ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার


প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

পাবনার সাঁথিয়ায় এক লিবিয়া প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে পুলিশের মাধ্যমে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যুবকের নাম আলিফ (২৩)। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রবাসী বাদশা আলীর স্ত্রীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে উপজেলা আতাইকুলা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর এলাকার স্থানীয় একটি বাড়ি থেকে মরদেহটির উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।

আলিফ পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন এবং তিনি রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত রইজ শেখের ছেলে ছিলেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, বাদশা দুই বছর আগে লিবিয়া যান। পরে বাদশার স্ত্রীর সঙ্গে আলিফের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে আলিফ ওই নারীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। এর পর মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে পুলিশ আলিফের মরদেহ উদ্ধার করে, যা গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জালিয়াতির অভিযোগে পঞ্চগড়ের কলেজ অধ্যক্ষকে ঘিরে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


জালিয়াতির অভিযোগে পঞ্চগড়ের কলেজ অধ্যক্ষকে ঘিরে বিতর্ক

পঞ্চগড়ে সনদ-সংক্রান্ত জটিলতা থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে অনুমোদনহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ সনদ ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠে একটি বিএম কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। কলেজটি প্রতিষ্ঠার ২২ বছর ধরে সনদ জটিলতার কারণে এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। তবে চলতি বছরের জুন মাসে অধ্যক্ষ এমপিওভুক্ত হয়েছেন একই সনদের ভিত্তিতে। এর ফলে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগটি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান উচ্চ মাধ্যমিক বিএম অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল হকের বিরুদ্ধে করা হয়েছে।

কলেজটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অধ্যক্ষ একরামুল হক এমপিওভুক্তির জন্য কয়েক দফা আবেদন করেছেন। আবেদনের সঙ্গে তিনি ঢাকার কুইন্স ইউনিভার্সিটি থেকে অর্জিত এমবিএ ডিগ্রির সনদ জমা দেন। কিন্তু ২০২০ সালের ২৬ জুলাই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ৫৭.০৩.০০০০.০২৮.১৮.০১১.১৮-৫৭৭ নম্বর স্মারকের অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, অধ্যক্ষ একরামুল হকের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই এবং তার এমবিএ সনদটি ইউজিসি অনুমোদিত নয়। একই সঙ্গে তাঁর প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ছিল না।

এমপিও নীতিমালা-১৯৯৫ অনুযায়ী, স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রভাষক পদে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষাগত সনদও যাচাইকৃত হয়নি এবং পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র ও ছাড়পত্র ছিল না। এসব কারণে ওই সময় অধ্যক্ষ একরামুল হক এমপিওভুক্ত হতে পারেননি।

কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে পরবর্তীতে একই সনদের ভিত্তিতে তিনি কীভাবে এমপিওভুক্ত হলেন, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে শালবাহান উচ্চ মাধ্যমিক বিএম অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজে গিয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ একরামুল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, 'সমস্ত কাগজপত্র সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করেই অধিদপ্তর থেকে আমি এমপিওভুক্তির চিঠি পেয়েছি।'

তবে ২০২০ সালে তার এমবিএ সনদটি ইউজিসি অনুমোদিত নয় বলে উল্লেখ থাকার পরও কীভাবে তিনি এমপিওভুক্ত হলেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি দাবি করেন, 'পরে অধিদপ্তর থেকে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করা হয়েছে।' তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এমপিও) মো. খোরশেদ আলম মুঠোফোনে জানান, 'বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মন্তব্য করব।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর হাত ধরে শুরু হলো জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৮ পি.এম


ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর হাত ধরে শুরু হলো জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা

প্রতিভা অন্বেষণমূলক মেগা ইভেন্ট ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে এই জাতীয় পর্বের উদ্বোধন করেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মিরপুরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সুইমিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব আমেনা বেগম, অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খান এবং সুইমিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে গত ২ মে সিলেট থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল। উপজেলা ও জেলা পর্যায় পেরিয়ে সফলভাবে বিভাগীয় ধাপ শেষ করে এখন জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে দল-মত নির্বিশেষে পুরো জাতিকে এক সুতোয় গাঁথা যায়। দেশের জার্সিতে মাঠে নামলে সবাই কেবল বাংলাদেশি পরিচয়ে পরিচিত হন। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, এই উদ্দীপনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাগুলোকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৮টি ইভেন্ট দিয়ে খেলা শুরু হলেও নতুন করে ভলিবল ও টেবিল টেনিস যুক্ত হয়ে মোট ইভেন্টের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১০টিতে। প্রথম আসর শেষ হওয়ার আগে থেকে পহেলা জুলাই থেকে দ্বিতীয় আসরের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন কোনো বিভাগীয় শহর থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি সাপেক্ষে দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

এছাড়া দেশের ৪,৫৮৯টি ইউনিয়ন ও ৫০৩টি উপজেলা পর্যায় থেকে দল গঠন করে এই প্রতিযোগিতা বছরব্যাপী চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমান প্রজন্মকে মুঠোফোনের আসক্তি এবং মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বাবা-মা চান তাদের সন্তান সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠুক। আর সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

জাতীয় পর্যায় এবং বিভিন্ন ইভেন্ট থেকে যেসব খুদে ক্রীড়াবিদ অসাধারণ নৈপুণ্য দেখাবে, তাদের চিহ্নিত করে বিকেএসপিতে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে। তাদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার যাবতীয় দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাঁতার প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতিযোগীতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

আগামী ২৭ জুলাই বিকেল ৪ টায় আর্মি স্টেডিয়ামে এই প্রতিযোগিতার বর্ণাঢ্য সমাপনী ও সেরা ক্রীড়াবিদদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে

৯ম আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে (আইইও) উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। অর্থনীতি, ফাইন্যান্স ও বিজনেস কেসভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় ৫৭টি দেশের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

চীনের শেনঝেন শহরে অনুষ্ঠিত এই আসরে বাংলাদেশ দলের সদস্য ফারাবিদ বিন ফয়সাল ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। তিনি ঢাকার মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের (ধানমন্ডি শাখা) শিক্ষার্থী।

এদিকে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘আইইও ইয়ুথ টক’-এ বাংলাদেশ দল প্রথম স্থান অর্জন করে গ্লোবাল চ্যাম্পিয়নের স্বীকৃতি পেয়েছেন জাইফ বিন মোরশেদ।

যোগাযোগ দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি এবং নেতৃত্বের সক্ষমতার ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তার এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য নতুন গৌরব বয়ে এনেছে। জাইফ ঢাকার মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের (গুলশান শাখা) শিক্ষার্থী।

এছাড়া অর্থনীতি শিক্ষায় ধারাবাহিক অবদান, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ এবং সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডকে (বিডিইও) ‘স্পেশাল ইন্টারন্যাশনাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি শিক্ষায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কারকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ দলের অন্য সদস্যরা হলেন ফারিহা তাসনিম (মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গুলশান), প্রান্ত ঘোষ (মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, ধানমন্ডি) এবং ফাইয়াদ সালেহীন আহমেদ (স্কলাস্টিকা, দ্বাদশ শ্রেণি)।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই আন্তর্জাতিক সাফল্য বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অর্থনীতি, ফাইন্যান্স ও নেতৃত্বের দক্ষতার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে দেশের সম্ভাবনাকেও নতুনভাবে তুলে ধরেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ১৬টি নৌকা, দৃশ্যপট বদলাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ১৬টি নৌকা, দৃশ্যপট বদলাবে

সুনামগঞ্জ হাওরবেষ্টিত একটি জনপদ। এই জনপদটি সিলেট বিভাগের মধ্যে অবস্থিত সংসদীয়-১ আসন (জামালগঞ্জ- তাহিরপুর- ধর্মপাশা-মধ্যনগর)। অঞ্চলের জনগণ হাওরপাড়ের জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। এখানে অধিকাংশ লোক কৃষিকাজ এবং মৎস্য চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। সুতরাং, এই আসনটি রামসার সাইট খ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওরসহ অনেক নৈসর্গিক স্থানের জন্য পরিচিত, এর মধ্যে রয়েছে যাদুকাটা, ফাজিলপুর, বালুপাথর মহাল এবং বড়ছড়া কয়লা পাথর কোয়ারি। এ কারণে, এই সংসদীয় আসন থেকে সরকারের জন্য বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে।

সুনামগঞ্জ-১ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে বর্ষা মৌসুমে ৬ মাস পর্যন্ত বর্ষা এবং পরবর্তী ৬ মাস হেমন্তকাল থাকে। বর্ষা মৌসুমে নিম্নাঞ্চল এলাকার অনেক বিদ্যালয় পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে, যাতায়াত ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলে বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এই অবস্থায়, বিদ্যালয়ের যাতায়াত ব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার দাবি স্থানীয় জনগণের মনে চলমান একটি উচ্চারণ।

জেলার হাওরের জীবন মানেই প্রকৃতির সঙ্গে এবং ঋতুর সঙ্গে লড়াই। বর্ষা এলে সড়কগুলো পানির নিচে হারিয়ে যায় এবং গ্রামের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর জন্য জলপথে চলাচল করে। এই জলপথ শিশুর জন্য হয়ে দাঁড়ায় এক অনিশ্চিত যাত্রা। কখনও কখনও এটি শিক্ষাজীবনের জন্য মারাত্মক বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতায়, মধ্যনগর উপজেলায় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মানবিক এবং সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাওরাঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র হাতিয়া নৌকা। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই, হাওরের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের লক্ষ্যে একটি বিজয়ী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে, বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিরাপদ হয়ে উঠবে এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে এই উদ্যোগ সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা মনে করেন যে, এটি শিশুদের বিদ্যালয়ে যেতে আরও উৎসাহিত করবে এবং বর্ষাকালে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে দেবে। তারা ভবিষ্যতে হাওরাঞ্চলের অন্যান্য বিদ্যালয়গুলোকে এ ধরনের সুবিধার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

হাওরপাড়ের শিক্ষার মান উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে, বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত আরও সহজ এবং নিরাপদ করার জন্য সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের উদ্যোগে মধ্যনগর উপজেলার ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৌকার বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার বরাদ্দ থেকে এসব নৌকা প্রস্তুত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়েছে।

জানা গেছে যে, সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের বরাদ্দের অর্থে খালিশাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশিদ আলমকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির মাধ্যমে ১৬টি নৌকা তৈরি করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে হাওরপাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং বিদ্যালয়ের উপস্থিতি বাড়বে।

মধ্যনগর উপজেলার শালীয়ানী, জামালপুর, কামাউড়া, খালিশাকান্দা, গলইখালী, ইটাউরি, দুগনই, বলরামপুর, মাছুয়াকান্দা, দৌলতপুর, দোয়াদুর রহমান, আলীপুর, সাতুর, বীরসিংহপাড়া, চাপাইতি এবং আটাইশা মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পুলিশিভাবে নৌকাগুলি পেয়েছে।

মধ্যনগরের বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, বর্ষা মৌসুমে বেশিরভাগ সময় বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এই উদ্যোগের ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়বে বলে আমি ধারণা করি।

মধ্যনগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে উপজেলার ৮৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৪৫টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এর আগে সংসদ সদস্য এক বিদ্যালয়ে নৌকা দিয়েছিলেন। এবার তিনি আরও ১৬টি বিদ্যালয়ে নৌকা দিয়েছেন। নতুন নৌকাগুলো শিক্ষার্থীদের নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন পৌঁছানোর ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি, বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হারও বৃদ্ধি পাবে।

প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি রমা রঞ্জন সরকার বলেন, বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে অনেক কষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু যদি এসে ছাত্র না পাওয়া যায় তখন তো মন ভেঙে যায়। এই উদ্যোগটি সত্যিই সময়োপযোগী। এতে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরাও বেশ আনন্দিত।

খালিশাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশিদ আলম বলেন, নৌকাপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলোর ছাত্র-ছাত্রীরা এখন সাচ্ছন্দ্যে বিদ্যালয়ে আসতে পারবে।

সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, আমি নিজে হাওরপাড়ের সন্তান। হাওরাঞ্চলে শিক্ষার প্রসারে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। বর্ষাকালে অনেক শিক্ষার্থী নৌকার অভাবে বিদ্যালয়ে যেতে অক্ষম। সেই কারণে, যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নৌকায় পারাপার করতে হয়, সেই সব বিদ্যালয়ে নৌকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এই সময়পরিষরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিদ্যালয়ে নৌকার ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বাসস’কে বলেন, নৌকাগুলো শিক্ষার্থীদের নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করবে। এই উদ্যোগ হাওরাঞ্চলের জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরনের নতুনত্ব নিয়ে আসবে। ফলে শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার হার এবং বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির হার কমবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%