সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:১৬ পি.এম
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ অবস্থায় তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠেছে। জামায়াত যদি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দেয়, তাহলে কি তার সংসদ সদস্য পদ সরাসরি বাতিল হবে, নাকি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধান কিংবা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কৃত হলে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের স্বয়ংক্রিয় বিধান নেই। ফলে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ‘সংসদ সদস্যপদ বিরোধ নিষ্পত্তি আইন-১৯৮০’ অনুসরণ করা প্রয়োজন।
সংবিধানের ৬৬, ৬৭ ও ৭০ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হওয়ার বিভিন্ন শর্ত উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে সদস্য নিজে পদত্যাগ করলে কিংবা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংসদে ভোট দিলে আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে কোনো দল তার সদস্যকে বহিষ্কার করলেই সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এমন বিধান নেই।
গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে যদি বিরোধ তৈরি হয়, তাহলে প্রথমে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করতে হবে। ‘সংসদ সদস্যপদ বিরোধ নিষ্পত্তি আইন-১৯৮০’-এর ৩ ধারা অনুযায়ী, স্পিকার ৩০ দিনের মধ্যে একটি লিখিত বিবরণী প্রস্তুত করবেন। এই বিবরণীতে বিরোধের বিষয়, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য এবং বিরোধের পক্ষগুলোর বিস্তারিত তথ্য থাকবে।
স্পিকার ওই বিবরণী নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাবেন। অর্থাৎ, রাজনৈতিক দল থেকে ইসিতে চিঠি পাঠালে কমিশন সরাসরি সংসদ সদস্য পদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে না; স্পিকারের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসিতে পাঠানোর প্রয়োজন হবে।
স্পিকারের পাঠানো বিবরণী পাওয়ার পর আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন কার্যক্রম শুরু করবে। কমিশন ১৪ দিনের মধ্যে বিবরণীর অনুলিপি বিরোধের উভয় পক্ষকে পাঠাবে এবং তাদের লিখিত বক্তব্য দাখিলের সুযোগ দেবে।
এরপর কমিশন শুনানির জন্য নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও স্থান নির্ধারণ করবে। উভয় পক্ষ সরাসরি অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দাখিল ও সাক্ষী জেরার সুযোগও থাকবে।
আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে নির্বাচন কমিশন দেওয়ানি আদালতের মতো বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। প্রয়োজনে কাউকে সমন জারি করে হাজির করা, শপথের মাধ্যমে সাক্ষ্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথি তলব করার ক্ষমতাও কমিশনের রয়েছে।
আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী, স্পিকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি পাওয়ার পর সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে বিরোধের বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত বা মতামত স্পিকারের কাছে পাঠাতে হবে।
শুনানি শেষে কমিশন যদি গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে সাতক্ষীরা-৪ আসন শূন্য ঘোষণার পর পরবর্তী সাংবিধানিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে দল থেকে বহিষ্কারের পর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। ২০০০ সালে তৎকালীন বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামানকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। পরে তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বিষয়টি স্পিকারের কাছে উত্থাপন করেন। স্পিকারের রেফারেন্সের পর নির্বাচন কমিশন শুনানি করে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে।
একইভাবে, ২০১৫ সালে হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তৎকালীন মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হলে বিষয়টি স্পিকারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে যায়। ইসিতে শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই লতিফ সিদ্দিকী নিজে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে জামায়াতের পদক্ষেপের পর নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছে। জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, স্পিকারের মাধ্যমে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ বা সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক চিঠি ইসিতে এলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ কারণে জামায়াতের বহিষ্কারাদেশের পর গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হচ্ছে এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং বিষয়টি স্পিকারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো এবং এরপর নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিএনপি যৌথ সভা করেছে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উদ্দেশ্যে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী এমপি, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি এবং সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, মাহবুবের রহমান শামীম, সৈয়দ শাহীন শওকত, আসাদুল হাবিব দুলু, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, শরীফুল আলম, শামা ওবায়েদ ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটু, নজরুল ইসলাম আজাদ, হারুন অর রশীদ হারুন, ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, মো. আব্দুল খালেক, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান চন্দন, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, আকন কুদ্দুসুর রহমান, মাহবুবুল হক নান্নু, কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, মিফতাহ সিদ্দিকী, মো. মোস্তাক মিয়া, খন্দকার মাশুকুর রহমান, আবু ওয়াহাব আকন্দ ও ওয়ারেছ আলী মামুনও সভায় অংশ নেন।
এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্যসচিবরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে দলের সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকার আহ্বান জানানো হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাঝসমুদ্রে হঠাৎ করে নাবিক বাবা ও ছেলের দেখা হয়ে যায়। ভারতীয় এই বাবা-ছেলে বিপরীতমুখী দুটি জাহাজে ভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার সময় এই বিশেষ মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে।
ছেলে রুশীল সারান তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ঘটনাটি তুলে ধরেন। তিনি জানান, উত্তর দিকে নিজের জাহাজ নিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে একটি বড় জাহাজ আসতে দেখেন। পরে জাহাজটির গন্তব্য ও গতিপথ সম্পর্কে জানার পর তিনি বুঝতে পারেন, ওই জাহাজে তার বাবা রয়েছেন।
এরপর ভূমি থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে সমুদ্রের মাঝখানে ঘটে যায় বাবা-ছেলের সেই বিরল সাক্ষাৎ। রুশীলের ভাষায়, এটি তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই সাক্ষাতের জন্য কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না।
রুশীল বাবার পথ অনুসরণ করে নাবিক পেশা বেছে নিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, "শতকোটি সুযোগের মধ্যে হয়তো একবার এমন মুহূর্ত আসে, যখন নাবিকদের দুই প্রজন্ম সমুদ্রের মাঝখানে একে অপরের মুখোমুখি হয়। দুটি জাহাজ, দুটি যাত্রা—আর একটি অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।"
ভিডিওতে দেখা যায়, দুই জাহাজ কাছাকাছি আসার পর বাবা ও ছেলে পরস্পরকে দেখে আনন্দ প্রকাশ করছেন। বাবার মুখের হাসি এবং ছেলের সঙ্গে দেখা হওয়ার গর্বিত অভিব্যক্তি মুহূর্তটিকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর এটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনদের অনেকেই এটিকে একজন নাবিকের জীবনের অত্যন্ত বিরল ও আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
একজন মন্তব্য করেন, "এটি একজন নাবিকের জীবনের সবচেয়ে বিরল মুহূর্ত।"
আরেকজন লেখেন, "নিজের পথে এগিয়ে গেলেও যে মানুষটি পথচলা শিখিয়েছেন, তার থেকে কখনো পুরোপুরি দূরে থাকা যায় না।"
আরেক ব্যবহারকারী জানান, তার স্বামী চিফ অফিসার এবং চাচা ক্যাপ্টেন থাকার সময় জাহাজে তাদেরও এমন একটি আকস্মিক দেখা হয়েছিল। একই বন্দরে একদিনের জন্য অবস্থানের সময় তাদের দেখা হয়। পাশাপাশি বাবা-ছেলের দুজনেরই নিরাপদ সমুদ্রযাত্রা কামনা করেন তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফিফার পরিভাষায় ‘আন্তর্জাতিক ম্যাচ উইন্ডো’ এবং ক্লাব ফুটবলের পরিচিতিতে এটি ‘আন্তর্জাতিক বিরতি’ হিসেবে পরিচিত। জাতীয় দলের ম্যাচের জন্য ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ত সূচিতে সাময়িক বিরতি দেওয়া হচ্ছে। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে ১৬ দিনের দীর্ঘ ফিফা উইন্ডো, যা চলবে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত।
এই সময়কালে বিশ্বজুড়ে লিগ ফুটবলের ব্যস্ততা থমকে যাবে। মাঠে নামবে জাতীয় দলগুলো। কিছু দল প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলবে, আবার কিছু দল প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুতি নেবে।
সাধারণত বছরে চারটি ফিফা উইন্ডো অনুষ্ঠিত হয়, যা সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর ও মার্চে হয়ে থাকে। প্রতিটি উইন্ডো সাধারণত নয় দিনের হয়ে থাকে এবং দলগুলো দুটি করে ম্যাচ খেলে। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের দুটি উইন্ডো একত্রিত করে এবার ১৬ দিনের দীর্ঘ উইন্ডো তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে জাতীয় দলগুলো চারটি পর্যন্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে।
২০২৩ সালে খেলোয়াড়দের কল্যাণের বিষয়টি বিবেচনা করে ফিফা কাউন্সিল আন্তর্জাতিক ম্যাচ উইন্ডোর কাঠামো পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। টানা কয়েক মাসে আলাদা আলাদা উইন্ডো থাকার কারণে ফুটবলারদের বারবার ক্লাব ছেড়ে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিতে হতো। এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে ভ্রমণের ফলে শারীরিক ও সময়ের চাপ বাড়ছিল। একটি উইন্ডো কমিয়ে দেওয়ার ফলে খেলোয়াড়দের ভ্রমণ ঝক্কি কমে যাবে এবং জাতীয় দলগুলোর সূচি পরিকল্পনাও সহজ হবে।
ইউরোপে নেশনস লিগ
এবারের উইন্ডোতে উয়েফার সদস্যদেশগুলো উয়েফা নেশনস লিগে ব্যস্ত থাকবে। প্রতিটি দল চারটি করে ম্যাচ খেলবে। ফলে ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর মাঠে লড়াইয়ে বাড়তি উত্তেজনা সৃষ্টি হবে।
আফ্রিকায় আফ্রিকা কাপের বাছাই
আফ্রিকার দলগুলোর সামনে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্ব রয়েছে। এই উইন্ডোতে অধিকাংশ দল দুটি করে ম্যাচ খেলবে। এর সাথে কিছু দল প্রীতি ম্যাচও খেলবে।
কনক্যাকাফ অঞ্চলেও ব্যস্ততা
উত্তর ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলো কনক্যাকাফ নেশনস লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলবে। পাশাপাশি বেশ কিছু প্রীতি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মতো দলগুলো আগেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করায়, এই সময়ে মূলত প্রীতি ম্যাচেই মাঠে নামবে।
এশিয়ায় প্রীতি ম্যাচের ব্যস্ততা
এশিয়ার দলগুলোর বেশিরভাগই এই উইন্ডোতে প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে ২০২৭ এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি হিসেবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে দলগুলো।
এশিয়ার ফুটবলে বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে ফিফা আসিয়ান কাপ রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও হংকংয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশসহ এশিয়ার ১৪টি দল অংশগ্রহণ করবে। এটি টুর্নামেন্টটির প্রথম আসর।
দক্ষিণ আমেরিকায়ও প্রীতি ম্যাচ
এশিয়ার মতো দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোরও এবারের সূচিতে প্রীতি ম্যাচ রয়েছে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আন্তর্জাতিক বিরতিকে কাজে লাগিয়ে মহাদেশের বাইরে গিয়ে ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করছে।
সব মিলিয়ে ১৬ দিনের এই দীর্ঘ ফিফা উইন্ডোতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জাতীয় দলগুলোর ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো হবে। ক্লাব ফুটবল সাময়িক বিরতিতে গেলেও জাতীয় দলের লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের মাঠ সরগরম থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অধীনে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এক বছরের মেয়াদি মেরিন শিক্ষানবিশ (ডেক ও ইঞ্জিন) কোর্সে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। এই কোর্সে ৩৭০ আসনের জন্য আবেদন করতে পারবেন এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বাংলাদেশি পুরুষ নাগরিকরা।
এই কোর্সের প্রশিক্ষণ আগামী ১ জানুয়ারি শুরু হবে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকে আবেদন করা যাবে এবং শেষ সময় ৩১ অক্টোবর দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত।
যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে
১. ডিইপিটিসি–নারায়ণগঞ্জ, আসনসংখ্যা ১৫০
২. ডিইপিটিসি–বরিশাল, আসনসংখ্যা ৩০
৩. এসপিটিআই–মাদারীপুর, আসনসংখ্যা ১৯০
শিক্ষাগত যোগ্যতা
প্রার্থীদের জন্য এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যক।
বয়সসীমা
২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর তাদের বয়স ১৬ থেকে ২১ বছরের মধ্যে হতে হবে।
সুবিধাগুলো
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে থাকার এবং খাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণের জন্য একটি ইউনিফর্ম প্রদান করা হবে।
আবেদনের নিয়ম
ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার সময় প্রার্থীকে পছন্দের ক্রমানুসারে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে হবে। তাছাড়া, তিনটি নির্বাচনী পরীক্ষার কেন্দ্রের মধ্যে কোন কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে চান, সেটিও আবেদনে উল্লেখ করতে হবে।
আবেদন ফি
৩২০ টাকা (ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের রকেট মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে)।
ভর্তি পরীক্ষা
বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের শারীরিক সক্ষমতা, চোখ, সাঁতার ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী ডেক শাখায় প্রথম ১৪০ জন এবং ইঞ্জিন শাখায় ১৩০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হবে। অন্যদের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হবে।
পরীক্ষার তারিখ
২০ ও ২১ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯টা।
পরীক্ষার কেন্দ্র
১. ডিইপিটিসি–নারায়ণগঞ্জ
২. ডিইপিটিসি–বরিশাল
৩. এসপিটিআই–মাদারীপুর
নির্দেশনা ও শর্তগুলো
১. ভর্তির সময় এককালীন ২০ হাজার টাকা এবং জামানত হিসেবে দুই হাজার টাকা প্রদান করতে হবে। কোর্স সফলভাবে শেষ করার পর জামানতের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
২. প্রশিক্ষণ শেষে অভ্যন্তরীণ নৌযানে চাকরির সুযোগ রয়েছে। চাকরিরত অবস্থায় পদোন্নতি পেয়ে প্রথম শ্রেণির ইনল্যান্ড মাস্টার, ইনল্যান্ড ড্রাইভার বা ইনল্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুযোগও রয়েছে।
৩. এ ছাড়া স্বীকৃত বোর্ড বা কর্তৃপক্ষ থেকে পদার্থবিজ্ঞান, গণিতসহ মাধ্যমিক (বিজ্ঞান) বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ (৫০ শতাংশ নম্বর) পাওয়া প্রশিক্ষণার্থীরা ডেক/ইঞ্জিন অফিসার ক্লাস–৫ সনদ পাওয়ার পর বিদেশগামী জাহাজে চাকরির সুযোগ পাবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ