ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্যাসিবাদী সরকার একটি দেশকে সুবিধা দিতে চিকিৎসাব্যবস্থা ধ্বংস করেছিল : প্রধানমন্ত্রী


ফ্যাসিবাদী সরকার একটি দেশকে সুবিধা দিতে চিকিৎসাব্যবস্থা ধ্বংস করেছিল : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকার দেশের শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিল। এটি একটি বিশেষ দেশকে সুবিধা দিতে এবং একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে খুশি করতে করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। বুধবার তিনি জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এই সমালোচনা করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে চিকিৎসা খাতের বেহাল দশা সম্পর্কে আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার স্ত্রী একজন পেশাদার চিকিৎসক হওয়ায়, চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহু人的 বাস্তব অভিজ্ঞতা তিনি বৃদ্ধি পেয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, স্বৈরাচারী সরকার বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে পঙ্গু করে অন্য কারও হাতে তুলে দিয়েছে।

তিনি বলেন, একটি বিশেষ দেশকে একচেটিয়া রোগী সরবরাহ এবং চিকিৎসা বাণিজ্যের সুবিধা দেওয়ার জন্য দেশের বড় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে, এর শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার যে নীতি রয়েছে, বিগত স্বৈরাচারী সরকার সেই নীতিটি প্রয়োগ করেছে। একইভাবে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে পঙ্গু করে অন্য দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে দেশের কোটি কোটি মানুষ সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

বর্তমান সরকার চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য পর্যায়ক্রমিকভাবে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও তিনি জানান। এতে পূর্ববর্তী শেখ হাসিনা সরকারের নীতির স্পষ্ট ইঙ্গিত ফুটে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতের করুণ চিত্র তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত দেওয়াল লিখনের মধ্য দিয়ে কিভাবে একটি জাতিকে ধ্বংস করা যায়।

তিনি এ চরম ক্ষতির নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। বর্তমান সরকার দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ও আধুনিক মানবিক শিক্ষায় গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করেছে। সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষকদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমিকভাবে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিরোধীদলীয় নেতার মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন যে, আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থা একশত ভাগ অসুস্থ। তবে তিনি একে ১০১ ভাগ অসুস্থ হিসেবে উল্লেখ করেন। চলতি বাজেটে ১.২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হলেও, আগামী পাঁচ বছরে তা জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারপ্রধান দেশের প্রান্তিক জনগণের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে একটি বিশাল কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের পাশাপাশি, সারা দেশে রোগ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য এক লাখ ‘হেলথকেয়ার কর্মী’ নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এছাড়া, গ্রামীণ অঞ্চলের শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচটি বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর রাজধানীদিগমুখী হওয়ার প্রয়োজন নেই। তারা বিভাগীয় পর্যায়েই বিশেষায়িত শিশু স্বাস্থ্যসেবা লাভ করতে পারবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কৃষক হত্যা ও ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগে গাইবান্ধা থেকে আটক ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২২ পি.এম


কৃষক হত্যা ও ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগে গাইবান্ধা থেকে আটক ১

রংপুরের পীরগঞ্জে কৃষক মফিজার রহমানকে হত্যা করার পর বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সেচ পাম্পের ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গাইবান্ধা থেকে শহিদুল ইসলাম (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তার হওয়া শহিদুল ইসলাম গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পুরান্দার এলাকার মফিজ উদ্দিন শেখের পুত্র।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে র‌্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। এ ঘটনা ঘটার আগে, মঙ্গলবার রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার জুনদহ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামের কৃষক মফিজার রহমানের জমিতে বিএডিসির একটি গভীর নলকূপ ছিল। ট্রান্সফর্মারের নিরাপত্তার জন্য তিনি প্রতিদিন রাতে সেচঘরে অবস্থান করতেন।

গত ৭ মে সকালে প্রতিবেশী একজন মুঠোফোনে মফিজারের পরিবারকে ট্রান্সফর্মার চুরির খবর জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেচঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান। ভিতরে গিয়ে তারা হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় মফিজার রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে।

র‌্যাবের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রান্সফর্মার চুরিতে বাধা দেওয়ায় দুর্বৃত্তরা কৃষক মফিজার রহমানকে হত্যা করে এবং ট্রান্সফর্মার নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর নিহতের ভাই মনুয়ার হোসেন বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে র‌্যাব।

তদন্তের এক পর্যায়ে শহিদুল ইসলামের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে অভিযানে গিয়ে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুয়া খেলায় বাধা দেওয়ার জেরে প্রবাসীর বাড়িতে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ পি.এম


জুয়া খেলায় বাধা দেওয়ার জেরে প্রবাসীর বাড়িতে আগুন

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামে জুয়া খেলার প্রতিবাদ করায় এক প্রবাসীর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ভুক্তভোগী শাবানা বেগম বাদী হয়ে শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, নয়ানগর গ্রামের প্রবাসী কাজী ইয়ানুরের স্ত্রী শাবানা বেগম (৩৯) প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় রতন মণ্ডলের কাছ থেকে বসতবাড়িসহ জমি ক্রয় করেন। শর্ত ছিল, রতন মণ্ডলের মেয়ের এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলে তারা বাড়িটি ছেড়ে ভারতে চলে যাবেন। ওই সময় পর্যন্ত শাবানা বেগমের অনুমতিতে রতন মণ্ডলের পরিবার বাড়িটিতে বসবাস করে আসছিল। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে এলাকার কিছু বহিরাগত ব্যক্তি ওই বাড়িতে নিয়মিত জুয়া ও মাদকের আসর বসাতে থাকতো। এতে বাধা দিলে তারা রতন মণ্ডলকে বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে হয়রানি করতো। ঘটে যাওয়া ঘটনার দিন রাতেও জুয়া ও মাদকের আসর বসাতে বাধা দেওয়া হলে ক্ষিপ্ত হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দুর্বৃত্ত রাত দেড়টার দিকে বাড়ির রান্নাঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘরের লোকজনের চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হলেও রান্নাঘরের বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। ভুক্তভোগী শাবানা বেগম বলেন, "জুয়াড়িরা পরিকল্পিতভাবে আমার বাড়িতে আগুন দিয়েছে। আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ভবিষ্যতে তারা আরও বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।" এ বিষয়ে শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সঞ্জীব কুমার ঘোষ বলেন, "লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোটরসাইকেল চু-রির সন্দেহে যুবকের ওপর গণপিটুনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ পি.এম


মোটরসাইকেল চু-রির সন্দেহে যুবকের ওপর গণপিটুনি

যশোরের অভয়নগরে মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে তৌহিদ সরদার (৩২) নামের এক যুবককে স্থানীয়রা পিটুনির শিকার করেছেন। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের সুন্দলী কাঁচাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত যুবক তৌহিদ সরদার যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের বসুন্দিয়া গ্রামের তৈয়ব আলী সরদারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, বুধবার সকালে ১১টার সময় সুন্দলী কাঁচাবাজারের সামনে রাখা একটি মোটরসাইকেল চুরি করার সময় স্থানীয়রা তৌহিদ সরদার নামের যুবককে ধরে ফেলেন। এরপর তাঁকে গণপিটুনি দিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।

খবর পেয়ে অভয়নগর থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাহফুজুর রহমান সবুজ জানিয়েছেন, ‘পিটুনির শিকার যুবকের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

অভয়নগর থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান  জানায়, ‘মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে পিটুনির শিকার যুবককে সুন্দলী কাঁচাবাজারের সামনে থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সারা শহরে দুর্গন্ধ’, পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাসিন্দাদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ পি.এম


সারা শহরে দুর্গন্ধ’, পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাসিন্দাদের

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা এলাকায় সড়কের পাশ ময়লার স্তূপ রয়েছে। সম্প্রতি তোলা হয়েছে এই ছবি।

রিকশাচালক হারুণ মিয়া হ্যান্ডেলবার থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে হঠাৎই নাক চেপে ধরলেন। তিনি কথা বলার মাঝে আচমকা চুপ হয়ে গেলেন।

প্রায় এক শ গজ যাওয়ার পর তিনি বললেন, ‘আর কইয়েন না। সারাডা শহরে গন্ধ আর গন্ধ। গন্ধ মানে পচা গন্ধ। নাক চাইপ্পা চলন লাগে।

খালি আমি না, হগলেঅই দেখবেন নাহে ধইরা যায়। কেউ কেউ দেখবেন মাস্ক লাগায়া রাখছে।’

হারুণ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধের কথা বলছিলেন। হারুণ মিয়ার সঙ্গে কথপোকথন চলছিল পৌর এলাকার মেড্ডায় (সিও অফিস) অবস্থিত সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়।

মেড্ডার বাসিন্দা চয়ন বিশ্বাস তার অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ঘর থেকে বের হলেই চোখে ময়লা পড়ে। সড়কের পাশে ফেলে রাখা ময়লার জায়গাটুকু আগে থেকেই শ্বাস বন্ধ করে পার হই। কখনো কখনো আগে মনে না থাকলে দুর্গন্ধ নাকে গিয়ে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।’

সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়ক, রেলপথ কিংবা নৌপথ যেভাবেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসা হোক না কেন, সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ সবসময় চোখে পড়বেই।

এসব ময়লা থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধের কারণে পৌর এলাকায় চলাফেরা করা দায় হয়ে পড়েছে।

যদি সড়কপথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে আসা হয়, তখন ময়লার স্তূপ চোখে পড়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অদূরে কাউতলী এলাকায়। রেলপথে এসে স্টেশন থেকে শহরে আসার পথে দেখা যায়, ডানদিকে একাধিক ময়লার স্তূপ। আর নৌপথে গোকর্ণঘাটে এসে নামলে রয়েছে বিশাল ময়লার ভাগাড়, যাকে সরিয়ে নিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করলেও এর কোনো ফল মেলেনি।

বিভিন্ন কার্যালয়ের সামনে ময়লা-আবর্জনা থাকার কারণে মানুষের মধ্যে অস্বস্তি বেড়ে গেছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে একাধিক ময়লার স্তূপ পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা সম্পর্কে তথ্য দেয়।

শহরের ব্যস্ততম সড়ক টিএ রোডের মঠের গোড়ার সামনেই একটি ডাস্টবিন রয়েছে। এছাড়া হালদারপাড়া, মৌলভীপাড়া, মধ্যপাড়া, পাইকপাড়া, শিমরাইলকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে অন্তত অর্ধশত ময়লার স্তূপ দৃশ্যমান।

গবেষণা পরিচালনা করে জানা গেছে যে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা আনার যে প্রক্রিয়া, তা অনেকটাই সীমিত ও অনিয়মিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন স্থানে রাখা ডাস্টবিনে বাসিন্দারা ময়লা ফেলেন। আবার কোথাও কেউ ময়লা ফেললে সেখানে অন্যরাও ময়লা ফেলেন। এভাবে শহরের শতাধিক স্থান ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

নদী, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণের সংগঠন তরী বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক মো. শামীম আহমেদ বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় এখন স্বস্তির নিঃশ্বাসও ফেলা যায় না। শহরজুড়ে এখন ময়লার দুর্গন্ধ। বলা যায় যে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একেবারে ভেঙে পড়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে শামীম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নানা অজুহাত দেখান। কখনো বলেন লেবার সংকট, কখনো বলেন গাড়ি কম। সব মিলিয়ে দুর্বিষহ অবস্থায় রয়েছে শহরের মানুষ। সড়কের পাশে ফেলে রাখা ময়লা ড্রেনে ঢুকে মেড্ডা, ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতাও সৃষ্টি হচ্ছে।’

সাধারণ মানুষকেও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন শামীম আহমেদ।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক উপসচিব শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু এলাকার ময়লা-আবর্জনা নিষ্কাশনের বিষয় আমি নিজেই তদারকি করি। মূলত আমাদের লোকবলের অভাব। আধুনিক যন্ত্রপাতিও নেই। মানুষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্জ্যও বাড়ছে। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%