শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৪ পি.এম
সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিলো 'Empowering Pharmacists to Power Healthcare Futures'।
রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগে এই দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে একটি আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন।
বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের উদযাপন উপলক্ষে কেক কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয় এবং উপস্থিত অতিথিরা দিবসটির উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানিয়া আহমেদ তন্বী দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, 'প্রতি বছর ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালন করা হয় এবারের প্রতিপাদ্যে পরিবেশের বার্তা দেয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফার্মাসিস্টদের ক্ষমতায়নের জন্য জরুরি মাত্র ইন্ডাস্ট্রি বেসড না থাকা, হসপিটাল এবং কমিউনিটি ফার্মাসিস্টদের শক্তিশালী করা তাহলেই যেই এন্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্স বা ড্রাগ ইরেশনাল ইউজ বন্ধ করা সম্ভব। স্বাস্থ্যখাতে উন্নতির জন্য ফার্মাসিস্টদের ক্ষমতায়ন জরুরি।'
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন বলেন, 'বাংলাদেশে নিরাপদ ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার এবং অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে ফার্মাসিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কমিউনিটি ও হাসপাতাল—উভয় ক্ষেত্রেই রোগীকে সঠিক পরামর্শ ও ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য।'
ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ফারজানা পারুল ভবিষ্যৎ ফার্মাসিস্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'তোমরাই আগামী দিনের দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল ফার্মাসিস্ট। তাই শুধু ভালো পেশাজীবী নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও নিজেদের গড়ে তোলো। আসুন, জ্ঞান, নৈতিকতা ও সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করি।'
এসময় অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফুয়াদ হোসেন, ছাত্র উপদেষ্টা সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহ আলম এবং ফার্মেসি বিভাগের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাই বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত 'নাছির কারখানা' নামে একটি ক্যামিক্যাল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা বিকট শব্দের সাথে সংঘটিত হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ওয়্যারলেস এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এ বিষয়ে জানা গেছে যে, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে। কারখানায় কেমিক্যাল থাকার কারণে সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ আগুন সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন সার্ভিসের কর্মকর্তা হ্লা মারমা জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।
এদিকে, কারখানায় আগুন লাগার পর থেকে নাছির কারখানার কর্মকর্তারা গা ঢাকা দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্য এবং তিন মুসলিম প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক অংশীদার তুরস্ক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের প্রশংসা করেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক্সে প্রকাশিত একটি পোস্টে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি এই তিন মুসলিম দেশের পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট জানান, ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরু হওয়ার পর ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করার জন্য বিশ্বজুড়ে মার্কিন কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছিল। এই আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা এখন ইতিবাচক ফলাফল দিতে শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে তুরস্ক ও ওমান তাদের আকাশসীমায় ইরানি বিমান সংস্থা ‘মাহান এয়ার’-এর ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সব এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, এই দেশগুলোর শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ইরানের সঙ্গে সকল লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে।
স্কট বেসেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক এই সহযোগিতার জন্য চার দেশের সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের কৃতজ্ঞতা রয়েছে। তবে, তেহরান যাতে তাদের উগ্রপন্থী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন চালিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে এই ঘটনা সংঘটিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা স্টুডিওতে প্রবেশ করে সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও রুমের অন্যান্য সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। একইসঙ্গে স্টুডিওর বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে তছনছ করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে সালমান মুক্তাদির জানান, "চাঁদার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হামলা হয়েছে।" হামলা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ডিউটি অফিসার আহসান হাবিব জানান, এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন মামুন ও আসলাম।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, "ইসিবি চত্বরে একটি অফিসে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।" ঘটনাস্থল থেকে ছোরাসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাপানে একটি দীর্ঘকালীন সামাজিক ও আইনি প্রথা বিদ্যমান, যেখানে মেয়ের স্বামীকে দত্তক নিয়ে পরিবারের ছেলে ও উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এই প্রথার নাম ‘মুকোয়োশি’, যা বাংলায় ‘দত্তক ঘরজামাই’ হিসেবে পরিচিত।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দত্তক নেওয়ার মাধ্যমে শিশুকে নতুন পরিবারে বড় করে তোলার ধারণা প্রচলিত। কিন্তু জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের দত্তক নেওয়ার রীতি বেশ সাধারণ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটির মোট দত্তকের ৯০ শতাংশের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে নিয়ে গঠিত।
সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের এভাবে পরিবারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এর পিছনে শুধুমাত্র পারিবারিক আবেগ নয়, বরং ভবিষ্যতের হিসাব-নিকাশও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
জাপানে অনেক পুরনো ব্যবসা এখনও পারিবারিক মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে। কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে কিংবা পরিবারের নিজ সন্তানকে ব্যবসার উত্তরসূরি হিসেবে উপযুক্ত মনে না হলে তারা একজন যোগ্য পুরুষকে দত্তক নিতে পারে।
যদি সেই ব্যক্তি মেয়ের স্বামী হন, তাহলে বিষয়টি আরও সহজ হয়ে যায়। বিয়ের পর তাকে দত্তক নেওয়া হলে তিনি শ্বশুরবাড়ির পদবি গ্রহণ করেন। ধীরে ধীরে পরিবারের ব্যবসা, সম্পদ এবং উত্তরাধিকারও তার হাতে চলে আসতে পারে।
অর্থাৎ, সম্পর্কটি শুধুমাত্র ‘জামাই’তে সীমাবদ্ধ থাকে না। তিনি পরিবারের একজন সদস্য হয়ে ওঠেন—অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী কর্তা।
‘মুকোয়োশি’র পেছনে অন্যতম প্রধান বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। পরিবারের পদবি যেন হারিয়ে না যায়, ব্যবসার নেতৃত্ব যেন পরিবারের বাইরে চলে না যায় এবং বহু বছরের প্রতিষ্ঠান যেন পরবর্তী প্রজন্মেও টিকে থাকে—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে ধরে রাখার পথ হিসেবেই প্রথাটি ব্যবহৃত হয়েছে।
জাপানি সমাজে ঐতিহ্যগতভাবে বিয়ের পর স্ত্রী স্বামীর পদবি গ্রহণ করেন। ফলে কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে পরিবারের পদবি টিকিয়ে রাখার প্রশ্ন দেখা দেয়। মেয়ের স্বামীকে দত্তক নিয়ে তাকে পরিবারের পদবি দেওয়ার মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান করা হয়।
এভাবে একজন জামাই একই সঙ্গে হয়ে ওঠেন পরিবারের ছেলে, ব্যবসার উত্তরসূরি এবং বংশের নাম বহনকারী।
জাপানের বড় ব্যবসার ইতিহাসে ‘মুকোয়োশি’র প্রভাব রয়েছে। সুজুকি মোটর করপোরেশনের নেতৃত্বে একাধিকবার দত্তক পুত্রের আগমন ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের প্রধান ওসামু সুজুকিও ছিলেন এই প্রথায় পরিবারে আসা একজন দত্তক ঘরজামাই।
নিনটেনডো, কিক্কোমান ও টয়োটার মতো জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার সম্পর্ক দেখা গেছে।
ফলে, জাপানের কিছু বিখ্যাত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক ধারাবাহিকতার পেছনে রয়েছে এই অদ্ভুত অথচ কার্যকর সামাজিক রীতি।
‘মুকোয়োশি’র ব্যবহার ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উত্তরাধিকার পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও প্রাপ্তবয়স্ক কাউকে দত্তক নেওয়ার ঘটনা রয়েছে। বিশেষ করে নিঃসন্তান দম্পতিরা ভবিষ্যতে সম্পদ কার হাতে যাবে, সেটি নিশ্চিত করতে এই পথ বেছে নিতে পারেন।
দত্তক প্রক্রিয়াটি জাপানের সরকারি পারিবারিক নথি ‘কোসেকি’-তে নিবন্ধিত হয়। দত্তক সম্পন্ন হওয়ার পর ওই ব্যক্তি নতুন পরিবারের পদবি গ্রহণ করেন এবং জন্মসন্তানের মতোই উত্তরাধিকার ও পারিবারিক দায়িত্ব পান।
তবে এর সঙ্গে দায়িত্বও আসে। পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের দেখাশোনার দায়িত্বও দত্তক নেওয়া সন্তানের ওপর বর্তাতে পারে।
প্রশ্ন উঠতে পারে, এই ব্যবস্থায় কি বিদেশিদেরও জায়গা আছে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দত্তক হতে পারেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
অর্থাৎ, কোনো বাংলাদেশি ব্যক্তি শর্ত পূরণ করলে জাপানি পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক সন্তান হতে পারেন। তবে দত্তক হলেই জাপানের নাগরিকত্ব বা ভিসা পাওয়া যায় না। সেগুলোর জন্য আলাদা আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।
জন্মহার কমছে, গুরুত্ব বাড়ছে উত্তরাধিকারীর। আধুনিক জাপানে জন্মহার কমে যাওয়ার সঙ্গে এই প্রথার গুরুত্বের একটি নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে। অনেক পারিবারিক ব্যবসার মালিকের সন্তান থাকলেও ছেলে নেই। আবার নিজের সন্তান ব্যবসা পরিচালনায় আগ্রহী বা উপযুক্ত না-ও হতে পারেন।
তখন পরিবারের সামনে প্রশ্ন ওঠে—শত বছরের ব্যবসা কে চালাবে? উত্তর খুঁজতে গিয়ে কোনো কোনো পরিবার পুত্রসন্তান জন্মের অপেক্ষায় না থেকে একজন উপযুক্ত ‘জামাই’কেই বেছে নেয়। এমনকি উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে দেওয়ার জন্য জাপানে বিশেষ ম্যাচমেকিং সেবারও অস্তিত্ব রয়েছে।
এ নিয়ে জাপানে একটি প্রচলিত কথাও আছে—‘ছেলে তুমি বেছে নিতে পারো না, কিন্তু জামাই বেছে নিতে পারো।’
তবে সময়ের সঙ্গে ‘মুকোয়োশি’ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আধুনিক জাপানে নারীরা ব্যবসা, রাষ্ট্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফলে শুধুমাত্র পুরুষ উত্তরাধিকারী খোঁজার পুরোনো ধারণা কতটা প্রয়োজনীয়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তারপরও প্রথাটি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। কারও কাছে এটি একজন জামাইকে পরিবারের ছেলে করে নেওয়ার গল্প। কারও কাছে এটি শত বছরের ব্যবসাকে বাঁচিয়ে রাখার কৌশল। আবার কারও কাছে পরিবারের পদবি, সম্পদ ও উত্তরাধিকার পরবর্তী প্রজন্মের হাতে পৌঁছে দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক ব্যবস্থা।
জাপানের ‘মুকোয়োশি’ তাই শুধু দত্তক নেওয়ার গল্প নয়। এর ভেতরে আছে বিয়ে, পরিবার, ব্যবসা, উত্তরাধিকার এবং বদলে যাওয়া সমাজের এক অদ্ভুত সহাবস্থানের গল্প।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ