প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পঞ্চগড়ে সনদ-সংক্রান্ত জটিলতা থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে অনুমোদনহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ সনদ ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠে একটি বিএম কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। কলেজটি প্রতিষ্ঠার ২২ বছর ধরে সনদ জটিলতার কারণে এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। তবে চলতি বছরের জুন মাসে অধ্যক্ষ এমপিওভুক্ত হয়েছেন একই সনদের ভিত্তিতে। এর ফলে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগটি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান উচ্চ মাধ্যমিক বিএম অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল হকের বিরুদ্ধে করা হয়েছে।
কলেজটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অধ্যক্ষ একরামুল হক এমপিওভুক্তির জন্য কয়েক দফা আবেদন করেছেন। আবেদনের সঙ্গে তিনি ঢাকার কুইন্স ইউনিভার্সিটি থেকে অর্জিত এমবিএ ডিগ্রির সনদ জমা দেন। কিন্তু ২০২০ সালের ২৬ জুলাই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ৫৭.০৩.০০০০.০২৮.১৮.০১১.১৮-৫৭৭ নম্বর স্মারকের অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, অধ্যক্ষ একরামুল হকের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই এবং তার এমবিএ সনদটি ইউজিসি অনুমোদিত নয়। একই সঙ্গে তাঁর প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ছিল না।
এমপিও নীতিমালা-১৯৯৫ অনুযায়ী, স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রভাষক পদে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষাগত সনদও যাচাইকৃত হয়নি এবং পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র ও ছাড়পত্র ছিল না। এসব কারণে ওই সময় অধ্যক্ষ একরামুল হক এমপিওভুক্ত হতে পারেননি।
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে পরবর্তীতে একই সনদের ভিত্তিতে তিনি কীভাবে এমপিওভুক্ত হলেন, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে শালবাহান উচ্চ মাধ্যমিক বিএম অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজে গিয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ একরামুল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, 'সমস্ত কাগজপত্র সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করেই অধিদপ্তর থেকে আমি এমপিওভুক্তির চিঠি পেয়েছি।'
তবে ২০২০ সালে তার এমবিএ সনদটি ইউজিসি অনুমোদিত নয় বলে উল্লেখ থাকার পরও কীভাবে তিনি এমপিওভুক্ত হলেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি দাবি করেন, 'পরে অধিদপ্তর থেকে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করা হয়েছে।' তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এমপিও) মো. খোরশেদ আলম মুঠোফোনে জানান, 'বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মন্তব্য করব।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন