প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ময়মনসিংহে দুর্গন্ধের কোনো কারণ খুঁজতে গিয়ে সোহেল মিয়া (২৬) নামে নিখোঁজ এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রথমত মাথা ও পরে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে পুলিশ ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত সোহেল মিয়া পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া নূরুল ইসলাম ও জুলেখা বেগম দম্পতির সন্তান। তিনি দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। এলাকায় তিনি গাছ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
স্বজনরা জানালেন, গত ১৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে সোহেল মিয়া নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় বুধবার সকালে নিহতের বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। কিন্তু তার পরও সোহেল মিয়ার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ দিকে, নিখোঁ্তের বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরের অম্বিকাগঞ্জ কলেজ মাঠে বিকেলে মরদেহের সন্ধান মেলে।
কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মাহবুবুল আলম এ বিষয়ে বলেন, ‘মঙ্গলবার আমাদের কলেজের জন্য একটি একাডেমিক ভবন বরাদ্দ হয়। সেই ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ বের করার জন্য ছাত্র ও কর্মচারীরা কিছু মাপামাপির কাজ করতে যান। দুপুর পৌনে ৩টার দিকে সেখান গিয়ে দেখি সীমানা প্রাচীর ভাঙা এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সেই দুর্গন্ধের কারণ খুঁজতে গিয়ে চারদিকে খোঁজ করতে গিয়ে মানুষের মাথা দেখতে পাই। পরে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় পুলিশের অবহিত করলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ আসে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার নিখোঁজ যুবকের মরদেহ বলে পরিবার শনাক্ত করেছে। নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডিও করা হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে। পরে মরদেহের সন্ধানের জন্য মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হয়। রাত পৌনে ৮টার দিকে মরদেহ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। মাটি খুঁড়তে সময় লাগে দুজন ব্যক্তি। মাটির মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসে প্রথম দুটি গ্লাভস। পরে কয়েকফুট গভীর থেকে রাত পৌনে ৯টার দিকে মাথাবিহীন দেহ বেরিয়ে আসে।
নিহতের শ্বশুর আলাল উদ্দিন বলেন, ‘গত ১৬ জুলাই রাত ৮টার পর সোহেলের ভগ্নীপতি সেলিম মিয়া কাজের কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। সোহেল ও সেলিম একসঙ্গে গাছ কাটার কাজে নিযুক্ত ছিলেন, তবে ঠিকমতো পারিশ্রমিক পাওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। সোহেলকে ঠিকমতো টাকা না দেওয়ায় ভগ্নীপতি সেলিম তাকে মারধর করে। এর পর সোহেল ঢাকায় গিয়ে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ শুরু করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘সোহেল বাড়িতে আসার খবর পেয়ে তাকে কাজ দেয়ার কথা বলে ডেকে নেয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যায়। সেলিমের কাছে সন্ধান চাইলে তারা কিছু জানায়নি। এর মধ্যেই মঙ্গলবার সেলিম পালিয়ে যায়।’
আলাল উদ্দিন আরও জানান, এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে একটি মাথার খুলি দেখতে পেয়ে তারা পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। এরপর মরদেহের অন্যান্য অংশ উদ্ধার হয়। তার দাবি, দুর্গন্ধ না ছড়ালে হয়তো মরদেহের সন্ধানই মিলত না। তিনি দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম জানান, ‘মাথা বিচ্ছিন্ন মাটিচাপা দেয়া মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একটি পরিবার তাদের সন্তান বলে ধারণা করছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য নিহতের আঙুলের ছাপ থেকে পরিচয় শনাক্তে পিবিআইকে ডাকা হয়েছে। এছাড়া ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে।’
তিনি আরও জানান, ‘নিহতের ভগ্নীপতিকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। সে বিষয়টিও যাচাই করা হচ্ছে। কারা কী কারণে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখে সেটি তদন্ত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন