মোটেও বাঞ্ছনীয় ছিল না। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ কিংবা আইন বিভাগ রাষ্ট্রের এই তিন প্রধান অঙ্গের কোনোটির সঙ্গেই আইনজীবীদের এই সংগঠনের সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই।
সংসদে বক্তব্যের শুরুতেই সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান মোমেন 'খোকন ইস্যু' ও সুপ্রিম কোর্টে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, বিচার বিভাগ হলো জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার অন্যতম স্থান। সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা জনগণকে কী বার্তা দিচ্ছে, তা সবাইকে গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করতে হবে। তিনি বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের স্মৃতি উল্লেখ করে সতর্ক করেন যে, সে সময় প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করার মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছিল। ফলে এমন পরিস্থিতি দেখলে জনগণের মনে আতঙ্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান অঙ্গ আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, কোনো অঙ্গই এককভাবে সার্বভৌম নয় এবং কোনোটি অন্যটির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। জনগণকে আশ্বস্ত করতে তিনি এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করেন।
আইনমন্ত্রীর জবাবে সুপ্রিম কোর্টের বার ও বেঞ্চের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংবিধানের অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান তিনটি অঙ্গের মধ্যে আইনজীবী বা বার অ্যাসোসিয়েশন সরাসরি পড়ে না, তারা মূলত জনগণেরই অংশ।
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির আচরণকে অনুচিত আখ্যা দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতেও সুপ্রিম কোর্টে প্রবীণ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ দেখা গেছে, যা পরবর্তী সময়ে এজলাসের বাইরে চা পানের টেবিলে সাধারণ সম্পর্কে রূপ নিয়েছে। প্রধান বিচারপতি পরদিন স্বাভাবিকভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করায় এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সেখানে উপস্থিত হয়ে মামলা পরিচালনা করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে আইনমন্ত্রী জানান। তিনি সংবিধানে উল্লিখিত ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে সকল নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এদিকে অন্য একটি প্রসঙ্গে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মুন্সিগঞ্জের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান নিজের নিরাপত্তার দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার এলাকায় হাইডোগ্রাফিক পদ্ধতিতে অবৈধ বালুমহাল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই ভালো কাজ করার পর ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ধরনের সুরক্ষা পাননি, বরং বালুমহল কেন্দ্রিক অসাধু গোষ্ঠী ও বালুখেকোরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এই অবস্থায় ভবিষ্যতে সৎ কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে স্পিকারের মাধ্যমে প্রটেকশন দাবি করেন।
স্পিকার এ সময় সংসদে ভূমিমন্ত্রীর অনুপস্থিতির কথা উল্লেখ করলেও বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে এনে সদস্যের যথাযথ নিরাপত্তার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন