ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অপরাধ দমনে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে এআই ক্যামেরার নজরদারি


অপরাধ দমনে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে এআই ক্যামেরার নজরদারি

অপরাধ ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে সরকারের নেওয়া ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা এবং সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ফারুক আহমেদ জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি, মহাসড়কটির ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কও একই ধরনের নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরা স্থাপনের ফলে, হাইওয়ে পুলিশ এখন ঢাকার চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ফারুক আহমেদ বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এআই ক্যামেরা বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, এসব এআই ক্যামেরা পরিচালনার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশের হাতে হস্তান্তরের জন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এরই মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে হাইওয়ে পুলিশ এই নজরদারি ব্যবস্থা পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, উন্নত এই নজরদারি ব্যবস্থা হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রমকে আরও দক্ষ করবে এবং ডাকাতি, মাদক পরিবহনসহ মহাসড়ককেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঢাকার চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

দেশের অন্যান্য মহাসড়কগুলোও পর্যায়ক্রমে একই ধরনের নজরদারির আওতায় আনা হবে, যাতে মহাসড়কের অপরাধ দ্রুত দমন করা এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা সমাধান করা যায়।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ফারুক আহমেদ আরো বলেন, হাইওয়ে পুলিশের প্রধান দুটি দায়িত্ব হলো ডাকাতি ও মাদক পাচারের মতো মহাসড়ককেন্দ্রিক অপরাধ দমন করা এবং যানজট কমিয়ে একটি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল মহাসড়ক গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও জোরদার করা হচ্ছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে কার্যক্রমের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি করতে এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া, জনগণের আস্থা বৃদ্ধি এবং সেবাগ্রহীতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কমিউনিটিভিত্তিক পুলিশিং জোরদার করা হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্যভিত্তিক জবাবদিহি এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ার মাধ্যমে মহাসড়ক আরও নিরাপদ হবে এবং জনসেবার মান উন্নত হবে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

গত ৭ জুলাই হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, তিনি দেশের মহাসড়ককে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে মহাসড়ককে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করতে সক্ষম হব বলে আমি আত্মবিশ্বাসী।’

তিনি আরও আশ্বাস দেন, আগামী দুই মাস পর হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে যানবাহন থেকে অর্থ আদায়ের কোনো অভিযোগ থাকবে না।

ফারুক আহমেদ জানান, বর্তমানে সারা দেশে হাইওয়ে পুলিশের ৭৩টি থানা রয়েছে। আরও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে থানার সংখ্যা বাড়ানো এবং সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

২০০৫ সালের ১১ জুন প্রতিষ্ঠিত হাইওয়ে পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এই ইউনিটটির প্রধান দায়িত্ব দেশের মহাসড়কে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ১২ ধারার আওতায় পরিচালিত এ ইউনিট মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ অনুযায়ী বিভিন্ন অপরাধের তদন্তও করে থাকে।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, মহাসড়কের অপরাধ প্রতিরোধ করা, সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত করা, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা, মহাসড়কে টহল দেওয়া, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যান চলাচল ব্যবস্থাপনা করা।

বর্তমানে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে চারটি বিভাগ, আটটি অঞ্চল, সাতটি ক্যাম্প, ৭৩টি হাইওয়ে থানা এবং ১০টি সার্কেলের মাধ্যমে সারা দেশে সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনুমোদিত জনবল ২ হাজার ৮১৪ জন।

হাইওয়ে পুলিশের আটটি আঞ্চলিক কার্যালয় গাজীপুর, কুমিল্লা, বগুড়া, মাদারীপুর, সিলেট, খুলনা, রংপুর এবং ময়মনসিংহে অবস্থিত।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

জনবল ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা স্বত্ত্বেও, হাইওয়ে পুলিশ বর্তমানে দেশের প্রায় ১১,৮০৬ কিলোমিটার মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেন-আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ, প্রকাশ্যে এসেছে আসল কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৩৫ পি.এম


স্পেন-আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ, প্রকাশ্যে এসেছে আসল কারণ

বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশির শব্দটি ওঠার সাথে সাথে স্পেনের ফুটবল খেলোয়াড়দের শিরোপা জয়ের আনন্দ উদযাপন করার কথা ছিল। কিন্তু সেই আনন্দের মুহূর্তটি ধাক্কাধাক্কি, উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনায় পরিণত হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে স্পেন ও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা সবার মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। জানা যায়, সংঘর্ষের সূচনা স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি এবং আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনার মধ্যে ঘটে। ম্যাচ জয়ের পর স্পেনের রদ্রির প্রতিপক্ষের সামনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ মলিনার কাছে ভালোভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে।

এ পরিস্থিতি শান্ত করতে উপস্থিত হন স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া। তিনি মলিনাকে সেখান থেকে সরাতে গেলে উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পায়। তখন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ঘটনাস্থলে এসে গার্সিয়াকে ধাক্কা দেন। এরপর দুই দলে আরও কয়েকজন খেলোয়াড় সেখানে যোগ দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

একজন সতীর্থকে ধাক্কা দিতে দেখে স্পেনের তরুণ মিডফিল্ডার গাভি এগিয়ে আসেন এবং পারেদেসকে ধাক্কা দেন। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পারেদেসও গাভিকে ধাক্কা দেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়।

এক পর্যায় আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা গাভিকে শক্তভাবে জাপটে ধরে মাটিতে ফেলে দেন। অভিযোগ উঠেছে যে, গাভি উঠে দাঁড়ানোর পর পারেদেস আবারও তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এই ঘটনার ফলে মাঠজুড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তখন স্পেনের স্ট্রাইকার বোর্হা ইগলেসিয়াস এগিয়ে এসে प्रतিপক্ষের কয়েকজন খেলোয়াড়কে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে দুই দলের কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তাগণ ও সিনিয়র খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে উভয় পক্ষকে শান্ত করেন। তাঁদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

ম্যাচের পর সংঘর্ষের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পেছনে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চলছে আলোচনা। আহ্বানকারী কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট ফুটবল সংস্থার পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত কোন আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাঙা আঙুলে ১১ সেভ করে ফাইনালের ট্র্যাজিক হিরো মার্তিনেজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪১ পি.এম


ভাঙা আঙুলে ১১ সেভ করে ফাইনালের ট্র্যাজিক হিরো মার্তিনেজ

লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ মিশন সফল হয়নি।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ের শেষে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে স্পেন ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতে নেয়।

ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে, যখন ফেরান তোরেস স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন। শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে উল্লাস প্রকাশ করেন লামিন ইয়ামাল, পেদ্রি, পাও কুবার্সিসহ অন্যান্য স্প্যানিশ ফুটবলাররা। অন্যদিকে, হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন লিওনেল মেসি, রদ্রিগো দে পল ও আর্জেন্টিনার অন্যান্য সতীর্থরা।

তবে এই ফাইনালের সবচেয়ে আলোচিত নাম হলো এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ। এই গোলরক্ষক ভাঙা আঙুল নিয়েও পুরো টুর্নামেন্টে খেলে গেছেন। ফাইনালে তিনি যেন একাই স্পেনের আক্রমণের বিরুদ্ধে অদম্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

ম্যাচজুড়ে মার্তিনেজ নিকো উইলিয়ামস, লামিন ইয়ামাল, পেদ্রি, মার্ক কুকুরেয়া ও ফেরান তোরেসদের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন। প্রথমার্ধে ইয়ামাল ও মিকেল ওইয়ারসাবালের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করার পর দ্বিতীয়ার্ধেও আলেক্স বায়েনা, ফেরান তোরেস এবং ইয়ামালের বিভিন্ন শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় প্রতিহত করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ইয়ামালের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকও সাফল্যের সঙ্গে রক্ষা করেন এই আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।

শেষ পর্যন্ত ১১টি সেভ করে পুরুষদের বিশ্বকাপ ফাইনালে নতুন সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড গড়েন ৩৩ বছর বয়সী মার্তিনেজ। এর আগে ফাইনালে সর্বোচ্চ ৯টি সেভের রেকর্ড ছিল। তবে এই ইতিহাস গড়া পারফরম্যান্সও আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতাতে পারেনি।

অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের শট ঠেকাতে না পারায়, সেই একমাত্র গোলেই স্পেন বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে অসাধারণ সেভ করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর অন্যতম নায়ক ছিলেন মার্তিনেজ। এবারও তিনি চোট উপেক্ষা করে মাঠে নেমে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেও দলকে জয় এনে দিতে ব্যর্থ হওয়ায়, ইতিহাস গড়েও ট্রফিবঞ্চিত হতে হলো এই তারকা গোলরক্ষককে।

রেকর্ড গড়ার ১১ সেভ, অদম্য লড়াই আর অসাধারণ দৃঢ়তার পরও শিরোপা স্পর্শ করতে না পারায় ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের ট্র্যাজিক হিরো হয়েই মাঠ ছাড়লেন এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে হামের উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪৭ পি.এম


সিলেটে হামের উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু

সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া তিন শিশু হলো- তাসফিয়া, আবদুল্লাহ ও তানভীর। তিনজনের বয়সই দেড় বছরের নিচে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০৩ জনে।

এদিকে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৬৫ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরে পরীক্ষায় নতুন করে কেউ শনাক্ত না হলেও এ সময়ে ৫৮ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত বিভাগে মোট ৫৪৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত (কনফার্মড) হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৪ জন নিশ্চিত হামের রোগী ছিলেন, সেটি নিশ্চিত করা গেছে। বাকিরা সন্দেহভাজন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেনজীরকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় দুবাই পুলিশের ৪ বিষয়ে জানতে চাওয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ পি.এম


বেনজীরকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় দুবাই পুলিশের ৪ বিষয়ে জানতে চাওয়া

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশের পথে ফিরিয়ে পাঠানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে, তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাঁকে কোন আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে চারটি বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকে এটি একজন ইতিবাচক অগ্রগতির একটি রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে দুবাই পুলিশ মূলত প্রত্যর্পণের আইনি এবং কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাচ্ছে।

দুবাই পুলিশের চিঠিটি পাঁচ দিন আগে বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সেই সূত্রগুলো জানায় যে, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সহযোগিতায় ওই চিঠির জবাব তৈরির কাজ করছেন দুদকের কর্মকর্তাগণ।

বেনজীর আহমেদের মামলার তদন্ত এবং প্রত্যর্পণের নথিপত্রের বিষয়টি সমন্বয় করছেন দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম। জানতে চাইলে তিনি গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘দুবাই পুলিশের চিঠি পাওয়ার পর থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, দ্রুত জবাব পাঠানো যাবে এবং তাঁকে (বেনজীর) দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হব।’

বেনজীর আহমেদের দুটি ম্যাসেল দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া তথ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ১৪ জুন প্রথম জাতীয় সংসদে জানান। তিনি বলেন, ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার তার আটক নিশ্চিত হওয়ার পর, আন্তর্জাতিক পুলিশের সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ চায়। দুদক প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে এবং কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠায়। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার তথ্য এবং প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রায় এক মাস পর সেই আবেদনের জবাব দেয় দুবাই পুলিশ। মোটামুটি বেনজীর এখন দুবাইয়ের কারাগারে আটক আছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দুবাই পুলিশের চিঠিতে মূলত চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ কোন আইনের আওতায় এবং কী প্রক্রিয়ায় বেনজীর আহমেদকে ফেরত নিতে চায়। কারণ, বাংলাদেশ এবং ইউএইর মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নেই। এ ছাড়া আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি কী, সেই পরোয়ানার কার্যকারিতা কতটুকু এবং সমগ্র প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় আইন মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে কেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বয় করছে—এসব বিষয়ে জানতে চেয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এসব প্রশ্ন আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যাখ্যা এবং নথিপত্র প্রস্তুত করে খুব দ্রুত জবাব পাঠানো হবে বলেও জানা গেছে। ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছে, দুবাই পুলিশের চিঠির ভাষা থেকে এটি স্পষ্ট যে, তাঁরা বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বেনজীর আহমেদ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এবং পরবর্তীতে আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২৪ সালে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদক তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। এরপর আদালতের আদেশে তাঁর এবং পরিবারের সদস্যদের বিপুল সম্পদ জব্দ করা হয়। তদন্ত চলাকালে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ মে তিনি স্ত্রী এবং সন্তানদের নিয়ে দেশ ছেড়ে যান।

পরবর্তীতে বেনজীরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেনজীর আহমেদ-এর বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং জালিয়াতিসহ একাধিক মামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলমান।

দেশ ছাড়ার পর থেকে বেনজীর আহমেদ-এর অবস্থান সম্পর্কে দীর্ঘ সময় নিশ্চিত কোনো তথ্য ছিল না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছেও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছিল না।

বেনজীরকে গ্রেফতারের বিষয়ে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের পেছনে তাঁর কয়েকজন সাবেক সহযোগীর তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ব্যবসায়িক এবং আর্থিক লেনদেনের সম্পর্কিত বিরোধের কারণে তাঁরা দুবাই পুলিশকে তথ্য দেন। একটি শপিং মল থেকে বেনজীরকে আটক করা হয়। উল্লেখ্য, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি দুবাই পুলিশের বিচারে কার্যকরী ছিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%