বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:১৫ পি.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রেমঘটিত একটি ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে শিবির ও রাকসুসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠেছে। লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে, এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী। এই কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১টা থেকে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হয়। এটির আয়োজন করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং বিচার দাবি করার উদ্দেশ্যে।
জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই রাকসু ভবনে হামলার ঘটনার পর, শিবির ও রাকসুসংশ্লিষ্টরা লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মারধর করেন। সেই হামলার প্রতিবাদে, মানববন্ধনের পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই কর্মসূচি তিন দিনব্যাপী চলবে। কর্মসূচির শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে সংহতি জানানোর সময়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবির হাসান হিমেল মন্তব্য করেন, "আমরা বুধবার মানববন্ধনের পাশাপাশি আজ সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছি, যা সরাসরি উপাচার্য বরাবর প্রদান করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, "আগামী ২ আগস্ট আমাদের রাবি ক্যাম্পাসে রুহুল কবির রিজভী আসার কথা রয়েছে। ওই পরিস্থিতিতে এবারের হামলা ঘটানোর জন্য শিবির এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাতে পারে।"
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, "রাকসুর কাজ হলো শিক্ষার্থীদের সেবায় নিয়োজিত থাকা। কিন্তু রাকসু নেতাকর্মীরা এই দায়িত্ব ভুলে শিবিরের সঙ্গে লাইব্রেরিতে হামলা চালিয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গতকাল মানববন্ধন করেছি এবং আজ সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছি। আমরা চাই, এ হামলায় জড়িত রাকসু ও শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে আগস্ট মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার, যা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাম নির্ধারণের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের সর্বশেষ নির্ধারিত খুচরা মূল্য আগের মতোই বহাল থাকবে। ফলে নতুন মাস আগস্টজুড়ে ডিজেলের দাম থাকবে লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রল ১৪০ টাকায় বিক্রি করা হবে।
এর আগে গত ৩০ জুন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করার জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সেদিনও দেশে সমস্ত ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।
২০২৪ সাল থেকে দেশে জ্বালানি তেলের জন্য স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি সরকার চালু করবে। এই পদ্ধতি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশের বাজারে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের ছাত্রাবাসের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
এটি বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার (ডিগ্রি) হলের ডি ব্লকে ঘটে।
শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, শতবর্ষী ডিগ্রি হলটি বর্তমানে অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন কক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারা অনেক দিন ধরে খসে পড়ছে। কোথাও কোথাও রড বের হয়ে ঝুলছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি চুঁইয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি অযোগ্য ও বিপজ্জনক অবস্থায় থাকলেও শিক্ষার্থীরা এখানে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা হল সুপারের কক্ষে গিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন।
দুর্ঘটনায় আহত হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম জানান, বিকেলের দিকে তিনি ইনকোর্স পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় বিকট শব্দে ছাদের পলেস্তারার খসে তার ওপর পড়ে।
তিনি বলেন, একটুর জন্য মাথার ওপর পড়েনি। দীর্ঘদিন ধরে হল প্রশাসনকে এ ও ডি ব্লকের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়ে আসছে।
ডিগ্রি হলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, এই ছাত্রাবাসটি যেন এক মরণফাঁদ। প্রায়ই এর ছাদ ধসে পলেস্তারা খসে পড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর না করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
ডিগ্রি হলের সুপার এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ— এটি কর্তৃপক্ষ জানে। শিক্ষার্থীরা আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। আপাতত জরাজীর্ণ কক্ষগুলোর শিক্ষার্থীদের নিরাপদ কক্ষে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি কলেজ অধ্যক্ষ ও প্রকৌশল দপ্তরকে জানানো হয়েছে।
বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, পলেস্তারা পড়ে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডিগ্রি হলের পুরোনো ভবনটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের বিষয়টি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে আগেই জানানো হয়েছিল। আমরা ভবনটি নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারে ইনানী সৈকতের কাছে একটি মাঠ থেকে পাঁচতারকা এক হোটেল কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে উখিয়া উপজেলার ইনানী সৈকতের পূর্ব পাশের পাঁচতারকা হোটেল বে-ওয়াচের স্টাফ কোয়ার্টারের পাশের খালি জায়গা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে আজ দুপুরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত আবদুল আজিজ (২৭) উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জুম্মাপাড়ার বাসিন্দা রশিদ আহমদের ছেলে। তিনি হোটেল বে-ওয়াচের গরুর খামার পরিচর্যার দায়িত্বে ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী সায়কা ইয়াছমিন বলেন, গত মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে যান আজিজ। পরে বুধবার বেলা ১১টার দিকে তার সঙ্গে আমার মোবাইলে সর্বশেষ কথা হয়। দিবাগত রাত ১টার দিকে খবর পাই, আজিজের লাশ মাঠে পড়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় এক বছর ধরে আজিজ হোটেল বে-ওয়াচে চাকরি করছেন। তিনি হোটেলের স্টাফ কোয়ার্টারে থাকতেন এবং হোটেলের গরুর খামার দেখাশোনা করতেন।
স্ত্রী সায়কা ইয়াছমিন বলেন, আমাদের সংসারে তিনটি মেয়ে রয়েছে। সন্তানদের নিয়ে কী করব ভেবে পাচ্ছি না।
নিহতের পরিবারের দাবি, আজিজকে মারধর কিংবা শ্বাসরোধে হত্যার পর খোলা মাঠে ফেলে রেখে গেছে হত্যাকারী। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উন্মোচন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
হোটেল বে-ওয়াচের উপমহাব্যবস্থাপক এনায়েত উল্লাহ বলেন, নিহত আবদুল আজিজ গরুর খামার দেখাশোনা করতেন। তিনি এখানকার স্থানীয়। তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। হোটেলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, বুধবার রাত সোয়া ১২টার দিকে হোটেল বে-ওয়াচের স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের খালি জায়গায় আবদুল আজিজের মরদেহ পড়ে ছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের পর মূল রহস্য জানা যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনার হরিণটানা থানার ময়ূর আবাসিক এলাকার একটি লেক থেকে ১৩ বছর বয়সী শোয়েব নামে এক মাদরাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, শিশুটি বুধবার বিকেলে তার বাবার কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে বাইরে ঘুরতে বের হয়েছিল। এরপর থেকে সে নিখোঁজ হয়ে যায় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসী ময়ূর আবাসিক এলাকার লেকে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মরদেহটি উদ্ধার করে।
ওসি আরো জানিয়েছেন, নিহতের মাথায় হালকা আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা, না কি কেউ তাকে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে, এই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মরদেহটি এখন ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শোয়েব খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেইন গেটের বিপরীত পাশে অবস্থিত ফজলুল উলুম বহুমুখী মাদরাসার হাফেজি শাখার ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ