১১:১৩ এম
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার কারণে। রোববারের রাতভর ইরানে হামলার পর, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) উসাগরীয় অন্তত পাঁচটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এ পরিস্থিতিতে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছেন।
রোববার (১২ জুলাই) সকালে, ইরানের প্রধান আলোচক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘একতরফা চুক্তির যুগ শেষ। আমরা আগেই বলেছিলাম—প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন, না হলে মূল্য দিতে হবে। বাস্তবতা এখন আপনার দরজায় কড়া নাড়ছে।’
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের একটি ছবিও সংযুক্ত করেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, ওই অনুচ্ছেদে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে এবং সেখানে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে’—এই অংশটি বিশেষভাবে হাইলাইট করা ছিল।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
সাম্প্রতিক হামলা এবং পাল্টা হামলার সূত্রপাত ঘটেছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান মতবিরোধের কারণে। রোববার, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী একটি জাহাজে ইরানের হামলার পর, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজের সঙ্গে আইআরজিসির হামলার পর, তাদের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। সেন্টকমের দাবী, চলতি সপ্তাহে তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সর্বশেষ হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেটি আর যাত্রা চালিয়ে যেতে পারেনি। এছাড়া, জাহাজের এক বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলেও তারা জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ‘বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলার জন্য জবাবদিহির পরও সমঝোতা স্মারক মেনে চলার আরেকটি সুযোগ ইরানকে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আবারও তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জর্ডান, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
রোববার সকালে পৃথক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবী, হামলায় ঘাঁটির যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কেন্দ্র এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করা হয়েছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, কাতারের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। হামলায় কোন ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তারা জানায়নি।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে দেশের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার এবং একটি রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা (কমিউনিকেশন সিস্টেম) এবং একটি রাডার স্থাপনায়ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইরানের দাবি, হামলায় ঘাঁটির কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং এমকিউ-৯ ড্রোন রাখা হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন