বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:০০ পি.এম
নাব্য সংকট, ভাঙা ঘাট, নিরাপদ জেটির অভাব ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা কারণে খুলনার নদীবন্দরগুলো কার্যক্ষমতা দিন দিন হারাচ্ছে। খুলনা ও নওয়াপাড়া নদীবন্দরে পণ্যবাহী জাহাজের আগমন কমে গেছে, যা পণ্য খালাসের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে যাওয়ার কারণ হয়েছে। এ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঘাটশ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতির ওপর। বন্দর ব্যবহারকারীরা দ্রুত ড্রেজিং, ঘাট সংস্কার ও আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্যের একটি প্রধান মাধ্যম নদীপথ। মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ভৈরব নদী হয়ে সার, কয়লা, পাথর, চাল এবং অন্যান্য পণ্য লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে খুলনা ও নওয়াপাড়া নদীবন্দরে আনা হয়। এরপর সেখান থেকে এসব পণ্য খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
কিন্তু খুলনা নদীবন্দর এলাকায় বিভিন্ন ঘাটে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। কিছু স্থানে ঘাট ধসে পড়েছে, আর কিছু স্থানে জাহাজ ভেড়ানোর ঝুঁকি বেড়ে গেছে। এর সাথে রয়েছে পর্যাপ্ত জেটির অভাব, ওপেন ইয়ার্ডের সংকট এবং নদীর নাব্য কমে যাওয়ার সমস্যা, যার কারণে বড় পণ্যবাহী জাহাজ নিরাপদে ভিড়তে পারছে না। একই চিত্রটি নওয়াপাড়া নদীবন্দরের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেখানে একাধিক জাহাজ ঘাটের জন্য নদীতে ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছে। ভাটার সময় পানির উচ্চতা কমে গেলে অনেক জাহাজ নদীর তলদেশে আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটছে।
খুলনা বিভাগীয় নৌ-পরিবহন মালিক সমিতির পরিচালক আসিফ আহমেদ বলেন, ‘শুধু অবকাঠামোগত সংকটই নয়, মোংলা বন্দরে আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাবও পড়েছে খুলনা অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোতে। গত দুই বছরে জাহাজের আগমন এবং পণ্য খালাস প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং পণ্য খালাসে সময় বেশি লাগায় আর্থিক ঝুঁকি বাড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘জাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে ঘাটশ্রমিকদের জীবনে। একসময় খুলনা ও নওয়াপাড়ায় দুই হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করলেও বর্তমানে সংখ্যাটি ৫০০ এর নিচে নেমে এসেছে। যাদের কাজ রয়েছে, তাদেরও মাসের অর্ধেক সময় কর্মহীন অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে।’
খুলনা নদীবন্দরের শ্রমিক মো. আলমগীর হোসেন জানান, ‘ঘাটের অবস্থা খারাপ থাকায় এখানে আগের মতো জাহাজ আসে না। এই সমস্যা গত দুই বছর ধরে অব্যাহত রয়েছে। আগে প্রায় প্রতিদিনই জাহাজ আসতো। এখন সপ্তাহ পার হয়ে যায়, কাজ মেলে না। আমি পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’
অন্য শ্রমিক মো. রুবেল শেখ মন্তব্য করেন, ‘আগে যে আয় হতো, এখন তার অর্ধেকও হয় না। অনেক সহকর্মী কাজ না পেয়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। আমরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।’
খুলনা অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব মফিজুর রহমান বলেন, ‘নদীপথে পণ্য পরিবহনের উপর রাজস্ব বেড়েছে। অন্যদিকে ঘাট এবং নদীর সক্ষমতা কমেছে। দ্রুত ড্রেজিং, নিরাপদ জেটি নির্মাণ, ঘাট সংস্কার এবং আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
তবে খুলনা নদীবন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. মাসুদ পারভেজ বলছেন, ‘নদীর নাব্য উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং বন্দরের আধুনিকায়নে বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে এবং জাহাজ চলাচল ও পণ্য খালাসের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে খুলনা নদীবন্দর থেকে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা এবং নওয়াপাড়া নদীবন্দর থেকে ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট দ্রুত সমাধান না হলে নদীবন্দরগুলোর কার্যক্রম আরও সংকুচিত হবে, যা পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহে দুর্গন্ধের কোনো কারণ খুঁজতে গিয়ে সোহেল মিয়া (২৬) নামে নিখোঁজ এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রথমত মাথা ও পরে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে পুলিশ ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত সোহেল মিয়া পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া নূরুল ইসলাম ও জুলেখা বেগম দম্পতির সন্তান। তিনি দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। এলাকায় তিনি গাছ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
স্বজনরা জানালেন, গত ১৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে সোহেল মিয়া নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় বুধবার সকালে নিহতের বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। কিন্তু তার পরও সোহেল মিয়ার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ দিকে, নিখোঁ্তের বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরের অম্বিকাগঞ্জ কলেজ মাঠে বিকেলে মরদেহের সন্ধান মেলে।
কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মাহবুবুল আলম এ বিষয়ে বলেন, ‘মঙ্গলবার আমাদের কলেজের জন্য একটি একাডেমিক ভবন বরাদ্দ হয়। সেই ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ বের করার জন্য ছাত্র ও কর্মচারীরা কিছু মাপামাপির কাজ করতে যান। দুপুর পৌনে ৩টার দিকে সেখান গিয়ে দেখি সীমানা প্রাচীর ভাঙা এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সেই দুর্গন্ধের কারণ খুঁজতে গিয়ে চারদিকে খোঁজ করতে গিয়ে মানুষের মাথা দেখতে পাই। পরে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় পুলিশের অবহিত করলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ আসে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার নিখোঁজ যুবকের মরদেহ বলে পরিবার শনাক্ত করেছে। নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডিও করা হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে। পরে মরদেহের সন্ধানের জন্য মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হয়। রাত পৌনে ৮টার দিকে মরদেহ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। মাটি খুঁড়তে সময় লাগে দুজন ব্যক্তি। মাটির মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসে প্রথম দুটি গ্লাভস। পরে কয়েকফুট গভীর থেকে রাত পৌনে ৯টার দিকে মাথাবিহীন দেহ বেরিয়ে আসে।
নিহতের শ্বশুর আলাল উদ্দিন বলেন, ‘গত ১৬ জুলাই রাত ৮টার পর সোহেলের ভগ্নীপতি সেলিম মিয়া কাজের কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। সোহেল ও সেলিম একসঙ্গে গাছ কাটার কাজে নিযুক্ত ছিলেন, তবে ঠিকমতো পারিশ্রমিক পাওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। সোহেলকে ঠিকমতো টাকা না দেওয়ায় ভগ্নীপতি সেলিম তাকে মারধর করে। এর পর সোহেল ঢাকায় গিয়ে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ শুরু করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘সোহেল বাড়িতে আসার খবর পেয়ে তাকে কাজ দেয়ার কথা বলে ডেকে নেয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যায়। সেলিমের কাছে সন্ধান চাইলে তারা কিছু জানায়নি। এর মধ্যেই মঙ্গলবার সেলিম পালিয়ে যায়।’
আলাল উদ্দিন আরও জানান, এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে একটি মাথার খুলি দেখতে পেয়ে তারা পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। এরপর মরদেহের অন্যান্য অংশ উদ্ধার হয়। তার দাবি, দুর্গন্ধ না ছড়ালে হয়তো মরদেহের সন্ধানই মিলত না। তিনি দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম জানান, ‘মাথা বিচ্ছিন্ন মাটিচাপা দেয়া মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একটি পরিবার তাদের সন্তান বলে ধারণা করছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য নিহতের আঙুলের ছাপ থেকে পরিচয় শনাক্তে পিবিআইকে ডাকা হয়েছে। এছাড়া ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে।’
তিনি আরও জানান, ‘নিহতের ভগ্নীপতিকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। সে বিষয়টিও যাচাই করা হচ্ছে। কারা কী কারণে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখে সেটি তদন্ত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বগুড়া সদরে পূর্ব শত্রুতার কারণে সাগর মণ্ডল (২৬) নামক এক স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী ও সাবেক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
এটি ঘটেছে বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার সময়ে সদর উপজেলার চালিতাবাড়ি গ্রামে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শাপলা নামের এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত সাগর মণ্ডল ছিলেন সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন সক্রিয় কর্মী। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র এবং মাদকসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে, এমতাবস্থায় পুলিশ জানিয়েছে।
স্বজনেরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘদিন ধরে চাচাতো ভাই জেলহাসের সাথে স্থানীয় আধিপত্য এবং জমি নিয়ে সাগরের বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের ফলস্বরূপ, তিনি নিজ গ্রাম পাঁচবাড়িয়া ছেড়ে স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ি চালিতাবাড়ি গ্রামে বসবাস শুরু করেছিলেন।
স্বজনদের বর্ণনায়, বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সাগর বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই মুহূর্তে জেলহাসের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল হাসন-আস্ত্র নিয়ে তার উপর হামলা চালায়। তারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে, সাগরকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাগরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ ছিল, আহত সাগরকে হাসপাতালে নেয়ার সময়ও হামলাকারীরা তাদের ধাওয়া করে।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এছাড়া ঘটনাটি নিয়ে একটি নারীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) এক ডিলারের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন লেগেছে।
বুধবার (২৩ জুলাই) রাত ১০টার দিকে নাচোল উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের হাটবাকইল বাজারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর গোডাউন থেকে নয়ন (১৮) নামে এক ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
নিহত নয়ন হাটবাকইল এলাকার আব্বাস আলীর ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাতে হঠাৎ গোডাউনে আগুন দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন স্থানীয়রা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে ডাল, তেল, চিনি ও অন্যান্য টিসিবির পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়। এদিকে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে ভেতর থেকে নয়নের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে নাচোল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ এমদাদুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় নয়ন গোডাউনের ওপরতলায় উঠেছিলেন। পরে ঘন ধোঁয়ায় কিছু দেখতে না পেয়ে সেখানেই আটকা পড়েন এবং তার মৃত্যু হয়।
নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ ও সার্বিক বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনপূর্বক নতুন পাসপোর্ট ইস্যু ও পুনঃইস্যুর (রি-ইস্যু) কার্যক্রমের সময়সীমা সরকার আরও ছয় মাস বৃদ্ধি করেছে।
নতুন সিদ্ধান্তের অনুযায়ী, এ বিশেষ সুবিধা আগামী ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রাখা এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় সরকারের পূর্বে জারি করা আদেশের মেয়াদ আরও ছয় মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এর ফলে বিদেশে অবস্থানরত যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের পাসপোর্টে নাম, জন্মতারিখ, পিতামাতার নাম বা অন্যান্য তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধিত তথ্যের ভিত্তিতে পাসপোর্ট ইস্যু বা পুনঃইস্যুর আবেদন করতে পারবেন।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৫ সালের ৮ জুলাই জারি করা আদেশের মেয়াদ ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল।
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, দেশের সব বাংলাদেশ মিশন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়সীমা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদেশে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশি, যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে পারেননি, তারা এখন নতুন সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।
এ ফলে প্রবাসীদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে এবং বৈধ ভ্রমণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় তারা উপকৃত হবেন। সূত্র বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ