ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর পিআইওর বিরুদ্ধে


কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর পিআইওর বিরুদ্ধে

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, ভুয়া বিল-ভাউচার, কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

দীর্ঘ অনুসন্ধানে একাধিক প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন হলেও বাস্তবে কাজ না হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, কোথাও নামমাত্র কাজ দেখিয়ে পুরো বিল তুলে নেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে এই কর্মকর্তা প্রতিটি ইউনিয়নে নিজ নিয়ন্ত্রণে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বরাদ্দের অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয় এবং প্রকল্প সভাপতিদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করা হয়।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো, এক ইউপি সদস্যের স্বামীর কাছে দুটি প্রকল্পের কমিশন বাবদ ৪৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন পিআইও মোহাম্মদ আলী। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

অনুসন্ধানে কথা হয় একাধিক প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্যের সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, প্রতিটি প্রকল্প থেকে প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়। কেউ কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিল আটকে রাখা হয়। তাদের দাবি, যেসব প্রকল্পের কাজ ভালো হয়েছে সেখান থেকে ২০ শতাংশ এবং যেসব প্রকল্পের কাজ নিম্নমানের হয়েছে, সেগুলো থেকেও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে পিআইও নিজেই নিজের পছন্দের লোকজন দিয়ে প্রকল্পের কাজ করান। কোথাও নামমাত্র কাজ দেখিয়ে, আবার কোথাও কোনো কাজই না করেই বরাদ্দের পুরো অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ প্রকল্প তিনি নিজে পরিদর্শন করেন না; অফিস সহায়ককে দিয়ে আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন দেখিয়ে বিল অনুমোদন করা হয়েছে।

দুমকি উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় টিআর, কাবিখা, কাবিটা, খাদ্য সহায়তা ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সরকারি বরাদ্দ আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ এসব বরাদ্দ সম্পর্কে অবগত না থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

অনুসন্ধানে যেসব প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে সেগুলো হলো, লেবুখালী ইউনিয়নের প্রকল্প নং-৭: মকবুল শরীফ বাড়ি থেকে সিদ্দিক শরীফের দোকান পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরেজমিনে কোনো কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য মোসা. জেসমিন বেগম বলেন, তিনি বরাদ্দ ও কাজ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রকল্প নং-২২: গাড়ি ধৌত করার র‌্যাম্প সংলগ্ন স্থানে মাটি ভরাট ও ইট সলিংয়ের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজের প্রমাণ মেলেনি। প্রকল্প সভাপতি চেয়ারম্যান মো. আজহার আলী মৃধার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকল্প নং-৯: উপজেলা পরিষদের মাঠ ও ইউএনওর বাসভবনের ফুল বাগানে মাটি ভরাটের জন্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সরেজমিনে কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্প সভাপতি আব্দুল জলিল জানান, বিষয়টি পিআইও জানেন।

প্রকল্প নং-৬: পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচনী কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কোনো কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কার্তিকপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ভরাট প্রকল্প: ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে সরেজমিনে গিয়ে ওই নামে কোনো বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অথচ বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া শ্রীরামপুর, পাংগাশিয়া ও লেবুখালী ইউনিয়নের একাধিক রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে বরাদ্দের তুলনায় অতি সামান্য কাজ করে পুরো বিল উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেক প্রকল্পে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার কাজ দেখিয়ে ২ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

অনিয়ম, দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং স্বপরিবারে বিদেশ গমনের জন্য অনাপত্তিপত্র নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলীকে তার মুঠোফোন কল দিলে তিনি প্রতিবেদককে সরাসরি দেখা করতে বলেন বলে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে তার মুঠোফোনে ও হট্সাপেপে একাধিক বার কল দেয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পটুয়াখালীর সহকারী কমিশনার তাপস বিশ্বাস জানান, মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ ছিলো পরে সেখানে আমরা অভিযানে যাই। সেই অভিযানের রিপোর্ট হেড অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি কিন্তু বেশ কিছুদিন যাবত আমাদের কমিশন নেই যার কারণে সেই রিপোর্ট পাস হয়ে আসেনি। তবে পাশ হয়ে আসলে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, পিআইও বিরুদ্ধে দূর্নীতির চিঠি এসেছে এবিষয়ে কাজ চলছে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কাজী মোঃ বদরুউজ্জামান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়েছে এবং সেই রিপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এদিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পিআইও মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে অতীতে বিভাগীয় তদন্ত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান হলেও তিনি এখনও একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়ায় তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাঙাচোরা সড়কে নাকাল কাউখালীবাসী, বাড়ছে দুর্ভোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ পি.এম


ভাঙাচোরা সড়কে নাকাল কাউখালীবাসী, বাড়ছে দুর্ভোগ

পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে গেছে। এর ফলে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় অধিকাংশ প্রধান সড়কই এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উপজেলা শহরের ডাকবাংলা সড়ক, টেম্পু স্ট্যান্ড সড়ক, উপজেলা পরিষদ সড়ক এবং উজিয়ালখান বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন এসব সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রিকশা, অটোরিকশা, ট্রাক, মোটরসাইকেল এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের যানবাহন চলাচল করছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং বর্ষার পানিতে পিচ ঢালাই উঠে গর্তগুলো দিন দিন আরও বড় আকার ধারণ করছে। ইতোমধ্যে এসব সড়কে ছোট-বড় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভোগান্তির কথা জানিয়ে অটোরিকশা চালক মোঃ লিটন বলেন, "প্রতিদিন এই রাস্তায় যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় গর্তে চাকা পড়ে গাড়ির ক্ষতি হয়, আবার যাত্রীরাও ঝুঁকিতে থাকেন। দ্রুত সংস্কার না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।"

পথচারী কামাল হোসেন ও স্থানীয় স্কুল ছাত্রী ফেরদৌসি জাহান জানান, হেঁটে চলাচল করাও এখন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে থাকে, ফলে সড়ক ও গর্তের পার্থক্য বোঝা যায় না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নারী, শিশু ও প্রবীণ নাগরিকরা। যোগাযোগ করা হলে কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী শেখ ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল বলেন, "সড়কগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত অংশের তথ্য ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। তবে আপাতত জনগণের ভোগান্তি কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"

জনদুর্ভোগ ও সড়ক পরিস্থিতির সার্বিক বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, "উপজেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর বেহাল দশায় সাধারণ মানুষের যে ভোগান্তি হচ্ছে, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ সচেতন। স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তরকে ইতোমধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থায়ী সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের চিঠি পাঠানো হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা সড়কগুলোর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ শুরু করতে পারব। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সড়কগুলো সংস্কার করে স্বাভাবিক চলাচলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী, চালক ও সাধারণ পথচারীরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানবপাচার প্রতিরোধে আগৈলঝাড়ায় সচেতনতামূলক র‌্যালি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ পি.এম


মানবপাচার প্রতিরোধে আগৈলঝাড়ায় সচেতনতামূলক র‌্যালি

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সচেতনতামূলক একটি র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ জুলাই সকাল ১০ টায় আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা 'ওয়ার্ল্ড কনসার্ন বাংলাদেশ'-এর সহযোগিতায় এবং 'ইন্টারঅ্যাক্ট'-এর অর্থায়নে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গৈলা ও বাকাল ইউনিয়ন সামাজিক সুরক্ষা কমিটি। 'কাঠিরা আদর্শ বিদ্যানিকেতন' প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কাঠিরা চক্ষু হাসপাতাল, কাঠিরা বাজার ও স্থানীয় দুর্গা মন্দির প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

দালালমুক্ত সমাজ ও নিরাপদ জীবন গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে র‌্যালি শেষে কাঠিরা আদর্শ বিদ্যানিকেতনের দোতলার রুমে শিক্ষার্থী, শিশু ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার মূল প্রতিপাদ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, "মানব পাচার একটি জঘন্য অপরাধ। সচেতন হই, প্রতিবাদ করি, প্রতিরোধ গড়ে তুলি। দালালদের কুচক্র থেকে দূরে থাকি এবং একটি দালালমুক্ত সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলি।"

মানব পাচার প্রতিরোধে বক্তাদের মূল বার্তা ও দিকনির্দেশনা আলোচনা সভায় বক্তারা মানব পাচার রোধে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জোর দেন।

প্রলোভনে পা না দেওয়া: বিদেশে উচ্চবেতনের চাকরির প্রলোভনে না পড়ে সঠিক তথ্য যাচাই করা এবং নামমাত্র খরচের কথা চিন্তা না করা।

নিবন্ধিত এজেন্সির সহায়তা নেওয়া: অবৈধ পথ বা দালালদের মাধ্যম এড়িয়ে কেবল সরকারি ও বৈধ নিবন্ধিত সংস্থার মাধ্যমে বিদেশ যাত্রা করা।

শিশু ও নারী সুরক্ষায় সচেতনতা: কোমলমতি শিশু ও নারীদের প্রতি নজর রাখা এবং অপরিচিত কারও প্রলোভনে যেন তারা না পড়ে সে বিষয়ে সজাগ থাকা।

তাৎক্ষণিক আইনি সাহায্য: সন্দেহভাজন কোনো পাচারকারী বা দালালের খবর পেলে সাথে সাথে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) অবহিত করা। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা ও অতিথিবৃন্দ 'ইসিসিআর' (ইসিসিআর) প্রজেক্টের প্রজেক্ট অফিসার যিহিস্কেল ইজারাদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এফডিসিএস (এফডিসিএস) প্রজেক্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিবেশ রক্ষায় আমতলীতে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ পি.এম


পরিবেশ রক্ষায় আমতলীতে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ

আমতলীতে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। এফএনএস (মোঃ আব্দুল মোতালিব; তালতলী, বরগুনা) : | প্রকাশ: ৩০ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা, সবুজায়ন বৃদ্ধি করা এবং সরকারি দপ্তরের সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে বরগুনার আমতলীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও আমতলী থানা প্রাঙ্গণে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা উপহার দেয়। সামাজিক সংগঠন পিপলস ভয়েস অব আমতলী (পিভিএ) ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস-এর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার এ চারাগাছ বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী এবং আমতলী থানার পক্ষে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন চারাগাছগুলো গ্রহণ করেন।

এ উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন পিভিএ-এর এডমিন ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জোসেফ মাহতাব, আমতলী প্রেসক্লাবের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও পিভিএ এডমিন মহসিন মাতুব্বর। বরগুনা বনবিভাগের আমতলী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এএফপিসি) ও পটুয়াখালী উপকূলীয় বনবিভাগের প্রতিনিধি মো. মনিরুল হক এবং এনএসএস-এর ক্লাইমেট চেঞ্জ ও ডিআরএফ ফোকাল পারসন তাজমেরী জাহান লিখনও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ নাগরিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করাসহ সবুজায়ন সম্প্রসারণে সামাজিক উদ্যোগের কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সর্বত্র পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কার্যক্রম ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। উপস্থিত ব্যক্তি গণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নান্দনিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পিভিএ ও এনএসএস-এর এই উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি নেত্রীর জমি দখল করে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৬ পি.এম


বিএনপি নেত্রীর জমি দখল করে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদীতে এক নারী নেত্রীর পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক ইট সলিং রাস্তা নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগটি রয়েছে সংরক্ষিত ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়কের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত আব্দুল হক সরদারের মেয়ে পদবিহীন বিএনপি নেত্রী রেবেকা সুলতানা রিয়া বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযোগ করে বলেন, আমার পৈত্রিক পুকুর পাড় দিয়ে প্রতিবেশি ছত্তার ফকিরের দোকান পর্যন্ত ১২ টি পরিবারের লোকজন চলাচল করেন। এতে আমরা কখনো বাঁধা দেইনি। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের পরিবারকে না জানিয়ে আমাদের পুকুর পাড় দখল করে জোরপূর্বক সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে ইট সলিং রাস্তা নির্মানের কাজ শুরু করেন বাটাজোর ইউনিয়নের সংরক্ষিত সদস্য পারভীন বেগম এবং ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আজাদ প্যাদা। তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে জানালে তারা নির্মান কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। কিন্তু তাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে ইউপি সদস্য পারভীন এবং আজাদ প্যাদা রাস্তা নির্মান কাজ অব্যাহত রেখেছেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পর তারা নির্মান কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, যেখান থেকে রাস্তা নেওয়া হচ্ছে তার পাশেই যাদের জন্য রাস্তা নেওয়া হচ্ছে তাদের জমি রয়েছে। এজন্য উভয়পক্ষের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি। কিন্তু আজাদ প্যাদা চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য আমার প্রতিবেশীদের বাড়িতে ভোটার বেশি হওয়ায় তাদের খুশি করার জন্য পুরো রাস্তা আমাদের জমির ওপর দিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে আমাদের পরিবারের কমপক্ষে আট শতক জমি বিনষ্ট হবে। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন বাটাজোর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মো. আজাদ প্যাদা। তিনি বলেন, ওই রাস্তার আমি ঠিকাদার কিংবা বাস্তবায়নকারী কোনটাই নই। তবে রাস্তাটি একশ’ বছরের পুরনো। এজন্য রাস্তাটি যাতে ইট সলিং হয় সেই জন্য আমি সুপারিশ করেছি। বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য এবং রাস্তা নির্মানের প্রকল্প সভাপতি পারভীন বেগম এ ব্যাপারে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম বলেন, আপাতত নির্মান কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%