১০:৩৬ পি.এম
যৌন হয়রানির অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিকতা অর্জন করেনি। প্রশাসনিক ভবন এবং অন্যান্য অ্যাকাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
এই অবস্থার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটও এখনও বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের দাবিগুলোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাচ্ছেন, তেমনিভাবে দ্রুত পরীক্ষা ও ক্লাস শুরুর প্রত্যাশা তাদের রয়েছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি হচ্ছে- নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণের ঘটনায় অভিযুক্ত ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনা, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার এবং অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা এবং ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
এই মুহূর্তে এসব দাবির বেশ কিছু বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অভিযুক্ত ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানকে আইন মোতাবেক আনা হয়েছে। অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সব ধরনের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধনও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের বিষয়টি, সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডির জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ক প্রসঙ্গ এবং তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয় এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে চলমান আন্দোলনের ফলে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি স্কুলের প্রথম বর্ষের প্রথম টার্ম পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া জরুরি, কিন্তু অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকাও কাম্য নয়।
গণিত ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর এটি ছিল তাদের প্রথম টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা। পরীক্ষা চলাকালীন আন্দোলন শুরু হওয়ায় তারা বাকি পরীক্ষাগুলো দিতে পারেনি। তারা পরীক্ষা দিতে চাচ্ছে, কারণ সেশনজট বা অ্যাকাডেমিক ক্ষতির মুখে পড়তে চান না। তবে তারা দাবি করছেন যে, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোও দ্রুত বাস্তবায়িত হোক। তাদের জন্য ন্যায়বিচার এবং শিক্ষা দুইটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।
একই ডিসিপ্লিনের আরও একজন শিক্ষার্থী মো. সাহেদ বলেন, প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার সময় তাদের অনেক স্বপ্ন ও প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু আন্দোলনের কারণে পরীক্ষা মাঝে বন্ধ হয়ে গেছে। তারা চান যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষা আবার শুরু হোক। পাশাপাশি প্রশাসন যেন শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে। তারা চান, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলুক।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে অগ্রগতি হচ্ছে এবং তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলো সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক মো. সালাউদ্দিন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রশাসন যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেসব কাজের অগ্রগতি বর্তমানে ভালো। যেই সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, ইনশাআল্লাহ সেই সময়ের মধ্যে কাজগুলো শেষ হবে।
ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, একজন শিক্ষক ও প্রশাসনের অংশ হিসেবে তারা এতে চূড়ান্তভাবে আহত ও দুঃখিত। তারা চান এ ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও বিচার হোক। বিচার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং প্রশাসন এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে।
অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সবসময় শিক্ষার্থীদের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয়। বিচার প্রক্রিয়া চলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ক্ষতি যেন না হয়, সেটিও প্রশাসনের দায়িত্ব। সুতরাং তারা চান ক্লাস ও পরীক্ষা স্বাভাবিক হোক, যাতে একজন শিক্ষার্থীও অতিরিক্ত সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে না হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের কোর্স চার বছরেই শেষ করার যে সুনাম রয়েছে, সেটি ধারণ করার জন্য শিক্ষক ও ডিসিপ্লিনগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ছাত্রবিষয়ক পরিচালক আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জন্যই ক্যাম্পাসে আসেন। কিন্তু মূল ফটক বন্ধ থাকায় তাদের সাব-গেট (পুলিশ ফাঁড়ি গেট) দিয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। এইভাবে বিকল্প পথ দিয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে অনেক শিক্ষক অসম্মানিত বোধ করছেন। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতি তার আন্তরিক অনুরোধ, মূল ফটকটি খুলে দেওয়া হোক। এতে শিক্ষকদের ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্বাভাবিক ও সম্মানজনক পরিবেশ বজায় থাকবে। তারা শিক্ষার্থীদের দাবি সম্পর্কে সচেতন আছেন এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করতে চান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন