ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লালমনিরহাটে নন্দিনী হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড


লালমনিরহাটে নন্দিনী হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

লালমনিরহাটে আলোচিত নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।

এদিকে, একই মামলায় বিধানের মা মমতা রানী ও বাবা রনজিত কুমারকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডও প্রদান করেছে আদালত।

রোববার, ২৩ আগস্ট, দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র এবং তার বাবা রনজিত কুমার ও মা মমতা রানী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত নন্দিনীর স্বজনরা।

নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বর্মন আদালতের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং তিনি প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। রায় ঘোষণার পর মামলাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা অনুযায়ী, মামলার রায়ে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।

গত ১৬ জুন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নিজ বাসায় নিখোঁজ ছিল সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী।

পরিবার ও স্থানীয়রা সারারাত খোঁজাখুঁজি করার পর পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশে একটি ভুট্টা ক্ষেতে মাটি দেখে সন্দেহ করেন। পরে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় বস্তাবন্দি নন্দিনীর মরদেহ।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

এ ঘটনার পর গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ সালে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় বিধান রায়কে আটক করতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ বাধে। পরে ঘটনাস্থলে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান যান। কিন্তু বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের বহরে হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সংঘর্ষে অন্তত ১৮ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

রায় ঘোষণা শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন রেজা স্বপন জানান, মাত্র ৬ কার্য দিবসের মধ্যে একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রায়ে আদালত প্রধান আসামিকে ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করতে বলেছেন। বিধান চন্দ্রের মা-বাবা আসামিকে লাশ গুম করতে সহযোগিতা করায় তাদেরকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
প্রথম পর্ব

সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৯ পি.এম


সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির কার্যক্রম, সাংগঠনিক অবকাঠামো ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ ফেরত না দেওয়া, কমিটিতে নাম বাদ, হুমকি ও মানহানিকর বক্তব্যের অভিযোগ; সংগঠনের ভাবমূর্তি ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন


সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে গঠিত বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হয়রানি, মামলা, পেশাগত বাধা কিংবা অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় এসব সংগঠনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন সাংবাদিক সমাজ। তবে কোনো সাংবাদিক সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, কমিটি গঠন কিংবা সদস্যদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটি শুধু ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয় থাকে না—সংগঠনের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও বিষয়টি জড়িয়ে পড়ে।

জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি নামে একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মো. সুমন চৌধুরীর বিরুদ্ধে এমনই বেশ কিছু অভিযোগ তুলেছেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ও তালাশ বিডির জেলা প্রতিনিধি মো. নাজির খান।

তার অভিযোগ, সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও নিবন্ধনের উদ্যোগের সময় মূল কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে কমিটিতে তার নাম রাখা হয়নি। সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থ দেওয়ার পরও সেই অর্থের যথাযথ হিসাব পাওয়া যায়নি এবং তার পাওনা ১৬ হাজার টাকা ফেরত চাইলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়নের সংগঠনের কাজ কী হওয়া উচিত?

একটি সাংবাদিক অধিকারভিত্তিক সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা। সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হয়রানির প্রতিবাদ, পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকদের আইনগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ, কল্যাণমূলক কার্যক্রম, তথ্য ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা—এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি সংগঠন তার কার্যকারিতা তুলে ধরতে পারে।

অভিযোগকারী নাজির খানের দাবি, নামের মধ্যে ‘সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন’ থাকলেও সংগঠনটির বাস্তব কার্যক্রম সম্পর্কে সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তার অভিযোগ, সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কর্মসূচির পরিবর্তে কমিটি গঠন, সদস্য অন্তর্ভুক্তি ও বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের নিয়মিত কার্যক্রম, কর্মসূচি ও সাংগঠনিক সাফল্যের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

সংগঠনের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ: একটি সাংবাদিক সংগঠনের ভাবমূর্তি মূলত তার স্বচ্ছতা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, সদস্যদের প্রতি আচরণ, আর্থিক জবাবদিহিতা এবং সাংবাদিক সমাজের জন্য বাস্তব কাজের ওপর নির্ভর করে।

নাজির খানের অভিযোগ, সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন ব্যক্তি পরবর্তীতে সংগঠন থেকে সরে গেছেন। সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল হালাল, কোষাধ্যক্ষ রাজু আহমেদসহ আরও কয়েকজনের নাম তিনি উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগকারীর দাবি, একের পর এক অভিজ্ঞ ব্যক্তি সংগঠন থেকে সরে গেলে তার কারণ সম্পর্কে সদস্যদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেন সংগঠন ছেড়েছেন, সে বিষয়ে তাদের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

একই সঙ্গে একটি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ বা সদস্যদের পদত্যাগকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সাংগঠনিক নথি যাচাই করা জরুরি।

কমিটি গঠন ও সাংগঠনিক অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন: নাজির খানের অভিযোগ অনুযায়ী, সংগঠন গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে সাতজনকে মূল কমিটিতে রাখার কথা বলা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী তিনি ও অন্যরা সংগঠনের কার্যক্রমে অর্থ ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করেন।

কিন্তু পরবর্তীতে প্রকাশিত কমিটিতে তার নাম না থাকায় তিনি প্রশ্ন তোলেন—কী প্রক্রিয়ায় তার নাম বাদ দেওয়া হলো?

একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যদি গঠনতন্ত্র, সভার সিদ্ধান্ত, অনুমোদন বা নির্দিষ্ট সাংগঠনিক প্রক্রিয়া থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এটি যাচাইয়ের বিষয়।

অভিযোগকারীর দাবি, তাকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে কোনো সভা বা সিদ্ধান্তের কথা তাকে জানানো হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে চেয়ারম্যানের আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগ সত্য হলে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে আত্মীয় বা পরিচিত কেউ কমিটিতে থাকলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনিয়ম প্রমাণ করে না; কমিটি গঠনের নিয়ম ও গঠনতন্ত্র কী বলছে, সেটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো অর্থ লেনদেন। নাজির খানের দাবি, সংগঠন গঠন ও নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছিল। তার দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে তার ১৬ হাজার টাকা ফেরত পাওনা রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—সংগঠনের নামে সদস্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হলে সেই অর্থের হিসাব কোথায়? কত টাকা সংগঠনের তহবিলে জমা হয়েছে, কত টাকা নিবন্ধন বাবদ ব্যয় হয়েছে, কত টাকা অফিস পরিচালনায় ব্যয় হয়েছে এবং অন্যান্য খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে—এসবের হিসাব সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না?

তিনি আরও দাবি করেন, সংগঠনের জন্য সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ দিয়ে একটি পুরোনো দোকান সংস্কার করে অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অর্থের উৎস, ব্যয়ের রসিদ, ভাউচার, ব্যাংক বা আর্থিক লেনদেনের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

সংগঠনের অবকাঠামো ও সম্পদের মালিকানা: কোনো সংগঠনের অফিস, আসবাবপত্র, সরঞ্জাম কিংবা অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে সেগুলোর মালিকানা ও অর্থের উৎস স্পষ্ট থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযোগকারী দাবি করেছেন, সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ব্যবহার করে একটি পুরোনো স্থাপনা সংস্কার করা হয়েছে। যদি সত্যিই সংগঠনের তহবিল ব্যবহার করে কোনো স্থাপনা তৈরি বা সংস্কার করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই সম্পদ সংগঠনের নামে নাকি ব্যক্তিগত মালিকানায়—এ বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া দরকার।

এ ক্ষেত্রে সংগঠনের হিসাব, রসিদ, ব্যয়ের নথি এবং সম্পত্তি-সংক্রান্ত কাগজপত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নিজের পেশা নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ: অভিযোগকারী মো. নাজির খান জানান, তিনি একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইলেকট্রিক পেশাজীবী ও কন্ট্রাক্টর। তার দাবি, সংগঠনের চেয়ারম্যান তার পেশা নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন।

নাজির খানের বক্তব্য, একজন মানুষের বৈধ ও সৎ পেশাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সাংবাদিকতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পেশা, তেমনি ইলেকট্রিক্যাল কাজ, কন্ট্রাক্টিং, ব্যবসা বা কারিগরি পেশাও সমাজ ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি বলেন, পেশাগত পরিচয় নিয়ে কাউকে হেয় করা হলে তা শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয়, সামাজিক মর্যাদার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রমাণ দাবি: নাজির খান আরও অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উচিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে প্রমাণসহ অভিযোগ করা।

তার ভাষ্য, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণ ছাড়া প্রকাশ বা প্রচার করা হলে তার পেশাগত ও সামাজিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি এ অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

হুমকির অভিযোগ: অভিযোগকারী দাবি করেন, নিজের পাওনা ১৬ হাজার টাকা ফেরত চাওয়ার পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে হুমকির অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে কল রেকর্ড, মেসেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য কিংবা কোনো লিখিত অভিযোগ রয়েছে কি না—তা যাচাই করা প্রয়োজন।

যদি কোনো ব্যক্তি সত্যিই হুমকির শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জানিয়ে আইনগত প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আইনগত দিক থেকে কী গুরুত্বপূর্ণ?
এখানে একাধিক বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনার দাবি রাখে—অর্থ নেওয়া ও ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ, অর্থের হিসাব না দেওয়ার অভিযোগ, হুমকির অভিযোগ এবং কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ।

তবে কোনো অভিযোগ উঠলেই সেটিকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে প্রচার করা আইনগত ও সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে সমীচীন নয়। অভিযোগের পক্ষে নথি, লেনদেনের প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শী, অডিও-ভিডিও বা অন্যান্য নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

একইভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়াও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুনাম রক্ষার সুযোগ দেওয়া—দুই দিকই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সাংবাদিক সংগঠনের নিবন্ধন থাকলেই কি জবাবদিহিতা শেষ?
কোনো সংগঠন নিবন্ধিত হওয়া তার আইনগত ও প্রশাসনিক পরিচয়ের একটি অংশ মাত্র। নিবন্ধনের পাশাপাশি সংগঠনের নিজস্ব গঠনতন্ত্র, কমিটি, সভার কার্যবিবরণী, সদস্য তালিকা, আর্থিক হিসাব এবং কার্যক্রমের স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ।

একটি সাংবাদিক সংগঠন যদি সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে, তাহলে তার নিজের সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনাতেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দৃষ্টান্ত থাকা প্রত্যাশিত।

কারণ সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে যদি অর্থের হিসাব না দেওয়া, সদস্যকে বাদ দেওয়া বা হুমকির মতো অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা সংগঠনের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তদন্তের দাবি:
অভিযোগকারী নাজির খান বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তার দাবি, সংগঠনের নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি, মূল কমিটির তালিকা, সভার সিদ্ধান্ত, সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের হিসাব, অফিস সংস্কারের ব্যয় এবং সংগঠনের বর্তমান আর্থিক অবস্থার তথ্য যাচাই করা হোক।
একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং হুমকির অভিযোগ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

চেয়ারম্যানের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ:
এসব অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মো. সুমন চৌধুরীর বক্তব্য নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি যদি জানান—কেন নাজির খানের নাম মূল কমিটিতে রাখা হয়নি, তার কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছিল, সেই টাকা কোন খাতে ব্যয় হয়েছে, ১৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি কী, অফিস সংস্কারের অর্থের উৎস কী এবং তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের ভিত্তি কী—তাহলে পাঠকদের সামনে বিষয়টির পূর্ণ চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

একটি সাংবাদিক সংগঠনের শক্তি শুধু তার নাম, পদবি বা কমিটির আকারে নয়; সংগঠনের প্রকৃত শক্তি হলো সাংবাদিকদের জন্য তার বাস্তব কাজ, সাংগঠনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহিতা এবং সদস্যদের আস্থা।

সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়নের নামে পরিচালিত কোনো সংগঠনকে তাই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে না রেখে বরং আরও বেশি জবাবদিহিতার মধ্যে থাকা প্রত্যাশিত।

অভিযোগকারী নাজির খান তার পাওনা ১৬ হাজার টাকা ফেরত, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রমাণ এবং কথিত হুমকির তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সংগঠনের সামগ্রিক কার্যক্রম, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক কাঠামোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এখন অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা, অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসতে পারে। চলমান থাকবে.........

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫১ পি.এম


জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঢাকা শহরের বাংলামটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরার উদ্দেশ্য নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) এনসিপির মিডিয়া সেল জানায় যে, এনসিপির পলিসি ও রিসার্চবিষয়ক উপকমিটির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনটি হবে।

এই সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাতসহ দলের শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করবেন।

এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সংবাদ সম্মেলনে আলোচনায় আসবে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৮০ দিনে সরকারের কার্যক্রম, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের ভুমিকা।

এ আয়োজনে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডের একটি রাজনৈতিক ও নীতিগত মূল্যায়ন তুলে ধরা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রান্সফরমার চুরি করতে এসে কাদায় আটকে যায় চোরদের গাড়ি, অতঃপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪০ পি.এম


ট্রান্সফরমার চুরি করতে এসে কাদায় আটকে যায় চোরদের গাড়ি, অতঃপর...

ভারতের পাঞ্জাবের মোগা জেলায় ধানের জমিতে ট্রান্সফরমার চুরি করার উদ্দেশ্যে এসে চোরদের ব্যবহৃত প্রাইভেট গাড়িটি কাদায় আটকে গেছে। কেবল এটি নয়, গাড়িটি উদ্ধার করতে নিয়ে আসা ভারী রিকভারি ট্রাকটিও কাদায় অচল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত একটি চোর গ্রামবাসীদের হাতে ধরা পড়েছেন। খবর এনডিটিভির।

মোগার তখতুপুরা গ্রামের কৃষক হরজিন্দর সিংয়ের জমিতে গভীর রাতে তিন চোর ট্রান্সফরমার খুলে নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাইভেট কার নিয়ে আসেন। কিন্তু খেতের কাদা ও পানি জমে থাকা নরম মাটিতে তাদের গাড়িটি মারাত্মকভাবে আটকে যায়। অনেক চেষ্টা করেও গাড়িটি বের করতে না পেরে রাতের আঁধারে সেটিকে খেতেই ফেলে রেখে চলে যায় চোরের দল।

পরের দিন সকালে গাড়িটি টেনে বের করতে একটি বড় রিকভারি ট্রাক নিয়ে আসা হয়। কিন্তু কাদার কাছে হার মানে সেই ভারী ট্রাকটিও। প্রথম গাড়িটির পাশে দাঁড়িয়ে যায় এবং কাদার গভীরে আটকে যায়।

মাঝমাঠে দুটি গাড়ি অচল হয়ে পড়ে থাকার দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ তৈরি হয়। তারা সেখানে গিয়ে টানা জেরা শুরু করেন। চোরদের বিভ্রান্তিকর উত্তরের মুখে একপর্যায়ে তাদের মূল ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়।

গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলেই লাভপ্রীত সিং নামের এক চোরকে ধরে ফেলে, যাকে পরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পলাতক বাকি দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেই রাতে কোথায় ছিলেন অভিযুক্তরা, যা বললেন সিদ্ধার্থের বাবা ও মুগ্ধর মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪২ পি.এম


সেই রাতে কোথায় ছিলেন অভিযুক্তরা, যা বললেন সিদ্ধার্থের বাবা ও মুগ্ধর মা

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী এবং তার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুণ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস খুনের রাতে নিজেদের বাড়িতে ছিলেন না। পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধার্থ ফুটবল খেলার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। অন্যদিকে, মুগ্ধও ওই রাতে বাড়িতে ছিলেন না। তবে পুলিশ বলছে, ওই রাতে তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। খুনের ঘটনার পর সেখানেই অবস্থান করেন। সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা এখন আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করার সময় পুলিশ সিদ্ধার্থকে তার চাচার বাড়ি থেকে আটক করে। একই সময়ে, মুগ্ধের বাড়িতে পুলিশ উপস্থিত হলে তিনি পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তাকে শ্মশান এলাকা থেকে আটক করা হয়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় মাছুয়াপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুরো এলাকায় থমথমে পরিবেশ ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সিদ্ধার্থের বাড়িতে তার মা পাপড়ী রানীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধার্থ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। সে জানিয়েছিল, ফুটবল খেলতে যাবে। এবং তারপর সে পাশের বাসার বন্ধু সীমান্তের বাড়িতে ছিল বলে তিনি জানান। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সিদ্ধার্থ বাড়িতে ফেরে।

সিদ্ধার্থের বাবা কানু দাস বলেন, মুগ্ধই এক নম্বর নেশাখোর! সে সব সময় আমার ছেলেকে ডেকে ডেকে খাওয়াত। তারা দুজনে খুন করেছে, নাকি অন্য কেউ ছিল, সেই বিষয়ে তারা বলতে পারবে। আমি শুধু এটাই বলব, আমার যা সত্য জানা আছে, আমি বলে দিয়েছি। প্রশাসন ওকে গুলি করে মারুক। খারাপকে রাখার দরকার নেই। কিন্তু তারা কি দুইজনে চারজনকে খুন করতে পারে? আপনারাই বলুন। পুলিশ তো ওকে আটক করেছে, এখন আমরা আতঙ্কে আছি।

তবে সীমান্তের বাবা সুবাস দাসের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার ছেলে সীমান্ত বাড়িতে ফেরে। রাত ১২টার দিকে সিদ্ধার্থ তাদের বাড়িতে এলেও কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে যায়। সীমান্ত সেদিন রাতে বাড়িতেই ছিল, কিন্তু সিদ্ধার্থ তার সঙ্গে ছিল না।’

পুলিশ দাবি করেছে, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যাওয়ার আগে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ তারা সীমান্তের বাড়িতে ইয়াবা সেবন করেন। পরে তারা গণপতির বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন। বিষয়টি গণপতি দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়, বলেছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।

মুগ্ধের বাড়িতে গিয়ে তার মা সেনা রানীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ বাড়িতে ছিলেন না। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি ছেলের ঘরে তালা দেখতে পান। পরে তালা খুলে মুগ্ধকে দেখতে পাননি। সকাল ১১টার দিকে মুগ্ধ বাড়িতে ফিরে আসে।

সেনা রানী বলেন, সকালে উঠে দেখি ঘরে তালা। তালা খুলে দেখি মুগ্ধ নেই। পরে ১১টার দিকে বাসায় এসে হাত-মুখ ধুয়ে নেয়। আমি বাজারে যেতে বললে সে বলে, আজ যাবে না।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে দোষী হলে তাকে শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত তা বের করা হোক। আমরা ভয়ে আছি। দেখা গেল যে আমরা রাস্তায় বের হচ্ছি, বলল এই যে খুনির মা, ধরো! বের হলে ভয় লাগে, বাসাতেও ভয় লাগে।

স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় মাদকের বিস্তার বেড়ে গেছে। উঠতি বয়সের ছেলেরা ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সহজে পাচ্ছে। মাদক কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এছাড়াও দুইজন মিলে চারজন মানুষকে কীভাবে হত্যা করে, এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না তা দ্রুত বের করতে হবে।

এ ঘটনায় গতকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল বের হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন ও প্রকৃত অপরাধী শাস্তির আওতায় আনার দাবি রাখছেন শিক্ষার্থীরা।

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন পরিবারের অভিভাবক। তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রিয়ম ও মেয়ে আগামীকে নিয়ে তার সংসার ছিল। শনিবার গভীর রাতে মাছুয়াপাড়ার কাছে তাদের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্বজনেরা জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বজনেরা শনিবার বাড়িতে গিয়ে চারজনের মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ চারটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত সাড়ে ১০টায় নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

এ ঘটনার পর শনিবার রাতে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস (২৩) ও মুগ্ধ দাস (১৯) কে আটক করে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-২–এ তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বলেন, আসামিরা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে হত্যা কান্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

এর আগে, রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ আবদুল মাবুদ বলেন, ছাদে ইয়াবা সেবনের বিষয়টি গণপতি চক্রবর্তী দেখে ফেলেছিলেন। পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার পরিবারের আরও তিন সদস্যকে একে একে খুন করেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ।

পুলিশ কমিশনার বলেন, গণপতি চক্রবর্তী স্যার ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তার পরিবারের কারো সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না। হত্যার পর আসামিরা ওই বাসায় অবস্থান করেন, গোসল করেন এবং খেজুর ও শসা খান।

এই ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%