বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:৪৩ পি.এম
রংপুরের পীরগঞ্জে একটি সরকারি মূল্যবান রেইনট্রি গাছ ঝড়ের কারণে উপড়ে পড়ার পর পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এটি স্থানীয় সাংবাদিকদের তৎপরতা এবং উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গাছের গুঁড়িকে পরে উপজেলা পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) রাতে পীরগঞ্জ–মাদারগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে একটি বড় রেইনট্রি গাছ ঝোড়ো বাতাসে উপড়ে পড়ে। খবর পাওয়ার পর পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গাছটি কাটেন এবং সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। গাছের গুঁড়ি উপজেলা পরিষদে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেগুলো কয়েকটি ভ্যানে করে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের দিকে নেওয়া হচ্ছিল।
এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে যে পথে সাংবাদিকরা ফিরছিলেন, সেখানে কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক বিষয়টি দেখে সন্দেহ করেন। তারা ভ্যানটির পিছু নেন এবং পরে মিরপুর এলাকার একটি করাতকলে গাছের গুঁড়ি নেওয়া হলে সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হন এবং প্রশ্ন করতে থাকেন।
এরপর সাংবাদিকদের জানানো হয় পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানকে। তার নির্দেশে গাছের গুঁড়িগুলো উদ্ধার করা হয় এবং উপজেলা পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি গাছের পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত ছিল এবং কীভাবে বর্তমান সরকারি গাছটি উপজেলা পরিষদে নেওয়ার পরিবর্তে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন সরোয়ার আলমগীর। এই শপথ অনুষ্ঠানে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার কার্যালয়ে এ শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি-৫ এর আলোকে এই শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। শপথ গ্রহণের পরে নতুন সংসদ সদস্য প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সংসদ সচিবের কক্ষে রক্ষিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ এবং অন্যান্য হুইপরা। এছাড়া, বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সময় উপস্থিত থেকে নবনির্বাচিত এমপিকে অভিনন্দন জানান।
এর আগে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইদিন দুপুরে সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায়ের পর সারোয়ার আলমগীরের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি যে আদেশ দিয়েছিল, তা অবৈধ এবং তার প্রার্থিতা বৈধ ছিল বলে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। ফলে, তার ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথ নিতে আইনগত বাধা নেই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে লড়তে সারোয়ার আলমগীরের দাখিল করা মনোনয়নপত্র গত ২ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেন। এ নিয়ে ইসিতে আপিল করেন একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এই আপিল করেন। আপিল মঞ্জুর করে সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র গ্রহণের রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বাতিল করে গত ১৮ জানুয়ারি রায় দেয় নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ, নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়।
এ নিয়ে নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল দিয়ে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।
তবে, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, যদি তিনি (সারোয়ার আলমগীর) নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সফল হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তার জন্য প্রযোজ্য) এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। এই আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। রুল নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ চলমান থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তাঁর জন্য প্রযোজ্য) স্থগিত থাকবে।
আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে গত ২১ জুন। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২ জুলাই শুনানি শেষে আজ রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দেন আদালত।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম শুনানিতে অংশ নেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন।
জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও আবদুল্লাহ সাদিক। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. রাজু মিয়া।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ।গ্রেপ্তারের পরে থানার জেল হাজতে রেখে নিজের মাথায় নিজে আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পরে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল নিয়ে থানার ভিতরে ঢুকে হামলা করে। পরে পুলিশ ও মিছিলকারীদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়ে যায়। ডিউটি অফিসারসহ ছয়জন পুলিশ ও মিছিলকারীদের তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহত প্রতিপক্ষের কয়েকজন গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. ছিদ্দিক ফকিরের ছেলে রিয়াজ ফকিরকে (২৬) একটি চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর রিয়াজকে থানার জেল হাজতে রাখার পরে নিজের মাথায় নিজে আঘাত করলে অজ্ঞান হয়ে যায়। বুধবার রাত ১১টায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রিয়াজের জ্ঞান ফিরে না আসায় গভীর রাতে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরের পরে চিকিৎসাধীন রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব তার এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রিয়াজের আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার শতাধিক লোকজন বৃহস্পতিবার বিকেলে মিছিল নিয়ে থানায় গিয়ে হামলা করলে থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিমকে মারধর করে। আত্মরক্ষায় পুলিশ মিছিলকারীদের উপর হামলা চালালে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার, মমতাজ বেগমসহ ছয়জন আহত হন। গ্রেপ্তার আতঙ্কে আহত অনেকে গোপন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়াও মিছিলকারীদের হামলায় থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিম, কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হন। গুরুত্বর আহত অবস্থায় ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিমকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রিয়াজের বোন শারমিন আক্তার ও স্থানীয় মমতাজ বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বরিশাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম ও পিতা সিদ্দিক ফকির সাংবাদিকদের জানান, "আমার ছেলেকে রাস্তা থেকে বিনা অপরাধে পুলিশ ধরে নিয়ে মারধর করেছে। যার জন্য গুরুত্বর আহত অবস্থায় বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।" বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত রিয়াজ ফকির বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, "চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে জেল হাজতে বসে বুধবার রাতে নিজেই মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে যায় ফলে তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যার কারণে পরিকল্পিত ভাবে রিয়াজের আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল নিয়ে থানায় হামলা করে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে আহত করে। থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিরলে রেললাইনের পার্শ্ব হতে এক দিনমজুরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে উঋজেলার ০৩ নং ধামইর ইউনিয়নের বাদরুনিয়া গ্রামের মৃত ধরণী দেবশর্মা এর ছেলে বাহিরু দেবশর্মা (৫৫) বলে মৃতর পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। সে বুধবার রাতে খাওয়ার পর পয়নিষ্কাশনের জন্য বাড়ীর বাহিরে গেলে আর ফিরে আসেনি। বৃহস্পতিবার সকালে মৃতদেহ দেখে পরিবারের লোকজন পরিচয় সনাক্ত করে। তবে সে মৃগী রোগী ছিল এবং পানি খরচ করার সময় তার মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এরিপোর্ট লেখাকালীন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্তের জন্য লাশ প্রেরণ করা হয়েছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সৎ ছেলের বিরুদ্ধে স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা, নির্যাতন এবং বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক বৃদ্ধা মা তার ছেলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেছেন, তার স্বামী প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে মুসলিম শরিয়াহ মোতাবেক জহুরুল মাস্টারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। তাদের একসাথে স্বামী-স্ত্রী হয়ে বসবাস করার সময়, স্বামীর প্রথম পক্ষের ছেলে মো. কবির উদ্দীন মিঠু শুরু থেকেই তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে থাকে এবং বিভিন্ন সময়ে শারীরিক নির্যাতন চালাতো।
এছাড়া, তিনি আরও দাবি করেছেন, তার স্বামীকে চিকিৎসার নামে জন্মনিয়ন্ত্রণের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে তাদের কোনো সন্তান হয়নি। প্রায় পাঁচ বছর আগে এক সকালে কিছু ওষুধ খাওয়ানোর পর তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ওই দিন রাতেই মারা যান। এই ঘটনার পর তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর মো. কবির উদ্দীন মিঠু তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি করে। তার ঘরে থাকা নগদ টাকা, ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার, কাপড়-চোপড়, আসবাবপত্রসহ অন্যান্য মালামাল জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। এছাড়া, বাড়ির টিউবওয়েল এবং বাথরুম ব্যবহার করতে বাধা দেওয়া, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে স্বামীর ভিটাছাড়া করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বৃদ্ধা মা জানান, বর্তমানে তিনি কালীগঞ্জ থানার ফয়লা মাস্টারপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করছেন। তার দাবি, স্বামীর রেখে যাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে তাকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করে অভিযুক্ত ব্যক্তি এককভাবে ভোগদখল করছেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তার কোন সুফল মেলেনি। বরং, অভিযুক্ত মো. কবির উদ্দীন মিঠুর বিরুদ্ধে তাকে হয়রানি করতে আদালতে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, তার বয়স ৬০ বছরের বেশি। তিনি নিঃসন্তান, অসহায় এবং উপার্জনক্ষম নন। আদালতে হাজিরার জন্য তার আর্থিক কষ্ট হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি তার স্বামীর সম্পত্তিতে আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত মো. কবির উদ্দীন মিঠুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযুক্ত মো. কবির উদ্দীন মিঠু বলেন, সংবাদ সম্মেলনে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তা সঠিক নয়, কারণ তিনি আমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী। আমাদের এখানে জমির পরিমাণ মাত্র ৩ শতক। আমি তাকে থাকার জন্য একটি ঘর দিয়েছি, কিন্তু তিনি সেখানে থাকেন না। এসব বিষয়ে কোর্টে মামলা চলছে। তিনি যে রায়ের কথা বলছেন, সেটা আদালত থেকে তাকে থাকার অনুমতি দিয়েছে। বিষয়টি অনেক পুরাতন, সাবেক এমপিসহ অনেকেই এই বিষয়ে একাধিকবার বিচার সালিশ করেছেন। তবে, তিনি কোন সমাধান মানেননি বলেও জানান তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ