১১:০৫ পি.এম
কুমিল্লার দেবীদ্বারে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় একটি অষ্টম শ্রেণির মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ডালপাড় বিলের একটি নির্জন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের রমিজ মিয়ার ছেলে মো. সবুজ মিয়া (২৪) এবং একই গ গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. ইসমাইল (২৯)। তারা উভয়ই খালাতো ভাই। পুলিশ জানাচ্ছে, দুজনের মধ্যে একজন সম্প্রতি প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুলাই সকাল সাড়ে আটটার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের বারেরা ফুলগাছতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে সবুজের বাড়িতে নিয়ে আটক করে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত সবুজ দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তখন ছুরির ভয় দেখিয়ে তাকে অপহরণ করা হয়। ঘটনার সময় সবুজের স্ত্রী প্রসূতি-সংক্রান্ত কারণে বাড়িতে ছিলেন না। সেই সময় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে হুমকি দেয় যে যদি ঘটনাটি কাউকে জানানো হয় তাহলে তাকে অ্যাসিড নিক্ষেপ এবং তার বাবাকে হত্যার হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগীর বর্ণনায় জানা যায়, এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলে তাকে টাকার বিনিময়ে বিক্রির পরিকল্পনাও করছিল। বিষয়টি সে টের পেয়ে কৌশলে সবুজের স্ত্রীর হিজাব পরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পালিয়ে পরিবারের কাছে ফিরে যায় এবং পুরো ঘটনাটি জানায়।
এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ৮ জুলাই ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশের একটি দল কসবার ডালপাড় বিল এলাকায় অভিযান শুরু করে। আসামিরা বিলের মাঝখানে একটি নির্জন কুঁড়েঘরে দিনের বেলায় আত্মগোপন করে থাকত এবং রাতে অন্যত্র অবস্থান করত। পুলিশ আসার খবর পেয়ে তারা বিলে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ওসি আরও বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত ছিল। মামলা দায়েরের ১১ দিনের মাথায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা এবং আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, তারা নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য কিনা এ বিষয়েও যাচাই করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন