মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৮ পি.এম
গাজীপুরে মেয়ের বিয়ের বাজার করতে যাওয়ার সময় ট্রাকের ধাক্কায় লোকমান হোসেন (৫০) নামের একজন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে। এ ছাড়া, দিরু মিয়া নামের এক মাছ ব্যবসায়ীও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর (জেসন গেট) এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাবুর রহমান গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত লোকমান হোসেন ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার পরিবারে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, নিহত মাছ ব্যবসায়ী দিরু মিয়ার বাড়ি নেত্রকোনায় অবস্থিত।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন লোকমান হোসেন। হঠাৎ করে দ্রুতগতির মাছবাহী ট্রাকটি তাকে ধাক্কা দেয় এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অপর একটি কাভার্ডভ্যানের পেছনে আঘাত করে। লোকমান হোসেনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) মেয়ের বিয়ের জন্য লোকমান হোসেনের বাড়িতে প্রস্তুতি চলছিল। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বর পক্ষেরও তাদের বাড়িতে আসার কথা ছিল। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে মেয়ের বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়।
অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণ হারানো মাছবাহী ট্রাকটির সামনের অংশও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে গাড়ির চালকের পাশের সিটে থাকা মাছ ব্যবসায়ী দিরু মিয়া ট্রাকের ভেতরে আটকা পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর জরুরি বিভাগে কিছুক্ষণ চিকিৎসাধীন থাকার পর দিরু মিয়ারও মৃত্যু ঘটে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটির চালক পালিয়ে যান।
ওসি শাহাবুর রহমান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক পালিয়ে যান। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস পাইপলাইনে ঘটে যাওয়া নাশকতামূলক বিস্ফোরণের ফলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে, এমন তথ্য জানিয়েছে দামেস্ক।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে সরকারি বার্তা সংস্থা সানা জানায়, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আল-শৌলা এলাকা এবং দেইর এজোরের মধ্যবর্তী অঞ্চলের পাইপলাইনে আগুন লেগে যায়। নাশকতার কারণে পাইপলাইনের একটি অংশের ভালভ বিস্ফোরিত হয়ে এই বিপর্যয় ঘটেছে।
সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানির একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগুনের ফলে আল-জাবসাহ গ্যাস প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন করে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
এটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে এবং সিরিয়াজুড়ে তীব্র জনঅসন্তোষ ও বিক্ষোভ চলছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে সিরিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দৈনিক প্রায় আড়াই কোটি ঘনমিটার চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে দেশটি মাত্র ৮৫ লাখ ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০২১ সালে বিয়ে করার পর ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হয়ে যান শরীফুল রাজ ও চিত্রনায়িকা পরীমণি। তবে সম্প্রতি রাজের বিষয় নিয়ে পরীমণির একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার নতুন করে স্যোশাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’-তে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে পরীমণি তার অতীত সম্পর্ক, বিচ্ছেদ এবং সাবেক স্বামী শরীফুল রাজ সম্পর্কে বিভিন্ন খোলামেলা মন্তব্য করেছেন।
বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, রাজের সঙ্গে বিয়ে বা তার জীবনের কোনো সিদ্ধান্তকে তিনি ‘ভুল’ মনে করেন না। তার মতে, জীবনের প্রতিটি ঘটনাই একেকটি অভিজ্ঞতা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে অন্যান্য প্রাক্তনের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার সময়েও কখনো অসৌজন্যমূলক পরিস্থিতি কিংবা আত্মসম্মানে আঘাত লাগার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে সুন্দরভাবে বিচ্ছেদ ঘটেছিল, যাতে ভবিষ্যতে কোথাও দেখা হলে মুখোমুখি হতে কোনো অস্বস্তি না থাকে।
তবে প্রাক্তন স্বামী শরীফুল রাজের বিষয়টি একদম ভিন্ন ছিল বলে জানান এই আলোচিত নায়িকা।
আক্ষেপের সুরে পরী বলেন, যার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা পাওয়ার কথা ছিল, সেই প্রাক্তনের কাছ থেকেই তিনি সবচেয়ে বেশি অপমানিত হয়েছেন। তিনি মনে করেন, বিচ্ছেদটি আরও অনেক সুন্দর ও সম্মানজনক হতে পারত।
২০২১ সালে বিয়ে করার পর ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হয়ে যান শরীফুল রাজ ও পরীমণি। বিচ্ছেদের পর ছেলে শাহীম মোহাম্মদ পুণ্যকে একাই লালন-পালন করছিলেন এই অভিনেত্রী। পরবর্তীতে তিনি সাফিরা সুলতানা প্রিয়ম নামে একটি কন্যাসন্তান দত্তক নেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি SNAP এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি Medicaid-এর নিয়মে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের বাজেট আইনের আওতায় কিছু পরিবর্তন আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবর্তনগুলোর মধ্যে SNAP পরিচালনার ব্যয়ের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক দায়িত্ব এবং কিছু বৈধ অভিবাসীর Medicaid সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থায়নের নিয়মে পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। Medicaid-এর নতুন কাজ বা সামাজিক অংশগ্রহণের শর্ত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা, তবে কিছু রাজ্য চাইলে এর আগেও তা কার্যকর করতে পারবে।
এসব পরিবর্তনের ফলে কোটি কোটি মানুষের সরাসরি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে না। তবে যোগ্যতা যাচাই, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং রাজ্যগুলোর অর্থায়নের দায়িত্বে পরিবর্তন আসায় সুবিধাভোগীদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
SNAP পরিচালনার ব্যয়ে রাজ্যের দায়িত্ব বাড়ছে। আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে SNAP পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ৫০ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশ হওয়ার কথা। ফলে সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয়ের বাকি ৭৫ শতাংশ রাজ্যগুলোকে বহন করতে হবে।
মার্কিন কৃষি বিভাগের খাদ্য ও পুষ্টি প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর একটি ধারার মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ২০২৭ অর্থবছর থেকে নতুন হার কার্যকর করার জন্য কৃষি বিভাগ নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে।
SNAP-এর প্রশাসনিক ব্যয়ের মধ্যে সুবিধাভোগীদের আবেদন ও হিসাব ব্যবস্থাপনা, কর্মীদের খরচ, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা এবং কিছু জালিয়াতি প্রতিরোধ কার্যক্রমের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। কেন্দ্রীয় সহায়তা কমে যাওয়ায় রাজ্যগুলোকে নিজেদের বাজেট থেকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পরিবর্তন নিজে থেকে SNAP সুবিধার অর্থের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে না। বরং কর্মসূচিটি পরিচালনার খরচ কে কতটা বহন করবে, সেই কাঠামোতে পরিবর্তন হচ্ছে। রাজ্যগুলো বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
পরবর্তী সময়ে SNAP সুবিধার খরচেও রাজ্যের অংশ আসতে পারে। SNAP-এর ক্ষেত্রে আরও একটি পরিবর্তন ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। যেসব রাজ্যে সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ভুলের হার নির্দিষ্ট ফেডারেল সীমার ওপরে থাকবে, সেসব রাজ্যকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে SNAP সুবিধার অর্থের একটি অংশ বহন করতে হতে পারে।
এটি বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় বড় পরিবর্তন। এতদিন SNAP-এর সুবিধা দেওয়ার অর্থ মূলত কেন্দ্রীয় সরকারই বহন করে আসছিল। তবে এই পরিবর্তন ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকেই কার্যকর হচ্ছে না। তাই চলতি বছরের অক্টোবরের পরিবর্তনের সঙ্গে ২০২৭ সালের সম্ভাব্য ব্যয় ভাগাভাগির নিয়মকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
কিছু অভিবাসীর Medicaid সুবিধায় পরিবর্তন আসছে। ১ অক্টোবর থেকে Medicaid ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি CHIP-এর ক্ষেত্রে কিছু বৈধ অভিবাসীর জন্য কেন্দ্রীয় অর্থায়নের নিয়মেও পরিবর্তন আসছে।
মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, পূর্ণ Medicaid সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থায়ন সাধারণভাবে মার্কিন নাগরিক ও নাগরিকত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী, কিউবান-হাইতিয়ান প্রবেশকারী এবং কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত দেশগুলোর নির্দিষ্ট নাগরিকদের জন্য অব্যাহত থাকবে।
এর বাইরে আশ্রয়প্রার্থী, শরণার্থী, নির্দিষ্ট ধরনের প্যারোলপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের মতো কিছু শ্রেণির জন্য ১ অক্টোবর থেকে পূর্ণ Medicaid সুবিধায় কেন্দ্রীয় অর্থায়ন আর সাধারণভাবে পাওয়া যাবে না, যদি তারা অন্য কোনো যোগ্য শ্রেণির মধ্যে না পড়েন।
তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। জরুরি চিকিৎসার জন্য Medicaid-এর বিশেষ সুবিধা বহাল থাকবে। পাশাপাশি কিছু রাজ্য নিজেদের অর্থ দিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যেতে পারে। শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তিদের জন্য বিদ্যমান কিছু ফেডারেল বিধানের আওতায় বিশেষ সুযোগও থাকতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির ‘বয়ান’ তৈরির প্রচেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
জাহেদ উর রহমান বিএনপির নাম চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়ানোর প্রসঙ্গে বলেন, আসলে বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির এক ধরনের ট্যাগিংয়ের চেষ্টা চলছে। এটি রাজনীতির অংশ। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি এটা বলছি না এই সরকারের সময়ে, এই সরকারের সঙ্গে কানেক্টেড বা এই সরকারের দলের নাম নিয়ে কেউ এটা করছে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ন্যারেটিভের কথা বলছি, এই চেষ্টা ইন্টেরিমের সময় থেকেই আসলে রয়েছে। এই চেষ্টা চলছে এবং এটা রাজনীতি। এই রাজনীতি করার চেষ্টা তারা করতেই পারেন।”
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান জানান, হামলার শিকার হওয়ায় সালমানের প্রতি সরকারের সহানুভূতি রয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই চাঁদাবাজি ও বিএনপির সংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগ উঠেছিল, সেই বক্তব্যের কিছু অংশ পরবর্তীতে পরিবর্তিত হয়েছে।
তিনি বলেন, সালমান মুক্তাদির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার প্রতিষ্ঠানে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে জনপ্রিয় ও ব্যাপক অনুসারী থাকা কোনো ব্যক্তি অভিযোগ করলে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব অনেক বেশি হয়।
তথ্য উপদেষ্টা আরও জানান, সালমান পরবর্তী সময়ে সরাসরি তার কাছে চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য সংশোধন করেছেন। ফলে প্রাথমিক বক্তব্যের ভিত্তিতে যেসব রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রচার হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সালমানের প্রাথমিক বক্তব্যের ভিত্তিতে জামায়াতের আমির সরকার ও সরকারি দলকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। পরে নতুন তথ্য সামনে এলেও সেই পোস্ট প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কেউ প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন। তবে পরে সেই তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ বলে প্রতীয়মান হলে নিজের অবস্থান সংশোধন করাও দায়িত্বশীল আচরণের অংশ।
এনসিপির কয়েকজন নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিএনপি, দলটির নেতৃত্ব এবং সরকারকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্য সামনে এলেও সেসব বক্তব্যের অনেকগুলো সংশোধন করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার ক্ষমতায় থাকলে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। এ জন্য অপতথ্যের প্রয়োজন নেই।
তবে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে সরকার হালকাভাবে দেখছে না বলে তিনি জানান। তার বক্তব্য, কোনো নাগরিকের প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর বা তার ওপর হামলা হলে তা ঠেকানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এমন ঘটনা ঘটলে সরকার বিব্রত ও দুঃখিত হবে।
হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরও তদন্তের আওতায় আনার কথা জানান তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, তদন্তে ক্ষমতাসীন দলের কোনো ব্যক্তি, পুলিশ সদস্য বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। দলীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, সরাসরি ভাঙচুরে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করাই তদন্তের শেষ নয়। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ