১০:২৭ এম
চট্টগ্রাম-২ বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে কোনো বাধা নেই, এ কথা জানিয়েছেন আপিল বিভাগ। এই সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, জামায়াত প্রার্থী চাইলে নিয়মিত আপিল করতে পারবেন। বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সারোয়ার আলমগীরকে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগদান থেকে বিরত রাখতে করা আপিল আবেদনের ওপর সিদ্ধান্তের দিনায়াজ সম্পন্ন করা হয়।
আদালতে ওইদিন বিএনপির সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন উপস্থিত ছিলেন। আপিলকারী জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এর আগে, সরোয়ার আলমগীরের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নুরুল আমীন আপিল বিভাগে আবেদন করেন। তিনি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করতে চান এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীর যাতে সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে না পারেন, এর জন্য নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চান। আবেদনের ওপর ২৭ ও ২৮ জুলাই দুইদিন শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিন ঠিক করে।
ভোটের আগে, রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করার পর ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল আমীন। শুনানি শেষে, ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করে।
ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর। ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের আদেশ স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয় এবং রুল জারি করে। এরপর নুরুল আমীন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত লিভ মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে সরোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন, তবে আদালতের নির্দেশনার কারণে ওই সময় তার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। পরে, ১৬ জুন আপিল বিভাগের শুনানি শেষে হাইকোর্টকে যত দ্রুত সম্ভব, সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ৩ ফেব্রুয়ারির অন্তর্বর্তী আদেশ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহাল রাখা হয়।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন। এই রায়ের পর ওইদিন গেজেট প্রকাশের পাশাপাশি সন্ধ্যায় সরোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ পড়ানো হয়। পরবর্তী সময়ে, হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে ১৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন নুরুল আমীন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, রায়ের লিখিত অনুলিপি প্রকাশের আগেই নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে এবং তাকে শপথ পড়ানো হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন