প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকার দেশের শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিল। এটি একটি বিশেষ দেশকে সুবিধা দিতে এবং একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে খুশি করতে করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। বুধবার তিনি জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এই সমালোচনা করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে চিকিৎসা খাতের বেহাল দশা সম্পর্কে আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার স্ত্রী একজন পেশাদার চিকিৎসক হওয়ায়, চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহু人的 বাস্তব অভিজ্ঞতা তিনি বৃদ্ধি পেয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, স্বৈরাচারী সরকার বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে পঙ্গু করে অন্য কারও হাতে তুলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, একটি বিশেষ দেশকে একচেটিয়া রোগী সরবরাহ এবং চিকিৎসা বাণিজ্যের সুবিধা দেওয়ার জন্য দেশের বড় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে, এর শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার যে নীতি রয়েছে, বিগত স্বৈরাচারী সরকার সেই নীতিটি প্রয়োগ করেছে। একইভাবে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে পঙ্গু করে অন্য দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে দেশের কোটি কোটি মানুষ সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
বর্তমান সরকার চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য পর্যায়ক্রমিকভাবে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও তিনি জানান। এতে পূর্ববর্তী শেখ হাসিনা সরকারের নীতির স্পষ্ট ইঙ্গিত ফুটে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতের করুণ চিত্র তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত দেওয়াল লিখনের মধ্য দিয়ে কিভাবে একটি জাতিকে ধ্বংস করা যায়।
তিনি এ চরম ক্ষতির নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। বর্তমান সরকার দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ও আধুনিক মানবিক শিক্ষায় গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করেছে। সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষকদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমিকভাবে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিরোধীদলীয় নেতার মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন যে, আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থা একশত ভাগ অসুস্থ। তবে তিনি একে ১০১ ভাগ অসুস্থ হিসেবে উল্লেখ করেন। চলতি বাজেটে ১.২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হলেও, আগামী পাঁচ বছরে তা জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকারপ্রধান দেশের প্রান্তিক জনগণের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে একটি বিশাল কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের পাশাপাশি, সারা দেশে রোগ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য এক লাখ ‘হেলথকেয়ার কর্মী’ নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
এছাড়া, গ্রামীণ অঞ্চলের শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচটি বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর রাজধানীদিগমুখী হওয়ার প্রয়োজন নেই। তারা বিভাগীয় পর্যায়েই বিশেষায়িত শিশু স্বাস্থ্যসেবা লাভ করতে পারবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন