১১:০১ পি.এম
শেরপুরের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে খাবারের সন্ধানে চলাচলকারী বন্যহাতির একটি দল বর্তমানে একটি নতুন সংকটের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। ভাইরাল কনটেন্টের প্রতি কিছু তথাকথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং উৎসুক জনগণের উত্যক্তকরণের কারণে বন্যহাতিগুলো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে। এর ফলে হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাত এবং প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে। আরো উল্লেখ্য, কৃষিজমি সুরক্ষার উদ্দেশ্যে বিদ্যুতায়িত তারের মাধ্যমে হাতি হত্যার ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলছিল, কিন্তু কেউ এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায়ই বন্যহাতির একটি পাল এক টিলা থেকে অন্য টিলায় খাবারের সন্ধানে চলাচল করে। তবে हाल recent সময়ে হাতির চলাচলের সময় কিছু ব্যক্তি তাদের অনুসরণ করে পটকা ফাটানো, ঢিল ছোড়া তথা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এই সব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শুধু এটাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি বনভূমি দখল করে কৃষিজমি সম্প্রসারণের অভিযোগ বিদ্যমান। ফসল রক্ষার উদ্দেশ্যে অনেক স্থানে বিদ্যুতায়িত তার বসানো হচ্ছে, যা দিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এ কারণে, একদিকে জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাতও বাড়ছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ঝিনাইগাতী উপজেলার নওকুচির বাসিন্দা প্রদিপ সাংমা সম্প্রতি বলেন, কিছু মানুষ কেবল ভিডিও করার উদ্দেশ্যে হাতির পিছু নেয়। হাতির কাছে গিয়ে তারা পটকা ফোটায় এবং ঢিল ছোড়ে। এর ফলে হাতি বিরক্ত হয়ে কখনো কখনো তাদের তাড়া করে আবার কখনো বনের গভীরে চলে যায়।
শ্রীবরদী উপজেলার রাঙাজান গ্রামের ষাটোর্ধ্ব নাজমুল বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি যে হাতি একটি শান্ত প্রাণি। যদি কেউ ক্ষতি না করে, তবে সে কাউকে ক্ষতি করে না। কিন্তু যখন মানুষ তাদের বিরক্ত করে, তখন তারা তাড়া করে। এর ফলে, অনেক সময় মানুষ হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারায়।
পরিবেশবাদী সংগঠন শাইন-এর নির্বাহী পরিচালক মুগনিউর রহমান মনি বলেন, হাতি স্বভাবগতভাবে শান্ত প্রাণি। কিন্তু যখন তাদের ভয় দেখানো হয়, উত্যক্ত করা হয় এবং স্বাভাবিক চলাচলে বাধা দেওয়া হয়, তখন তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হলে কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।
ময়মনসিংহ বনবিভাগের বালিজুড়ি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষ ও বন্যহাতির সংঘাত কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে বন বিভাগ নিয়মিত মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) এর মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা বন্যহাতির চলাচলের সময় এবং করিডোর সম্পর্কে স্থানীয়দের আগাম সতর্ক করছেন, যাতে কেউ ঝুঁকি নিয়ে হাতির কাছে না যায় এবং প্রাণহানি এড়ানো যায়।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষ ও বন্যহাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে প্রশাসন, বন বিভাগ, স্থানীয় প্রতিনিধিরা এবং জনগণ সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি। বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য সরকারি নীতিমালা অনুসারে ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। তাছাড়া, আহত ব্যক্তি, ফসল ও বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রেও নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় ৩৩টি বন্যহাতির মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাতি-মানুষ সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৪ জন মানুষ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন