ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা অব্যাহত


পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা অব্যাহত

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত নানা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই আন্দোলনের অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে যবিপ্রবিতে স্মারকলিপি জমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ পি.এম


জুলাই আন্দোলনের অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে যবিপ্রবিতে স্মারকলিপি জমা

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জুলাই আন্দোলনে অভিযুক্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই চেতনাধারী শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে, উপাচার্যের কার্যালয়ে তারা এই স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করার প্রয়োজন। যদি অভিযোগগুলি প্রমাণিত হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, দাবি করেন তারা।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যা, খুন, গুম, আবাসিক হলে সহিংসতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ফ্যাসিবাদী কার্যক্রমে সহযোগিতার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সালেক খান আরটিভিকে বলেন, "জুলাই আন্দোলনে সরাসরি বিরোধিতার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে আদালতের রিটে পুনর্বহাল হওয়া শিক্ষকদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেবে এবং প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে আপিল করার বিষয়টি বিবেচনা করবে—এমন আহ্বানও জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, "জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতাকারীদের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস চান না তারা।" উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃষ্টি কবে কমবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৩ পি.এম


বৃষ্টি কবে কমবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশে বৃষ্টিপাত হয়ে আসছে। কোথাও কোথাও অতি ভারী ও ভারী বৃষ্টিতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। টানা এই বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে এবং তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার কয়েকটি উপজেলায় ইতিমধ্যে বন্যা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার দেশের আটটি বিভাগের মধ্যেও বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে বলে জানান আবহাওয়াবিদরা।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সকাল থেকেই রাজধানীতে তুমুল বৃষ্টির শুরু হয়। টানা বর্ষণের ফলে অফিসগামী ও শ্রমজীবী মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও গলিতে পানি জমে যাওয়ায় যাতায়াতে বাড়তি ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছে, আজ ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় দিনভরই থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া সহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানান এই আবহাওয়াবিদ।

সোমবার(১৩ জুলাই) রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের আরও অনেক স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ সম্ভব। আবহাওয়ার এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার থেকে বিশেষ করে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে আসতে পারে।

অপরদিকে, আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে কম-বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই সময়ে ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি পটুয়াখালীতে হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত মা হাতিটির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০১ পি.এম


পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত মা হাতিটির মৃত্যু

কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ৩০০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত বুনো মা হাতিটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

এটি ঘটেছে টানা বর্ষণের মধ্যে। রোববার (১২ জুলাই) সকাল পৌনে ১০টার দিকে মা হাতিটি মারা যায়।

এর আগে, শনিবার (১১ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যাংপাড়ার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী মা হাতিটি পাহাড়ের চূড়ায় গাছ ও লতাপাতা খাওয়ার জন্য অবস্থান করছিল। তবে বৃষ্টির কারণে নরম মাটি ধসে পড়ে হাতিটি নিচের দিকে গড়িয়ে পড়ে।

ওপর থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার সময় তার বিভিন্ন গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে হাতিটির পেছনের দুটি পা ভেঙে যাবে এবং পেটের কিছু অংশ কেটে রক্তাক্ত হয়ে যায়। খবর পাওয়ার পর বন বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের চিকিৎসকদের সহায়তায় হাতিটির চিকিৎসা শুরু করেন।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, খবর পাওয়ার পর থেকেই চিকিৎসকেরা হাতিটিকে সুস্থ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আঘাত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে হাতিটি মারা যায়। ময়নাতদন্তের পর হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, হাতিটি পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত সেটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এখন চিকিৎসকদল হাতিটির ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শনিবার দুপুরে হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শোনা যায় এবং হাতির তীব্র চিৎকারও শোনা যায়। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মা হাতিটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। হাতিটির পেট থেকে প্রচুর রক্ত বের হচ্ছিল এবং যন্ত্রণায় বারবার চিৎকার করছিল হাতিটি।

বন বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, টেকনাফের এই পাহাড়ে এশিয়ান জাতের অন্তত ২৩টি হাতির বিচরণ রয়েছে। চলমান ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ি বনাঞ্চলের ঢালগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় হাতিসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী এই ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হওয়া নিয়ে আশঙ্কা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের নেতৃত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০৭ পি.এম


বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের নেতৃত্ব

১. ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম (বীর প্রতীক) : কাজের শুরুতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত থাকা সিতারা বেগম (১৯৪৬–২০২৪) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় একটি উল্লেখযোগ্য নারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্চের পর দেশের পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে মুক্তিবাহিনীর ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রমের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসক, নার্স এবং সহায়ক কর্মীদের তত্ত্বাবধানে তিনি ছিলেন অপরিসীম। চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে তিনি অসংখ্য আহত মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা করেন। যদিও তিনি কোনো সামরিক ইউনিটের নেতৃত্ব দেননি, তবে সামরিক চিকিৎসাসেবার কাঠামোর মধ্যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন। এজন্য মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কার্যকর দায়িত্বে থাকা সর্বোচ্চ পর্যায়ের নারী কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে তাঁকে গণ্য করা হয়। তাঁর নিষ্ঠা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে অনেক মুক্তিযোদ্ধার জীবন রক্ষা এবং মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা শক্তিশালী হয়। মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হন, যা বাংলাদেশের বীরত্বসূচক খেতাবগুলোর মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ সম্মান। স্বাধীনতার পরেও তিনি একজন চিকিৎসক হিসেবে দেশসেবায় নিয়োজিত থাকেন এবং নারী ক্ষমতায়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যান। বহুমুখী কাজে তাঁর এক প্রেসেন্স বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অগ্রগণ্য নারী নেত্রী হিসেবে তাঁকে ব্যাপকভাবে পরিচিত করেছে।

২. সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী (১৯৩৫–২০২২) একজন প্রভাবশালী নারী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে, তিনি অস্থায়ী সরকারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ ও সহায়তার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয় করেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নারীদের সংগঠিত করেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ রক্ষা করেন। ভারতে অবস্থিত শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এবং বাস্তুচ্যুত বাংলাদেশিদের মনোবল অটুট রাখতে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। যদিও তিনি সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেননি, তাঁর অসাধারণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নারী নেত্রী হিসেবে পরিণত করে। স্বাধীনতার পরেও তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরে জাতীয় সংসদের উপনেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

৩. বেগম মুশতারী শফী : বেগম মুশতারী শফী (১৯৩৮–২০২১) মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্যতম প্রধান বেসামরিক সংগঠক ছিলেন। চট্টগ্রামে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন, বেসামরিক সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় সরবরাহ করেন, জনমত গঠন করেন এবং যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ান। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তাঁর বাসভবন স্বাধীনতাকামী কর্মী ও প্রতিরোধ আন্দোলনের সদস্যদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনকেন্দ্রের কাজ করে। লেখালেখি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। যদিও তিনি কোনো সামরিক ইউনিটের নেতৃত্ব দেননি, তাঁর নির্দেশনায় বেসামরিক প্রতিরোধ আন্দোলন উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়। স্বাধীনতার পরেও তিনি ছিলেন একজন সম্মানিত লেখক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে স্বীকৃতির পক্ষে দৃঢ়ভাবে সোচ্চার ছিলেন।

৪. তারামন বিবি (বীর প্রতীক) : তিনি (১৯৫৭–২০১৮) অসাধারণ সাহসিকতার সাথে গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ১১ নম্বর সেক্টরে তিনি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, শত্রুপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি উত্তরাঞ্চলে মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে সহায়তা করতে গিয়ে অসাধারণ সাহস ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করেন। প্রথমে, তাঁর অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি কিন্তু পরে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিক সামরিক কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন না, কিন্তু তাঁর যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ সমাজে প্রচলিত ধারণা সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নারীদের সরাসরি কার্যকরী ভূমিকা পালনের সক্ষমতা তুলে ধরেছে। আজ তিনি সাহস, দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগের একটি চিরস্মরণীয় প্রতীক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

৫. কাকন বিবি (বীর প্রতীক) : তিনি (১৯৫০–২০২৪) ছিলেন একজন গেরিলা যোদ্ধা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রাহক। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সিলেট অঞ্চলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাকিস্তানি বাহিনীর সৈন্য চলাচল ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে মুক্তিবাহিনীর অভিযানে সহায়তা করেন এবং দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন, কিন্তু তিনি আবারও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ চালিয়ে যান। অসীম সাহসিকতা ও অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়। যদিও তিনি কোনো সামরিক কমান্ডার ছিলেন না, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অনিয়মিত যুদ্ধে নারীদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এটি তাঁর অবদান প্রমাণ করে। তাঁর জীবন অসাধারণ প্রতিকূলতার মধ্যেও সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগের একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে রয়েছে।

৬. সুফিয়া কামাল : বিখ্যাত বেগম সুফিয়া কামাল (১৯১১–১৯৯৯) ছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের একজন প্রধান সাংস্কৃতিক নেতা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি যুদ্ধের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব প্রদান করেছেন এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একজন কবি, সমাজসংস্কারক এবং নারী অধিকারকর্মী হিসেবে তিনি অসংখ্য বাংলাদেশিকে স্বাধীনতার সংগ্রামে অবিচল থাকতে অনুপ্রাণিত করেছেন। যদিও তিনি সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেননি, তবে জনমত গঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিরোধে তাঁর প্রভাব ছিল অসামান্য। স্বাধীনতার পরেও তিনি গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিঃসন্দেহে কাজ করে গেছেন এবং বাংলাদেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় জনবুদ্ধিজীবী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

৭. জাহানারা ইমাম : জাহানারা ইমাম (১৯২৯–১৯৯৪) বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য স্থান অধিকার করে আছেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি তাঁর পরিবার এবং যুদ্ধকালীন ঘটনার অভিজ্ঞতা একটি ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেন, যা পরবর্তীতে ‘একাত্তরের দিনগুলি’ নামে প্রকাশিত হয়। এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষ দলিল হিসেবে পরিচিত। যদিও তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় সরাসরি কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিলেন না, কিন্তু তাঁর লেখনী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। স্বাধীনতার পর তিনি যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে একটি প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হন এবং আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেন। ইতিহাস সংরক্ষণ করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁর একটি প্রধান অবদান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%