ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়?


স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়?

স্বামী স্ত্রীকে ‘বোন’ অথবা স্ত্রী স্বামীকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করলে কি বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটে? এ প্রশ্নটি অনেকের মনে উঁকি দেয়। কিছু মানুষ স্নেহের কারণে, কেউ অভ্যাসবশত, আবার কেউ মজা করেও এ ধরনের সম্বোধন ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়ে কী বিধান রয়েছে?

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, শুধু স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করলেই স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে যায় না। কিন্তু স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে এভাবে সম্বোধন করার সময় তাঁর উদ্দেশ্য এবং কথার প্রেক্ষাপটের ওপর শরয়ি বিধান ভিন্ন হতে পারে।

হানাফি ফিকহভিত্তিক ফতোয়া অনুযায়ী, স্ত্রী স্বামীকে ‘ভাই’ বলে ডাকলে এটি জিহার হিসেবে গণ্য হয় না। ফলে এতে বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন ঘটে না।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ: সিস্টার ডেইজির জীবনের গল্প

এ বিষয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং ইসলামি চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ মন্তব্য করেন, স্বামীকে ‘ভাই’ অথবা স্ত্রীকে ‘বোন’ বলে সম্বোধন করা অনুচিত।

তিনি একটি হাদিসের উল্লেখ করে বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে এক সাহাবি যখন তাঁর স্ত্রীকে এভাবে সম্বোধন করেন, তখন তিনি বিষয়টি পছন্দ করেননি।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, এ ধরনের সম্বোধনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। বিশেষ করে স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে এমন কথা বলার ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য এবং প্রেক্ষাপটের গুরুত্ব রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট কোনো ঘটনায় শরয়ি বিধান জানার প্রয়োজন হলে যোগ্য আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা পুত্রবধূর জন্য বাধ্যতামূলক নয়, জানুন ইসলামের বিধান

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের ১১৪ বছরের পুরনো চিঠি প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


নোবেল পুরস্কারের ফেসবুক পেজে রবীন্দ্রনাথ ও রাসেলের ১১৪ বছরের পুরনো চিঠি প্রকাশ

নোবেল পুরস্কারের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক ও যুক্তিবিদ বার্ট্রান্ড রাসেলের মধ্যকার ১১৪ বছরের পুরনো একটি অত্যন্ত বিরল ও ঐতিহাসিক চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে।

এই অমূল্য চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর তা বিশ্বজুড়ে গবেষক ও সাহিত্যপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দুই নোবেলজয়ীর মধ্যকার এই চিঠির ছবি নোবেল প্রাইজ কর্তৃপক্ষ পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছে, "সাহিত্যে নোবেলজয়ী বার্ট্রান্ড রাসেল এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মধ্যকার ১১৪ বছরের পুরনো এই চিঠিপত্রটির দিকে একবার নজর দিন।"

কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরির বার্ট্রান্ড রাসেল আর্কাইভস থেকে সংগৃহীত এই চিঠি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের দর্শনের এক অনন্য সেতুবন্ধন। ১৩ অক্টোবর, ১৯১২ সালে লেখা এই চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ রাসেলকে জানান যে, তিনি সম্প্রতি রাসেলের লেখা বিখ্যাত প্রবন্ধ দ্য এসেন্স অব রিলিজিয়ন (ধর্মের সারকথা) পড়া শেষ করেছেন।

রবীন্দ্রনাথ চিঠিতে উল্লেখ করেন, রাসেলের এই প্রবন্ধটি তাকে সনাতন ধর্মের পবিত্র উপনিষদের একটি শ্লোকের কথা মনে করিয়ে দেয়। উপনিষদ হলো প্রাচীন সংস্কৃতে রচিত আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক গ্রন্থ, যা বহু হিন্দু ঐতিহ্যের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯১২ সালের শুরুর দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন, তখন সেখানে বার্ট্রান্ড রাসেলের সাথে তার ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই মূলত এই দুই যুগান্তকারী মনীষীর মধ্যে গভীর চিন্তাভাবনার আদান-প্রদান শুরু হয়েছিল।

চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ সরাসরি রোমান হরফে মূল সংস্কৃত শ্লোকটি উদ্ধৃত করেন এবং এর ইংরেজি অনুবাদ ও নিজস্ব দর্শন ব্যাখ্যা করে রাসেলকে বুঝিয়েছিলেন যে, মানুষ যখন নিজের সংকীর্ণ বা সসীম সত্তার দেয়াল ভেঙে অসীমের জীবনের আনন্দ লাভ করতে পারে, তখনই সে সব রকমের জাগতিক ভয় থেকে মুক্তি পায়।

এই চিঠি লেখার ঠিক এক বছর পর, ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কাব্যের জন্য প্রথম অ-ইউরোপীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করে বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস গড়েন। এর ঠিক ৩৭ বছর পর, ১৯৫০ সালে বার্ট্রান্ড রাসেলও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে এই চিঠিটি প্রকাশের মাধ্যমে দুই মহান নোবেলজয়ীর মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধন এবং দর্শনচর্চাকে বর্তমান বিশ্ববাসীর কাছে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলো।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রিন কার্ড আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা রিসিট নম্বর দিয়ে জানুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


গ্রিন কার্ড আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা রিসিট নম্বর দিয়ে জানুন

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানার জন্য আবেদনকারীরা এখন ঘরে বসেই অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন হবে আবেদন গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত নোটিশে থাকা রিসিট নম্বর। সরকারি ওয়েবসাইটে এই নম্বর ব্যবহার করে আবেদন গ্রহণ, বায়োমেট্রিকসের সময় নির্ধারণ, আবেদন অনুমোদন এবং কার্ড পাঠানোর মতো বিভিন্ন তথ্য জানা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার অনলাইন সেবাটি ব্যবহার করার জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। আবেদনকারীদের প্রথমে সংস্থার সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ঘরে রিসিট নম্বর লিখে ‘স্ট্যাটাস যাচাই’ বোতামে ক্লিক করলে আবেদনের সর্বশেষ প্রকাশিত অবস্থা দেখা যাবে।

রিসিট নম্বরটি সাধারণত ১৩টি অক্ষর ও সংখ্যা দিয়ে তৈরি হয়। এর শুরুতে থাকে তিনটি ইংরেজি অক্ষর এবং পরে ১০টি সংখ্যা থাকে। নম্বরের শুরুতে আইওই, এসআরসি, এলআইএন, ইএসি, ডব্লিউএসি, এনবিসি ও এমএসসির মতো অক্ষর থাকতে পারে। আবেদন বা পিটিশন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে এই নম্বর পাওয়া যায়। নম্বর লেখার সময় মাঝখানে হাইফেন থাকলে তা বাদ দিতে হবে।

আবেদনের অবস্থা যাচাই করতে সরকারি ওয়েবসাইটের নির্ধারিত পাতায় যেতে হবে। সেখানে রিসিট নম্বর লিখে অনুসন্ধান করলে সংশ্লিষ্ট আবেদনের তথ্য দেখা যাবে। স্ট্যাটাসে ‘আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে’ দেখালে বুঝতে হবে, আবেদনটি সংস্থা গ্রহণ করেছে। ‘বায়োমেট্রিকসের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে’ দেখালে আঙুলের ছাপসহ প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য সময় ঠিক করা হয়েছে। আর ‘আবেদন অনুমোদিত হয়েছে’ দেখালে সংশ্লিষ্ট আবেদন অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যাবে। তবে সব আবেদনের প্রক্রিয়া এক রকম নয়। তাই প্রদর্শিত বার্তাটি ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি।

আবেদনসংক্রান্ত আরও তথ্য পেতে আবেদনকারীরা সংস্থার অনলাইন হিসাবও ব্যবহার করতে পারেন। এ জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে হিসাব তৈরি করে অথবা আগে থেকে থাকা হিসাবে প্রবেশ করে নিজের আবেদন যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে আবেদনের তথ্য দেখা, কিছু নোটিশ ও বার্তা পাওয়া এবং নির্দিষ্ট অনলাইন সেবা ব্যবহার করা যায়। তবে আবেদন ও কেসের ধরন অনুযায়ী অনলাইনে পাওয়া তথ্য এবং সুবিধার মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। হিসাব খুললেই সব চিঠি বা প্রতিটি ধাপের তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

গ্রিন কার্ড তৈরি হয়ে ডাকযোগে পাঠানো হলে অনলাইন স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের মাধ্যমে কার্ডের অগ্রগতি দেখার জন্য অনুসরণ নম্বরও পাওয়া যেতে পারে। সেই নম্বর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের ওয়েবসাইটে কার্ড কোথায় রয়েছে, তা জানা সম্ভব। তবে কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখানোর পরও নির্ধারিত সময়ে হাতে না পৌঁছালে সংস্থার ‘ই-রিকোয়েস্ট’ সেবায় অনুসন্ধান করা যায়।

অনলাইনে আবেদনের অবস্থা যাচাই করতে সমস্যা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার যোগাযোগকেন্দ্রে ১-৮০০-৩৭৫-৫২৮৩ নম্বরে ফোন করা যাবে। শ্রবণ বা বাক্‌সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে ১-৮০০-৭৬৭-১৮৩৩ নম্বর। স্বয়ংক্রিয় ফোনসেবা ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যায়। তবে সরাসরি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময় সাধারণত সোমবার থেকে শুক্রবার, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে যোগাযোগের জন্য ২১২-৬২০-৩৪১৮ নম্বরও দেওয়া হয়েছে।

তবে আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানা এবং আবেদন সম্পন্ন হতে কত দিন লাগবে, তা জানা এক বিষয় নয়। কোনো আবেদন দীর্ঘদিন একই অবস্থায় থাকলে সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র ও শ্রেণি অনুযায়ী সংস্থার প্রক্রিয়াকরণের সময়সংক্রান্ত সেবা থেকে আনুমানিক সময় দেখা যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হলে যোগ্য আবেদনকারীরা অনলাইনে অনুসন্ধান জমা দিতে পারেন। শুধুমাত্র স্ট্যাটাস দেখে আবেদন অনুমোদিত হবে কি না কিংবা কবে গ্রিন কার্ড হাতে আসবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

আবেদনকারীদের রিসিট নম্বরের নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। নম্বরটি ব্যক্তিগত আবেদনের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করে শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা উচিত। সংস্থার নামে পরিচালিত অননুমোদিত ওয়েবসাইট কিংবা অর্থের বিনিময়ে আবেদনের অবস্থা জানিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব এড়িয়ে চলতে হবে। আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা, অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার অনুরোধ বা আইনি প্রশ্ন থাকলে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS - Case Status Online ও Contact Center), যুক্তরাষ্ট্র সরকারের USA.gov-এর অভিবাসন কেস স্ট্যাটাস নির্দেশনা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাজের আশায় অস্বস্তিকর অন্তরঙ্গ দৃশ্যেও রাজি হতেন লিনা হেডি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


কাজের আশায় অস্বস্তিকর অন্তরঙ্গ দৃশ্যেও রাজি হতেন লিনা হেডি

ক্যারিয়ারের প্রথম পর্যায়ে কাজের সুযোগ পাওয়ার জন্য হলিউড অভিনেত্রী লিনা হেডি নগ্নতা, চুম্বন এবং অন্তরঙ্গ দৃশ্যের মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন। তখন তার কাছে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াই ছিল সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়। ফলে, তিনি নিজের অস্বস্তি বা ব্যক্তিগত সীমারেখা নিয়ে খুব বেশি প্রশ্ন তুলতেন না।

সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, লিনা তার অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের অভিজ্ঞতা এবং হলিউডের ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

‘গেম অব থ্রোনস’ সিরিজে সার্সি ল্যানিস্টার চরিত্রে অভিনয় করে লিনা বিশ্বজুড়ে পরিচিতি অর্জন করেন। সিরিজটির পঞ্চম মৌসুমের শেষের দিকে তার চরিত্রের একটি নগ্ন দৃশ্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সেখানে সার্সিকে অপমানের শাস্তি হিসেবে নগ্ন অবস্থায় জনতার সামনে দিয়ে হাঁটতে বাধ্য করা হয়।

তবে, এই দৃশ্যে লিনার পরিবর্তে একজন বডি ডাবল ব্যবহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিশেষ ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের মাধ্যমে দুজনের পারফরম্যান্স একত্রিত করা হয়। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিনেত্রী সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন। কিছু দর্শক বিষয়টিকে প্রতারণা হিসেবে দেখলেও লিনার ব্যাখ্যা ছিল ভিন্ন।

তিনি বলেন, "বিপুলসংখ্যক মানুষের সামনে কয়েক দিন ধরে নগ্ন হয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা চরিত্রের আবেগের পরিবর্তে নিজের আত্মরক্ষার বিষয়টি প্রাধান্য পেতে পারত।" এতে সার্সির মানসিক অবস্থা বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তোলা কঠিন হতো। তাই শুটিংয়ে উপস্থিত থেকে চরিত্রটির আবেগ প্রকাশের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিনা জানান, কাজ পাওয়ার আনন্দে তিনি অনেক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি মেনে নিতেন। তবে বর্তমানে অতীতের দিকে ফিরে তিনি উপলব্ধি করেন, নিজের সীমারেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার আত্মবিশ্বাস তখন তার মধ্যে যথেষ্ট ছিল না।

হলিউডের ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়েও তিনি কথা বলেছেন। তার অভিযোগ, প্রযোজক হার্ভি ওয়াইনস্টিনের অগ্রহণযোগ্য আচরণের প্রতিবাদ করার পর মিরাম্যাক্সের আর কোনো ছবিতে কাজের সুযোগ পাননি তিনি। লিনার ধারণা, ওই প্রযোজকের ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার না করায় পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু কাজের সম্ভাবনা হারিয়েছিলেন।

লিনার এই অভিজ্ঞতা হলিউডের বিনোদনজগতে ক্ষমতার অপব্যবহার, কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সীমারেখা এবং কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে শিল্পীদের ওপর তৈরি হওয়া চাপের বিষয়গুলোকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথম ধাপে ৮০০ ইউপিতে ভোট, বিশৃঙ্খলা ও প্রভাব বিস্তারে কঠোর শাস্তির ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


প্রথম ধাপে ৮০০ ইউপিতে ভোট, বিশৃঙ্খলা ও প্রভাব বিস্তারে কঠোর শাস্তির ঘোষণা

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী বছরের ২৭ মের মধ্যে পাঁচ ধাপে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রথম ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২১ জানুয়ারি, যেখানে প্রায় ৮০০ ইউপিতে ভোট হবে।

নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, পেশিশক্তির ব্যবহার এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা হলে কমিশন তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়েও কমিশন কঠোর অবস্থানে থাকবে। নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে জুডিসিয়াল ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘন করলে প্রার্থিতা বাতিলের বিধানও রয়েছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধাপভিত্তিক নির্বাচনি এলাকা নির্ধারণ করা হবে। প্রথমে জেলা সদরসংলগ্ন এবং পরে উপজেলা সদরের কাছাকাছি ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো সহজ হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা যাবে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, "ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে মানদণ্ড, সেই আলোকে অবশ্যই ভালো নির্বাচন করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে। আমাদের নিজস্ব কোনো মোটিভ নেই। আমরা ভালো নির্বাচন করার জন্যই দায়িত্ব নিয়েছি। ভালো নির্বাচন করার জন্য যা যা প্রয়োজন, সবই আমরা করব। আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা থাকবে।"

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দলগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হবে, যাতে সবাই মিলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে।

ইউপি নির্বাচনে যেকোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার প্রতিরোধে কমিশনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্বাচনে জুডিসিয়াল ও এক্সিকিউটিভ—দুই ধরনের ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। কেউ নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পক্ষের প্রতি বিশেষ বিবেচনা না করে অপরাধে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে মারামারি, বিশৃঙ্খলা বা পেশিশক্তির ব্যবহার বরদাশত করা হবে না। কোনো প্রার্থী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে।

কমিশনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র শাস্তি দেওয়া বা নির্বাচন বন্ধ করা নয়, বরং মানুষ যাতে অপরাধ থেকে বিরত থাকে এবং আইন মেনে চলে, সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করাই কমিশনের লক্ষ্য।

গত সোমবার কমিশন সভা শেষে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা। সাধারণত ভোটগ্রহণের প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচনি অপরাধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন, বলপ্রয়োগ ও ভোটারদের বাধা দেওয়ার মতো অপরাধ প্রতিরোধে সংশোধিত নির্বাচনি বিধিমালায় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) সংশোধিত নির্বাচন বিধিমালার ৮০(ক) বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিকে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, আঘাত বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বাধা দেওয়া অপরাধ। কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যম প্রতিনিধি বা পর্যবেক্ষকের কাজে বাধা দেওয়া, তাদের শারীরিক ক্ষতি করা কিংবা দায়িত্ব পালনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম নষ্ট করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ ছাড়া কোনো ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা, কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে বিরত রাখা কিংবা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডও এ বিধির আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

সংশোধিত বিধিমালায় প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে যে চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন, কমিশন তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন যদি সন্তুষ্ট হয় যে কোনো প্রার্থী, তার নির্বাচনি এজেন্ট অথবা তার নির্দেশে কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিতে অন্য কেউ বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন, তাহলে লিখিত আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।

নির্বাচনি অনিয়মের কারণে কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে তা স্থগিত করার ক্ষমতাও কমিশনের রয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের মাধ্যমে কোনো ভোটকেন্দ্র বা একাধিক কেন্দ্রের ফলাফল প্রভাবিত হয়েছে বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ফলাফল স্থগিত করা যাবে।

কমিশন প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালিয়ে ফলাফল প্রকাশের নির্দেশ দিতে পারবে। আর অনুসন্ধানে ন্যায়সংগত মনে হলে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দিতে পারবে।

নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণে মনিটরিং কমিটি গঠনের বিধানও রয়েছে সংশোধিত নির্বাচনি বিধিমালায়। তফসিল ঘোষণার পর কমিশন নির্ধারিত সংখ্যক উপযুক্ত কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে। এসব কমিটি নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করবে।

সব মিলিয়ে, পাঁচ ধাপে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। প্রভাব বিস্তার ও পেশিশক্তির ব্যবহার ঠেকাতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচার, প্রার্থিতা বাতিল এবং অনিয়মপূর্ণ কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের বিধান কার্যকরভাবে প্রয়োগের ওপরই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়টি নির্ভর করবে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%