প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ।গ্রেপ্তারের পরে থানার জেল হাজতে রেখে নিজের মাথায় নিজে আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পরে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল নিয়ে থানার ভিতরে ঢুকে হামলা করে। পরে পুলিশ ও মিছিলকারীদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়ে যায়। ডিউটি অফিসারসহ ছয়জন পুলিশ ও মিছিলকারীদের তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহত প্রতিপক্ষের কয়েকজন গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. ছিদ্দিক ফকিরের ছেলে রিয়াজ ফকিরকে (২৬) একটি চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর রিয়াজকে থানার জেল হাজতে রাখার পরে নিজের মাথায় নিজে আঘাত করলে অজ্ঞান হয়ে যায়। বুধবার রাত ১১টায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রিয়াজের জ্ঞান ফিরে না আসায় গভীর রাতে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরের পরে চিকিৎসাধীন রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব তার এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রিয়াজের আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার শতাধিক লোকজন বৃহস্পতিবার বিকেলে মিছিল নিয়ে থানায় গিয়ে হামলা করলে থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিমকে মারধর করে। আত্মরক্ষায় পুলিশ মিছিলকারীদের উপর হামলা চালালে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার, মমতাজ বেগমসহ ছয়জন আহত হন। গ্রেপ্তার আতঙ্কে আহত অনেকে গোপন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়াও মিছিলকারীদের হামলায় থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিম, কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হন। গুরুত্বর আহত অবস্থায় ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিমকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রিয়াজের বোন শারমিন আক্তার ও স্থানীয় মমতাজ বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বরিশাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম ও পিতা সিদ্দিক ফকির সাংবাদিকদের জানান, "আমার ছেলেকে রাস্তা থেকে বিনা অপরাধে পুলিশ ধরে নিয়ে মারধর করেছে। যার জন্য গুরুত্বর আহত অবস্থায় বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।" বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত রিয়াজ ফকির বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, "চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে জেল হাজতে বসে বুধবার রাতে নিজেই মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে যায় ফলে তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যার কারণে পরিকল্পিত ভাবে রিয়াজের আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল নিয়ে থানায় হামলা করে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে আহত করে। থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন