ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সেলিকন ভ্যালির চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে চিপ নকশার প্রতিষ্ঠান গড়লেন এনায়েতুর


সেলিকন ভ্যালির চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে চিপ নকশার প্রতিষ্ঠান গড়লেন এনায়েতুর

যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমানের একটি প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার ছিল। তিনি বিশ্বের পরিচিত সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠান এএমডিতে চিপ নকশাবিদ হিসেবে কাজ করেছেন। তবে, দেশের তরুণ প্রকৌশলীদের সঙ্গে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে কাজ করার স্বপ্নে তিনি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

সেই স্বপ্নের ভিত্তিতে ২০০৭ সালে তিনি ঢাকায় চারজন প্রকৌশলী নিয়ে ইউএলকাসেমির যাত্রা শুরু করেন। আজ প্রায় দুই দশকের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি ৬০০-এর বেশি নকশা প্রকৌশলীর একটি আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর নকশা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে, প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ নির্মাতা টিএসএমসির নকশা কেন্দ্র জোটেরও অংশ।

এনায়েতুর রহমান ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এক পর্বে সিলিকন ভ্যালিতে গিয়ে এএমডিতে সেমিকন্ডাক্টর চিপ নকশাবিদ হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানে কাজের সময় তিনি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের দ্রুত পরিবর্তন ও এশিয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে গভীর ধারণা পান। তখন প্রশ্ন জাগে, যদি দেশের তরুণ প্রকৌশলীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে তারাও আন্তর্জাতিক চিপ নকশা শিল্পে নিজেদের প্রতিস্থাপন করতে পারবেন কিনা। বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগণ ও প্রতিবছর অনেক প্রকৌশলী তৈরির বিষয়টি তাঁকে আশাবাদী করে তোলে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

পরিশেষে প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার ছেড়ে দেশে retorn 오는 সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০০৭ সালে ঢাকায় চারজন প্রকৌশলী নিয়ে শুরু হয় ইউএলকাসেমির যাত্রা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি করা হয়।

শুরুর পথ কিন্তু সহজ ছিল না। বাংলাদেশে তখন চিপ নকশা শিল্পের শক্তিশালী পরিবেশ ছিল না। দক্ষ প্রকৌশলী প্রস্তুত করা, আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের আস্থা অর্জন, এবং নতুন প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কাও সামলাতে হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটিকে।

শুরুতে ইউএলকাসেমি চিপের বিন্যাস নকশার কাজ দিয়ে এগিয়েছে। পরে ধীরে ধীরে চিপের কাঠামো নির্ধারণ, নকশা যাচাই ও ভৌত নকশাসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত কাজে নিজেদের কার্যক্রম বিস্তৃত করে। বর্তমানে, ইউএলকাসেমিতে ৬০০-এর অধিক নকশা প্রকৌশলী কাজ করছেন এবং চারটি দেশে প্রতিষ্ঠানটির নকশা কেন্দ্র রয়েছে। সংস্থার জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যদের সম্মিলিত সিলিকন ভ্যালির অভিজ্ঞতা ২৫০ বছরেরও বেশি।

প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে। অ্যানালগ সার্কিট নকশা, বিশেষায়িত চিপ বিন্যাস, চিপের ভৌত নকশা, চিপের কাঠামো ও নকশা যাচাইসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেবা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

ইউএলকাসেমির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ৪০০-এর বেশি ভৌত নকশা সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তাদের ১৫০টি এসআরএএম এবং ৫০টি ওটিপি নকশা সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বড় মাইলফলক ২০২১ সালে আসে। সেবছর ইউএলকাসেমি টিএসএমসির নকশা কেন্দ্র জোটের অংশীদার হয়। এই জোট চিপ বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের নকশা সমাধানের মাধ্যমে প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ग्राहकদের নকশা সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ, দেশের ভিতরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বৈশ্বিক চিপ নকশা শিল্পের কার্যক্রম করতে সক্ষমতা দেখিয়েছে।

তবে এনায়েতুর রহমানের লক্ষ্য কেবল নিজের প্রতিষ্ঠানকে বড় করা নয়। তিনি বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর শিল্প গড়ে তোলার স্বপ্নও দেখছেন। তাঁর মতে, বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে চিপ তৈরির কারখানা স্থাপনের চেয়ে, চিপ নকশা, নকশা যাচাই, পরীক্ষা ও প্যাকেজিংয়ের মতো ক্ষেত্রে দক্ষতা তৈরি করাই বাংলাদেশের জন্য অধিক বাস্তবসম্মত।

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ রয়েছে। প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ৪৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার প্রকৌশলী স্নাতক হন। তাদের যদি বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তাহলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক চিপ নকশা ও প্রকৌশল সেবা খাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন এনায়েতুর রহমান।

সেমিকন্ডাক্টর খাতকে সম্ভাবনাময় উচ্চপ্রযুক্তির রপ্তানি শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। দক্ষ লোকবল তৈরি, নীতিগত সমর্থন এবং প্রযুক্তি খাতের পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে এই শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রকৌশলী তৈরিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে ইউআরকাসেমি। চিপের অ্যানালগ ও ডিজিটাল নকশা যাচাই এবং বিন্যাস প্রকৌশলের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা তৈরির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

একসময় এনায়েতুর রহমান এএমডির মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে চিপ নকশা করতেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের দেশে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যেখানে এখন শত শত বাংলাদেশি প্রকৌশলী বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য কাজ করছেন। চারজন প্রকৌশলী নিয়ে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ আজ ৬০০-এর বেশি প্রকৌশলীর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে বসেও উচ্চপ্রযুক্তির বৈশ্বিক শিল্পের জন্য প্রতিযোগিতামূলক কাজ করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে যুবদূতের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৯ পি.এম


গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে যুবদূতের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘যুবদূত’ তাদের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে কোমলমতি শিশুদের মাঝে গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে। এ সময় শিক্ষার্থীদেরকে গাছের উপকারিতা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় এবং বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে উৎসাহিত করা হয়। রবিবার (২৩ আগস্ট) ‘যুবদূতের’ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মণিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের হাতে যুবদূতের ‘ইমার্জেন্সি কন্টাক্ট কার্ড’ দেওয়া হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী উত্তাল সময়ে ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট সমাজসেবী কাজী শরিফ মাহমুদ নেতৃত্বে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর হাত ধরে ‘যুবদূত’ যাত্রা শুরু করে। সংগঠনটির লক্ষ্য হচ্ছে তারুণ্যের শক্তিকে ইতিবাচক কাজে কাজে লাগিয়ে সমাজে মানবিকতা, সচেতনতা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। দেখতে দেখতে সংগঠনটি দুই বছর পূর্ণ করেছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই যুবদূত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ ও শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দিতে কাজ করছে। তারা দূর-দূরান্তের গ্রামে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়ার কাজের পাশাপাশি তাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন জাগিয়ে তুলছে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রতিবছর শিশুদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে সংগঠনের নতুন কার্যক্রম শুরু হয়। শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে যুবদূতের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা দেওয়া হচ্ছে। মানবিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ এবং শিশুদের ত্বক সুরক্ষায় সচেতনতামূলক উদ্যোগসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সংগঠনটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত সচেতনতার বার্তা তুলে ধরা হয়। যুবদূতের দর্শন হলো শিক্ষা পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজেকে জানা, সমাজকে বোঝা এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ তৈরি করাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই লক্ষ্যেই সংগঠনটি বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন যখন কঠিন হয়ে উঠছিল, তখন যুবদূত ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য মানুষের নাগালের মধ্যে পৌঁছে দেয়। রমজান মাসজুড়ে ‘রমজান জনসেবা বাজার’ পরিচালিত হয়। স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং সংগঠনটি প্রশংসা অর্জন করে। তবে এই উদ্যোগের সময়ে সংগঠনটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখে পড়তে হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২২ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টার দিকে একটি সন্ত্রাসী দল স্টলে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে। ওই ঘটনায় সামাজিক সংগঠন ও সমাজসেবায় যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে ঘটনার পরেও যুবদূত তাদের সামাজিক কার্যক্রম বন্ধ করেনি। প্রতিকূলতা ও নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে দুই বছরে যুবদূত তরুণদের সামাজিক অংশগ্রহণের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠেছে। শিক্ষার্থী ও তরুণদের স্বেচ্ছাসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে তারা মানবিক মূল্যবোধ, দায়বদ্ধতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরির চেষ্টা করছে। দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এবার যুবদূত শিশুদের মধ্যে ২ হাজার গাছের চারা বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশ রক্ষা ও শিশু-কিশোরদের বৃক্ষরোপণ ও প্রকৃতি সংরক্ষণের মানসিকতা গড়ে তোলার জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যুবদূতের প্রতিষ্ঠাতা কাজী শরিফ মাহমুদ বলেন, তারুণ্যের শক্তিকে ইতিবাচক কাজে লাগিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যুবদূতের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, শুরুতে স্বপ্নটি ছোট পরিসরে ছিল, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও তরুণদের অংশগ্রহণ আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষা, সচেতনতা, মানবিক সহায়তা ও পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিসরে কাজ করতে চাই। যুবদূতের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি মনিরুজ্জামান বলেন, দুই বছরে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু কোনো বাধা আমাদের থামাতে পারেনি। যুবদূতকে একটি সংগঠন নয়, তরুণদের মানবিক ও সামাজিক কাজে যুক্ত করার শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুবদূতের প্রতিষ্ঠাতা কাজী শরিফ মাহমুদ, কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি মনিরুজ্জামান, সদস্য নুসরাত, প্রান্তি, ফাহিম আব্দুল্লাহসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, দুই বছরের পথচলায় যুবদূতের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো শিক্ষার্থী ও তরুণদের একটি অংশকে স্বেচ্ছাসেবা, মানবিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা। সেই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেবল আনুষ্ঠানিক উদযাপে সীমাবদ্ধ না রেখে শিশুদের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়ে পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে সংগঠনটি। দুই বছর পূর্ণ করে যুবদূতের প্রত্যয় এখন আরও বিস্তৃত, তারুণ্যের শক্তিকে মানবিক ও সামাজিক কাজে নিয়োজিত করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। প্রতিকূলতা ও নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে চায় সংগঠনটি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মজুত থাকা স্যালাইন না দেওয়ায় রোগীকে টাকা ফেরত দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০০ পি.এম


মজুত থাকা স্যালাইন না দেওয়ায় রোগীকে টাকা ফেরত দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে তথ্য পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, যেখানে সরকারি স্যালাইন মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীদের স্যালাইন বাইরের খরচে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। রোবার (২৩ আগস্ট) সকালে হাসপাতালটিতে তিনি হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে এই অনিয়মের প্রমাণ পান।

হাসপাতালে মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরের স্থান থেকে স্যালাইন কিনতে বলায় এক নার্সের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি ওই রোগীকে বাইরের স্যালাইন কেনার ২০০ টাকা ফেরত দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, ফার্মেসি, রান্নাঘর ও শৌচাগার ঘুরে দেখেন এবং ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি অ্যালার্জি চিকিৎসক দ্বীন মোহাম্মদ সোহেল কন কারণে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় সিভিল সার্জনকে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, 'হাসপাতালে পর্যাপ্ত সরকারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ ও স্যালাইন কিনতে বলা বরদাস্ত করা হবে না।' এ প্রসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে বিপুল সংখ্যক লাইসেন্সবিহীন এবং অবৈধ প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হচ্ছে এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলেই প্রতিষ্ঠান সিলগালা ও জরিমানার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এ সময় দেশের জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলোর সেবা বৃদ্ধির জন্য ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণের কথা বলেছিলেন তিনি। প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ডায়ালাইসিস সুবিধার উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের খবর পেয়ে হাসপাতালে উপস্থিত হন নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান এবং সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং হাসপাতালের সেবার মান শতভাগ নিশ্চিত করতে কাজ করার আহ্বান জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালমনিরহাটে নন্দিনী হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


লালমনিরহাটে নন্দিনী হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

লালমনিরহাটে আলোচিত নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।

এদিকে, একই মামলায় বিধানের মা মমতা রানী ও বাবা রনজিত কুমারকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডও প্রদান করেছে আদালত।

রোববার, ২৩ আগস্ট, দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র এবং তার বাবা রনজিত কুমার ও মা মমতা রানী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত নন্দিনীর স্বজনরা।

নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বর্মন আদালতের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং তিনি প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। রায় ঘোষণার পর মামলাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা অনুযায়ী, মামলার রায়ে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।

গত ১৬ জুন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নিজ বাসায় নিখোঁজ ছিল সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী।

পরিবার ও স্থানীয়রা সারারাত খোঁজাখুঁজি করার পর পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশে একটি ভুট্টা ক্ষেতে মাটি দেখে সন্দেহ করেন। পরে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় বস্তাবন্দি নন্দিনীর মরদেহ।

এ ঘটনার পর গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ সালে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় বিধান রায়কে আটক করতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ বাধে। পরে ঘটনাস্থলে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান যান। কিন্তু বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের বহরে হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সংঘর্ষে অন্তত ১৮ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

রায় ঘোষণা শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন রেজা স্বপন জানান, মাত্র ৬ কার্য দিবসের মধ্যে একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রায়ে আদালত প্রধান আসামিকে ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করতে বলেছেন। বিধান চন্দ্রের মা-বাবা আসামিকে লাশ গুম করতে সহযোগিতা করায় তাদেরকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
প্রথম পর্ব

সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৯ পি.এম


সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির কার্যক্রম, সাংগঠনিক অবকাঠামো ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ ফেরত না দেওয়া, কমিটিতে নাম বাদ, হুমকি ও মানহানিকর বক্তব্যের অভিযোগ; সংগঠনের ভাবমূর্তি ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন


সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে গঠিত বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হয়রানি, মামলা, পেশাগত বাধা কিংবা অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় এসব সংগঠনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন সাংবাদিক সমাজ। তবে কোনো সাংবাদিক সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, কমিটি গঠন কিংবা সদস্যদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটি শুধু ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয় থাকে না—সংগঠনের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও বিষয়টি জড়িয়ে পড়ে।

জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি নামে একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মো. সুমন চৌধুরীর বিরুদ্ধে এমনই বেশ কিছু অভিযোগ তুলেছেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ও তালাশ বিডির জেলা প্রতিনিধি মো. নাজির খান।

তার অভিযোগ, সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও নিবন্ধনের উদ্যোগের সময় মূল কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে কমিটিতে তার নাম রাখা হয়নি। সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থ দেওয়ার পরও সেই অর্থের যথাযথ হিসাব পাওয়া যায়নি এবং তার পাওনা ১৬ হাজার টাকা ফেরত চাইলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়নের সংগঠনের কাজ কী হওয়া উচিত?

একটি সাংবাদিক অধিকারভিত্তিক সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা। সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হয়রানির প্রতিবাদ, পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকদের আইনগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ, কল্যাণমূলক কার্যক্রম, তথ্য ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা—এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি সংগঠন তার কার্যকারিতা তুলে ধরতে পারে।

অভিযোগকারী নাজির খানের দাবি, নামের মধ্যে ‘সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন’ থাকলেও সংগঠনটির বাস্তব কার্যক্রম সম্পর্কে সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তার অভিযোগ, সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কর্মসূচির পরিবর্তে কমিটি গঠন, সদস্য অন্তর্ভুক্তি ও বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের নিয়মিত কার্যক্রম, কর্মসূচি ও সাংগঠনিক সাফল্যের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

সংগঠনের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ: একটি সাংবাদিক সংগঠনের ভাবমূর্তি মূলত তার স্বচ্ছতা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, সদস্যদের প্রতি আচরণ, আর্থিক জবাবদিহিতা এবং সাংবাদিক সমাজের জন্য বাস্তব কাজের ওপর নির্ভর করে।

নাজির খানের অভিযোগ, সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন ব্যক্তি পরবর্তীতে সংগঠন থেকে সরে গেছেন। সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল হালাল, কোষাধ্যক্ষ রাজু আহমেদসহ আরও কয়েকজনের নাম তিনি উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগকারীর দাবি, একের পর এক অভিজ্ঞ ব্যক্তি সংগঠন থেকে সরে গেলে তার কারণ সম্পর্কে সদস্যদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেন সংগঠন ছেড়েছেন, সে বিষয়ে তাদের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

একই সঙ্গে একটি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ বা সদস্যদের পদত্যাগকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সাংগঠনিক নথি যাচাই করা জরুরি।

কমিটি গঠন ও সাংগঠনিক অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন: নাজির খানের অভিযোগ অনুযায়ী, সংগঠন গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে সাতজনকে মূল কমিটিতে রাখার কথা বলা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী তিনি ও অন্যরা সংগঠনের কার্যক্রমে অর্থ ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করেন।

কিন্তু পরবর্তীতে প্রকাশিত কমিটিতে তার নাম না থাকায় তিনি প্রশ্ন তোলেন—কী প্রক্রিয়ায় তার নাম বাদ দেওয়া হলো?

একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যদি গঠনতন্ত্র, সভার সিদ্ধান্ত, অনুমোদন বা নির্দিষ্ট সাংগঠনিক প্রক্রিয়া থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এটি যাচাইয়ের বিষয়।

অভিযোগকারীর দাবি, তাকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে কোনো সভা বা সিদ্ধান্তের কথা তাকে জানানো হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে চেয়ারম্যানের আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগ সত্য হলে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে আত্মীয় বা পরিচিত কেউ কমিটিতে থাকলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনিয়ম প্রমাণ করে না; কমিটি গঠনের নিয়ম ও গঠনতন্ত্র কী বলছে, সেটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো অর্থ লেনদেন। নাজির খানের দাবি, সংগঠন গঠন ও নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছিল। তার দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে তার ১৬ হাজার টাকা ফেরত পাওনা রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—সংগঠনের নামে সদস্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হলে সেই অর্থের হিসাব কোথায়? কত টাকা সংগঠনের তহবিলে জমা হয়েছে, কত টাকা নিবন্ধন বাবদ ব্যয় হয়েছে, কত টাকা অফিস পরিচালনায় ব্যয় হয়েছে এবং অন্যান্য খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে—এসবের হিসাব সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না?

তিনি আরও দাবি করেন, সংগঠনের জন্য সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ দিয়ে একটি পুরোনো দোকান সংস্কার করে অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অর্থের উৎস, ব্যয়ের রসিদ, ভাউচার, ব্যাংক বা আর্থিক লেনদেনের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

সংগঠনের অবকাঠামো ও সম্পদের মালিকানা: কোনো সংগঠনের অফিস, আসবাবপত্র, সরঞ্জাম কিংবা অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে সেগুলোর মালিকানা ও অর্থের উৎস স্পষ্ট থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযোগকারী দাবি করেছেন, সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ব্যবহার করে একটি পুরোনো স্থাপনা সংস্কার করা হয়েছে। যদি সত্যিই সংগঠনের তহবিল ব্যবহার করে কোনো স্থাপনা তৈরি বা সংস্কার করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই সম্পদ সংগঠনের নামে নাকি ব্যক্তিগত মালিকানায়—এ বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া দরকার।

এ ক্ষেত্রে সংগঠনের হিসাব, রসিদ, ব্যয়ের নথি এবং সম্পত্তি-সংক্রান্ত কাগজপত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নিজের পেশা নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ: অভিযোগকারী মো. নাজির খান জানান, তিনি একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইলেকট্রিক পেশাজীবী ও কন্ট্রাক্টর। তার দাবি, সংগঠনের চেয়ারম্যান তার পেশা নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন।

নাজির খানের বক্তব্য, একজন মানুষের বৈধ ও সৎ পেশাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সাংবাদিকতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পেশা, তেমনি ইলেকট্রিক্যাল কাজ, কন্ট্রাক্টিং, ব্যবসা বা কারিগরি পেশাও সমাজ ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি বলেন, পেশাগত পরিচয় নিয়ে কাউকে হেয় করা হলে তা শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয়, সামাজিক মর্যাদার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রমাণ দাবি: নাজির খান আরও অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উচিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে প্রমাণসহ অভিযোগ করা।

তার ভাষ্য, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণ ছাড়া প্রকাশ বা প্রচার করা হলে তার পেশাগত ও সামাজিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি এ অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

হুমকির অভিযোগ: অভিযোগকারী দাবি করেন, নিজের পাওনা ১৬ হাজার টাকা ফেরত চাওয়ার পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে হুমকির অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে কল রেকর্ড, মেসেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য কিংবা কোনো লিখিত অভিযোগ রয়েছে কি না—তা যাচাই করা প্রয়োজন।

যদি কোনো ব্যক্তি সত্যিই হুমকির শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জানিয়ে আইনগত প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আইনগত দিক থেকে কী গুরুত্বপূর্ণ?
এখানে একাধিক বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনার দাবি রাখে—অর্থ নেওয়া ও ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ, অর্থের হিসাব না দেওয়ার অভিযোগ, হুমকির অভিযোগ এবং কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ।

তবে কোনো অভিযোগ উঠলেই সেটিকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে প্রচার করা আইনগত ও সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে সমীচীন নয়। অভিযোগের পক্ষে নথি, লেনদেনের প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শী, অডিও-ভিডিও বা অন্যান্য নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

একইভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়াও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুনাম রক্ষার সুযোগ দেওয়া—দুই দিকই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সাংবাদিক সংগঠনের নিবন্ধন থাকলেই কি জবাবদিহিতা শেষ?
কোনো সংগঠন নিবন্ধিত হওয়া তার আইনগত ও প্রশাসনিক পরিচয়ের একটি অংশ মাত্র। নিবন্ধনের পাশাপাশি সংগঠনের নিজস্ব গঠনতন্ত্র, কমিটি, সভার কার্যবিবরণী, সদস্য তালিকা, আর্থিক হিসাব এবং কার্যক্রমের স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ।

একটি সাংবাদিক সংগঠন যদি সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে, তাহলে তার নিজের সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনাতেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দৃষ্টান্ত থাকা প্রত্যাশিত।

কারণ সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে যদি অর্থের হিসাব না দেওয়া, সদস্যকে বাদ দেওয়া বা হুমকির মতো অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা সংগঠনের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তদন্তের দাবি:
অভিযোগকারী নাজির খান বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তার দাবি, সংগঠনের নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি, মূল কমিটির তালিকা, সভার সিদ্ধান্ত, সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের হিসাব, অফিস সংস্কারের ব্যয় এবং সংগঠনের বর্তমান আর্থিক অবস্থার তথ্য যাচাই করা হোক।
একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং হুমকির অভিযোগ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

চেয়ারম্যানের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ:
এসব অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মো. সুমন চৌধুরীর বক্তব্য নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি যদি জানান—কেন নাজির খানের নাম মূল কমিটিতে রাখা হয়নি, তার কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছিল, সেই টাকা কোন খাতে ব্যয় হয়েছে, ১৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি কী, অফিস সংস্কারের অর্থের উৎস কী এবং তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের ভিত্তি কী—তাহলে পাঠকদের সামনে বিষয়টির পূর্ণ চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

একটি সাংবাদিক সংগঠনের শক্তি শুধু তার নাম, পদবি বা কমিটির আকারে নয়; সংগঠনের প্রকৃত শক্তি হলো সাংবাদিকদের জন্য তার বাস্তব কাজ, সাংগঠনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহিতা এবং সদস্যদের আস্থা।

সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়নের নামে পরিচালিত কোনো সংগঠনকে তাই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে না রেখে বরং আরও বেশি জবাবদিহিতার মধ্যে থাকা প্রত্যাশিত।

অভিযোগকারী নাজির খান তার পাওনা ১৬ হাজার টাকা ফেরত, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রমাণ এবং কথিত হুমকির তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সংগঠনের সামগ্রিক কার্যক্রম, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক কাঠামোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এখন অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা, অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসতে পারে। চলমান থাকবে.........

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%