বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৪৮ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে গেছে। এর ফলে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় অধিকাংশ প্রধান সড়কই এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উপজেলা শহরের ডাকবাংলা সড়ক, টেম্পু স্ট্যান্ড সড়ক, উপজেলা পরিষদ সড়ক এবং উজিয়ালখান বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন এসব সড়ক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রিকশা, অটোরিকশা, ট্রাক, মোটরসাইকেল এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের যানবাহন চলাচল করছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং বর্ষার পানিতে পিচ ঢালাই উঠে গর্তগুলো দিন দিন আরও বড় আকার ধারণ করছে। ইতোমধ্যে এসব সড়কে ছোট-বড় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভোগান্তির কথা জানিয়ে অটোরিকশা চালক মোঃ লিটন বলেন, "প্রতিদিন এই রাস্তায় যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় গর্তে চাকা পড়ে গাড়ির ক্ষতি হয়, আবার যাত্রীরাও ঝুঁকিতে থাকেন। দ্রুত সংস্কার না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।"
পথচারী কামাল হোসেন ও স্থানীয় স্কুল ছাত্রী ফেরদৌসি জাহান জানান, হেঁটে চলাচল করাও এখন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে থাকে, ফলে সড়ক ও গর্তের পার্থক্য বোঝা যায় না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নারী, শিশু ও প্রবীণ নাগরিকরা। যোগাযোগ করা হলে কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী শেখ ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল বলেন, "সড়কগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত অংশের তথ্য ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। তবে আপাতত জনগণের ভোগান্তি কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"
জনদুর্ভোগ ও সড়ক পরিস্থিতির সার্বিক বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, "উপজেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর বেহাল দশায় সাধারণ মানুষের যে ভোগান্তি হচ্ছে, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ সচেতন। স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তরকে ইতোমধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থায়ী সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের চিঠি পাঠানো হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা সড়কগুলোর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ শুরু করতে পারব। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সড়কগুলো সংস্কার করে স্বাভাবিক চলাচলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী, চালক ও সাধারণ পথচারীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সচেতনতামূলক একটি র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ জুলাই সকাল ১০ টায় আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা 'ওয়ার্ল্ড কনসার্ন বাংলাদেশ'-এর সহযোগিতায় এবং 'ইন্টারঅ্যাক্ট'-এর অর্থায়নে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গৈলা ও বাকাল ইউনিয়ন সামাজিক সুরক্ষা কমিটি। 'কাঠিরা আদর্শ বিদ্যানিকেতন' প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি কাঠিরা চক্ষু হাসপাতাল, কাঠিরা বাজার ও স্থানীয় দুর্গা মন্দির প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
দালালমুক্ত সমাজ ও নিরাপদ জীবন গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে র্যালি শেষে কাঠিরা আদর্শ বিদ্যানিকেতনের দোতলার রুমে শিক্ষার্থী, শিশু ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার মূল প্রতিপাদ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, "মানব পাচার একটি জঘন্য অপরাধ। সচেতন হই, প্রতিবাদ করি, প্রতিরোধ গড়ে তুলি। দালালদের কুচক্র থেকে দূরে থাকি এবং একটি দালালমুক্ত সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলি।"
মানব পাচার প্রতিরোধে বক্তাদের মূল বার্তা ও দিকনির্দেশনা আলোচনা সভায় বক্তারা মানব পাচার রোধে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জোর দেন।
প্রলোভনে পা না দেওয়া: বিদেশে উচ্চবেতনের চাকরির প্রলোভনে না পড়ে সঠিক তথ্য যাচাই করা এবং নামমাত্র খরচের কথা চিন্তা না করা।
নিবন্ধিত এজেন্সির সহায়তা নেওয়া: অবৈধ পথ বা দালালদের মাধ্যম এড়িয়ে কেবল সরকারি ও বৈধ নিবন্ধিত সংস্থার মাধ্যমে বিদেশ যাত্রা করা।
শিশু ও নারী সুরক্ষায় সচেতনতা: কোমলমতি শিশু ও নারীদের প্রতি নজর রাখা এবং অপরিচিত কারও প্রলোভনে যেন তারা না পড়ে সে বিষয়ে সজাগ থাকা।
তাৎক্ষণিক আইনি সাহায্য: সন্দেহভাজন কোনো পাচারকারী বা দালালের খবর পেলে সাথে সাথে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) অবহিত করা। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা ও অতিথিবৃন্দ 'ইসিসিআর' (ইসিসিআর) প্রজেক্টের প্রজেক্ট অফিসার যিহিস্কেল ইজারাদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এফডিসিএস (এফডিসিএস) প্রজেক্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আমতলীতে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। এফএনএস (মোঃ আব্দুল মোতালিব; তালতলী, বরগুনা) : | প্রকাশ: ৩০ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা, সবুজায়ন বৃদ্ধি করা এবং সরকারি দপ্তরের সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে বরগুনার আমতলীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও আমতলী থানা প্রাঙ্গণে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা উপহার দেয়। সামাজিক সংগঠন পিপলস ভয়েস অব আমতলী (পিভিএ) ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস-এর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার এ চারাগাছ বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী এবং আমতলী থানার পক্ষে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন চারাগাছগুলো গ্রহণ করেন।
এ উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন পিভিএ-এর এডমিন ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জোসেফ মাহতাব, আমতলী প্রেসক্লাবের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও পিভিএ এডমিন মহসিন মাতুব্বর। বরগুনা বনবিভাগের আমতলী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এএফপিসি) ও পটুয়াখালী উপকূলীয় বনবিভাগের প্রতিনিধি মো. মনিরুল হক এবং এনএসএস-এর ক্লাইমেট চেঞ্জ ও ডিআরএফ ফোকাল পারসন তাজমেরী জাহান লিখনও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ নাগরিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করাসহ সবুজায়ন সম্প্রসারণে সামাজিক উদ্যোগের কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সর্বত্র পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কার্যক্রম ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। উপস্থিত ব্যক্তি গণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নান্দনিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পিভিএ ও এনএসএস-এর এই উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের গৌরনদীতে এক নারী নেত্রীর পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক ইট সলিং রাস্তা নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগটি রয়েছে সংরক্ষিত ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়কের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত আব্দুল হক সরদারের মেয়ে পদবিহীন বিএনপি নেত্রী রেবেকা সুলতানা রিয়া বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযোগ করে বলেন, আমার পৈত্রিক পুকুর পাড় দিয়ে প্রতিবেশি ছত্তার ফকিরের দোকান পর্যন্ত ১২ টি পরিবারের লোকজন চলাচল করেন। এতে আমরা কখনো বাঁধা দেইনি। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের পরিবারকে না জানিয়ে আমাদের পুকুর পাড় দখল করে জোরপূর্বক সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে ইট সলিং রাস্তা নির্মানের কাজ শুরু করেন বাটাজোর ইউনিয়নের সংরক্ষিত সদস্য পারভীন বেগম এবং ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আজাদ প্যাদা। তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে জানালে তারা নির্মান কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। কিন্তু তাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে ইউপি সদস্য পারভীন এবং আজাদ প্যাদা রাস্তা নির্মান কাজ অব্যাহত রেখেছেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পর তারা নির্মান কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, যেখান থেকে রাস্তা নেওয়া হচ্ছে তার পাশেই যাদের জন্য রাস্তা নেওয়া হচ্ছে তাদের জমি রয়েছে। এজন্য উভয়পক্ষের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি। কিন্তু আজাদ প্যাদা চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য আমার প্রতিবেশীদের বাড়িতে ভোটার বেশি হওয়ায় তাদের খুশি করার জন্য পুরো রাস্তা আমাদের জমির ওপর দিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে আমাদের পরিবারের কমপক্ষে আট শতক জমি বিনষ্ট হবে। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন বাটাজোর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মো. আজাদ প্যাদা। তিনি বলেন, ওই রাস্তার আমি ঠিকাদার কিংবা বাস্তবায়নকারী কোনটাই নই। তবে রাস্তাটি একশ’ বছরের পুরনো। এজন্য রাস্তাটি যাতে ইট সলিং হয় সেই জন্য আমি সুপারিশ করেছি। বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য এবং রাস্তা নির্মানের প্রকল্প সভাপতি পারভীন বেগম এ ব্যাপারে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম বলেন, আপাতত নির্মান কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৬৪৭ কোটি ৫৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩০৯ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে। এই বাজেট নতুন কোনও কর বৃদ্ধি ছাড়াই করা হয়েছে। বাজেটে নগর উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নারী ও শিশু কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, এবং ডিজিটাল নাগরিক সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে নগর ভবনে বাজেট ঘোষণার সময় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন যে, সীমিত রাজস্ব আয়ের মধ্যেও নাগরিক সেবার মান বাড়াতে কর বৃদ্ধি না করেই এ বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, "ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিকল্পিত, সবুজ, পরিচ্ছন্ন, নারী ও শিশুবান্ধব স্মার্ট মহানগরী গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।" ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট ছিল ৫২০ কোটি ৮৬ লাখ ১৬ হাজার ৯২৮ টাকা, আর সংশোধিত বাজেট দাঁড়িয়েছে ৪৬২ কোটি ৮৬ লাখ ২২ হাজার ৮৩৭ টাকা।
বাজেটের মধ্যে নগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জেলখাল, আমানতগঞ্জ, সাগরদী ও লাকুটিয়া খাল পুনঃখনন এবং খালের পাড় সংরক্ষণ করার জন্য ৭৬৯ কোটি ৪০ লাখ টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান আশা করা হচ্ছে। তাই একই সঙ্গে কীর্তনখোলা নদীর পশ্চিম তীরে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ৫৩৩ কোটি টাকার প্রকল্পও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের নতুন উদ্যোগের অধীনে বাজেট বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রূপাতলী সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালু হয়ে গেছে এবং বেলতলা ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালুর প্রস্তুতি চলছে। ভবিষ্যতের পানির চাহিদা পূরণের জন্য কীর্তনখোলা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবও প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নতুন পাইপলাইন স্থাপন অব্যাহত রয়েছে। গত অর্থবছরে ১ হাজার ৬৪টি নতুন পানির সংযোগ অনুমোদন করা হয়েছে। নাগরিকদের জন্য নতুন পানি সংযোগের আবেদন থেকে অনুমোদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া এখন অনলাইনে চালু করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে নগরীতে পানির এটিএম বুথ স্থাপনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির উপর গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে যে প্রতিদিন সিটি কর্পোরেশন প্রায় ২০০ টন বর্জ্য অপসারণ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটাও তুলে ধরা হয় যে, গত ঈদুল আজহায় মাত্র ৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে, যা সরকারের নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার চেয়ে কম সময়।
নারী, শিশু ও সামাজিক সুরক্ষায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে নারীদের জন্য আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ মার্কেট, অসচ্ছল নারীদের আইনি সহায়তা, এবং কর্মজীবী নারীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। শিশুদের জন্য গ্রীন সিটি পার্ক সংস্কার, নতুন রাইড স্থাপন, খেলাধুলার সরঞ্জাম ক্রয়, এবং বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনের জন্যও বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী অর্থবছরে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনে নতুন ফোয়ারা, পার্ক উন্নয়ন, আলোকসজ্জা, এবং "সবার আগে বাংলাদেশ" নামে মানচিত্র ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়গুলিও বাজেটে উঠে এসেছে।
ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কর আদায়, ট্রেড লাইসেন্স, ভবনের নকশা অনুমোদন, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবাকে অনলাইনে নিয়ে আসার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসকের মতে, এতে সেবার গতি বৃদ্ধি পাবে এবং হয়রানি কমবে।
সড়ক, ড্রেন ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দায়িত্ব গ্রহণের পর ৪২ কিলোমিটার বিটুমিনাস কার্পেটিং সড়ক, ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার আরসিসি সড়ক, ৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার সিসি সড়ক, এবং ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের তথ্যও বাজেটে তুলে ধরা হয়েছে। নগরীর আলোকায়নে প্রায় ২৪ কোটি ৭৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে যা অনুমোদন পেলে ১৬ হাজারের বেশি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ২০ হাজারের বেশি নতুন সড়কবাতি স্থাপন করা হবে।
স্বাস্থ্য ও টিকাদান কর্মসূচির আওতায় গত অর্থবছরে ১০ হাজার ৪৭৯ জন নারী ও শিশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়েছে। হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে ৪৩ হাজার ৮৫০ জন, এবং ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৫৮ হাজার ৫৫৭ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে নগরীর তিনটি জোনে নারী ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
সাংবাদিকদের জন্য বরাদ্দের মধ্যে সাবেক প্রেসক্লাব ও বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির ভবন সংস্কারের জন্যও ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অবশেষে, বাজেট বক্তব্যের শেষের দিকে প্রশাসক উল্লেখ করেন যে, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান উন্নত করবে। তিনি নগরবাসী, সাংবাদিক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, "কর বৃদ্ধি না করেও নগরবাসী আগের চেয়ে আরও বেশি নাগরিক সুবিধা পাবেন। আমরা সবাই মিলে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্মার্ট বরিশাল গড়ে তুলতে চাই।" উল্লেখ্য, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের এটি ২৪ তম বাজেট। বাজেট ঘোষণার সময়ে নগরীর গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ