ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে দলগুলোর নীতিতে পরিবর্তন জরুরি’


‘নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে দলগুলোর নীতিতে পরিবর্তন জরুরি’

রাজনৈতিক দলগুলোর মানসিকতা ও নীতির পরিবর্তন এনে তৃণমূল পর্যায়ে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বক্তব্যে বলেন, দেশের ৫০ শতাংশ নারীকে পিছিয়ে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের ক্ষমতায়ন ও সরাসরি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। এর মাধ্যমে নারীরা ভবিষ্যতে জাতীয় নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠতে সক্ষম হবেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বে তরুণ নারীদের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সমাপনী সংলাপে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এই সংলাপটি জার্মানভিত্তিক রাজনৈতিক ফাউন্ডেশন ফ্রেডরিখ এবārt স্টিফটুংয়ের (এফইএস) সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

সংলাপে শামা ওবায়েদ আরো বলেন, শিক্ষা নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কিন্তু, রাজনীতি ও সমাজে অনলাইন হয়রানিসহ বিভিন্ন বাধা এখনও রয়ে গেছে। এসব মোকাবিলায় রাষ্ট্র ও সরকারের কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করা প্রয়োজন। নারীদের সহায়তা একটি নীতিগত বিষয় হওয়া উচিত এবং তিনি জানান, এই পথ কখনোই সহজ নয়। যত বাধাই আসুক, নারীদের মেধা ও আত্মসম্মান নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সিজিএসের প্রেসিডেন্ট ও সংলাপের সঞ্চালক জিল্লুর রহমান বলেন, বিভিন্ন দল ও মতের নারীরা একত্রে কাজ করেছেন- এটিই এই আয়োজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। প্রকৃত অন্তর্ভুক্তির জন্য শুধুমাত্র অংশগ্রহণ নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সম্পদ ব্যবহারে নারীদের কার্যকর ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, নারীরা যেন সমাজের সব ক্ষেত্রে নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সেই জন্য মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানো প্রয়োজন।

সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার বলেন, সংরক্ষিত আসনে সরাসরি ভোটের সুযোগ বেড়ে দেওয়া প্রয়োজন। অর্থ এবং পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি নারীদের এগিয়ে আসার পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনীহা, দলীয় কাঠামো এবং পরিবারে সম্পত্তি, সামাজিক বৈষম্য দূর করা না হলে এর প্রভাব রাজনীতিতেও থেকে যাবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এবি পার্টির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, নারী নেতৃত্ব একটি দেশ ও সমাজ কতদূর এগিয়েছে, তার গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের জন্য কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে হবে। নেতৃত্ব কেবল সংখ্যায় নয়, গুণগত এবং অর্থবহ হতে হবে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখনো পরিবারতন্ত্রে আবদ্ধ এবং নতুন নারী নেতৃত্ব তুলে আনতে অমনযোগী। সাইবার বুলিং প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা ও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, আদর্শগত পার্থক্য নির্বিশেষে নারীদের শক্তিশালী করাই ঐ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। নারীর অধিকার কোনো দয়া নয়, বরং এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের অংশ। পরিবর্তিত ভূরাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক বাস্তবতায় বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩১ পি.এম


পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ শনাক্ত এবং পুনরুদ্ধারের বিষয়টিকে বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই লক্ষ্যে সরকার যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে, এ কথা অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত চার দিনব্যাপী ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। বাংলাদেশকে বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় দায়িত্বশীল এবং সহযোগিতামূলক অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি।

তিনি তরুণদের এই কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রকৃত ভিত্তি স্বচ্ছতার মধ্যে নিহিত। সততা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে পরিবর্তিত নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি ম ওবায়দুল ইসলাম মন্তব্য করেন, কাঙ্ক্ষিত সমাজ বিনির্মাণে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তরুণরা শুধুমাত্র ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করে না; বরং তারা বর্তমান সময়েই সঠিক বিচার-বিবেচনা, দায়িত্ববোধ এবং দৃঢ় প্রত্যয়ের পরিচয় দিতে সক্ষম।

তিনি বলেন, তরুণরা নিজেদের সংগঠিত করতে পারে এবং দায়িত্বশীল পদধারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে। সীমিত সম্পদের মাধ্যমে তরুণরা নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে। তরুণদের উৎসাহিত এবং স্বীকৃতি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক, ঢাকাস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান আলবার্তো জিওভানেত্তি এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মডেল ইউনাইটেড নেশন্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. রাকিব-উজ-জামান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল আহতাব জামিল মাহিন।

ঢাকা ইউনিভার্সিটি মডেল ইউনাইটেড নেশন্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বজায় রেখে কার্যকর বহুপাক্ষিকতাকে সুসংহত করা’।

আয়োজকরা জানান, চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা লিঙ্গবৈষম্য, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, মানবাধিকার, মানবপাচার, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক চুক্তি, অভিবাসন নীতি, ভূ-রাজনীতি এবং কূটনীতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘পিংক বাস’ সার্ভিসে এখন আসছে ই-টিকিটিং সেবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৮ পি.এম


‘পিংক বাস’ সার্ভিসে এখন আসছে ই-টিকিটিং সেবা

নারী যাত্রীদের জন্য মাত্র ৫ দিন আগে বিশেষ মহিলা বাস বা ‘পিংক বাস’ সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। এবার যুক্ত হচ্ছে এই সার্ভিসে ই-টিকিটিং সেবা। এই সেবা কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম সহজ।

রোববার (২৩ আগস্ট) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় পরিচালিত মোট ১৪টি মহিলা বাসে পজ মেশিনের মাধ্যমে ই-টিকিটিং সেবা প্রদান করা হবে। ফলে, বাসে ওঠার পর নারী যাত্রীরা পজ মেশিনের মাধ্যমে দ্রুত ও সহজভাবে টিকিট সংগ্রহ করতে সক্ষম হবেন।

সম্প্রতি তেজগাঁও বিআরটিসি বাস ডিপোতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম সহজ জানায়, প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থা টিকিটিং প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল এবং স্বচ্ছ করে তুলবে। গতিপ্রক্রিয়ায় যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ই-টিকিটিং কার্যক্রমের পার্টনার হিসেবে সহজ লিমিটেড প্রযুক্তিগত সমাধান ও বাস্তবায়ন সহযোগিতা প্রদান করছে।

কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সহজের সংশ্লিষ্ট টিম বিআরটিসির ডিপোগুলোতে সরাসরি উপস্থিত থাকে এবং মহিলা বাসের কন্ডাক্টরদের পজ মেশিন ব্যবহারের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রশিক্ষণে পজ মেশিন পরিচালনা করা, ই-টিকিট ইস্যু এবং টিকিটিং-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পর্কে কন্ডাক্টরদের ধারণা প্রদান করা হয়।

সহজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিআরটিসির মহিলা বাসে ই-টিকিটিং চালু করা নারী যাত্রীদের জন্য গণপরিবহনে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পজ ভিত্তিক ই-টিকিটিংয়ের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহের প্রক্রিয়া দ্রুত এবং সংগঠিত হওয়ার পাশাপাশি যাত্রীদের ভ্রমণ আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ার মোট ১৪টি মহিলা বাসে এ সেবা চালুর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা সম্ভব হবে বলেও জানায় সহজ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘুম থেকে উঠে সাইফা দেখল আড়ায় ‘দুলছে’ বড় বোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৯ পি.এম


ঘুম থেকে উঠে সাইফা দেখল আড়ায় ‘দুলছে’ বড় বোন

ফরিদপুরের সদরপুরে জান্নাতুল আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যু ঘটেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৫টার সময় উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দড়ি কৃষ্ণপুর গ্রামের নিজ বসতঘরে এই ঘটনাটি ঘটে।

নিহত জান্নাতুল আক্তার ওই গ্রামের মো. জাফার খানের মেয়ে। জানানো হয়েছে, পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খেয়ে ছোট বোন সাইফা আক্তার (৬) কে সঙ্গে নিয়ে ঘুমাতে যান জান্নাতুল। পরে সকালে সাইফা তাকে ঘরের টিনের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এগিয়ে যায় এবং জান্নাতুলকে নিচে নামায়।

পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী জান্নাতুল দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার খবর পেয়ে সদরপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন সাহ বলেছেন, ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিজাবের কড়াকড়ি, তবুও রাস্তায় মাথা ঢাকছেন না ইরানের নারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩০ পি.এম


হিজাবের কড়াকড়ি, তবুও রাস্তায় মাথা ঢাকছেন না ইরানের নারীরা

যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট, ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ইরানে নারীদের হিজাব পরার ব্যাপারটি নতুন করে টানাপোড়েনের ঝড় আনছে। দেশটির কট্টরপন্থীরা বাধ্যতামূলক হিজাবের নিয়মকে আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি তুললেও, অনেক নারী প্রকাশ্যে সেই নিয়ম মানছে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নজর অন্যদিকে থাকায়, হিজাব ছাড়া অনেক নারী সরকারি অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেখা গেছে। তবে সম্প্রতি সপ্তাহগুলোতে হিজাবের নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি আবারও জোরালো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিভিন্ন শহরে হিজাবের নিয়ম না মানার অভিযোগে ক্যাফে, রেস্তোরাঁ এবং দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১৯ জুলাই তেহরানে অন্তত সাতটি ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পূর্বাঞ্চলের দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশে বাধ্যতামূলক হিজাব এবং সামাজিক আচরণের নিয়ম না মানার অভিযোগে ১০টি ক্যাফে বন্ধ করার বিষয়টি ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

তবে এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও তরুণীদের মধ্যে হিজাব না পরার প্রবণতা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি এবং ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের নারীরা হিজাব ছাড়া চলাফেরা করছেন। এমনকি অনেক তরুণী মোটরসাইকেল চালানোর সময়েও মাথায় হিজাব রাখছেন না।

মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর পর ইরানে ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। পোশাকবিধি না মানার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করা হয়। তবে এর পরেও নারীদের মধ্যে বাধ্যতামূলক হিজাবের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অনীহা পুরোপুরি থামেনি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০২৪ সালের শেষের দিকে জানায়, বাধ্যতামূলক হিজাব আইন অমান্য করার জন্য নারী ও মেয়েদের দমন করার ক্ষেত্রে ইরানি কর্তৃপক্ষ আরও কঠোর এবং সহিংস ব্যবস্থা নিচ্ছে। সংগঠনের মতে, নতুন বাধ্যতামূলক হিজাব আইন নারীদের ওপর নিপীড়ন আরও বৃদ্ধি করেছে এবং এতে বেত্রাঘাত, কারাদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসেও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছিল, হিজাব পরতে অস্বীকৃতি জানানো নারী ও মেয়েদের ওপর নজরদারি, গ্রেপ্তার, আটক এবং অন্যান্য হয়রানি বাড়ানো হয়েছে। সংগঠনটি এই পরিস্থিতিকে নারীদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

কট্টরপন্থীদের চাপ এবং সরকারের সতর্ক অবস্থানকে ঘিরে উভয়পক্ষেই যথেষ্ট টানাপোড়েন বিদ্যমান। ইরানের কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতারা প্রকাশ্যে হিজাবের নিয়ম গুরুত্ব সহকারে মানানোর দাবি করছেন। তেহরানের জুমার নামাজের ইমাম মোহাম্মদ জাভাদ হাজ আলী আকবরি অভিযোগ করছেন যে, নারীদের মধ্যে ‘অশালীনতা’ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা চলছে।

হিজাব না পরার কারণে শাস্তির ঘটনাও ঘটেছে। চলতি বছরের জুনে ইরানের জনপ্রিয় গায়িকা পারাস্তু আহমাদিকে ৭৪ বার বেত্রাঘাত এবং দুই বছরের জন্য দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার সাজা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি অনুষ্ঠানের ভিডিওতে তার কাঁধ এবং চুল খোলা থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল।

তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান হিজাব নিয়ে জোর করে আইন প্রয়োগের বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, মানুষের আচরণ শুধু আইন করে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়; এটি সাংস্কৃতিক এবং বিশ্বাসের বিষয়।

দেশটির সাবেক সংসদ সদস্য গোলামালি জাফারজাদেহ ইমানাবাদি মন্তব্য করেছেন যে, হিজাবের পরিবর্তে মূল্যস্ফীতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার সংকট মোকাবিলায় সরকারের বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে বাধ্যতামূলক হিজাবের নিয়ম কার্যকর করা শুরু হয়। ইরানের ইসলামী দণ্ডবিধির ৬৩৮ ধারায় জনসমক্ষে ‘ইসলামি হিজাব’ ছাড়া নারীদের উপস্থিতিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ হিজাবের মানে বাস্তবে কী হবে, তা আইন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেনি।

২০২৪ সালে আরো একটি কঠোর আইন অনুমোদিত হলেও এর বাস্তবায়ন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপে স্থগিত রাখা হয়। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দেশটির কট্টরপন্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে সরকারও এই প্রসঙ্গে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে এক নারীর বক্তব্য উঠে এসেছে, শহরের রাস্তায় অনেক তরুণী এখন খোলামেলা পোশুকে চলাফেরা করছেন এবং সেখানে হিজাব প্রায় দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মতে, এই সকল তরুণীদের আবার হিজাব পরাতে বাধ্য করা সরকারের জন্য আগের মতো সহজ হবে না।

এখন প্রশ্ন এগুলোকে ঘিরে, যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে হিজাব নিয়ে সরকারের নতুন করে যে কঠোর অবস্থান তা কতটা কার্যকর হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%