ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুয়া খেলায় বাধা দেওয়ার জেরে প্রবাসীর বাড়িতে আগুন


জুয়া খেলায় বাধা দেওয়ার জেরে প্রবাসীর বাড়িতে আগুন

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামে জুয়া খেলার প্রতিবাদ করায় এক প্রবাসীর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ভুক্তভোগী শাবানা বেগম বাদী হয়ে শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, নয়ানগর গ্রামের প্রবাসী কাজী ইয়ানুরের স্ত্রী শাবানা বেগম (৩৯) প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় রতন মণ্ডলের কাছ থেকে বসতবাড়িসহ জমি ক্রয় করেন। শর্ত ছিল, রতন মণ্ডলের মেয়ের এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলে তারা বাড়িটি ছেড়ে ভারতে চলে যাবেন। ওই সময় পর্যন্ত শাবানা বেগমের অনুমতিতে রতন মণ্ডলের পরিবার বাড়িটিতে বসবাস করে আসছিল। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে এলাকার কিছু বহিরাগত ব্যক্তি ওই বাড়িতে নিয়মিত জুয়া ও মাদকের আসর বসাতে থাকতো। এতে বাধা দিলে তারা রতন মণ্ডলকে বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে হয়রানি করতো। ঘটে যাওয়া ঘটনার দিন রাতেও জুয়া ও মাদকের আসর বসাতে বাধা দেওয়া হলে ক্ষিপ্ত হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দুর্বৃত্ত রাত দেড়টার দিকে বাড়ির রান্নাঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘরের লোকজনের চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হলেও রান্নাঘরের বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। ভুক্তভোগী শাবানা বেগম বলেন, "জুয়াড়িরা পরিকল্পিতভাবে আমার বাড়িতে আগুন দিয়েছে। আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ভবিষ্যতে তারা আরও বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।" এ বিষয়ে শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সঞ্জীব কুমার ঘোষ বলেন, "লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোটরসাইকেল চু-রির সন্দেহে যুবকের ওপর গণপিটুনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ পি.এম


মোটরসাইকেল চু-রির সন্দেহে যুবকের ওপর গণপিটুনি

যশোরের অভয়নগরে মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে তৌহিদ সরদার (৩২) নামের এক যুবককে স্থানীয়রা পিটুনির শিকার করেছেন। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের সুন্দলী কাঁচাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত যুবক তৌহিদ সরদার যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের বসুন্দিয়া গ্রামের তৈয়ব আলী সরদারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, বুধবার সকালে ১১টার সময় সুন্দলী কাঁচাবাজারের সামনে রাখা একটি মোটরসাইকেল চুরি করার সময় স্থানীয়রা তৌহিদ সরদার নামের যুবককে ধরে ফেলেন। এরপর তাঁকে গণপিটুনি দিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।

খবর পেয়ে অভয়নগর থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাহফুজুর রহমান সবুজ জানিয়েছেন, ‘পিটুনির শিকার যুবকের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

অভয়নগর থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান  জানায়, ‘মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে পিটুনির শিকার যুবককে সুন্দলী কাঁচাবাজারের সামনে থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সারা শহরে দুর্গন্ধ’, পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাসিন্দাদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ পি.এম


সারা শহরে দুর্গন্ধ’, পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাসিন্দাদের

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা এলাকায় সড়কের পাশ ময়লার স্তূপ রয়েছে। সম্প্রতি তোলা হয়েছে এই ছবি।

রিকশাচালক হারুণ মিয়া হ্যান্ডেলবার থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে হঠাৎই নাক চেপে ধরলেন। তিনি কথা বলার মাঝে আচমকা চুপ হয়ে গেলেন।

প্রায় এক শ গজ যাওয়ার পর তিনি বললেন, ‘আর কইয়েন না। সারাডা শহরে গন্ধ আর গন্ধ। গন্ধ মানে পচা গন্ধ। নাক চাইপ্পা চলন লাগে।

খালি আমি না, হগলেঅই দেখবেন নাহে ধইরা যায়। কেউ কেউ দেখবেন মাস্ক লাগায়া রাখছে।’

হারুণ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধের কথা বলছিলেন। হারুণ মিয়ার সঙ্গে কথপোকথন চলছিল পৌর এলাকার মেড্ডায় (সিও অফিস) অবস্থিত সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়।

মেড্ডার বাসিন্দা চয়ন বিশ্বাস তার অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ঘর থেকে বের হলেই চোখে ময়লা পড়ে। সড়কের পাশে ফেলে রাখা ময়লার জায়গাটুকু আগে থেকেই শ্বাস বন্ধ করে পার হই। কখনো কখনো আগে মনে না থাকলে দুর্গন্ধ নাকে গিয়ে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।’

সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়ক, রেলপথ কিংবা নৌপথ যেভাবেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসা হোক না কেন, সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ সবসময় চোখে পড়বেই।

এসব ময়লা থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধের কারণে পৌর এলাকায় চলাফেরা করা দায় হয়ে পড়েছে।

যদি সড়কপথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে আসা হয়, তখন ময়লার স্তূপ চোখে পড়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অদূরে কাউতলী এলাকায়। রেলপথে এসে স্টেশন থেকে শহরে আসার পথে দেখা যায়, ডানদিকে একাধিক ময়লার স্তূপ। আর নৌপথে গোকর্ণঘাটে এসে নামলে রয়েছে বিশাল ময়লার ভাগাড়, যাকে সরিয়ে নিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করলেও এর কোনো ফল মেলেনি।

বিভিন্ন কার্যালয়ের সামনে ময়লা-আবর্জনা থাকার কারণে মানুষের মধ্যে অস্বস্তি বেড়ে গেছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে একাধিক ময়লার স্তূপ পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা সম্পর্কে তথ্য দেয়।

শহরের ব্যস্ততম সড়ক টিএ রোডের মঠের গোড়ার সামনেই একটি ডাস্টবিন রয়েছে। এছাড়া হালদারপাড়া, মৌলভীপাড়া, মধ্যপাড়া, পাইকপাড়া, শিমরাইলকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে অন্তত অর্ধশত ময়লার স্তূপ দৃশ্যমান।

গবেষণা পরিচালনা করে জানা গেছে যে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা আনার যে প্রক্রিয়া, তা অনেকটাই সীমিত ও অনিয়মিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন স্থানে রাখা ডাস্টবিনে বাসিন্দারা ময়লা ফেলেন। আবার কোথাও কেউ ময়লা ফেললে সেখানে অন্যরাও ময়লা ফেলেন। এভাবে শহরের শতাধিক স্থান ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

নদী, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণের সংগঠন তরী বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক মো. শামীম আহমেদ বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় এখন স্বস্তির নিঃশ্বাসও ফেলা যায় না। শহরজুড়ে এখন ময়লার দুর্গন্ধ। বলা যায় যে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একেবারে ভেঙে পড়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে শামীম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নানা অজুহাত দেখান। কখনো বলেন লেবার সংকট, কখনো বলেন গাড়ি কম। সব মিলিয়ে দুর্বিষহ অবস্থায় রয়েছে শহরের মানুষ। সড়কের পাশে ফেলে রাখা ময়লা ড্রেনে ঢুকে মেড্ডা, ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতাও সৃষ্টি হচ্ছে।’

সাধারণ মানুষকেও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন শামীম আহমেদ।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক উপসচিব শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু এলাকার ময়লা-আবর্জনা নিষ্কাশনের বিষয় আমি নিজেই তদারকি করি। মূলত আমাদের লোকবলের অভাব। আধুনিক যন্ত্রপাতিও নেই। মানুষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্জ্যও বাড়ছে। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিস্তার ভাঙনে বিপর্যয়, নতুন বাঁধ ধসে পানিবন্দি দুই হাজার পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৪ পি.এম


তিস্তার ভাঙনে বিপর্যয়, নতুন বাঁধ ধসে পানিবন্দি দুই হাজার পরিবার

তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে রংপুরের গঙ্গাচড়া ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে নির্মিত তীর সংরক্ষণ কাজের প্রায় ১৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে, অপরদিকে বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে গেছে।

এছাড়া ভেঙে গেছে একাধিক বসতবাড়ি এবং নতুন করে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তিস্তাপাড়ের মানুষ।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, গত কিছু বছর ধরে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের নরশিং ও তালপট্টি এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের উত্তর হাজীপাড়া, পশ্চিম হাজীপাড়া, পূর্ব হাজীপাড়া ও হরিণচড়া এলাকার হাজারো মানুষ তাঁদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার শেষ সম্বল হারিয়েছেন। দীর্ঘদিনের দাবির পর চলতি বছর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দুই কিলোমিটার এলাকার তীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করে। নতুন বাঁধ নির্মাণে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে যে স্বস্তি ফিরেছিল, সেটি খুব বেশী স্থায়ী হয়নি।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে নদীর তীব্র স্রোতে নতুন নির্মিত তীর সংরক্ষণ কাজের প্রায় ১৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে হারিয়ে যায়। একই সঙ্গে কয়েকটি বসতবাড়ি ভেঙে পড়ে, হাজারের বেশি বাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে যায়।

বুধবার (১৫ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, লালমনিরহাটের আদর্শপাড়া থেকে গঙ্গাচড়ার তালপট্টি হয়ে নরশিং পর্যন্ত নির্মিত তীর সংরক্ষণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, গত কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি দ্রুত ওঠানামা করছে। আকস্মিক বন্যা, তীব্র স্রোত এবং হঠাৎ পানি নেমে যাওয়ার কারণে নদীর তীরজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার পরিবারের বসতভিটা, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে।

তালপট্টির গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। ভেবেছিলাম এবার আর ভাঙন হবে না। কিন্তু কয়েক মাসও টিকল না। চোখের সামনে নতুন বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখন আবার আগের মতো ঘরবাড়ি হারানোর ভয় ফিরে এসেছে।’

নরশিং এলাকার কৃষক খয়বর আলী জানান, ‘আগে বাঁধ ছিল না, তখনও ভয় ছিল। এখন বাঁধ থাকার পরও ভয় হচ্ছে। সরকারের এত টাকার বাঁধ যদি স্বল্প মেয়াদের বন্যাতেই ভেঙে যায়, তাহলে আমাদের কী লাভ হলো? শুধু জিও ব্যাগ ফেললে হবে না, স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

হরিণচড়া গ্রামে সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিনের ভাঙনে এখন দেখি বাঁধও বিলীন হতে চলেছে। রাতে ঘুমাতে পারি না। মনে হয় কখন ঘরটাও নদীতে চলে যায়। শুরুতেই দ্রুত ব্যবস্থা নিলে হয়তো এত ক্ষতি হতো না। এখন জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক না ফেললে পুরো বাঁধ নদীতে চলে যাবে।’

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ‘নদীতে পানির ওঠানামার কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে ছয় হাজার জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরো জিও ব্যাগ ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ০৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে। একই সময়ে কাউনিয়ার তিস্তা সেতু পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচে। তবে পানি কিছুটা কমলেও তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে নদীপাড়ের মানুষের উদ্বেগ কাটেনি। স্থানীয়দের দাবি হচ্ছে, জিও ব্যাগের সাময়িক ব্যবস্থা নয়, তিস্তার তীর রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে প্রতি বর্ষায় ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় তাঁদের দিন কাটাতে না হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাপের দংশনের পর কবিরাজের শরণাপন্ন, বাঁচানো গেল না বৃদ্ধকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ পি.এম


সাপের দংশনের পর কবিরাজের শরণাপন্ন, বাঁচানো গেল না বৃদ্ধকে

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় বিষধর সাপের কামড়ে আব্দুল মোতালেব (৬৭) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু ঘটেছে। বিষধর সাপে কামড়ানোর পর তাঁকে প্রথমে গ্রাম্য কবিরাজ দিয়ে ঝাড়ফুঁক করানো হয়। কিন্তু পরে যখন তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটে, তখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের মরিচাকান্দি জালচিরা বাঁধ এলাকায়। নিহতের পরিচয় জানা গেছে, তিনি ওই এলাকার মৃত কেতু শেখের পুত্র।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, রাতে বাড়ি ফেরার সময় নিজ বাড়ির নিকট অন্ধকার রাস্তায় হাঁটার সময় এক বিষধর সাপ তাঁকে কামড় দেয়। প্রথমত তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিতে চাননি এবং বাড়িতে ফিরে যান। কিছু সময় পরে যখন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, তখন তিনি পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। এরপর তাঁকে একটি স্থানীয় কবিরাজের কাছে নিয়ে গিয়ে ঝাড়ফুঁক করানো হয়। কিন্তু তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরন মো. ইলিয়াস ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত করেন এবং বলেন, ‘সাপে কাটার পর ওই ব্যক্তিকে প্রথমে গ্রাম্য কবিরাজ দিয়ে ঝাড়ফুঁক করানো হয়। পরে হাসপাতাল নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%