প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রবাসীদের দেশের অর্থনীতিতে অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তারা দেশে এবং বিদেশে নানান ধরনের ভোগান্তির সম্মুখীন হন। চলতি মাসেই ডিজিটাল 'প্রবাসী কার্ড' চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা এসব ভোগান্তি কমাতে সাহায্য করবে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এক সাক্ষাৎকারে তথ্য জানিয়েছেন যে, এই একটি কার্ডের মাধ্যমে ব্যাংকিং সুবিধা, বিমা, বিনিয়োগ এবং সম্পদ সুরক্ষা সহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পাওয়া যাবে। প্রবাসী এবং বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, তারা তথ্যের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু তারা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস পর্যন্ত নানা জায়গায় হয়রানির শিকার হন। দালাল চক্রের প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং পুনর্বাসন সংকটসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাদের।
এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার চলতি মাসেই ডিজিটাল 'প্রবাসী কার্ড' চালু করার পরিকল্পনা করছে। এই কার্ডের মাধ্যমে বিমানবন্দরে হয়রানি কমানো সম্ভব হবে, দূতাবাসে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা পাওয়া যাবে এবং বিভিন্ন জরুরি সেবা ও অনলাইন পেমেন্টও সহজ হবে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে সঙ্গে যুক্ত করে প্রবাসী কার্ড দেয়া হবে। আশা করা হচ্ছে, এই মাসের মধ্যেই এটি কার্যকর করা সম্ভব হবে। বিমানবন্দরে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়ার পাশাপাশি, দূতাবাসেও কার্ডধারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। বিভিন্ন সেবার ফি এবং অন্যান্য পেমেন্ট এই কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনে করা যাবে।
এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা নিজের অর্থকে অধিক নিরাপদ রাখতে পারবেন। তারা চাইলে তাদের পরিবারের একজন সদস্যকে সম্পূরক (সাপ্লিমেন্টারি) কার্ডধারী হিসেবে রাখতে পারবেন। প্রত্যেকের জন্য কত টাকা তুলতে পারবেন সেটি পূর্বনির্ধারিত হবে। এর ফলে প্রতারণা এবং হুন্ডির ব্যবহার কমবে, এবং অর্থ লেনদেনের সঠিক হিসাবও রক্ষিত থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, অনেক প্রবাসী দেশে আত্মীয়-স্বজনের কাছে টাকা পাঠান বা সম্পত্তি কেনার জন্য অর্থ পাঠান। পরে দেশে ফিরে এসে দেখেন, টাকা বা সম্পত্তি নিয়ে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসী কার্ড চালু হলে তারা নিজের নামে থাকা অ্যাকাউন্টে টাকা রাখতে পারবেন এবং সুদও পাবেন। পরিবারের প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে একজন সদস্য সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারবেন।
প্রবাসীদের আশাবাদ, এই কার্ডের মাধ্যমে দেশে এবং বিদেশে তাদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে। তারা জানান, একই কার্ড ব্যবহার করে বিদেশে যেমন টাকা তোলা যাবে, তেমনই বাংলাদেশেও সহজে লেনদেন করা সম্ভব হবে। সরকার দ্রুত এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করলে প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।
তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, এই কার্ডের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনায় সর্বাধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা থাকতে হবে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপব্যবহার না ঘটে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ডাটাবেসের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সেবা পাবেন। তবে রাজনৈতিক প্রভাব পড়া বা অসাধু কোনো গোষ্ঠী যাতে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করতে না পারে সেই দিকে নজর রাখতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু কার্ড চালু করলেই হবে না। দেশের ও বিদেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সকল স্তরে এই কার্ডের কার্যকারিতা এবং গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন