প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যদি গণভোটের রায় ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারাতে পারে এবং তারা সরকারকে ধিক্কার দেবে।
তিনি এ কথা বলেন, "এ কারণে জনগণের ধিক্কারের পাত্র বিরোধীদল হতে চায় না। এটা আমাদের দায়িত্ব নয়। এজন্যই আমাদের লড়াই এবং সংগ্রাম।"
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "সরকারি দল স্বাধীন বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন চায় না। তারা আগের ফ্যাসিবাদী আলোকে সবকিছুকে রাখার চেষ্টা করছে। এজন্য তারা গণভোটের গণরায় মানতে রাজি নয়। আমরা বর্তমানে পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছি যে, এ রায় বাংলার জমিনে বাস্তবায়ন হবে, ইনশাআল্লাহ।"
তিনি আরও বলেন, "কেউ জনগণকে অপমান করার সুযোগ পাবেনা। ৭০ ভাগ মানুষ যে রায় দিয়েছে, আল্লাহর মেহেরবানীতে তা অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে। জনগণের রায় নিয়ে সংসদে ও রাজপথে লড়াই করব। দাবিগুলি সংসদে আদায় হলে আলহামদুলিল্লাহ, না হলে রাজপথে আন্দোলন করে দাবি আদায়ে বাধ্য করা হব।"
আমিরে জামায়াত বলেন, "গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো ছাড় নেই। আমরা কোন ধানাই পানাই মানবো না। আমাদের বহু লোভ দেখানো হয়েছে- সব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। জনগণের সাথে আমরা বেইমানি করব না এবং তাদের রায়কে অপমান করব না।"
"আর যদি গণভোটের রায় ব্যর্থ হয়, জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারাবে এবং তারা ধিক্কার দেবে। বিরোধীদল হওয়ার জন্য এ দায়িত্ব আমাদের নেব না। এজন্যই আমাদের লড়াই, আমাদের সংগ্রাম।"
তিনি বলেন, "বর্তমান সরকার স্বৈরশাসকের ভাষায় বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে। তাদের চেলাচামুন্ডারা ও বটবাহিনী মানুষের ইজ্জতের সাথে খেলা করছে। এটা আবার সেই ফ্যাসিবাদ।"
আমীরে জামায়াত সদ্য বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর গণরুম হতে দেওয়া হবে না। গণরুম, গেষ্টরুমের কবর হয়ে গেছে চব্বিশে। সেটি আর ফিরে আসবে না। এখন যদি কেউ ফিরিয়ে আনতে চায়, তবে তাদেরই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি আর হবে না।"
তিনি আরও যোগ করেন, "বিশ্ববিদ্যালয় এখনো রাজনৈতিক অপচর্চামুক্ত হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক জায়গায় অনেক কিছু হচ্ছে। আমরা চুপচাপ আছি বলে মনে করবেন না।"
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "জনগণের স্বার্থের সাথে কোনো আপস হবে না। কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করা হবে না, দেশীয়, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক যে-ই হোক। যুবকদের প্রত্যাশার, আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা বাকী জীবনটিকে উজাড় করে দেব। যুবকদের সাথে লড়াই করব এবং মুক্তির আন্দোলন সম্মুখভাগে থেকে চলবে। এ আন্দোলন কেউ বন্ধ করতে পারবে না।"
এসময় আমিরে জামায়াতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন এবং অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।
পরে আমিরে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে ডাকসু নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেছেন এবং ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন