ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সেই রাতে কোথায় ছিলেন অভিযুক্তরা, যা বললেন সিদ্ধার্থের বাবা ও মুগ্ধর মা


সেই রাতে কোথায় ছিলেন অভিযুক্তরা, যা বললেন সিদ্ধার্থের বাবা ও মুগ্ধর মা

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী এবং তার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুণ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস খুনের রাতে নিজেদের বাড়িতে ছিলেন না। পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধার্থ ফুটবল খেলার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। অন্যদিকে, মুগ্ধও ওই রাতে বাড়িতে ছিলেন না। তবে পুলিশ বলছে, ওই রাতে তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। খুনের ঘটনার পর সেখানেই অবস্থান করেন। সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা এখন আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করার সময় পুলিশ সিদ্ধার্থকে তার চাচার বাড়ি থেকে আটক করে। একই সময়ে, মুগ্ধের বাড়িতে পুলিশ উপস্থিত হলে তিনি পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তাকে শ্মশান এলাকা থেকে আটক করা হয়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় মাছুয়াপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুরো এলাকায় থমথমে পরিবেশ ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

সিদ্ধার্থের বাড়িতে তার মা পাপড়ী রানীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধার্থ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। সে জানিয়েছিল, ফুটবল খেলতে যাবে। এবং তারপর সে পাশের বাসার বন্ধু সীমান্তের বাড়িতে ছিল বলে তিনি জানান। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সিদ্ধার্থ বাড়িতে ফেরে।

সিদ্ধার্থের বাবা কানু দাস বলেন, মুগ্ধই এক নম্বর নেশাখোর! সে সব সময় আমার ছেলেকে ডেকে ডেকে খাওয়াত। তারা দুজনে খুন করেছে, নাকি অন্য কেউ ছিল, সেই বিষয়ে তারা বলতে পারবে। আমি শুধু এটাই বলব, আমার যা সত্য জানা আছে, আমি বলে দিয়েছি। প্রশাসন ওকে গুলি করে মারুক। খারাপকে রাখার দরকার নেই। কিন্তু তারা কি দুইজনে চারজনকে খুন করতে পারে? আপনারাই বলুন। পুলিশ তো ওকে আটক করেছে, এখন আমরা আতঙ্কে আছি।

তবে সীমান্তের বাবা সুবাস দাসের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার ছেলে সীমান্ত বাড়িতে ফেরে। রাত ১২টার দিকে সিদ্ধার্থ তাদের বাড়িতে এলেও কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে যায়। সীমান্ত সেদিন রাতে বাড়িতেই ছিল, কিন্তু সিদ্ধার্থ তার সঙ্গে ছিল না।’

পুলিশ দাবি করেছে, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যাওয়ার আগে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ তারা সীমান্তের বাড়িতে ইয়াবা সেবন করেন। পরে তারা গণপতির বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন। বিষয়টি গণপতি দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়, বলেছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

মুগ্ধের বাড়িতে গিয়ে তার মা সেনা রানীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ বাড়িতে ছিলেন না। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি ছেলের ঘরে তালা দেখতে পান। পরে তালা খুলে মুগ্ধকে দেখতে পাননি। সকাল ১১টার দিকে মুগ্ধ বাড়িতে ফিরে আসে।

সেনা রানী বলেন, সকালে উঠে দেখি ঘরে তালা। তালা খুলে দেখি মুগ্ধ নেই। পরে ১১টার দিকে বাসায় এসে হাত-মুখ ধুয়ে নেয়। আমি বাজারে যেতে বললে সে বলে, আজ যাবে না।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে দোষী হলে তাকে শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত তা বের করা হোক। আমরা ভয়ে আছি। দেখা গেল যে আমরা রাস্তায় বের হচ্ছি, বলল এই যে খুনির মা, ধরো! বের হলে ভয় লাগে, বাসাতেও ভয় লাগে।

স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় মাদকের বিস্তার বেড়ে গেছে। উঠতি বয়সের ছেলেরা ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সহজে পাচ্ছে। মাদক কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এছাড়াও দুইজন মিলে চারজন মানুষকে কীভাবে হত্যা করে, এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না তা দ্রুত বের করতে হবে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

এ ঘটনায় গতকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল বের হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন ও প্রকৃত অপরাধী শাস্তির আওতায় আনার দাবি রাখছেন শিক্ষার্থীরা।

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন পরিবারের অভিভাবক। তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রিয়ম ও মেয়ে আগামীকে নিয়ে তার সংসার ছিল। শনিবার গভীর রাতে মাছুয়াপাড়ার কাছে তাদের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্বজনেরা জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বজনেরা শনিবার বাড়িতে গিয়ে চারজনের মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ চারটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত সাড়ে ১০টায় নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান

এ ঘটনার পর শনিবার রাতে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস (২৩) ও মুগ্ধ দাস (১৯) কে আটক করে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-২–এ তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বলেন, আসামিরা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে হত্যা কান্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

এর আগে, রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ আবদুল মাবুদ বলেন, ছাদে ইয়াবা সেবনের বিষয়টি গণপতি চক্রবর্তী দেখে ফেলেছিলেন। পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার পরিবারের আরও তিন সদস্যকে একে একে খুন করেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ।

পুলিশ কমিশনার বলেন, গণপতি চক্রবর্তী স্যার ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তার পরিবারের কারো সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না। হত্যার পর আসামিরা ওই বাসায় অবস্থান করেন, গোসল করেন এবং খেজুর ও শসা খান।

আরও পড়ুন: হাসপাতালের টয়লেট নিজ হাতে পরিষ্কার করলেন এমপি খোকন

এই ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার আরও যেসব মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


ঢাকার আরও যেসব মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা

রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরাযুক্ত আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হতে যাচ্ছে।

এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অধিক্ষেত্রে ২৮টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২২টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশন বা মোড় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর কিছু সড়কে পরীক্ষামূলকভাবে সিগন্যাল বাতি মেনে যানবাহন চলাচল এবং পথচারীদের সুশৃঙ্খলভাবে রাস্তা পারাপার হতে দেখা গেছে। এ ধারাবাহিকতায় এবার এই প্রযুক্তির পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হলো।

প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার ১৩টি পয়েন্টে সেমি-অটোমেটেড ট্রাফিক সিগন্যাল ইতোমধ্যে বসানো হয়েছিল। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রযুক্তিগত তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই সিগন্যালগুলোর কিছুতে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

নতুন ৫০টি মোড়ের ট্রাফিক সিগন্যাল পরিচালনা ও দেখভালের জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নতুন প্রযুক্তি ও কাঠামোর কারণে প্রকল্পের মোট ব্যয় কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে যে, এআই প্রযুক্তিনির্ভর এই সিগন্যাল ব্যবস্থা দক্ষতার সাথে পরিচালনা করার জন্য ‘ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট’ নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। এই ইউনিটের সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে তারা রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে এই আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেন।

ঢাকা উত্তর সিটির অন্তর্ভুক্ত ২৮ মোড়ের মধ্যে রয়েছে: মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, আসাদ গেট, গণভবন, মোহাম্মদপুর থানা, কলেজ গেট, টেকনিক্যাল, মাজার রোড, মিরপুর-১, সনি সিনেমা হল, মিরপুর-১০, মিরপুর-১২, মিরপুর-৬, মিরপুর-১৪, আগারগাঁও, আবহাওয়া অধিদপ্তর, পরিকল্পনা কমিশন, গুলশান ক্লাব, গুলশান আজাদ মসজিদ, গুলশান-১, গুলশানের ডোমিনোজ ক্রসিং, পুলিশ প্লাজা, নিকেতন, তেজগাঁওয়ের পুরোনো আড়ং, শান্তা টাওয়ার, তেজগাঁও-মহাখালী লিংক রোড, বিওয়াইডি শোরুম, রেইনবো ক্রসিং এবং হাতিরঝিল-মগবাজার ক্রসিং।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির অন্তর্ভুক্ত ২২ মোড়ের মধ্যে রয়েছে: আজিমপুর, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ধানমন্ডি-৬, ধানমন্ডি-৭, কলাবাগান, রাসেল স্কয়ার, ধানমন্ডি-২৭, কাঁটাবন, বাটা সিগন্যাল, কাকরাইল, বিজয়নগর, ফকিরেরপুল, দৈনিক বাংলা মোড়, বঙ্গভবন, গুলিস্তান স্কয়ার, জিপিও, পল্টন মোড়, গ্রিন রোড, মগবাজার মোড়, মিন্টো রোড এবং অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের কাছেই মিলল পানির সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ পি.এম


মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের কাছেই মিলল পানির সন্ধান

বিজ্ঞানীরা মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের কাছে থাকা দানবীয় সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের সংলগ্ন এলাকায় পানির সন্ধান পেয়েছেন। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে ‘আইআরএস ৩’ নামে পরিচিত একটি মৃত্যুপথযাত্রী বিশাল তারার চারপাশে পানি ও মহাজাগতিক ধূলিকণার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, জীবনের শেষ পর্যায়ে থাকা আইআরএস ৩ তারাটি নিজেকে ঘিরে বাইরের স্তর মহাকাশে ছড়িয়ে দিচ্ছে। শক্তিশালী নক্ষত্রীয় বাতাস প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে তারাটির উপাদানগুলোকে বাইরে নিক্ষেপ করছে। এই কারণে তারাটির চারপাশে প্রায় ১০ হাজার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিটজুড়ে ধূলিকণার বিশাল আবরণ তৈরি হয়েছে। এক অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্বের সমান।

জার্মানির কোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট ফ্লোরিয়ান পাইসকার জানিয়েছেন, গ্যালাক্সির কেন্দ্র মহাবিশ্বের অন্যতম বৈরী পরিবেশ হলেও সেখানে ধূলিকণা তৈরির প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহনশীল। গবেষণায় দেখা গেছে, আইআরএস ৩ আগে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৬ আলোকবর্ষ দূরে তৈরি হয়েছিল। পরে এটি কেন্দ্রের আরও কাছাকাছি অঞ্চলে চলে এসেছে।

সূর্যের চেয়ে প্রায় ছয় গুণ ভারী এই তারার বয়স আনুমানিক ৭ কোটি ২০ লাখ বছর, এবং এর তাপমাত্রা প্রায় ২ হাজার ৮০০ কেলভিন। তীব্র বিকিরণপূর্ণ পরিবেশেও তারাটি রাসায়নিকভাবে সমৃদ্ধ মহাজাগতিক ধূলিকণা ও পানি আশপাশের মহাকাশে সরবরাহ করে যাচ্ছে।

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের এমআইআরআই যন্ত্রের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আইআরএস ৩-এর ধারাবাহিক মিড-ইনফ্রারেড স্পেকট্রাম সংগ্রহ করা হয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার বিজ্ঞানী ম্যাকারেনা গার্সিয়া মারিন বলেন, এই পর্যবেক্ষণ সিলিকেটের বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে সাহায্য করেছে এবং তারাটির প্রকৃত রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে নতুন তথ্য সরবরাহ করেছে।

বিজ্ঞানীদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তীব্র বিকিরণের পরিবেশেও পানির মতো আণবিক উপাদান টিকে থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলেছেন, এই আবিষ্কার থেকে বোঝা যায়, সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের কাছাকাছি অবস্থান করা সত্ত্বেও কিছু তারা তাদের আশপাশে গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান ছড়িয়ে দিতে সক্ষম।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুটি মাদরাসায় পাসের হার শূন্য, সিসি ক্যামেরার ভয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ৬ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ পি.এম


দুটি মাদরাসায় পাসের হার শূন্য, সিসি ক্যামেরার ভয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ৬ জন

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে দুটি মাদরাসায় চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এই উপজেলার আলগী বালিকা দাখিল মাদরাসা ও মধ্য বড় শৌলা ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা থেকে এবারের পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের ১০ পরীক্ষার্থীর ৯ জনের বাল্যবিয়ে পরীক্ষার আগে ঘটে গেছে। অন্যদিকে, সিসি ক্যামেরার ভয়ে ১০ পরীক্ষার্থীর ৬ জন পরীক্ষা দেয়নি বলে জানিয়েছেন মাদরাসার সুপার।

আলগী বালিকা দাখিল মাদরাসার সূত্র অনুসারে, এ বছর ১০ শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছিল। তবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মাত্র একজন শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানটির সুপার হারুন অর রশীদ জানান, কারণ হিসেবে জানান, পরীক্ষার আগেই ৯ ছাত্রীর বিয়ে হয়ে যাওয়ার ফলে তারা আর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত, একমাত্র পরীক্ষার্থীও ইতিহাস পরীক্ষার দিন অসুস্থ হয়ে পড়ায় অকৃতকার্য হয়েছে।

অন্যদিকে, মধ্য বড় শৌলা ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসায় ১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বৃহত্তর অংশ নিয়েছে চারজন। কিন্তু বাকি ছয়জন পরীক্ষায় দ্রুত অনুপস্থিত ছিল। অংশ নেয়া চারজনের কেউই পাস করতে পারেনি।

মাদরাসাটির সুপার মাওলানা নাসরুল্লাহ জানিয়েছেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার স্থাপনার খবর পাওয়ার পর ছয়জন পরীক্ষার্থীর ভয়ে পরীক্ষা দখল থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করেছে। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক সংকট রয়েছে। ১০ বছর ধরে বাংলা এবং তিন বছর ধরে ইংরেজি শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে রয়েছে। মোট ২১টি শিক্ষক-কর্মচারীর পদের মধ্যে ১২টি এখনো শূন্য রয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ হচ্ছে, নিয়মিত তদারকির অভাবে, শিক্ষক সংকট এবং অনিয়মের কারণে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাদের মতে, শূন্য পদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ এবং কার্যকর নজরদারি না হলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান আবির বলেন, শিক্ষক সংকট ও তদারকির অভাবের পাশাপাশি বাল্যবিয়ে রোধে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। পরীক্ষার আগে ৯ জন ছাত্রীর বিয়ে হওয়া উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, দুটি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যে কারণে লম্বা চুল কেটে ফেললেন হালান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ পি.এম


যে কারণে লম্বা চুল কেটে ফেললেন হালান্ড

নতুন মৌসুম শুরুর আগে, ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান তারকা আর্লিং হালন্ড নিজের পরিচিত লুক বদলে ফেলেছেন। দীর্ঘদিনের সঙ্গী লম্বা সোনালি চুলকে কেটে তিনি একেবারে ছোট ছাঁট নিয়েছেন, যা তাকে নতুন রূপে উপস্থাপন করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন লুক প্রকাশ করে হালান্ড লিখেছেন, ‘নতুন মৌসুম, নতুন ছাঁট।’ চুল কাটার পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে নতুন চেহারা দেখে পরিচিত ফুটবল ব্যক্তিত্বদের প্রতিক্রিয়া ধারণ করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা, সাবেক সতীর্থ জ্যাক গ্রিলিশ এবং সুইডিশ কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। গার্দিওলার সামনে ভিডিও কলে নতুন চেহারায় হাজির হলে তিনি বিস্মিত হন। হালান্ডকে দেখে তিনি মুখে হাত দিয়ে হাসতে শুরু করেন এবং পরে বলেন, ‘অসম্ভব! তোমার চুল আছে, তুমি ভাগ্যবান। তোমার মতো চুল যদি আমারও থাকত!’

নতুন ছাঁট পছন্দ হয়েছে কি না জানতে চাইলে গার্দিওলা জানান, তার ভালোই লেগেছে। তিনি একই সঙ্গে বলেন, যদি পছন্দ না হয়, তবে চিন্তার কিছু নেই—সময় গেলে চুল আবার বড় হবে।

গ্রিলিশের প্রতিক্রিয়া ছিল আরও মজার। হালান্ডকে নতুন চেহারায় দেখে তিনি মন্তব্য করেন, তিনি দেখতে বোর্ডে ১০ বছরের শিশুর মতো লাগছেন। ইব্রাহিমোভিচও বিস্ময় প্রকাশ করেন। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থক ও ওয়েসিসের তারকা নোয়েল গ্যালাঘার হাসলেও হালান্ডের নতুন লুককে স্বাগত জানিয়েছেন।

এবারের মৌসুমটি হালান্ডের জন্য নতুন অধ্যায়ের। ২০২২ সালে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর এটি প্রথম মৌসুম, যখন তিনি পেপ গার্দিওলাকে ছাড়া শুরু করছেন। গত মৌসুম শেষে গার্দিওলা দায়িত্ব ছাড়ার পর সিটির প্রধান কোচ হয়েছে এনজো মারেস্কা।

নতুন চেহারায় হালান্ড মাঠে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচে বোর্নমাউথের বিপক্ষে নামেন। তবে তিনি গোলের দেখা পাননি। শেষদিকে মার্ক গেহি ও ইয়োশকো গাভার্দিওলের গোলে ২-১ ব্যবধানে নাটকীয় জয় পায় সিটি।

চুলের ছাঁট বদলেছেন হালান্ড, এখন দেখার বিষয় হলো, নতুন মৌসুমে তার গোলের অভ্যাসও কি বদলায়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%