শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:১৬ পি.এম
বগুড়ার শিবগঞ্জে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীকে বহনকারী সরকারি গাড়ির ধাক্কায় নিহত ফিরোজার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। এই অনুদান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক সেতুর সামনে গোপীনাথপুর এলাকায় নিহত ফিরোজার পরিবারের সদস্যদের হাতে চেকটি তুলে দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
চেক হস্তান্তরের সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, "দুর্ঘটনায় নিহত ফিরোজার পরিবারের হাতে পাঁচ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। বিআরটিএর মাধ্যমে এ অনুদান দেওয়া হয়েছে।"
চেক হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান শাহীন, প্রতিমন্ত্রীর ছেলে মীর শাকরুল ইসলাম সীমান্তসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।
এর আগে, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকায় মোকামতলা–জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ফিরোজা বেগম ওই এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী সরকারি গাড়িতে করে ঢাকা থেকে তার নির্বাচনি এলাকা জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে স্ত্রী নাজমা আরা বেগম এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশের একটি গাড়ি ছিল। গোপীনাথপুর এলাকায় পৌঁছালে ফিরোজা বিবি মহাসড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির সামনে চলে আসেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে গাড়িটি সড়কের পাশের ধানখেতে নেমে যায়। এতে ফিরোজা গুরুতর আহত হন। প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রীও আহত হন।
দুর্ঘটনার পর প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী নাজমা আরা বেগম জানান, "ওই নারীকে বাঁচাতে গিয়ে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে গাড়িটি সড়কের পাশে ধানক্ষেতে নেমে যায়।" আহত ফিরোজা বিবিকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিরোধীদলের নেতাদের বক্তব্য ও আচরণকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন যে, তাদের আগ্রাসী অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে পতিত অপশক্তি দেশের অস্থিতিশীলতা ঘটানোর চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক যুবকের ‘একটি মাত্র স্নাইপার দরকার ছিল’ মন্তব্যকে তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে রাশেদ খাঁন এসব কথা বলেন।
পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিরোধীদলের নেতাদের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের শাসনামলের গুম-খুন ও দলটির বিচার নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাচ্ছে না। বরং গণঅভ্যুত্থানের এক মাস পর জামায়াতে ইসলামীর আমির আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপির বিরুদ্ধে বিএনপি সরকারের আট মাসের শাসনামলকে আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনের সঙ্গে তুলনা করে নেতিবাচক বক্তব্য তৈরির অভিযোগও তোলেন।
রাশেদ খাঁনের দাবি, এসব বক্তব্য ও অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর পরিবার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার, মামলার মুখোমুখি হওয়া কিংবা নির্বাসিত জীবন কাটানো নেতারাও এ ধরনের সমালোচনা থেকে বাদ যাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন পদে থাকা ব্যক্তিদের কেউ কেউ অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে সীমিত ভূমিকা রেখেও নিজেদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রধান অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করছেন। অথচ বিএনপির নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের তুলনায় তাঁদের ভূমিকা কম ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন আরও অভিযোগ করেন যে, বিরোধীদলের অনেক নতুন সংসদ সদস্যের বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন বিএনপিকেই তাঁদের কাছ থেকে সেই ইতিহাস জানতে হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে থাকা ভারত দ্বিতীয় ম্যাচের পূর্বে একটি দুঃসংবাদ পেয়েছে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ঈশান কিষাণ চোটের কারণে শনিবারের (২৪ অক্টোবর) ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন না। এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান প্রথম ম্যাচে ডান পায়ের অ্যাডাক্টর পেশিতে আঘাত পান।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে চোট পাওয়ার পর ঈশানের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার পেশিতে সামান্য টান লেগেছে। বর্তমানে তিনি বিশ্রামে থাকবেন এবং পরবর্তীতে তার চোটের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের দেয়া ২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ভারত চার উইকেটে জয়লাভ করে। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।
জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সাঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। স্যামসন ৬৭ রান করেন, আর অভিষেকের সংগ্রহ ২৯। পরে শ্রেয়াস আইয়ার ও নামান ধীর দুজনই ৪২ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করেন।
শনিবার ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ম্যাচে হারের পর নিউজিল্যান্ড সমতা ফেরানোর চেষ্টা করবে। অন্যদিকে, ঈশানকে ছাড়াই ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ভারত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে লাউয়ের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে চাষিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। উৎপাদনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাজারে লাউয়ের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। কোথাও ১ টাকায় চারটি লাউ বিক্রি হচ্ছে, আবার কোথাও প্রতি পিসের দাম মাত্র ২ থেকে ৫ টাকায় রয়েছে। অথচ কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে কেনা সেই লাউ খুচরা বাজারে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জেলার আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। উৎপাদন খরচ তুলতে না পারায় অনেক কৃষক লাউয়ের বাগান পরিচর্যা বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বাগান কেটে ফেলছেন, আবার কেউ ক্ষেতের লাউ গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন।
চাষিদের আক্ষেপ, এক কেজি মোটা চাল কিনতে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় ২০০টি লাউ। আর প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৭৫০ টাকা হিসাবে তা কিনতে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় তিন হাজারটি লাউ। ঘাম ঝরিয়ে ফলানো ফসলের এমন দরপতনে হতাশ হয়ে পড়েছেন আটোয়ারীর লাউচাষিরা।
উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম জানান, ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু উৎপাদিত লাউ বিক্রি করে এখন পর্যন্ত পেয়েছি মাত্র তিন হাজার টাকা। এই সামান্য আয় দিয়ে শ্রমিকের মজুরিও পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
দুলাল ইসলাম নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘আমরা কৃষকরা লাউ চাষ করে কতটা লোকসানে আছি, তা বলে বোঝানো যাবে না। দুই থেকে তিন হাজার লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনা যায় না। তাই কষ্ট করে ফলানো লাউয়ের দাম না পেয়ে বাগান কেটে ফেলেছি। কিছু লাউ গরুকে খাওয়াচ্ছি। অথচ বাজারে সেই লাউই প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
একই উপজেলার ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার কৃষক আনসারুল ইসলাম জানান, লাউয়ের দাম না থাকায় গত ১০ দিন ধরে বাগানের পরিচর্যা বন্ধ রেখেছি। একদিকে সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। অথচ ক্ষেতের লাউ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা পিস। এভাবে উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে ফসল বিক্রি করতে হলে কৃষকের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন। কষ্ট করে ফসল ফলিয়েও যদি দাম না পাওয়া যায়, তাহলে মানুষ একসময় কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সলেমান আলী বলেন, এবার আটোয়ারীতে লাউয়ের আবাদ ও ফলন-দুটিই ভালো হয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। বাইরের বাজারেও আশানুরূপ দাম না থাকায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, ভালো ফলন হলেও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় লোকসানে পড়তে হচ্ছে। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষিপণ্যের দাম নিশ্চিত করা এবং কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার কার্যকর ব্যবস্থা না হলে এ ধরনের লোকসান কৃষিকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরা একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলায় প্রতিবছর প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় মদপানের পর অসুস্থ হয়ে দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের বিনয় বিশ্বাসের ছেলে বিধান বিশ্বাস (২২) এবং একই উপজেলার বাকিরা গ্রামের আদম লস্করের ছেলে আলমগীর লস্কর (৩৮)।
নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে বিধান ও আলমগীর মদপান করার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে স্থানীয়ভাবে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি ঘটলে গভীর রাতে তাদের মাগুরার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তাদের মৃত্যু হয়।
বিধানের চাচি সুপ্রিয়া সাহা জানিয়েছেন, বুধবার রাতে তারা মদপান করে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমরান হোসেন বলেন, ‘দুজনের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তবে এটি মদ জাতীয় কোনো কিছু পানের ফলে হতে পারে।’
শ্রীপুর থানার ওসি অলি মিয়া জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে মদ্যপানে তাদের মৃত্যু হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ